Author: Hello Bangla News

  • বিজ্ঞানীরা বলছেন ভূতের কোন অস্তিত্ব নেই

    বিজ্ঞানীরা বলছেন ভূতের কোন অস্তিত্ব নেই

    www.HelloBangla.News – প্রযুক্তি – ২২ আগস্ট, ২০২৩ : এক সময় ছিল যখন শিশুদের ঘুম পাড়ানো হতো ভূতের ভয় দেখিয়ে। আবার এটাও হয়েছে যে কেউ যদি এমন আচরণ করে যার কারণে মনে করা হয় যে সেই ব্যক্তির উপর অশরীরি আত্বা ভর করেছে। আবার কোন গভীর জঙ্গল থেকে রাতে অদ্ভুত কোন কথা শোনা যায় এবং যার কোন অর্থ নেই তখন বলা হয় এখানে ভূত আছে। আসলে ভূত বলে কি কিছু নেই। এক গবেষণার পর জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। তবে তারা ভূত সম্পর্কে তারা কিছু চমকপ্রদ কিছু বিষয় ব্যাখ্যা দিযেছে যার মাধ্যমে বুঝা যায়, মানুষ কেন মনে করে যে সে ভূত দেখেছেন।
    রাতে অশরীরি কোনো কন্ঠস্বর, অদ্ভুত দর্শন কিছু, মেরুদন্ড বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে যাওয়া। অনেক মানুষই হয়তো তাদের জীবনে এমন ভুতুড়ে কিছু অনুভব করেছেন যার কোনো ব্যাখ্যা হয়না।
    যেমন ধরুন, পেনিফোর্ড ফার্মের খামারবাড়ির বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা। উত্তর ওয়েলসের ফ্লিন্টশায়ারে বাড়ির প্রাক্তন মালিকরা দাবি করেছিলেন, ১৯৯০ এর দশকে তারা যখন এখানে থাকতেন, তখন সেখানে ভূতের উপদ্রব ছিল।
    গণমাধ্যমে দেয়া বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে তারা বলেন, ওয়েলসের দেয়ালজুড়ে অদ্ভূত ভাষার কথা শুনতে পান তারা, যে ভাষায় তারা কেউ কথা বলেন না, এরপর বাড়ির জিনিসপত্র একা একা বিভিন্ন দিকে নড়তে শুরু করে এবং তারা আসলে একজন গর্ভবতী তরুণীর দ্বারা ভুতুড়ে কর্মকান্ডের শিকার হয়েছেন যাকে বাগানে সমাহিত করা হয়েছিল।
    বিবিসি প্যারানরমাল অনুষ্ঠানের জন্য এসবের সত্যতা জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সেখানকার সেইসময়ের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে। বিবিসি থ্রি এবং বিবিসি ওয়েলস এই খামারবাড়িতে গিয়ে ভেতরের কিছু জিনিস দেখিয়েছে যা এতদিন পর্যন্ত তালাবদ্ধ ছিল। সিরিজটিতে বিবিসি রেডিও ওয়ানের ডিজে সিয়ান এলেরি এই বাড়িতে কী ঘটেছে তার একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেন।
    তবে এ কাজে তিনিই প্রথম নন, অনেকদিন ধরে বহু মানুষ ভূত দেখার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করে চলেছেন। বিবিসি থ্রি এমন দুজন বিজ্ঞানীর সাথে কথা বলেছে যারা এরইমধ্যে সেটি করতে সমর্থ হয়েছেন। প্যারানরমাল ঘটনার প্রমাণ বিজ্ঞানে না থাকলেও মানুষ বিশ্বাস করে যে সে ভূত দেখেছে, আর এর পেছনে মানসিক ও পরিবেশগত কিছু দিক তুলে এনেছেন এই দুই বিজ্ঞানী।

    বোবায় ধরা একজন ব্যক্তির কাছে একটি বর্ণনা থেকে জানা যায়“একটা কালো বিড়াল তার মুখ থেকে ভয়ংকর কালো পদার্থ বের করছে আর হিসহিস করছে” :
    ড. ক্রিস ফ্রেঞ্চ লন্ডনের গোল্ডস্মিথস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানোম্যালিস্টিক সাইকোলজি রিসার্চ ইউনিটের প্রধান। এই ইউনিটের কাজ হল মানুষের যেসব প্যারানরমাল বিশ্বাস ও ব্যাখ্যাতীত অভিজ্ঞতা হয়, সেগুলোর পেছনের মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করা। তিনি অনেক ভূত দেখার গল্পের পেছনের কারণ হিসেবে স্লিপ প্যারালাইসিসকে তুলে এনেছেন, যেটাকে বাংলায় কেউ কেউ ‘বোবায় ধরা’ বলে থাকেন।
    মানুষ যখন তার ঘুমের একটা বিশেষ পর্যায় র্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম) – এ পৌঁছায়, তখন আর মস্তিষ্ক শরীরকে নড়াচড়ার সংকেত পাঠায় না। আর ঠিক এই সময়টায় মানুষ কখনো জেগে উঠলেও নড়াচড়া করতে পারে না।
    যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএস ওয়েবসাইট বলছে, স্লিপ প্যারালাইসিসের অন্যান্য কিছু স্বাভাবিক লক্ষণ হল, মনে হবে কেউ আপনার ঘরে আছে অথবা আপনাকে চেপে ধরে আছে। আর যেহেতু র্যাপিড আই মুভমেন্টের সময়টায় মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখে তাই এসময় হ্যালুসিনেশন বা দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে।“স্লিপ প্যারালাইসিস হল স্বাভাবিক ঘুমের প্রক্রিয়ায় এক ধরনের ত্রুটি,” ড. ক্রিস ব্যাখ্যা করেন। “এটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। আমার একজন ছাত্র আমাকে ঘুম থেকে উঠার বিষয়ে বলেছিল যে তার বিছানার পাশে একটি কালো বিড়াল তার দিকে তাকিয়ে হিস হিস করছে। কিন্তু এটা একটা উল্টানো বিড়ালের মাথার খুলি ছিল যার মুখ থেকে কালো পদার্থ ঝরছিল,” বলেন ড. ক্রিস।
    স্লিপ প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে হ্যালুসিনেশনের বিষয়টি ‘শতকরা খুব সামান্য’ পরিমাণে উঠে আসে। কিন্তু যেহেতু স্লিপ প্যারালাইসিস অনেকের মাঝেই দেখা যায় তাই সেই ‘শতকরা খুব সামান্য’ হ্যালুসিনেশন অনেক মানুষকে ভূত দেখায়, মি. ক্রিস ব্যাখ্যা করেন।

