Author: Hello Bangla News

  • কাটা গলানো ইলিশ রান্না

    কাটা গলানো ইলিশ রান্না

    কাটার ভয়ে যারা মাছ খেতে ভয় পান বা বাচ্চাদের কাটার ভয়ে মাছ খাওয়ান না, তাদের জন্য স্বস্তিদায় এক রেসিপি এটি।

    *ইলিশ মাছ- ৪টুকরা *পেঁয়াজ বাটা-২টেবল চামচ *পেঁয়াজ কুঁচি -১টেবল চামচ *টকদই -১টেবল চামচ *সিরকা ১চা চামচ *সরিষার তেল-১/৪ কাপ *লবন- স্বাদ মত *হলুদ গুড়া-১/২ চা চামচ  *মরিচ গুড়া-১/২ চা চামচ *ধনে গুড়া-১/২ চা চামচ *আদা রসুন বাটা -১/২ চা চামচ *কাঁচা মরিচ -৩/৪টা *পানি-১ কাপ

    কাটা গলানো ইলিশ রান্না
    কানিজ ফাতেমা রুমা

    মাছ ও কাঁচা মরিচ বাদে সব মশলা এক সাথে মিশিয়ে নিতে হবে।এর পর মাছ গুলোও মশলায় মাখিয়ে উঠিয়ে নিন। এবার প্রেশার কুকারে  মাছ গুলো বিছিয়ে দিন। মশলা গুলো উপরে ঢেলে দিন।মশলার পাত্রে ১কাপ পানি দিয়ে ধুয়ে পানি কুকারে দিয়ে ঢাকনা বন্ধ  করে নিন। এবার চুলা হাই হিট এ ১০ মিনিট রেখে কম আচে ১ ঘন্টা রান্না করে নিতে হবে। ভয় নেই মাছ গলবে না। মাছগুলো সাবধানে উঠিয়ে নিতে হবে। ঝোলে কাঁচা মরিচ দিয়ে জ্বাল দিয়ে ঝোলটা ঘন করে নিতে হবে নিজের পছন্দ মত। এবার মাছ দিয়ে কিছুখন জ্বাল দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। গরম ভাতে খুবই দারুণ লাগে খেতে। কোনো কাটা লাগবে না। মাছের সাথে কাটা মিশে যাবে। বাচ্চারাও খেতে পারবে অনায়াসে।

    রেসিপি দিয়েছেন : কানিজ ফাতেমা রুমা

    রুমা’স কিচেন।

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমঝোতা

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমঝোতা

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শেষ হয়েছে ১৮তম এশিয়া মিডিয়া সামিট ২০২৩। গতকাল বুধবার শেষ দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় ।

    গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট ফর ব্রডকাস্টিং ডেভেলপমেন্টভূক্ত সদস্য দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরিত এই স্মারকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য তথ্যের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন।

    সমঝোতা স্মারকে তথ্যের যথার্থতা, স্বচ্ছতা এবং সততার মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করার কথা রয়েছে। সেখানে বলা হয়, ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য তথ্যের প্রচার রোধকল্পে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মালিক এবং অংশীজনদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্যও এআইবিডি সদস্যরা উদ্যোগ নেবেন।

    একইসঙ্গে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের নিজস্ব আইন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, যথাযথ প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতার নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রয়োজনে যৌথ আঞ্চলিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও ঐক্যমত্য হয়ে স্মারকে স্বাক্ষর করেন বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিরা।

    মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই সামিটে এশীয় প্রশান্ত অঞ্চলের ৪০টি দেশ ও অঞ্চলের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি যোগ দেন।

    সূত্র: বাসস

     

  • পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে

    পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: কলম্বিয়া ও পানামা সীমান্তবর্তী ক্যারিবীয়র একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বুধবার সন্ধ্যায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬ ভাগ।

    পানামার কর্মকর্তারা জানান, ভূমিকম্পটি ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই এলাকায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম।

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পানামার পূর্বাঞ্চলীয় পুয়ের্তো ওবালদিয়া শহর উপকূল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে।

    কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের সুনামির সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দিয়েছে।

    পানামার ন্যাশনাল সিভিল প্রটেকশন সিস্টেম (সিনাপ্রোক) জানায়, ভূমিকম্পটি রাজধানী পানামা সিটি ও এর পার্শ্ববর্তী পশ্চিম অঞ্চল এবং ক্যারিবীয়র গুনা ইয়ালা অঞ্চলসহ পানামাজুড়ে অনুভূত হয়।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা সীমান্তের উভয় পাশে শক্তিশালী কম্পনের কথা জানায়।

