Author: Hello Bangla News

  • শিল্পকলার আয়োজনে ‘ইকেবানা ও অরিগামি কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত

    শিল্পকলার আয়োজনে ‘ইকেবানা ও অরিগামি কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২ দিনব্যাপী ইকেবানা ও অরিগামি কর্মশালা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান আর্ট মার্কেটের অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ১০ জন করে ২০ জন অংশগ্রহণকারীকে এ কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

    জাপানিজ শিল্পকলা ইকেবানা হলো ফুল, পাতা, শাখা প্রশাখার শৈল্পিক সমন্বয় পদ্ধতি, যা ফুলের বিন্যাসের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়। শিল্পকলা হিসেবে এটি শুধু সজ্জায়নের জন্যই নয়, এর দার্শনিক ভাবধারাও রয়েছে। মুলত জীবন্ত ফুল দিয়েই এই শিল্পকর্মটি তৈরী করা হয়।

    অন্যদিকে অরিগামি হলো কাগজের ভাঁজের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট জিনিসের আকৃতি দেয়া। এটিও মুলত জাপানি ঐতিহ্য। অরি মানে ভাঁজ আর গামি অর্থ কাগজ। অরিগামির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ধরন হলো অ্যাকশন অরিগামি, মডিউলার অরিগামি, ওয়েট ফোল্ডিং ও অনান্য। সাধারণত কোন কিছুর সাহায্য ছাড়াই কাগজে নানা আকৃতি বা অবয়ব তৈরী করা হয়।

    ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ দুদিনব্যাপী ইকেবানা ও অরিগামি কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী। তিনি বলেন ‘জাপানি ঐতিহ্য হলেও ইকেবানা ও অরিগামি শিল্পকলা হিসেবে বাংলাদেশেও ভীষণ জনপ্রিয়। ফুল ও কাগজের তৈরী এ ধরনের শৈল্পিক পরিবেশনা আমাদের প্রত্যেকের ঘরেও কমবেশি দেখা যায়। সেটাকেই আরো কিভাবে নান্দনিক ও সুন্দর করা যায় সেই প্রচেষ্ঠাতেই আমাদের এই আয়োজন।’

    পরে সহযোগিতার জন্য জাপান দূতাবাসকে কৃতজ্ঞতা জানান মহাপরিচালক।

    পুরো আয়োজনে সমন্বয়ক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ইন্সট্রাক্টর মাহিম সিনথিয়া।

  • দুই দিন সময় বাড়লো বইমেলার

    দুই দিন সময় বাড়লো বইমেলার

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: প্রকাশক ও পাঠকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বইমেলার সময় ২ দিন বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবার বই মেলা চলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটছ। এবার বইমেলার শেষ হবে ২ মার্চ। এদিকে বছরটি লিপ-ইয়ার হওয়ার কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের এক দিন বাড়ছে। স্বাভাবিক কারণে লিপ-ইয়ারের একদিন ও মার্চের দুই দিন মিলে বইমেলর সয় মোট বেড়েছে তিন দিন। বিষয়টি পাঠক ও প্রকাশকদের জন্য আনন্দের।

    আগামী ১ ও ২ মার্চ (শুক্রবার-শনিবার) মেলা অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলার সময়সীমা দুদিন বাড়ানোর আবেদনে অনুমোদন দিয়েছেন। তাই বইমেলা আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

    বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহাম্মদ নুরুল হুদা রাত ৯টার দিকে বইমেলায় ঘোষণা কেন্দ্র থেকেও মেলার সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতিক্রমে বইমেলা দুদিন বাড়ানো হয়েছে।’

    এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলার সময় দুদিন বাড়ানোর জন্য বাংলা একাডেমিতে চিঠি দেয় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতি।

    চিঠিতে বলা হয়, ‘অমর একুশে বইমেলা শুরু হওয়ার প্রথম তিনদিন মেলাপ্রাঙ্গণের প্রস্তুতি ও বৃষ্টিজনিত সমস্যার কারণে মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশকরা যথাযথভাবে বিক্রি শুরু করতে পারেননি। সে কারণে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে ১ ও ২ মার্চ শুক্র এবং শনিবার হওয়ায় দুদিন অমর একুশে বইমেলার সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করছি।’

    আশা করা যাচ্ছে শেষ দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বইমেলার পাঠক সামগম প্রচুর হবে।