    ফাঙ্গাস এবং ভূতের উপদ্রবের খবরের মধ্যে একটা শক্ত সংযোগ আছে:
    ডা. শেন রজার্স নিউইয়র্কের ক্লার্কসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন অধ্যাপক। তিনি ভুতুড়ে বাড়ি এবং ফাঙ্গাসের মধ্যে সংযোগের বিষয়টি নিয়ে বিশদ কাজ করেছেন।
    শেন লক্ষ্য করেন, তার বাচ্চাদের বেজমেন্টে নিয়ে দেয়ালে ফাঙ্গাস দেখানোর পর তারা ‘অদ্ভুত আচরণ’ করে। তিনি ভুতুড়ে বাড়ি নিয়ে একটা টিভি সিরিজেও লক্ষ্য করেন যে সেখানে প্রচুর ফাঙ্গাসের চিহ্ন আছে। এরকম ফাঙ্গাস দেখার পর মানুষের যে অভিজ্ঞতা হয় সেটা তারা যে ভূত দেখার কথা বলে, তার সাথে মিলে যায়।
    এনএইচএস বলছে, সাধারণত স্যাঁতসেঁতে বিল্ডিংয়ে যে ফাঙ্গাস দেখা যায় সেগুলো শ্বাসকষ্ট এবং চোখের জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে, যা থেকে মানুষ কখনো কখনো কালো অবয়ব দেখতে পায়।
    ল্যাব টেস্টেও একটা ইঁদুরকে কালো ফাঙ্গাস দিয়ে দেখা হয়েছে যে সেটা তার ভেতর কোনো ভয়ের অনুভূতি তৈরী করে কিনা।
    শেন এবং তার দল ২৭টি জায়গা থেকে বিভিন্ন সব ফাঙ্গাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়, যার মধ্যে ১৩টিই ভুতুড়ে জায়গা হিসেবে পরিচিত।
    এই দলটা ফাঙ্গাস এবং ভূতের উপদ্রবের খবরের মধ্যে একটা শক্ত সংযোগ খুঁজে পান।
    ডা. শেন বলেন, “আমরা আমাদের নমুনা থেকে নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি যে, পরিসংখ্যানগতভাবে ভুতুড়ে জায়গাগুলিতে ফাঙ্গাসের অস্তিত্ব একটা বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।”
    “অবশ্য একই সাথে এটাও ঠিক যে আমরা অনেক জায়গায় ফাঙ্গাসের অস্তিত্ব পেয়েছি যেগুলোর সাথে ভূতের উপদ্রবের কোনো সংযোগ নেই। এমনকি আমার বাড়ির বেজমেন্টেও সমস্যা আছে। কিন্তু এই ফাঙ্গাসের ব্যাপারটা ভুতুড়ে আর স্বাভাবিক বাড়ির মধ্যে একটা বড় পার্থক্য সৃষ্টি করে।”
    “আপনাকে কেউ যদি বলে এই ঘরে ভূত আছে, তাহলে সেখানে প্রতিটা শব্দ আপনার নজর কাড়বে”
    ড. ক্রিস, যিনি বিবিসি রেডিও ফোরের ‘আনক্যানি’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, তিনি বলেন, যেসব মানুষ মনে করে তারা ভূত দেখেছে তাদের এই চিন্তার পেছনে তিনটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা থাকে: পূর্ব বিশ্বাস (আপনি যদি আগে ভূতে বিশ্বাস করেন তাহলে আপনি কোনো অদ্ভুত অভিজ্ঞতাকে প্যারানরমাল বলে মনে করবেন), পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং হ্যালুসিনেশন।
    ক্রিস ব্যাখ্যা করেন, “যখন মানুষ ভূত শব্দটা শোনে, তখন কল্পনা করে যে দেয়ালে শেকলবাঁধা ভূত হাঁটছে। মানুষ এরকম বলে, কিন্তু এটা খুবই বিরল। এটা অনেক বেশি অস্পষ্ট একটা অনুভূতি। কারো অস্তিত্ব টের পাওয়া, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা, শরীরে তাপমাত্রার পরিবর্তন হওয়া বা মেরদন্ডে কাঁপুনি।“
    “হ্যালুসিনেশন তো খুবই স্বাভাবিক। যে কারো দীর্ঘসময় ঠিকমতো ঘুম না হলে, অত্যাধিক মানসিক চাপ বা উচ্চ তাপমাত্রায় এটা হতে পারে।”
    পারিপার্শ্বিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। “যদি আপনাকে কেউ খুব পুরনো একটি ভবন দেখিয়ে বলে এখানে ভূতের অস্তিত্ব আছে, তাহলে আপনি এখানকার প্রতিটি শব্দ লক্ষ্য করবেন এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন খেয়াল করবেন, যেটা হয়ত ভূতের কথা না বললে করতেন না,” বলেন ক্রিস।