    সূত্র: বাসস

  • সাহিত্যে বুকার পেলেন জর্জি গোসপোদিনভ এবং অ্যাঞ্জেলা রোডেল

    সাহিত্যে বুকার পেলেন জর্জি গোসপোদিনভ এবং অ্যাঞ্জেলা রোডেল

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বিশ্ব সাহিত্যে মর্যাদাপূর্ণ একটি অর্জন হচ্ছে বুকার পুরস্কার। এবারে বুলগেরিয়ান লেখক জর্জি গোসপোদিনভ এবং অনুবাদক অ্যাঞ্জেলা রোডেল ‘টাইম শেল্টার’ উপন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার লাভ করেছেন। এটি বুলগেরিয়ান ভাষায় প্রথম এই উপন্যাস বুকার পেল। মঙ্গলবার ২৩ মে বুকার পুস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।

    মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি সারা বিশ্বের কথাসাহিত্যের কাজকে স্বীকৃতি দেয়। বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। পুরস্কারের ৫০,০০০ পাউন্ড (৬২,০০০ ডলার) লেখক এবং অনুবাদক সমানভাবে পাবেন।

    উপন্যাসটি একটি ক্লিনিককে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। যেখানে পরীক্ষামূলক আলঝেইমারের চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

    রোগীদের স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলতে এবং বিগত কয়েক দশকের স্মৃতির জগতকে ক্ষুদ্রতম বিবরণে পুননির্মাণ করার প্রক্রিয়া নিয়ে উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে।

    ঔপন্যাসিক এবং কবি জর্জি গোসপোদিনভ ১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। গোসপোদিনভ হলেন সবচেয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত আধুনিক বুলগেরিয়ান লেখক। তার লেখা ২৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

    অ্যাঞ্জেলা রোডেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা তবে বুলগেরিয়াতে থাকেন এবং কাজ করেন। তার কবিতা এবং গদ্য অনুবাদ সাহিত্য পত্রিকা এবং সংকলন জুড়ে প্রকাশিত হয়েছে।

    বুলগেরিয়ান সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য তাকে ২০১৪ সালে বুলগেরিয়ান নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সূত্র: বাসস

  • তিন দিনের সফর শেষে কাতার থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

    তিন দিনের সফর শেষে কাতার থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: তিন দিনের সরকারী সফর শেষে আজ সকালে কাতার থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি কাতার অর্থনৈতিক ফোরাম (কিউইএফ) ২০২৩-এ যোগদান করেন।

    প্রধানমন্ত্রী  ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান হামাদ  আন্তর্জাতিক  বিমানবন্দর থেকে  স্থানীয় সময় রাত ১০:২৫ টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ০১:২৫ টায়) ছেড়ে  আসে।  পরে ফ্লাইটি  ভোর ০৫:৫৮ টায়  হযরত  শাহজালাল  আন্তর্জাতিক  বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির আমন্ত্রণে তৃতীয় কাতার অর্থনৈতিক ফোরামে (কিউইএফ) যোগ দিতে গত ২২ মে শেখ হাসিনা তিন দিনের  সরকারী সফরে  দোহায়  পৌঁছান।

    সফরকারী শেখ হাসিনা কাতার ইকোনমিক ফোরামে যোগদান ছাড়াও আমিরি দিওয়ানে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির সঙ্গে সাক্ষাত, কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল সানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    এছাড়াও, কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ বিন শেরিদা আল কাবি এবং  সৌদি আরবের বিনিয়োগ মন্ত্রী খালিদ এ আল-ফালিহ ও সৌদি অর্থনীতি ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ফয়সাল আলিব্রাহিম  একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

    শেখ হাসিনা কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশেও ভাষণ দেন এবং দোহায় কাতার ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল আওসাজ একাডেমি পরিদর্শন করেন।