  • লিপ ইয়ারের আগমন রহস্য ও মজার কিছু তথ্য

    লিপ ইয়ারের আগমন রহস্য ও মজার কিছু তথ্য

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: লিপ ইয়ার মানে বছরে একটি দিন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে একটি কর্মদিন বেড়ে যায়। নানা ঘটনা আর মতামতের পর এসেছে লিপ ইয়ার। চার বছর পর পর বছরের একটি দিন বেড়ে যাওয়াকে বলা হয় লিপ ইয়ার। যার কিছুটা বৈজ্ঞানিক যুক্তি থাকলেও অধিকাংশই জ্যোর্তিবিজ্ঞানের কারণে এসেছে ২৯ ফেব্রুয়ারি।

    দেখা গেছে অতীতে আগস্ট মাস ছিল ২৯ দিনে। কিন্তু সম্রাট সিজার অগাস্টাস ক্ষমতায় আসার পর তার নামের মাস ২৯ দিন হবে সেটা তিনি মেনে নিতে পারেনি। তাই ফেব্রুয়ারি মাসের দুই দিন কমিয়ে আগস্ট মাস ৩১ দিন করা হয়। এভাবে নানা কারণে এক সময় লিপ ইয়ারের সৃষ্টি।

    কীভাবে হয় লিপ ইয়ার, এর ইতিহাস কী, ফেব্রুয়ারিতেই বা কেন এক দিন বাড়ানো হয়, এই একটি দিন ঘিরে আছে এমন নানা প্রশ্ন। সে সবের উত্তর খোঁজা যাক এখানে। উঠে এসেছে ১০ টি মজার তথ্য।

     

    ১. লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত দিনটা জরুরি আমাদের সৌরজগতের ‘বিশৃঙ্খল’ অবস্থার জন্যই। কারণ এক বছরে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে একটা সম্পূর্ণ কক্ষপথ ঘুরে আসতে কিন্তু ঠিক পুরোপুরি ৩৬৫ দিন লাগে না। বরং সব মিলে সময়টা ৩৬৫.২৪২২ দিনের মতো। অর্থাৎ ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা। ফলে প্রতি বছর আসলে এক দিনের চার ভাগের প্রায় এক ভাগ সময় যোগ হয়। যা প্রতি চার বছরে একটা বাড়তি দিন যোগ করে।

     

    ২. জুলিয়াস সিজার রোমের ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত ৩৫৫ দিনে বছর, এমন ক্যালেন্ডারই সবাই মেনে চলত – যেখানে প্রতি দুই বছর পরপর একটা অতিরিক্ত ২২ দিনের মাস যু্ক্ত হত। কিন্তু এটা আসলে সমস্যার একটা জটিল সমাধান ছিল এবং উৎসবের দিনগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে যেতে শুরু করে। তাই সিজার তার জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোসিজেনেসকে বিষয়টি সহজ করার নির্দেশ দেন।

    সোসিজেনেস তখন ৩৬৫ দিনে বছর করে যে অতিরিক্ত ছয় ঘন্টার মতো থেকে যায় সেটা মিলিয়ে নিতে চার বছর পরপর একটা অতিরিক্ত দিন ক্যালেন্ডারে যুক্ত করেন। আর এভাবেই ২৯শে ফেব্রুয়ারির জন্ম। যা পরবর্তীতে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি সূক্ষ পরিমার্জন করেন।

     

    ৩. আঙুলের হিসেবে প্রতি চার বছর পরপর আসে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ। কিন্তু কথা এখানেই শেষ না। যেই বছরটাকে ১০০ দিয়ে ভাগ করা যায় কিন্তু আবার ৪০০ দিয়ে করা যায় না, সেটা লিপ ইয়ার নয়। সে কারণেই গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী আমরা ২০০০ সালে লিপ ইয়ার পেয়েছি, ১৬০০ সালে লিপ ইয়ার ছিল, কিন্তু আবার ১৭০০, ১৮০০ ও ১৯০০ লিপ ইয়ার নয়।

    “এটা খানিকটা স্বেচ্ছাচার মনে হতে পারে”, বলেন ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের এমিরিটাস অধ্যাপক ইয়ান স্টুয়ার্ট। তবে এর পেছনেও আসলে যুক্তিযুক্ত কারণ আছে।

    “বছরে ৩৬৫ দিন ও একটা দিনের চার ভাগের এক ভাগ – কিন্তু সেটাও ঠিক পুরোপুরি নয়, বরং তার চেয়ে খানিকটা কম। সেটা একদম যথার্থ চার ভাগের এক ভাগ হলে প্রতি চার বছর পরপর লিপ ইয়ার হত।”