    একটি কৃত্রিম ভুতুড়ে কক্ষের বর্ণনা:
    ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে আরো দু’টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। একটা হল, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড মানুষের মস্তিষ্কে সংকেত পাঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ফলে হ্যালুসিনেশন হয়।
    আরেকটা হল শব্দ, যা এতটাই আস্তে যে একজন মানুষের শোনার জন্য যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে মতবাদটি হল, কিছু নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি (১৯ হার্টজের কাছাকাছি) মানুষের চোখের মণিতে একটা কম্পন সৃষ্টি করে, যা থেকে দৃষ্টিবিভ্রম ঘটে।
    এই দুটো মতবাদ যাচাই করতে ক্রিস ও তার দল একটা কৃত্রিম ভৌতিক কক্ষ বানিয়েছেন। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের ইনফ্রাসাউন্ড ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক কার্যক্রম দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
    ক্রিস জানান, “মানুষ এই কক্ষে অস্বাভাবিক অনুভূতির কথা বলছে। ৮ শতাংশ মানুষ তো ভয় পাওয়ার কথাও জানিয়েছে।”
    কিন্তু সমস্যা হল আমরা যখন ফলাফল বিশ্লেষণ করছি, তখন আসলে ইনফ্রাসাউন্ড বা ইলেকট্রোম্যাগনেটিকের ব্যাপারটা আর গুরুত্বপূর্ণ থাকছে না। আপনি যদি কয়েকজনকে বলেন যে এই কক্ষে আপনার কিছু অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা হতে পারে, সেটাই আসলে একধরণের পরামর্শের মতো কাজ করছে। অর্থাৎ এটা এই পরামর্শের ক্ষমতা ছাড়া আর কিছু নয়।”
    পূর্ব বিশ্বাস, পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং হ্যালুসিনেশন তিনটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা মানুষ ভূতের অস্তিত্ব অনুভব করে।
    সূত্র : বাসস

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২১ আগস্ট, ২০২৩ : আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ।
    আজ সোমবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদীতে তিনি ফুল দিয়ে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
    তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শ্রদ্ধা জানান৷ এরপর তিনি শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন৷
    বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট এই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়৷ শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে চালানো এই গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও সেদিন এ হামলায় দলের ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হয়৷
    শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ২১ আগস্টের নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বেদিতে জড়ো হন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
    পরে ১৪ দলের পক্ষ থেকেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়াও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
    এরপর আহত ব্যক্তিবর্গ এবং নিহতদের পরিবার, আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতীলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কতিক জোট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদসহ অন্যান্য সংগঠন বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
    আলোচনা সভায় সেই দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি কেবল বক্তব্য শেষ করেছি, নিচে নামবো, তখন ফটোগ্রাফাররা বললো আপা একটু দাঁড়ান, কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। সাথে সাথে শুরু হয়ে গেল গ্রেনেড হামলা। হানিফ ভাই আমার পাশে ছিল, সাথে সাথে তিনি টেনে বসিয়ে দিলেন। আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরল।

    তিনি বলেন, যেসব গ্রেনেড ছোড়া হলো সেগুলো ট্রাকের ওপরে না পড়ে ট্রাকের ডালার সাথে বাড়ি খেয়ে নিচে পড়ে যায়। সমস্ত স্প্লিন্টার হানিফ ভাইয়ের মাথায়। তার সমস্ত গা বেয়ে রক্ত… আমার কাপড়ে এসে পড়ছে। প্রথমে তিনটা, তারপর একটু বিরতি দিয়ে আবার একটার একটা গ্রেনেড মারতে শুরু করল। আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত, আইভি রহমান মহিলাদের নিয়ে নিচেই ছিলেন।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি খুনের রাজনীতি করে, এটা তো প্রকাশ্য দিবালোকের মতো মানুষের কাছে স্পষ্ট। ১৫ আগস্ট জিয়া জড়িত থাকায় মোশতাককে সেনাপ্রধান বানিয়ে পুরস্কৃত করে। আমেরিকায় এফবিআই কর্মীকে ভাড়া করে জয়কে কিডন্যাপ করে হত্যার চেষ্টা করেছে বিএনপি। বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলের উত্থানই হত্যা ও ষড়যন্ত্র দিয়ে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে আমাদের কর্মীদের হত্যা করা হয়। আর আমরা ক্ষমতায় আসার পর অগ্নিসন্ত্রাস করে তারা জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
    শেখ হাসিনা আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আমাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমরা কেন বিচার থেকে বঞ্চিত ছিলাম? কাদের শেখানো বুলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলে? আমরা তো বিচার পাইনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিত। মূল হোতা তো বাইরে। মুচলেকা দিয়ে বাইরে চলে গেছে। সাহস থাকলে বাংলাদেশে আসে না কেন? আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি, সেটি ব্যবহার করে বড় বড় কথা বলছে। সাহস থাকলে বাংলাদেশে আসুক।
    শেখ হাসিনা বলেন, খুনিদের রাজত্ব আর চলবে না। জিয়া পরিবার মানে খুনি পরিবার। অন্যায় আল্লাহও সহ্য করবে না। এতো হামলার পরও আল্লাহ যখন বাঁচিয়েই রেখেছেন, মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।
    সূত্র : বাসস

  • নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন ২১ আগস্ট: শেখ হাসিনা

    নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন ২১ আগস্ট: শেখ হাসিনা

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২১ আগস্ট, ২০২৩ : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেঁপে উঠেছিল নজিরবিহীন গ্রেনেড হামলায়। আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ত্রাস বিরোধী ওই সমাবেশে হযেছিল সন্ত্রাসী হামলা।সেই দিনটির কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেছেন, ২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। ২১ আগস্ট উপলক্ষ্যে গতকাল রবিাবর (২১ আগস্ট) দেয়া এক বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালের এ দিনে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা এবং আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে হত্যা, ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে চিরস্থায়ী করা।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “মহান আল্লাহ’র অশেষ রহমত ও জনগণের দোয়ায় আমি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাই। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে আমাকে রক্ষা করেন। তবে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলায় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভানেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হন; আহত হন ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী। তাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। অনেকে দেহে স্পিন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। আমি ২১ আগস্টের সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
    শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি-জামাত জোট সবসময় জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা করে আসছে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এই জোট। একের পর এক বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তারা দেশটিকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চালায়।”

    এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে তারা গ্রেনেড হামলা চালায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক সমাবেশে এ ধরনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এ নারকীয় হামলা ও হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচার করা ছিল সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট সরকার কোন পদক্ষেপ না নিয়ে, উল্টো হত্যাকারীদের রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। হামলাকারীদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সব আলামত ধ্বংস করে।”
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপব্যবহার করে তারা ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজায়। পরবর্তীকালে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসে হাওয়া ভবন ও বিএনপি-জামাত জোটের অনেক কুশীলব এ হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় হয়। আদালত গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে পলাতক তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে ১১ আসামির।”

    তিনি বলেন, “এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আশা করি, সকল আইনি বিধিবিধান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর হবে। এই রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চির অবসান হবে; জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে।”
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি-জামাত জোটের সকল অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে বাংলাদেশের জনগণ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আমাদের সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত সাড়ে ১৪ বছরে আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জন করেছি। এই সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। আমরা আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি।”

    তিনি বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ২১ আগস্টের বীভৎস হত্যাকান্ড বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবেই চিহ্নিত থাকবে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এখনও নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশক্তির যে কোন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আগামী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তুলি।”

    সূত্র : বাসস

  • হিলারি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আঘাত হেনেছে

    হিলারি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আঘাত হেনেছে

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২১ আগস্ট, ২০২৩ : গ্রীষ্মমন্ডলীয় সৃষ্ট ঝড় হিলারি গতকাল রবিবার মেক্সিকো থেকে ধেয়ে এসে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আঘাত হেনেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্টের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে ।এতে প্রাণহানির ও বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
    ইতোমধ্যেই উপকূলীয় জনগণকে নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওজাই শহরের কাছে ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প ও অনুভূত হয়েছে ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পে হতাহত অথবা ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি।
    রবিবার মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হিলারি ঘন্টায় ৩৫ কিলোমিটার বেগে উপদ্বীপের দিকে ধেয়ে আসছিল। রবিবার বিকেলে ঘন্টায় ৬০ মাইল বেগে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আঘাত হানে।
    যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্বিক জরীপ বিভাগ জানিয়েছে, ‘সোমবার পর্যন্ত বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমের কিছু অংশে বিপর্যয়ের এবং প্রাণ নাশের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।’
    লস অ্যাঞ্জেলসের মেয়র কারেন বাস সতর্ক করেছেন, ‘এটি একটি নজিরবিহীন আবহাওয়ার ঘটনা’
    সমুদ্র সৈকতগুলো আগে থেকেই বন্ধ করে দেয়ার এবং লোকজনকে প্রয়োজনীয় পানি ও শুকনো খাবার মজুত রাখার ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা এমনকি টর্নেডো সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
    সূত্র; বাসস

  • ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিম’একটি সার্বজনীন কর্মসূচি: ডিসিসিআই সভাপতি

    ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিম’একটি সার্বজনীন কর্মসূচি: ডিসিসিআই সভাপতি