    সূত্র: বাসস

  • বেঙ্গলে আমিনুল ইসলামের শিল্প প্রদর্শনী চলছে

    বেঙ্গলে আমিনুল ইসলামের শিল্প প্রদর্শনী চলছে

    দেশের আধুনিক চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ আমিনুল ইসলামের ৯৭ টি চিত্রকর্ম নিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে এক চিত্র প্রদর্শনীর । শিল্পসংগ্রাহক আবুল খায়েরের সংগ্রহে থাকা ১৯৭০ সাল থেকে ২০০০ সাল সময়কালে ড্রইং নিয়েই এই প্রদর্শনী। বেঙ্গল শিল্পলয়ের কামরুল হাসান আর্ট গ্যালারিতে গত ১৬ মে থেকে শুরু হয়েছে অর্গানিসিটি নামের প্রদর্শনী। প্রদর্শনী চলবে ৮ জুলাই পর্যন্ত । প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক ও শিল্প সামালোচক হাসনাত আবদুল হাই। প্রদর্শনীর কিউরেটরের দায়িত্বে ছিলেন শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান।

    প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আর্ট গ্যালারি পরিদর্শন করেন। প্রদর্শনী খোলা থাকবে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ।

    বেঙ্গলে আমিনুল ইসলামের শিল্প প্রদর্শনীর চলছে

    এর আগে গত ১৬ মে উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহা পরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরি। তিনি বলেন, ‘শিল্পী আমিনুল ইসলাম নিরীক্ষামূলক কাজের জন্য প্রথা ভেঙ্গে নতুন ভাষা নির্মাণে সচেষ্ট ছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে পথিকৃৎ এই শিল্পীকে তুলে ধারা শিল্প-পরিচর্যাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।‘

    উদ্বোধনী বক্তবে হাসনাত আবদুল হাই বলেন, ‘শিল্পী আমিনুল ইসলাম ছবিতে বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন। তাঁর কাজ মুলত নিরিক্ষাধর্মী। বিশেষ ভাবে তেলরং ও জলরং ছাড়াও মোজাইক, ম্যুরাল, কোলাজ ও অন্যান্য মাধ্যমেও তিনি কাজ করেছেন। তাছাড়া  কলম, কালি, ব্রাশ দিয়ে তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে রেখাচিত্রের কাজ করেছেন। সবেচেয়ে বড় কথা শিল্পী আমিনুল ইসলাম শিল্পকর্মের মাধ্যমে সব সময় একটি দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বিরাট শিল্প সম্ভার তুলে ধরেছে। আমি প্রতিষ্ঠানটিকে সাধুবাদ জানাই।’

    কিউরেটর ওয়াকিলুর রহমান বলেন, ‘আমিনুল ইসলামের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর মূল উদেশ্য- নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে পথিকৃৎ শিল্পীদের কাজের পারিচয় করিয়ে দেওয়া।’

    শিল্পী আমিনুল ইসলাম ১৯৩১ সালের ৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজে (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) তিনি প্রথম ব্যাচে ভর্তি হন। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, শিল্পচার্য জয়নুল আবেদিন। পরে তিনি ফ্লোরেন্স থেকে উচ্চা শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ তিন দশক তিনি চারুকলা ইনিষ্টিটিউটে শিক্ষকতা করেছেন।

    আমিনুল ইসলাম  একুশে পদক (১৯৮১), স্বাধীনতা পদক (১৯৮৮), পঞ্চম তেহরান বিয়েনালে গ্র্যান্ড পুরস্কার (১৯৬৬) সহ নানা মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভুষিত হয়েছেন। এই শিল্পী ২০১১ সালের ৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

  • ডট বল মানেই পাঁচশ গাছ – আইপিএলের পরিবেশ বান্ধব নতুন নিয়ম

    ডট বল মানেই পাঁচশ গাছ – আইপিএলের পরিবেশ বান্ধব নতুন নিয়ম

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: আইপিএলের প্লে-অফের নতুন নিয়ম করা হয়েছে যা পরিবেশ বান্ধব এবং সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুসারে প্রতি ডট বলের জন্য পাঁচশ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিসিআই। ফলে প্রথম ম্যাচের মোট ডট বলের হিসেব অনুযায়ী ৪২ হাজার গাছ লাগানো হবে! কেননা এই ম্যাচে মোট ৮৪টি ডট বল হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোশুখি হয়েছিল চেন্নাই ও গুজরাট টাইটান্স।

    চেন্নাই প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৭২ রান তুলে । চেন্নাইয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৫৭ রানে থেমে যায় গুজরাট। ফলে ১৫ রানের জয়ে প্রথম দল হিসেবে চেন্নাই আইপিএলের ফাইনালে উঠেছে। এ নিয়ে রেকর্ড দশমবারের মতো ফাইনালে উঠল চারবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই।