    এই হিসাবটা আসে যখন পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি ও তার সঙ্গী জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু করেন এবং তাতে প্রতি চারশ বছরে তিনটা লিপ ডে বাদ পড়ে। এই হিসাবটা তখন থেকে আজ অবধি চালু আছে।

    কিন্তু ইয়ান স্টুয়ার্ট মনে করেন মানুষকে হয়তো ১০ হাজার বছর পর এটা নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে হবে। কিন্তু তত দিনে অবশ্য মানবজাতি নতুন কোন পদ্ধতিও চালু করে ফেলতে পারে।

     

    ৪. ফেব্রুয়ারি নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে হয়েছে ৩০ দিন থেকে ২৮ দিন । অন্য সব মাসেই আছে ৩০ বা ৩১ দিন করে, কিন্তু ইয়ান স্টুয়ার্ট জানাচ্ছেন রোমান সম্রাট সিজার অগাস্টাসের ব্যক্তিগত ইচ্ছের কাছে বলি হয়েছে ফেব্রুয়ারি।

    জুলিয়াস সিজারের অধীনে কিন্তু ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের মাস ছিল। কিন্তু সিজার অগাস্টাস যখন সম্রাট হন, তখন তিনি তার নিজের নামাঙ্কিত মাস আগাস্ট মাস ২৯ দিনের হওয়ায় খানিকটা বিরক্ত হন। কারণ তার আগের সম্রাট জুলিয়াসের নামাঙ্কিত মাস – জুলাই – ছিল ৩১ দিনের।

    অধ্যাপক স্টুয়ার্ট বলেন, “তিনি তখন আগাস্টে আরো দুই দিন যুক্ত করে জুলাইয়ের সমান করেন, আর বেচারা ফেব্রুয়ারিকে সেই দুই দিন হারাতে হয়”,

     

    ৫. ঐতিহ্যগতভাবে লিপ ইয়ারের দিন মেয়েরা ছেলেদের প্রস্তাব দেয় বলে বিভিন্ন ইতিহাসবিদের কথায় উঠে আসে। যার একটা ৫ম শতকে সেন্ট ব্রিজেটের ঘটনা, যেটা নিয়ে অবশ্য বেশ বিতর্ক আছে।

    বলা হয়ে থাকে যে তিনি সেন্ট প্যাট্রিকের কাছে অভিযোগ নিয়ে যান যে মেয়েদের তাদের পছন্দের মানুষের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। সেন্ট প্যাট্রিক তখন সম্ভবত মেয়েদের প্রস্তাব দেয়ার জন্য ঐ লিপ ইয়ারের একটি দিন নির্দিষ্ট করে দেন – সবচেয়ে ছোট মাসের সব শেষ দিন।

    আরেকটা জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে যে স্কটল্যান্ডের রানি মার্গারেট একটা আইন জারি করেন, যে সমস্ত পুরুষ লিপ ইয়ারে মেয়েদের দিক থেকে আসা বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে তাদের জরিমানা দিতে হবে।

    কিন্তু অনেকে আবার বলে থাকেন সে সময় মার্গারেটের বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর এবং তিনি তখন অনেক দূরে নরওয়েতে ছিলেন। এই রীতি আসলে ১৯ শতক থেকে বেশি প্রচলিত হয়।

    মনে করা হয় যে মেয়েদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়ার এই রীতি চলে আসছে যখন ইংলিশ আইনে লিপ ইয়ার অর্ন্তভুক্ত হয়নি তখন থেকেই। এই মতবাদ অনুসারে যেহেতু এই দিনের কোন আইনগত ভিত্তি নেই, তাই সাধারণত ছেলেদের প্রস্তাব দেয়ার প্রথাগত রীতি ভাঙাটা গ্রহণযোগ্য।

     

    ৬. লিপ ইয়ারে মেয়েদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়ার বিষয়টি বিশ্ব জুড়ে একেক দেশে একেক রকম। ডেনমার্কে যেমন এটা ২৯শে ফেব্রুয়ারি নয়, বরং ২৪শে ফেব্রুয়ারি – যা জুলিয়াস সিজারের সময় থেকে চলে আসছে।

    কোনও ড্যানিশ পুরুষ কোন নারীর বিয়ের প্রস্তাব না মানলে তাকে তখন ঐ নারীকে ১২ জোড়া দস্তানা দিতে হয়। ফিনল্যান্ডে আবার দস্তানা নয়, বরং তাকে স্কার্ট বানানোর কাপড় দিতে হবে। তবে গ্রিসে লিপ ইয়ারের দিন বিয়ে করা অশুভ মনে করা হয় তাই অনেকে সেটি এড়িয়ে চলে।