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২১ আগস্ট, ২০২৩ : ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার জানিয়েছেন, সম্প্রতি সরকার প্রবর্তিত ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিম’ দেশের সকল স্তরের মানুষকে টেকসই সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বলয়ে অন্তর্ভূক্তিকরণে কার্যকর এবং সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ।
    তিনি আরও জানিয়েছেন, এটি সরকারের একটি জনবান্ধব উদ্যোগ, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকল্পে বিশেষ করে বেসরকারিখাতে কম জনগোষ্ঠী, প্রবাসী, অনানুষ্ঠানিক খাত এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’, ‘সমতা’ এবং ‘প্রবাসী’ নামে ৪টি প্যাকেজের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে। উল্লেখ্য,‘সমতা’ স্কিমের আওতায় স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের পক্ষ হতে ৫০ শতাংশ চাঁদা সহায়তার উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক একটি দিক।
    ঢাকা চেম্বার বিশ্বাস করে, বৈশ্বি অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এবং আর্থিক কৃচ্ছতা সাধনের মত পরিস্থিতিতে, সার্বজনীন পেনশন স্কিম আমাদের অর্থনীতিতে অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কর্মসূচি সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি দারিদ্র বিমোচন করবে, যেটি আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ও ব্যয় হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
    ডিসিসিআই সভাপতি সামীর সাত্তার মনে করেন, এর মাধ্যমে বেসরকারিখাতও উপকৃত হবে। তিনি বলেন, এ বিশাল উদ্যোগ ব্যাংক খাত হতে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস করবে এবং সরকারের আর্থিক চাহিদা মেটাতে নতুন নতুন আর্থিক উৎসের সৃষ্টি করবে। সেই সাথে বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশী ঋণ গ্রহণ হ্রাস করবে, যেটি দেশের জিডিপিতে বিনিয়োগের অংশীদারিত্বকে বৃদ্ধি করবে। এছাড়াও বেসরকারিখাতের জন্য প্রতিযোগী মূল্যে অর্থ প্রাপ্তিতেও সহায়তা করবে।একইসাথে আমাদের স্থানীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এমএসএমই খাতে কর্মরত বিপুল জনগোষ্ঠীকে ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় তাদের বার্ধক্যকালীন সময়ে সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে,যেটি আমাদের বেসরকারিখাতে কমর্রত মানুষের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির পাশাপাশি চাকুরীত্যাগের প্রবণতাকেও হ্রাস করবে।
    নেদারল্যান্ডস্, ডেনমার্ক, জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, কানাডা, আইসল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ড সহ পৃথিবীর অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনায় উল্লেখিত দেশসমূহের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিম’ কার্যকরভাবে পরিচালনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির বহুল প্রত্যাশিত রুপান্তরকে বেগবান করবে। এই কর্মসূচির বিভিন্ন স্কিমের বিপরীতে প্রতিযোগিতামূলক ও নিরাপদ পেনশন প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, সুশাসন এবং সাধারণ জনগনের এ অর্থ পরিচালনায় দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয়গুলো ভবিষ্যতে দেশের মানুষকে এ স্কিমের প্রতি আরও বেশি হারে আকৃষ্ট করবে।
    ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিম’একটি সার্বজনীন কর্মসূচি যার মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের মানুষ অর্থনৈতিক নিরাপত্তার আওতায় আসবে।
    সূত্র; বাসস