    প্রথম কোয়ালিফায়ার চলাকালীন একটা বিষয় হয়তো সবারই নজর কেড়েছে। ওভারের যে ডেলিভারিতে কোনো রান হচ্ছে না অর্থাৎ ডট বল হচ্ছে, স্কোরকার্ডে সেই বলগুলোর জায়গায় প্রতীকি গাছ দেখানো হচ্ছে! যা আগে কখনও দেখা যায়নি। মূলত আইপিএলের প্লে-অফ পর্বে বোলাররা যতগুলো ডট বল করতে পারবেন, সেই প্রত্যেকটি ডট বলের জন্য ৫০০টি করে চারাগাছ রোপন করবে বিসিসিআই। সেই উদ্যোগটির কথা দর্শকদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই প্রতিটা ডট বলের চিহ্ন হিসেবে গাছের চিহ্ন ব্যবহার করা হচ্ছে।

    প্লে-অফে সবুজায়নের ওপর বেশি জোর দিয়েছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরে দেশ জুড়ে লাগানো হবে সেসব চারাগাছ। বিশ্ব উষ্ণায়নের সময় ভারতে সবুজ বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে আইপিএল।

    জানা গেছে, গুজরাট-চেন্নাই ম্যাচে ৮৪টি ডট বল হয়েছে। এসব বলে দু’দলের ব্যাটাররা কোনো রান করতে পারেননি। প্রতি ডটে পাঁচশ গাছ বরাদ্দ হলে, প্রথম ম্যাচের ৮৪ বলের জন্য বরাদ্দ হবে ৪২ হাজার গাছ। এখনও প্লে-অফ এবং ফাইনাল মিলিয়ে আইপিএলের তিনটি ম্যাচ বাকি আছে। ফলে সেই গাছের সংখ্যা বাড়তে পারে কয়েক গুণ।

    আজ (২৪ মে) এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও লখনৌ সুপার জায়ান্টস। তাদের মধ্যে বিজয়ী দল মুখোমুখি হবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে পরাজিত হওয়া দল গুজরাটের বিপক্ষে। এরপর বিজয়ী দল ফাইনালে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে লড়বে।

  • একটনা ২৭ বছর প্রদর্শিত হয়েছে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমাটি

    একটনা ২৭ বছর প্রদর্শিত হয়েছে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমাটি

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে এমন এক ছবি যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা প্রদর্শিত হয়েছে।  বলিউড কাঁপানো এই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর ২৭ বছর ধরে মুম্বাই-এর একটি সিনেমা হলে প্রতিদিন সকালে প্রদর্শিত হয়েছে।

    এই ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি সুপারস্টার হয়েছেন অভিনেত্রী কাজল, অভিনেতা শাহরুখ খান এবং পরিচালক আদিত্য চোপড়া।

    এক সাক্ষাতকারে কাজল বলেন, আমরা কয়েকজন তরুণ তরুণী মিলে শুধু একটা জনপ্রিয় ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলাম। এটাই ছিল আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য। তবে এই ছবিটি নিয়ে পরে যা হয়েছে তা এক বিশাল ঘটনা। আমরা যা করেছি সেটা সত্যিই যাদুকরী, এবং এর পুনরাবৃত্ত সম্ভব নয়,।

    হিন্দি সিনেমার জগতে কাজল অত্যন্ত জনপ্রিয় এক তারকা। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের সাফল্যের পেছনেও তিনি ছিলেন অন্যতম।

    ছবিতে ভারতের বিখ্যাত অভিনেতা শাহরুখ খানের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন কাজল। শাহরুখ খান তার ভক্তদের কাছে পরিচিত এসআরকে নামে।

    ডিডিএলজে মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালের অক্টোবর মাসে। এই সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছিল মুম্বাই-এর মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে। তার পর থেকে এই ছবিটি সেখানে ২৭ বছর ধরে প্রতিদিন দেখানো হয়েছে। শুধু কোভিড মহামারির সময় এর প্রদর্শনী অল্প কিছু সময়ের জন্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

    কাজল বলেন, “ছবিটি তৈরির জন্য আমরা কৃতিত্ব দাবি করতে পারি, কিন্তু পরে এতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এবং এতো দীর্ঘ সময় ধরে হলে দেখানো- আমি মনে করি এটা তাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে যারা ছবিটিকে গ্রহণ করেছে, তাদের পরিবারের ঐতিহ্যের অংশ করে নিয়েছে, নিজেদের ছেলে মেয়ে ও নাতি পুতিদের সিনেমাটি দেখিয়েছে, এমনকি বিয়ের প্রস্তাব দিতেও এই ছবিটিকে ব্যবহার করছে।”