     

    ৭. ১৪৬১ জনে ১ লিপ ডে-তে জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে বলা হয় প্রতি ১৪৬১ জনে একজন এদিন জন্ম নেন। চার বছরে হয় ১৪৬০ দিন আর লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত এক দিন মিলে হয় ১৪৬১। এক্ষেত্রে তাই সম্ভাব্যতা দাঁড়ায় ১/১৪৬১।

    তবে ইয়ান স্টুয়ার্ট বলছেন এই হিসাবটাও পুরোপুরি ঠিক নয়, কারণ চারশ বছরে তিনটা লিপ ইয়ার হারাচ্ছি আমরা। এছাড়া নানা বিষয় মিলিয়ে বছরের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে শিশুদের জন্ম বেশি হয় বলে মনে করেন তিনি। ২৯শে ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়াদের বলা হয় ‘লিপার্স’ বা ‘লিপলিংস’।

     

    ৮. লিপ ইয়ারের রাজধানী বলে স্বীকৃত টেক্সাসের অ্যান্থনি শহর। ১৯৮৮ সালে এই শহরের বাসিন্দা ও লিপ ইয়ারে জন্ম নেওয়া ম্যারি অ্যান ব্রাউন চেম্বার অফ কমার্সের কাছে যান শহরে একটা লিপ ইয়ার উৎসবের আবেদন নিয়ে। তার সেই আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং অ্যান্থনিকে ঘোষণা দেয়া হয় বিশ্বের লিপ ইয়ার রাজধানী হিসেবে।

    তার পর থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বের লিপাররা টেক্সাসের এই শহরে জড়ো হয়ে প্যারেডে অংশ নেন, একসাথে বার্থডে ডিনার, নাচানাচি এবং হট এয়ার বেলুনে চড়েন সবাই।

     

    ৯. গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ছাড়া অন্যান্য ক্যালেন্ডারেও লিপ ইয়ারের দরকার পড়ে। আধুনিক ইরানের ক্যালেন্ডারটি যেমন সৌর ক্যালেন্ডার, যাতে প্রতি ৩৩ বছরে ৮টা লিপ ডে আছে। ভারতের জাতীয় ক্যালেন্ডার এবং বাংলাদেশের যে বাংলা পঞ্জিকাবর্ষ তাতে লিপ ইয়ার এমনভাবে রাখা হয় যাতে লিপ ডে সব সময় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৯শে ফেব্রুয়ারির খুব কাছাকাছি থাকে।

     

    ১০. অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস ওয়েস্ট ইন্ডিজে তার চূড়ান্ত অভিযানের সময় ১৫০৪ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারির চন্দ্র গ্রহণকে নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগান।

    তিনি যখন জ্যামাইকা দ্বীপে বেশ কয়েক মাস তার নাবিকদের নিয়ে আটকা পড়েন, তখন এক পর্যায়ে স্থানীয় আদিবাসীদের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তারা খাবার ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে সহায়তায় অস্বীকৃতি জানায়।

    কলম্বাস জানতেন যে একটা চন্দ্রগ্রহণ আসন্ন, তার সহযোগীদের সাথে আলাপ করে তিনি স্থানীয় সব আদিবাসী নেতাদের একসাথে করেন ২৯শে ফেব্রুয়ারি। তিনি তাদের বলেন, ঈশ্বর চাঁদকে লাল বর্ণ করে তাদের শাস্তি দেবে। চন্দ্রগ্রহণের সময় বলেন যদি তারা আবার সহায়তা করতে শুরু করে তাহলে ঈশ্বর তার শাস্তি ফিরিয়ে নেবেন।

    আরেকটা অতিপ্রাকৃত ঘটনা হল, ১৬৯২ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি ম্যাসচুসেটসের সালেম উইচক্র্যাফট ট্রায়ালের প্রথম ওয়ারেন্ট জারি হয়।

    সব কথার শেষ কথা, লিপ ইয়ারে আপনি সৌভাগ্যবান যে বছরে একটা অতিরিক্ত দিন পাচ্ছেন। আবার যারা চাকরিজীবী তারা ভাবতে পারেন যে বছরে একদিন কোনও বাড়তি বেতন ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে।