  • নারী ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করল স্পেন

    নারী ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করল স্পেন

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২১ আগস্ট, ২০২৩ : প্রথমবারের নারী ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইরালে উঠে স্পেন ফেভারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জয় করল।ফাইরালে শক্তির বিচারে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড।কেননা এবার ইংল্যান্ড ইউরোপীয় ফটবলে চাম্পিয়ন হয়। বিজয়ীদের পক্ষে জয়সুচক একমাত্র গোলটি করেছেন স্পেনের অধিনায়ক ওলগা কারমোনা।
    অস্ট্রেলিয়র সিডনি স্টেডিয়াম প্রায় ৭৬ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ইংলিশদের সামনে দুর্দান্ত ছিল স্প্যানিশরা। দ্বিতীয়ার্ধে পাওয়া পেনাল্টিসহ আরো কয়েকটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে দলটি।
    অথচ বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে টুর্নামেন্টের জন্য তাদের প্রস্তুতি ছিল বিশৃংখলায় ভরা। দলের ১৫জন খেলোয়াড় স্পেন ফুটবল ফেডারশেনকে ইমেইল করে তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না রাখার জন্য বলেছিল। তাদের ওই প্রতিবাদ ছিল কোচ হোর্হে ভিলদার বিপক্ষে। তাদের অভিযোগ, তিনি বেশ কঠোর। তরপরও ভিলদা তার দায়িত্ব ধরে রেখেছেন এবং দলটিকে স্থির রেখেছেন। শেষ পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে তার দল রচনা করেছে নতুন এক ইতিহাস।
    অপরদিকে বিশ্বকাপের ফাইনালে পরপর দুইবার পরাজয়ের শিকার হলেন ইংল্যান্ডের কোচ সারিনা উইগম্যান।
    এই নিয়ে পঞ্চম কোন দেশ নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করল। এর আগে ১৯৯১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, নরওয়ে ও জাপান। স্পেনের রানী লেতিজিয়ার উপস্থিতিতে ম্যাচের ২৯ মিনিটে নীচু শটে জয়সুচক গোলটি করেন লেফট ব্যাক ও অধিনায়ক কারমোনা।
    এই হার দিয়ে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠা চেলসি স্ট্রাইকার লরেন জেমসেক দলে না ফেরানোর মাসুল দিয়েছেন ইংলিশ কোচ উইগম্যান। ফাইনালে তিনি আস্থা রেখেছিলেন আগের সেমিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দেয়া দলের উপর।
    ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু লরেন হেম্পের নেয়া দূর্বল শটের বলটি সহজেই গ্রীবে নেন স্প্যানিশ গোল রক্ষক ক্যাটা কোল। পাল্টা আক্রমন চালিয়ে এরপর ব্যর্থ হয় স্পেন। সালমা প্যারালুয়েলোর পাঠানো বলটি বক্সের ছয়গজ দূর থেকেই জালে জড়াতে পারেননি অ্যালেক্সিয়া পুটেলাস। শেষ পর্যন্ত ইংলিশ গোল রক্ষক মেরি ইয়ার্পস এর পরীক্ষা নিতে সক্ষম হন আলবা রেডন্ডো। দলগত আরো একটি প্রচেস্টা থেকে ২৪তম মিনিটে গোল করতে ব্যর্থ হন হেম্প। পরের মিনিটেই একজন দর্শক নিরাপত্তা বেস্টনি পেড়িয়ে মাঠে প্রবেশ করলে ম্যাচে বিঘœ ঘটে। তবে দ্রুতই তাকে সরিয়ে নেয় নিরাপত্তা কর্মীরা।
    এর ৫ মিনিট পরেই স্প্যানিশদের সামনে আসে ম্যাচের সেরা মুহুর্তটি। ২৯ মিনিটে কারমোনা গোল করে এগিয়ে দেয় বিশ্বকাপে আগের কোন আসরে নকউইট পর্বে জয় না পাওয়া দল স্পেনকে। এই আসরেও গ্রুপ পর্বে জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল তারা। মারিওনা ক্যালডেন্টের নিখুঁত পাসের বল ঝাপিয়ে পড়ে জালে জড়িয়ে দেন কারমোনা। ম্যাচে ইংল্যান্ডের বার্সেলোনা স্ট্রাইকার ১৯ বছর বয়সি প্যারালুয়েলোর পারফর্মেন্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
    বিরতির পর গোল পরিশোধের প্রানপন চেস্টা করেও ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড। উল্টো শেষ বাঁশি বাজার ২০ মিনিট আগে পেনাল্টি পেয়ে যায় স্পেন। বক্সের ভেতর কেইরা ওয়ালসের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পায় স্প্যানিশরা। কিন্তু জেনিফার হার্মসোর দূর্বল শটের বল দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন ইংলিশ গোল রক্ষক। ম্যাচে ১৩ মিনিটের ইনজুরি টাইমেও গোল পরিশোধ করতে পারেনি ইংল্যান্ড।
    সূত্র : বাসস

  • বিএনপি হত্যার রাজনীতি করে: তথ্যমন্ত্রী

    বিএনপি হত্যার রাজনীতি করে: তথ্যমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২১ আগস্ট, ২০২৩ : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি হত্যার রাজনীতি করে। হত্যার রাজনীতির মাধ্যমেই বিএনপি’র উত্থান, পথ চলা ও ষড়যন্ত্র। তারা হত্যার রাজনীতিতেই বিশ্বাস করে। আজকে তারা লম্বা লম্বা কথা বলে। এ দেশে তাদের রাজনীতি করারই অধিকার থাকা উচিত নয়।’গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। ২১ আগস্ট আহত-নিহত পরিবারের কেন্দ্রীয় সংগঠন ‘গণতন্ত্র যোদ্ধা ২১ আগস্ট বাংলাদেশ’ এ সভার আয়োজন করে।
    অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলো মুশতাক এবং জিয়া, আর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ঘটিয়েছে তারেক জিয়া এবং খালেদা জিয়া। গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আহত হয়েছেন, তার দলের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত, পাঁচশ’রও বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সমগ্র পৃথিবী নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে। কিন্তু সংসদে একটি শোক প্রস্তাব আনতে বা কোনো আলোচনাও করতে দেয়া হয়নি। বরং হাস্যরস করা হয়েছে, বলা হয়েছে যে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাই না কি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গেছে। অর্থাৎ ওদের কথা অনুযায়ী আমরা সবাই আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম।’
    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সেদিন বিদেশি সন্ত্রাসীরাও ঢাকায় এসেছিলো, এ হামলা পরিচালনার সাথে তাদেরকেও যুক্ত করা হয়েছিলো। তারা যখন শুনেছে জননেত্রী শেখ হাসিনা মারা যাননি, তখন চলে গেছে। হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড জেলখানার মধ্যে পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সামরিক বাহিনীর গ্রেনেড জেলখানার অপরাধীদের হাতে যাওয়া সম্ভব নয়।’
    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন ভাগ্যক্রমে স্রষ্টার অশেষ কৃপায় বেঁচে গেছেন। বুলেটপ্রুফ গাড়ি যদি না থাকতো, বাঁচার কোনো উপায় ছিলো না। আমার শরীরে চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশটা স্পিন্টার আছে, অনেকের ‘পাঁচশ-ছয়শ’ আছে। ফেরদৌসী, কাজল আরো অনেকেই আছেন, যারা পাঁচশ’-ছয়শ’ স্পিন্টার নিয়ে বেঁচে আছে, পঙ্গু হয়ে গেছে। এতো বড় ভয়াবহ হামলা ও হত্যাকান্ডের বিচার তো হয়ই নি, বরং বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিলো, যে কমিশন এই মর্মে গাঁজাখুরি এক রিপোর্ট দিলো যে, ইসরাইলের ‘মোসাদ’ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিচারের নামে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজিয়ে তখন জাতিকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’
    তথ্যমন্ত্রী বলেন, হামলার পরে আমাদের নেতাকর্মীরা আহতদের উদ্ধারে, নিহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য এলে তাদের ওপর টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়। মামলার আলামত নষ্ট করার জন্য হামলার স্থান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। সেনাবাহিনীর একজন অফিসার মেজর শামস আলামত হিসেবে একটি গ্রেনেড রেখে দেয়ায় তাকে সেনাবাহিনী থেকে সাসপেন্ড করা হয়।
    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই দেশের মালিক এই দেশের মানুষ। এই দেশের ক্ষমতার মালিক এই দেশের মানুষ। এখানে কে ক্ষমতায় থাকবে, কে ক্ষমতায় থাকবে না সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এই দেশের মানুষ, অন্য কোনো দেশ নয়, অন্য কেউ নয়। আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি। আওয়ামী লীগ এমন একটা দল যে, আঘাত পেলে সংগঠিত হয়, ঘুরে দাঁড়ায়, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর তারা ভেবেছিলো আওয়ামী লীগ আর আগের মতো দাঁড়াতে পারবে না, কিন্তু আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’
    ‘গণতন্ত্র যোদ্ধা ২১ আগস্ট বাংলাদেশ’ সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব।সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, অ্যাড. কাজী শাহানারা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান নাজিম।
    সূত্র : বাসস

