www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২১ আগস্ট, ২০২৩ : আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ।
আজ সোমবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদীতে তিনি ফুল দিয়ে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শ্রদ্ধা জানান৷ এরপর তিনি শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন৷
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট এই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়৷ শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে চালানো এই গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও সেদিন এ হামলায় দলের ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হয়৷
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ২১ আগস্টের নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বেদিতে জড়ো হন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
পরে ১৪ দলের পক্ষ থেকেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়াও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এরপর আহত ব্যক্তিবর্গ এবং নিহতদের পরিবার, আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতীলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কতিক জোট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদসহ অন্যান্য সংগঠন বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
আলোচনা সভায় সেই দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি কেবল বক্তব্য শেষ করেছি, নিচে নামবো, তখন ফটোগ্রাফাররা বললো আপা একটু দাঁড়ান, কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। সাথে সাথে শুরু হয়ে গেল গ্রেনেড হামলা। হানিফ ভাই আমার পাশে ছিল, সাথে সাথে তিনি টেনে বসিয়ে দিলেন। আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরল।
তিনি বলেন, যেসব গ্রেনেড ছোড়া হলো সেগুলো ট্রাকের ওপরে না পড়ে ট্রাকের ডালার সাথে বাড়ি খেয়ে নিচে পড়ে যায়। সমস্ত স্প্লিন্টার হানিফ ভাইয়ের মাথায়। তার সমস্ত গা বেয়ে রক্ত… আমার কাপড়ে এসে পড়ছে। প্রথমে তিনটা, তারপর একটু বিরতি দিয়ে আবার একটার একটা গ্রেনেড মারতে শুরু করল। আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত, আইভি রহমান মহিলাদের নিয়ে নিচেই ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি খুনের রাজনীতি করে, এটা তো প্রকাশ্য দিবালোকের মতো মানুষের কাছে স্পষ্ট। ১৫ আগস্ট জিয়া জড়িত থাকায় মোশতাককে সেনাপ্রধান বানিয়ে পুরস্কৃত করে। আমেরিকায় এফবিআই কর্মীকে ভাড়া করে জয়কে কিডন্যাপ করে হত্যার চেষ্টা করেছে বিএনপি। বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলের উত্থানই হত্যা ও ষড়যন্ত্র দিয়ে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে আমাদের কর্মীদের হত্যা করা হয়। আর আমরা ক্ষমতায় আসার পর অগ্নিসন্ত্রাস করে তারা জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আমাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমরা কেন বিচার থেকে বঞ্চিত ছিলাম? কাদের শেখানো বুলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলে? আমরা তো বিচার পাইনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিত। মূল হোতা তো বাইরে। মুচলেকা দিয়ে বাইরে চলে গেছে। সাহস থাকলে বাংলাদেশে আসে না কেন? আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি, সেটি ব্যবহার করে বড় বড় কথা বলছে। সাহস থাকলে বাংলাদেশে আসুক।
শেখ হাসিনা বলেন, খুনিদের রাজত্ব আর চলবে না। জিয়া পরিবার মানে খুনি পরিবার। অন্যায় আল্লাহও সহ্য করবে না। এতো হামলার পরও আল্লাহ যখন বাঁচিয়েই রেখেছেন, মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।
সূত্র : বাসস