    যাদের জন্ম ২৯ ফেব্রুয়ারি তারা চার বছর পর পর জন্মদিন পালন করার সুযোগ পায়। যাদের বিয়ে হয় ২৯ ফেব্রুয়ারি তারা চার বছর পর পর বিবাহ বার্ষিকী পালন করার সুযোগ পায়। তবে খুব কম মানুষ আছেন যারা ২৯ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন। কেননা প্রতি বছর বিবাহ বার্ষিকীর উৎসব পান করা থেকে কেউ বিরত থাকতে চায় না।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • পুলিশ দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

    পুলিশ দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: পুলিশ দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “পুলিশ জনগণের বন্ধু- এটি কাল থেকে কালান্তরের পথ-পরিক্রমায় প্রতিষ্ঠিত একটি সত্য। পুলিশ ও জনগণের বন্ধুত্বের মিথস্ক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, ত্যাগ, বীরত্ব ও দেশপ্রেমের ও মানবীয় মূল্যবোধ। এ সকল মানবীয় গুণ ধারণ করে ‘বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী’ দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পরীক্ষায় বার বার উত্তীর্ণ হয়েছে।”

    আজ মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার সেই কালরাতে পুলিশের এএসআই সিদ্দিকুর রহমান ঘাতকদের বাধা দিতে গিয়ে বিনা দ্বিধায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। দেশবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির আগুন-সন্ত্রাস মোকাবিলা ও জঙ্গিবাদ দমনসহ সবধরনের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন অনেক অকুতোভয় পুলিশ সদস্য।”

    তিনি বলেন, “বিগত ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সারাদেশে হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও ও আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিরীহ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে। পুলিশ সদস্যগণ জীবন বাজি রেখে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখে দিয়েছিল।”

    তিনি বলেন, “১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা পুলিশের বাজেট বৃদ্ধি, ঝুঁকিভাতা চালু, রেশন প্রাপ্তির হার দ্বিগুণ এবং প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করি। ১৯৯৮ সালে আমরাই প্রথম পুলিশ সুপার পদে একজন নারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেই। পাঁচ কোটি টাকা সিড মানি দিয়ে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করি। ২০০০ সালে পুলিশ স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা করি। আমরা ৮০৩ জন এসআই, ৫০৭ জন সার্জেন্ট এবং ১৪ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেই। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্যোগ নেই। ২৫টি থানা, ৮৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ৫৮টি হাইওয়ে ফাঁড়ি, ১৫০টি পুলিশ ক্যাম্প এবং ১০টি ফাঁড়ি স্থাপন করি।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেই। আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করি। পুলিশ, র‌্যাবসহ সকল আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করি। গত ১৫ বছরে আমরা পুলিশের উন্নয়নে বহুমুখী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করি।”

    তিনি আরও বলেন, “বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশ হাসপাতালের উন্নয়নে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ঢাকা বিভাগে একটি বিভাগীয় হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা পুলিশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন সরবরাহ করেছি। পুলিশে একটি পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে শীঘ্রই দুটি হেলিকপ্টার যুক্ত হতে চলছে। বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক সেবা ও মোবাইল অ্যাপস্ প্রবর্তন, অনলাইন জিডি, ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য ই-সার্ভিস চালু করা হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৫ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। বিগত ১৫ বছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.২৫ শতাংশে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৫ গুণ। বাজেটের আকার ১২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১.৫১ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে হ্রাস করেছি। এ সময়ে অতি দারিদ্র্যের হার কমেছে ৫ গুণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২.৮ বছর। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পাতাল রেলের কার্যক্রম উদ্বোধন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ আমাদের সামর্থ্যরে প্রতীক। তিনি বলেন, আমরা ৩২টি জেলা, ৩৯৪টি উপজেলা ইতোমধ্যে ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেছি। এ সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীরও রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান “

    ‘স্মার্ট পুলিশ, স্মার্ট দেশ; শান্তি প্রগতির বাংলাদেশ’– এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ মঙ্গলবার শুরু হলো পুলিশ সপ্তাহ। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ২০২৩ সালে অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা প্রদর্শন, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণের জন্য ৪০০ জন বিপিএম ও পিপিএম পদক পাচ্ছেন। আগামী ৩ মার্চ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সপ্তাহের আয়োজন। পুলিশ সপ্তাহে এক বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

  • বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় আওয়ামী লীগ সরকার: সেতুমন্ত্রী

    বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় আওয়ামী লীগ সরকার: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় আওয়ামী লীগ সরকার, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  তিনি বলেন, “বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু বন্ধুর পরিবর্তে যারা প্রভুর ভূমিকায় আসতে চায় সেই প্রভুর দাসত্ব আমরা মানি না।”