  • ভারতের আইআইটি’র রিসার্চ পার্ক পরিদর্শনে প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী

    ভারতের আইআইটি’র রিসার্চ পার্ক পরিদর্শনে প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – প্রযুক্তি – ২১ আগস্ট, ২০২৩ : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এক সফরে ভারতে অবস্থান করছেন। গতকাল রবিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে তিনি ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মাদ্রাজ এর রিসার্চ পার্ক পরিদর্শন করেন।

    এই সময় তিনি আইআইটিএম এর সিইও ডা. এম জে শঙ্কর ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রবর্তক ডা. গৌরব রায়না, এবং প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

    এ সময় তারা ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ভিত্তিক শেখার পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ পদ্ধতি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে তারা মনে করেন।
    আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক আধুনিক প্রযুক্তি সবসময় আমাদের সামাজিক ও জাতীয় জীবনে একটি নতুন মাত্রা নিয়ে এসেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের জীবনকে সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ করে তুলছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

    এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী চেন্নাইয়ের রেলা ইনস্টিটিউট অব হেলথ সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী রেলা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। তিনি চিকিৎসায় প্রযুক্তির বিপ্লব এবং কীভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ওষুধের প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে তা প্রত্যক্ষ করেন।

    চেন্নাই রেলা ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফারুক নতুন উদ্ভাবনী স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন । প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপস্থিত কর্মকর্তারা রোগী ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবন, অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে রোবোটিক্সের ব্যবহার, চিকিৎসা বিজ্ঞানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং বাংলাদেশী হাসপাতাল সমূহের সাথে এ সকল বিষয়ে জ্ঞান আদান-প্রদানের সম্ভাবনা বিষয়ে মতামত বিনিময় করেন।

    প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক রেলা ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কর্মকর্তাদের কথা মনযোগ দিয়ে শোনেন এবং ধন্যাবদ প্রদান করেন।

    সূত্র : বাসস

  • সর্বক্ষেত্রে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী গড়ে তুলছি: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২০ আগস্ট, ২০২৩ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সবক্ষেত্রে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী গড়ে তুলছি। তথ্য চাওয়া ও পাওয়া মানুষের অধিকার।’
    আজ (২০ আগস্ট) সকালে নবনির্মিত ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন’ ও ‘তথ্য কমিশন ভবন’ এবং ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে সরকারপ্রধান এ কথা বলেন।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অগ্নি সন্ত্রাসের মতো মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা করেও আমরা উন্নয়নের পথে দেশের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে চাই।”
    সরকার প্রধান বলেন, “জাতির পিতার তৈরি করে দেয়া ভিত্তি বা শুরু করে যাওয়া প্রতিটি কাজ সফলভাবে করতে পেরে আমি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।”
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণ আমাদের বার বার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন বলেই এই কাজগুলো আমরা করতে পেরেছি। বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে আজকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সরকার চলছে, দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। যদিও এর মাঝে আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ এবং অগ্নিসন্ত্রাস-এমন অনেক কিছুই মোকাবিলা করতে হয়েছে। কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে সেটাই আমরা চাই।”
    শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে এই বাংলাদেশকে আমরা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেখানে আমাদের স্মার্ট জনগোষ্ঠী হবে, স্মার্ট ইকোনমি হবে, স্মার্ট সোসাইটি হবে, স্মার্ট গভর্ণমেন্ট তথা প্রতিটি ক্ষেত্রই স্মার্ট হবে।”
    তিনি আরো বলেন, “সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তাঁর সরকার সকল ক্ষেত্রেই আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন জনগোষ্ঠী, সমাজ এবং দেশকে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে ।”
    সরকার প্রধান বলেন,“ইনশাল্লাহ আমরা এটা সফলভাবে করতে পারবো। বাংলাদেশে কোন ক্ষুধা-দারিদ্র্য থাকবেনা, কোন মানুষ কষ্ট পাবেনা, প্রত্যেক ভূমিহীন মানুষ ঘর পাবে, প্রতিটি মানুষের জীবন মান উন্নত হবে।”
    সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আগে অবসর ভাতা কেবল সরকারি কর্মকর্তারাই পেত, সেটাকে আমরা এখন সর্বজনীন করে দিয়েছি। কেননা যখন তাদের (অবসরে যাওয়া বেসরকারি কর্মজীবী) কাজ করার সুযোগ থাকবে না তখন তাদের জীবনটা যেন অর্থবহ থাকে এবং প্রত্যেক মানুষের জীবনটা যেন নিরাপদ হয়।”
    বিএফডিসি কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি এক একর জমিতে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বিটিআরসি ভবন এবং ০.৩৫ একর জমিতে তথ্য কমিশন ভবন উদ্বোধনের পর তিনি বলেন, “আমরা যখনই কোনো উন্নয়নের উদ্যোগ নিই, তখনই দেখতে পাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভিত্তি প্রদান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার পদচিহ্ন অনুসরণ করে বাংলাদেশ ও এর জনগণের উন্নয়নে কাজ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছেন।
    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
    অনুষ্ঠানে নবনির্মিত বিটিআরসি ও তথ্য কমিশন ভবন এবং বিএফডিসি কমপ্লেক্সের ওপর একটি অডিও-ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
    অনুষ্ঠানে বিটিআরসি ভবন, তথ্য কমিশন ভবন এবং বিএফডিসি কমপ্লেক্স (তেজগাঁও) সংযুক্ত ছিল।
    সূত্র : বাসস