    ছবির কাহিনী:

    দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবিতে দেখা যায় ভারতীয় একদল তরুণ তরুণী ছুটিতে ইউরোপে বেড়াতে আসে। এসময় অপূর্ব এক নৈসর্গিক পরিবেশে সিমরান ও রাজ পরস্পরের প্রেমে পড়ে যায়। সিমরান চরিত্রে কাজল এবং রাজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান। সিমরানের বাবা যখন বুঝতে পারেন যে তার মেয়ে রাজের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন তিনি তার পুরো পরিবার নিয়ে লন্ডন থেকে ভারতে চলে যান তার পছন্দের এক পাত্রের সঙ্গে কন্যার বিয়ে দেওয়ার জন্যে। কিন্তু রাজ সিমরানকে এতোটাই ভালোবেসে ফেলে যে সে-ও ভারতে চলে যায়।

    পরে সিমরানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নায়ক রাজ সিমরানের বাবা মায়ের মন জয় করার চেষ্টা করে।

    সিনেমার শেষ অংশ সম্পর্কে কাজল বলেন,“দিন শেষে প্রত্যেক সন্তানই চায় তাদের পিতামাতা তাদের দিকে তাকিয়ে বলুক, তুমি বেশ ভালো করেছ, আমি তোমার সাথেই আছি। আমার মনে হয় এই বিষয়টাই সবাইকে নাড়া দিয়েছে এবং সবাই এর মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেয়েছে,” ।

    প্রতিদিন সকালে : দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে  

    দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে মুক্তি পাওয়ার পর প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১১টায় মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে ছবিটি দেখানো হতো। টিকেটের দাম ছিল মাত্র ৩০ রুপি। সিনেমা হলের বাইরের দেওয়াল ছিল উজ্জ্বল কমলা রঙের। সেখানে টাঙ্গানো বিশাল এক বিলবোর্ড যাতে শাহরুখ খান ও কাজলের ছবি।

    এসআরকের পরনে সেই হার্লি ডেভিডসন চামড়ার জ্যাকেট। সিমরানকে সে তার কাঁধের উপরে তুলে নিয়েছে। বিলবোর্ডে লেখা: ‘আসুন, আবার প্রেমে পড়ুন।’

    দর্শকরা যখন থিয়েটারের ভেতরে প্রবেশ করে, স্পিকার থেকে তাদের কানে ভেসে আসে এই ছবির জনপ্রিয় সব গান। হলের মাঝখানে একটি হিন্দু মন্দির। তার চারপাশ ঘিরে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে লাল সবুজ বাতি।

    “সেখানে গেলে মনে হবে যে আপনি অতীতে ফিরে গেছেন। আসনগুলো একই রঙের। মঞ্চটাও একই ধরনের। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কুড়িতম বার্ষিকীতে আমরা দুজনেই মারাঠা মন্দিরে গিয়েছিলাম।”

    মারাঠা মন্দির সিনেমা হল প্রসঙ্গে কাজল বলেন,“ওই থিয়েটারে ফিরে যাওয়া দারুণ এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছিল। সেখানে আমরা প্রথমবারের মতো সিনেমাটি দেখি এবং দেখতে দেখতে আমরা আমাদের অভিনয়ের সমালোচনা করি- এই কাজটা আমরা আরো ভালো করতে পারতাম, ওই কাজটা আরো ভালো হতে পারতো,” ।

    এই অভিনয় শিল্পী আরও বলেন, লোকজন এখনও সিনেমাটি দেখতে যাচ্ছে। দিনের পর দিন। বিশেষ করে মারাঠা মন্দিরে। সারা দেশ থেকেই লোকজন এখানে আসছে হলে বসে এই সিনেমা দেখতে।

    সিনেমাটি প্রসঙ্গে এক দম্পতি দর্শকের কথা:

    এই ছবি দেখতে যেমন এসেছিলেন ভিজে এবং তার স্ত্রী প্রীতি। তারা ৫৬০ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন এই সিনেমা দেখতে। তাদের বিয়ের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে। একটা রোমান্টিক ছবি দেখার মাধ্যমে তারা তাদের বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করতে চেয়েছেন।

    প্রীতি এই ছবিতে তার সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্যটির কথা বর্ণনা করছিলেন। সেটি হচ্ছে বিখ্যাত সেই ট্রেনের দৃশ্য যখন সিমরানের পিতা তার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন- ‘সিমরান যাও, সিমরান যাও।’