    আজ মঙ্গলবার ( ২৭ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল যেহেতু সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সে কারনে আলাদাভাবে দলের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হয়ে নি। তাছাড়া বিএনপির সঙ্গে যে আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল করেছে তাতে দলটি আরো হতাশায় ডুবেছে।”

    তিনি বলেন, “বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড শুনতে শুনতে কান ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এখন তাদের গলার জোর একটু কমে গেছে। মুখে বিষটা আরও উগ্রো হয়ে গেছে। তাদের আন্দোলনে ব্যর্থতা, নির্বাচনে না আসার ব্যর্থতা-এখন এই ব্যর্থতাই তাদের বেসামাল ও বেপরোয়া করেছে।”

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “ষড়যন্ত্রের গন্ধ সব ব্যাপারে বলতে চাই না। এখন বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কারণ, তারা বলেছিল নির্বাচন হবে না।”

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন হলে পাঁচদিনও টিকবে না। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চায়, সেই চাওয়াটা পাওয়া হয়নি। তারা শুনতে চেয়েছিল সরকারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আসবে। ভীসানীতি আরোপ হবে- এমন স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে গেছে। কিন্তু তারা তাদের কথা বলেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’

    তিনি বলেন, “বিএনপির নেতারা এখন মুক্তি পাচ্ছে অথচ তাদের নেতারা উল্টো বলছে তাদের নেতাকর্মীদেরকে জেলে ঢুকাচ্ছে সরকার। বিএনপি নেতাদের এ সবা কথা বার্তায় বুঝা যায় তারা মিথ্যাচার করছে ও আবোল- তাবোল কথা বলছে। ”

    রমজানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মধ্যে থাকবে নিত্যপণ্যের দাম বলেও দাবি করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দীসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

  • বিদেশি কূটনীতিকদের দেশের অগ্রগতি জানাতেই আউটরিচ প্রোগ্রাম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিদেশি কূটনীতিকদের দেশের অগ্রগতি জানাতেই আউটরিচ প্রোগ্রাম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বিদেশি কূটনীতিকদের দেশের অগ্রগতি জানাতেই আউটরিচ প্রোগ্রাম, বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। তিনে বলেন, “বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা যেন আমাদের দেশকে জানে, দেশে যে বিরাট উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হচ্ছে সেগুলো যেন তারা স্বচক্ষে দেখে, সেই কারণেই তাদেরকে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। এবং চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনযোগে তারা কক্সবাজার যাবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এম্বাসেডরস আউটরিচ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এই সফরের আয়োজন, এবং এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্যোগ।”

    আজ মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এম্বেসেডরস আউট রিচ প্রোগ্রামের আওতায় ২৪টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন কূটনৈতিক সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে ট্রেনযোগে কক্সবাজার যাবার প্রাক্কালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কূটনীতিকদের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সামর্থ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে তাতে আমাদের দেশকে তারা ভালোভাবে জানতে পারছে। বাংলাদেশকে জানার মাধ্যমে তারা তাদের দেশকে এই বার্তা পৌঁছে দেবে। এবং বাংলাদেশের এই খবরগুলো তারা বিশ্বময় ছড়িয়ে দেবে।”

    তিনি বলেন, “আপনারা জানেন যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ট্রেন লাইন হয়েছিল ১৯৩০ সালে। কিন্তু তার অনেক আগেই চট্টগ্রাম থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ট্রেন লাইনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। অর্থাৎ ১৯০০ সালের পরপরই সেটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু দেশ বিভাগ হল, দেশ বিভাগের পর বাংলাদেশ হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু তিনিও বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। কারণ তাকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় হত্যা করা হয়েছিল। বরং তিনি বিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভাবে পুনর্গঠন করার আগেই তাকে হত্যা করা হয়।”

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “এই জনপদের মানুষ যেই স্বপ্ন ১২৫ বছর আগে দেখেছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নেতৃতে। এটি একটি অসাধারণ কাজ। তাই আজকে আমরা কূটনীতিকদেরকে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে কক্সবাজার নিয়ে যাচ্ছি।”

    বিদেশী প্রতিনিধিদের সাথে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে কোন কথাবার্তা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের সাথে তো কথাবার্তা আমাদের সবসময়ই হয়, এবং তারা অনেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেছে। এবং এখনো যদি তারা সুযোগ পায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবে। ”