  • আগামীকাল বিভীষিকাময় গ্রেনেড হামলার ১৯তম বার্ষিকী

    আগামীকাল বিভীষিকাময় গ্রেনেড হামলার ১৯তম বার্ষিকী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২০ আগস্ট, ২০২৩ : আগামীকাল রক্তাক্ত বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট। নারকীয় সন্ত্রাসী হামলার ১৯তম বার্ষিকী।বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন।

    ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এই নজির বিহীন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।সেই সময় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হিংসার দানবীয় সন্ত্রাস আক্রান্ত করে মানবতাকে। আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় আয়োজিত সমাবেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও গ্রেনেডের আঘাতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২২ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। পরবর্তী সময়ে গ্রেনেড হামলার বিচারের রায়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রী ও সরকারের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলে যে ওই সরকারের প্রত্যক্ষ মদতেই হামলাটি পরিচালিত হয়েছিল।

    আগামীকাল ইতিহাসের এই জঘন্যতমগ্রেনেড হামলার ১৯তম বার্ষিকীতে বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে হামলায় নিহতদের স্মরণ করবে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি পালনে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

    সেদিন ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী’ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ।তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার।তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন। সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতাশেষ হওয়ার পরপরই তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টিগ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তুপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। স্পিন্টারের আঘাতে মানুষের হাত-পাসহ বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। সভামঞ্চ ট্রাকের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত নিথরদেহ। লাশ আর রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনের পিচঢালা পথ। নিহত-আহতদের জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকাধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভেসে আসে শত শত মানুষের গগন বিদারী আর্তচিৎকার। বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টারত মুমূর্ষুদের কাতর-আর্তনাদসহ অবর্ণনীয় মর্মান্তিক সেই দৃশ্য।

    সেদিন রাজধানীর প্রতিটি হাসপাতালে আহতদের তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ভাগ্যগুণে নারকীয়গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যানশেখ হাসিনা। ঘাতকদের প্রধান লক্ষ্যশেখ হাসিনা বেঁচে গেছেন দেখে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ১২ রাউন্ড গুলি করা হয়। তবে টার্গেট করা গুলি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বহনকারী বুলেটপ্রুফ গাড়ি ভেদ করতে পারেনি। হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর তৎকালীন বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনে। ২১ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে। রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়ালগ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান ছাড়াওসেদিন নিহত হন ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম।গ্রেনেডের স্পিন্টারের সঙ্গে লড়াই করে ঢাকারমেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ আরও কয়েকজন পরাজিত হন।

    হামলায় আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে শরীরে স্পিন্টার নিয়ে আজও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আহত হয়েছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। এখনও অনেক নেতাকর্মী সেদিনের সেই গ্রেনেডের স্পিন্টারের মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। অনেক নেতাকর্মীকে তাৎক্ষণিক দেশে-বিদেশে চিকিৎসা করালেও তারা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।

    এদিকে গ্রেনেড হামলার পর ভয়, শঙ্কা ও ত্রাস গ্রাস করে ফেলে গোটা রাজধানীকে। এই গণহত্যার উত্তেজনা ও শোক আছড়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। হামলার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজে বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচাতে যখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ঠিক তখনই পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলের ওপর বেধড়ক লাঠি-টিয়ারশেল চার্জ করে। একইসঙ্গে নষ্ট করা হয় সেই রোমহর্ষক ঘটনার যাবতীয় আলামত। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্যক্ষ মদদে ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজায় বিএনপি-জামায়াতজোট সরকার।
    দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হবে।

    এছাড়াও সকাল সাড়ে ১১ টা ১৫ মিনিটে ২১ আগস্টের নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
    সূত্র : বাসস