    কাজল একটা মজার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তারা তখন জয়পুরে শুটিং করছিলেন।

    “আমরা যে হোটেলে উঠেছি তার একজন শেফ আমার কাছে এসে বললো- ম্যাম, আপনাকে একটা কথা আমার বলতেই হবে- আমি আমার স্ত্রীকে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে দেখাতে ২৩বার সিনেমা হলে নিয়ে গেছি। এবং তার পরেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেই।”

    “আমার তখন মনে হলো, ও মাই গড, এটা তো একটা দারুণ ঘটনা। এই সিনেমা দেখতে যাওয়া নিয়ে লোকজনের নানা ধরনের গল্প আছে। এটা তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মারাঠা মন্দিরে সিনেমাটি দেখতে গেলে দারুণ অনুভূতি হবে, মনে হবে আরে..আমি তো এটা দেখেছি, এটা তো সেই একই পপকর্ন, একই পোশাক এবং এটা তো গরুর সেই ঘণ্টিটা।”

    গরুর এই ঘণ্টিটা সিমরান সুইৎসারল্যান্ড থেকে সুভ্যেনির হিসেবে সংগ্রহ করেছিল। মারাঠা মন্দিরে একটি কাঁচের বাক্সর ভেতরে এই ঘণ্টিটা রাখা এবং তার পাশেই রাখা সোনার এক ট্রফি।

    আদিত্য চোপরার অভিষেক:

    বলিউড জগতে পরিচালক আদিত্য চোপরার অভিষেক হয় এই দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবি নির্মাণের মধ্য দিয়ে। সেসময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। এর আগে ১৮ বছর বয়স থেকেই তিনি তার পিতা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ইয়াশ চোপরার সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।

    কাজল বলেন, “নতুন পরিচালক আদির সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য খুব সহজ ছিল। কারণ তাকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনতাম। আমরা আসলেই খুব ভাল বন্ধু। ফলে আমরা যখন কাজ শুরু করি কাজটা খুব স্বাভাবিকভাবেই এগিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন,“আমরা সবাই খুব আনন্দ করেছি। একজন আরেকজনকে নিয়ে মজা করেছি। আমার জন্য সবচেয়ে মজার ছিল ইউরো রেলে চড়া। আমরা সবাই বাসে করে সারা সুইৎসারল্যান্ডে ঘুরে বেড়িয়েছি। এই ছবির শুটিং করতে গিয়ে আমরা সবাই দারুণ সময় কাটিয়েছি,” ।

    মজার অভিজ্ঞতা:

    “আমার মনে আছে হিমশৈল ধরনের কোনো একটা জায়গায় আমরা শুটিং করছিলাম। সেখানে আমাকে কাপড় বদলাতে হবে। কৃষকের একটি গরুর শেডে গিয়ে আমাকে শাড়ি পরতে হয়েছিল। আমার পাশেই ছিল একটি গরু। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমি আসলেই সেখানে কাপড় বদলাচ্ছি। খুব দ্রুত শাড়ি পরে ফেললাম। বললাম আমি রেডি, শট দেওয়ার জন্য আমি রেডি।”

    এই ছবিতে কাজলসহ আরো অনেকেরেই বয়স ছিল কুড়ির ঘরে। কাজল জানান ইয়াশ চোপড়া এবং তার স্ত্রী শুটিং এর সময় তাদের ওপর সবসময় কড়া নজর রাখছিলেন। কারণ এই ছবির জন্য তিনি তার ছেলেকে সব অর্থ দিয়েছিলেন।

    দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবির গান, যেগুলোতে কাজল ঠোঁট মিলিয়েছেন, তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্লে ব্যাক কুইন হিসেবে পরিচিত প্রয়াত লতা মঙ্গেশকার।

    সিনেমার গান প্রসঙ্গে কাজন বলেন,“এই ছবির সবগুলো গান আমার খুব প্রিয়। এই গানগুলো সর্বকালের। আজকের দিনেও এগুলো আমার প্রিয় গান। তার পরেও আমি বলবো মেন্দি লাগাকে রাখ না আমার সবচেয়ে প্রিয়।”

    এই গানটি পরে ভারতে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুবই পরিচিত একটি গান হয়ে উঠেছে। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে দশটি ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড জয় করেছে। এই ছবি দিয়েই রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন কাজল, এসআরকে এবং আদিত্য চোপরা।