    বিদেশে প্রতিনিধিদের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই তারা বাংলাদেশকে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে, ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সফরে এসেছে তারা। আজ চট্টগ্রামে কয়েক ঘন্টা কাটালো, কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম রোড টানেল তারা দেখল। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও নদীর তলদেশ দিয়ে রোড টানেল নেই। সেটি তারা দেখল, এপার থেকে ওপারে গিয়ে আবার ফিরে আসল। এই যে অসাধারণ উন্নয়ন, যেগুলো আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে মানুষ কল্পনাও করেনি, সেগুলো আজকে বাস্তব। এবং সেই বাস্তবতা আজকে কূটনীতিকরা নিজের চোখে দেখেছে।”

    আউটরিচ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, কসভো, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ভ্যাটিকান, ভুটান, স্পেন, আর্জেন্টিনা, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, ফ্রান্স এবং এফএও, আইইউটি, একেডিএন আন্তুর্জাতিক সংস্থাগুলোর ২৪ জন মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন কূটনৈতিক সদস্য।

  • রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ প্রধানমন্ত্রীর ১৫ নির্দেশনা

    রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ প্রধানমন্ত্রীর ১৫ নির্দেশনা

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: আর কিছুদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। প্রতি বছর দেখা যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় কিছু ব্যবসায়ি। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেওয়াসহ প্রধানমন্ত্রীর ১৫ নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পৌরসভার মেয়র ও প্রশাসককে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রী কতিপয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন নিয়মিত পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

    এতে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাওয়া আধা-সরকারি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, গত ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারের বর্তমান মেয়াদে প্রথম মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত সকলের প্রতি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন:

     

    নির্দেশনা গুলো হচ্ছে:

    ১) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অংশীজনের সংগে সমন্বয় করে মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    ২) পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    ৩) নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৪-এ বর্ণিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো জাতীয় বাজেট প্রণয়নকালে নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৪ বিবেচনায় রাখবে।

    8) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য পণ্য সংরক্ষাণাগার নির্মাণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    (৫) স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের চারটি স্তম্ভ স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি এবং স্মার্ট জনগণ নিশ্চিত করতে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়/বিভাগে করণীয় চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়ন করবে।

    ৬) নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের উপকারিতা/দেশের জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিদেশি ঋণ/সহায়তা গ্রহণকালীন যথাযথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। এছাড়া, চলমান প্রকল্পগুলো বিশেষ করে যেগুলির বাস্তবায়ন সর্বশেষ পর্যায়ে রয়েছে সেগুলির প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে।

    ৭) সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে।

    ৮) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

    ৯) সরকারের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    ১০) নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

    ১১) রপ্তানী বহুমুখীকরণ, নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান ও প্রবেশে সহায়তা করতে হবে।

    ১২) গার্মেন্টস সেক্টরের মতো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিজাত পণ্য বিষয়ক শিল্প বিকাশে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

    ১৩) শিক্ষাকে কর্মমুখী করার লক্ষ্যে আইসিটি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

    ১৪) যুবসমাজকে খেলাধুলা এবং শিল্প সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে বিরত রাখতে হবে।

    ১৫) অগ্নিসন্ত্রাস ও নাশকতার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম  গ্রহণ করতে হবে।

  • ওষুধ ও হার্টের রিং এর দাম কমাতেই হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ওষুধ ও হার্টের রিং এর দাম কমাতেই হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: ওষুধ ও হার্টের রিং এর দাম কমাতেই হবে, বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, “বলেন, ওষুধ ও হার্টের রিং, উভয়ের দাম নির্ধারণেই বৈঠক বসেছে। তবে দাম কমাতেই হবে। স্বাস্থ্যখাতে এত অসঙ্গতি, এর কোনোটার দায়ই মন্ত্রী হিসেবে এড়ানো সম্ভব নয়। দায় মাথায় নিয়েই কাজ করা হবে।”

    আজ মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে, যে কোনোদিন মন্ত্রী হিসেবে অভিযানে যাওয়া হবে।”

    অবৈধ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনে বলেন, “ভুল জায়গায় চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে চিকিৎসা না নেওয়া ভালো। সঠিক জায়গায় চিকিৎসা নেওয়া উচিত।”

  • প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৩’ এর ১ম গ্রুপের (বরিশাল, সিলেট, রংপুর বিভাগ) লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সর্বমোট ২ হাজার ৪৯৭ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন।

    প্রথম ধাপে গত ৮ ডিসেম্বর বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের ১৮টি জেলার এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৯৭ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৯ হাজার ৩৩৭ জন। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা পরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়।

    গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    এদিকে, প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপের (খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ) লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি। লিখিত পরীক্ষায় ২০ হাজার ৬৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই ধাপে গত ২ ফেব্রুয়ারি ওই তিন বিভাগের ২২ জেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

    প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা ইসরায়েলের দখলদারিত্ব

    ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা ইসরায়েলের দখলদারিত্ব

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ছয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছে।  শুনানিতে অংশ নিয়ে তুরস্ক ও কয়েকটি সংগঠন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে রয়েছে। এই দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীতিতে এগিয়ে নিতে হবে। আর গাজায় ইসরায়েল যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তা আরেকটি মহাবিপর্যয় সৃষ্টির লজ্জাজনক অপচেষ্টা।

    গতকাল সোমবার ছিল এই শুনানির ষষ্ঠ ও শেষ দিন। এরপর এ বিষয়ে আইসিজে তার মতামত ও নির্দেশনা দেওয়ার কথা। এ জন্য ছয় মাসের মতো সময় লাগতে পারে। তুরস্ক ছাড়াও সোমবার শুনানিতে অংশ নেন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), আরব লিগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ), জাম্বিয়া, মালদ্বীপ, স্পেন ও ফিজির প্রতিনিধিরা। তিন সংস্থার প্রতিনিধিরা আদালতকে বলেন, ইসরায়েলের এ দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা এবং ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আইসিজের রুল জারি করা উচিত।

    নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজেতে তুরস্কের প্রতিনিধি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমত ইলদিজ বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মূল কারণ ইসরায়েলের এই দখলদারিত্ব। তিনি বলেন, ইসরায়েলি দখলদারির অবসান না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে না। এই দখলদারিত্ব অবৈধ ঘোষণা করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।”

    ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রেখে ইসরায়েল কীভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, তার আইনি দিকগুলো তুলে ধরেন ওআইসি, আরব লিগ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ইসরায়েলি দখলদারি কেন অবৈধ ও এতে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কীভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, সে বিষয়ে যুক্তি দেন তারা। তিন সংস্থার প্রতিনিধিরা আদালতকে বলেন, ইসরায়েলের এ দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা এবং ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আইসিজের রুল জারি করা উচিত। শুনানিতে আরব দেশগুলোর জোট আরব লিগের মহাসচিব আহমদ আবৌল ঘেইতির বিবৃতি আদালতকে পড়ে শোনান সংস্থাটির একজন প্রতিনিধি। বিবৃতিতে আরব লিগের মহাসচিব ইসরায়েলের দখলদারি আন্তর্জাতিক বিচারের প্রতি অবমাননা বলে বর্ণনা করেন। ইসরায়েলি দখলদারিকে অবৈধ ঘোষণা ও এর আইনি পরিণতি সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীনভাবে রুল জারি করতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    ওআইসির মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহা দখলদার ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এসব অস্ত্রই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা।”

    গাজায় চলমান ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞেরও নিন্দা জানান ওআইসির মহাসচিব। আইসিজের ছয় দিনের শুনানিতে বেশির ভাগ দেশ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসানের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা লাঘবের অন্যতম উপায়, সে বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেছেন দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

    শুনানিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধি মোহামেদ হেলাল বলেন, “অতীতের মতো আবারও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারির অবসান চায় আফ্রিকান ইউনিয়ন।”

    একই সঙ্গে আইসিজের প্রতি ইসরায়েলি দখলদারিকে অবৈধ ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “এই শুনানির পর শেষ পর্যন্ত আদালত কী নির্দেশনা দেন, তা ইতিহাসে থেকে যাবে।”

    আফ্রিকান ইউনিয়নের আরেক প্রতিনিধি হাজের গুলেদিচ বলেন, “ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা আরেকটি ‘নাকবা’ (মহাবিপর্যয়) সৃষ্টির লজ্জাজনক অপচেষ্টা। ফিলিস্তিনিদের ওপর যেভাবে জুলুম ও অত্যাচার চলছে, কোনো কিছু দিয়েই তার বৈধতা দেওয়া যায় না।”

    আইসিজের ছয় দিনের শুনানিতে বেশির ভাগ দেশ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসানের দাবি জানিয়েছে।

    তবে গত সপ্তাহে শুনানিতে অংশ নিয়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নেতিবাচক কথা বলেছে, ইসরায়েল নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যেতে দেশটিকে বাধ্য করা যাবে না বলে মন্তব্য  করে ওয়াশিংটন।