    কাজল বলেন, “আমি আশা করবো লোকজন এখনও এই ছবি উপভোগ করুক, দেখুক এবং তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ করে তুলুক। এই ছবিটির প্রতি তাদের ভালবাসা অব্যাহত থাকুক।”

    সারা বিশ্বে মুক্তিপ্রাপ্ত দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে সেসময় প্রায় দুই কোটি ডলার আয় করেছে যা ছিল ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যবসা-সফল সিনেমা।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

    কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: কাতারের র‌্যাফেলস টাওয়ারের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল সানির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সময় কাতারের প্রধামন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।

    দু্ই দেশের সরকার প্রধানের বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে (শেখ হাসিনার) বলেন, তারা (কাতার) বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চান।

    বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনার জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

    বাংলাদেশ কাতার থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ক্রয় করে বিষয়টি উল্লেখ করে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আপনি (কাতারের প্রধানমন্ত্রী) জ্বালানি দিয়ে আমাদের সহায়তা করুন’।

    জবাবে মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বলেন,  কাতার বাংলাদেশের জন্য যতটা সম্ভব করবে।

    ২০২৩ সালের ফিফা বিশ্বকাপের পর কাতারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা সম্পর্কে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের সম্পদ এবং বন্ধু এবং কাতার তাদের যতটা সম্ভব তাদের দেশে রাখবে।

    পরে কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ বিন শেরিদা আল কাবি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অবস্থানস্থলে  সাক্ষাৎ করেন।

    বৈঠকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের বিষয়ে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    প্রেস ব্রিফিং-এ ড. মোমেন বলেন, শেখ হাসিনা কাতার থেকে বৃহত্তর পরিমাণে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে বলেছেন।

    কাতার থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত বিদ্যমান ১৫-বছরের চুক্তিটি ২০৩২ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, তবে, ২০২৫ সালের পরে বৃহত্তর পরিমাণে জ্বালানি পেতে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে, তিনি বলেন।

    মোমেন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দরদাম সংক্রান্ত সমস্যা ঠিকঠাক করে অবিলম্বে চুক্তিতে সই করতে বলেছেন।

    বাংলাদেশকে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বর্ণনা করে এবং যে দেশটি দুঃসময়ে কাতারের পাশে দাঁড়িয়েছিল উল্লেখ করে, তারা (কাতার) প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তারা কাতারের পক্ষে যত দূর সম্ভব সব ধরনের ছাড় দেয়ার কথা বিবেচনা করবে।

    এছাড়া র‌্যাফেলস টাওয়ারে কাতার ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তাকে উদ্ধৃত করে মোমেন বলেন, বৈঠকে কাগামে শেখ হাসিনাকে বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শোনেন এবং তিনি বাংলাদেশ সফর করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে খুব গর্বিত।’

    রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং আপনি (শেখ হাসিনা) খুব ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। আমি এটা দেখতে চাই।’

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী কাগামেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    পল কাগামে বলেন, তিনি বাংলাদেশ ও রুয়ান্ডার মধ্যে একটি সেতু তৈরি করতে চান, বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ স্থাপন করতে চান।

    সম্প্রতি রুয়ান্ডায় একটি বাংলাদেশি কোম্পানির ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানা খোলার উল্লেখ কওে প্রেসিডেন্ট তার  দেশে বিভিন্ন খাতে আরও বাংলাদেশি বিনিয়োগ আমন্ত্রণ জানান।

    শেখ হাসিনা পল কাগামের প্রশংসা করে বলেন, তার ভালো নেতৃত্বের কারণে আফ্রিকায় রুয়ান্ডা খুবই ভালো অবস্থানে রয়েছে।

    তিনি কাগামেকে বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সমস্যা তৈরি করেছে এবং যা বাংলাদেশ, রুয়ান্ডার মতো  দেশগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে। ‘আমরা যদি একে অপরকে সহযোগিতা করি, তবে, আমরা এই ধরণের পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবো,’ তাঁকে উদ্ধৃত করেন বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

    শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রশংসা করে কাগামে বলেন, সহযোগিতা জোরদার করার এখনই সময়।

    সূত্র : বাসস

  • কেন হাত-পা জ্বালা পোড়া করে

    কেন হাত-পা জ্বালা পোড়া করে

    হাত-পা জ্বালাপোড়া বা ঝিনঝিন করা পরিচিত একটি সমস্যা। তবে এটা কোনো রোগ নয়, বরং কিছু রোগের লক্ষণ। সাধারণত প্রান্তীয় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনুভূতির সমস্যা দেখা দেয়। রোগের শুরুতে পা ঝিনঝিন বা জ্বালাপোড়া হলেও ধীরে ধীরে অনুভূতিশক্তি কমে যায়।

    এই রোগের প্রকোপ হাতের চেয়ে পায়ে বেশি হতে দেখা যায়। পায়ের তালু থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে থাকে। সমস্যা বেশি হলে অনেক সময় পায়ের অনুভূতি কমে যায়, পা থেকে স্যান্ডেল খুলে গেলেও রোগী টের পায় না। কখনো আঘাত পেলেও বোঝে না। এ রকম নীরব আঘাত থেকে ক্ষত তৈরি হয় এবং পরে গ্যাংগ্রিন হতে পারে।

    এসব সমস্যা কেন হয় 

    পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি অনেক কারণেই হতে পারে। এর অন্যতম কারণ হলো ডায়াবেটিস। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে রক্তে উচ্চমাত্রার শর্করা থাকার কারণে এ জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন শতকরা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিসের রোগী।

    ভিটামিন বি-এর উপাদান, যেমন থায়ামিন (বি-১), পাইরোডক্সিন (বি-৬), সায়ানোকোবালামিন (বি-১২), নিকোটানিক অ্যাসিড ও রাইবোফ্ল্যাভিনের, ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন-ডি-এর অভাবে পা জ্বালা ও ব্যথা করে।

    পরিবর্তিত বিপাকীয় ও হরমোনের সমস্যা, যেমন হাইপোথাইরডিজম, বাত-ব্যথা, যেমন রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ক্যানসার, এইডসের কারণে এ সমস্যা হতে পারে।

    কিডনি অকার্যকর এবং যকৃতের সমস্যায় এ সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় কেমোথেরাপি বা বিশেষ কিছু ওষুধ সেবনে, যেমন টিউবারকিউলোসিসের ওষুধ, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধসহ আরও কিছু ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে পা জ্বালাপোড়া হতে পারে।

    দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদ্যপান বা ধূমপান করলে বা ভারী ধাতু দূষণসহ আরও কিছু কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্নায়ু।

    অ্যালার্জিজনিত কাপড় ও মোজা ব্যবহার করা এবং ত্রুটিপূর্ণ জুতা পরলে।

    পায়ের স্নায়ু বা নার্ভ আহত হলে, অবরুদ্ধ (ইনট্রাপমেন্ট) ও চাপ (কমপ্রেশন) হলেও এই সমস্যা হতে পারে।

    এ ছাড়া মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির বা বংশানুক্রমিক অসংগত স্নায়ুপদ্ধতির কারণেও অনেক সময় পায়ে জ্বালাপোড়া হয়।

    নারীদের মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইস্ট্রোজেনের অভাবেও এ সমস্যা হয়।

    কী করবেন 

    রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সেবন করতে হবে এবং চিকিৎসায় ভিটামিন ইনজেকশন পুশ করতে হবে।

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।

    মদ্যপান ও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

    স্নায়ু আঘাত, অবরুদ্ধ (ইনট্রাপমেন্ট) ও সংকোচন (কমপ্রেশন) হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    সঠিক পরিমাপের খোলা ও আরামদায়ক জুতা ও মোজা পরতে হবে। পায়ের আর্চ সাপোর্ট, ইনসোল ও হিল প্যাড ব্যবহারে উপসর্গ অনেকটাই কমবে।

    পায়ের পেশির ব্যায়াম ও ঠান্ডা পানির (বরফ নয়) সেঁক নেওয়া যেতে পারে।

    লক্ষ রাখতে হবে, রোগী এমন কোনো ওষুধ সেবন করছে কি না, যে কারণে রোগীর পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি হচ্ছে। যদি এ ধরনের কোনো ওষুধ রোগী সেবন করে থাকে, তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করতে হবে। পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির রোগীর এসব ওষুধ সাধারণত দীর্ঘ সময়ের জন্য খেতে হয়।

    হাত-পা ঝিনঝিন করার অনুভূতি অস্বস্তিকর হলেও সঠিক কারণ নির্ণয় করার জন্য রক্তের শর্করা, ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা, থাইরয়েড ও অন্যান্য পরীক্ষা লাগতে পারে। নার্ভ কনডাকশন টেস্ট করতে হতে পারে। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা গেলে, তা নিরাময়যোগ্য হতে পারে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    ডা. রেজওয়ানা সোবহান
    সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ

    তথ্যসূত্রঃ ডক্টরটিভি