Category: প্রযুক্তি

  • ছোট বা মাঝারি ভূমিকম্প হলে ঝুঁকি কমে না

    ছোট বা মাঝারি ভূমিকম্প হলে ঝুঁকি কমে না

    www.HelloBangla.News – প্রযুক্তি – ১৬ আগস্ট, ২০২৩ : বাংলাদেশে গত মে মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় চার মাসে তিন বার ছোট থেকে মাঝারি আকারের যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। অনেকে মনে করে থাকেন ছোট বা মাঝারি ভূমিকম্প হলে ঝুঁকি বড় ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়। আসলে বিষয়টি ঠিক নয়। সাম্প্রতিক সময়ের ভূমিকম্প গুলোর প্রতিটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের সীমানার ভিতরে বা আশেপাশে। বাংলাদেশে ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় একটি ছোট মানের ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

    বার্মিজ প্লেট ও ইন্ডিয়ান প্লেটের পরস্পরমুখী গতির কারণেই এ ধরণের ভূমিকম্প হচ্ছে । এই দুটি প্লেটের সংযোগস্থলে প্রচুর পরিমাণে শক্তি জমে রয়েছে যেগুলো বের হয়ে আসার পথ খুঁজছে। আর সে কারণেই ঘন ঘন এমন ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা ।
    এবিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, দু’দিন আগে বা পরে এই শক্তি বেরিয়ে আসবেই। আর সেটাই জানান দিচ্ছে এই ছোট ভূমিকম্পগুলো।
    বাংলাদেশে সবশেষ ১৪ই অগাস্ট রাত ৮টা ৪৯ মিনিটের দিকে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায়। মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল ৫.৫ যা মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প। আর এর উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সিলেটের কানাইঘাট এলাকায়। গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

    এর আগে, গত ১৬ই জুন রাজধানীসহ সারা দেশে ৪.৫ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের গোলাপগঞ্জ। আর চলতি বছরের মে মাসের পাঁচ তারিখে আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছে ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এর হিসেব অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৩। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছে বিক্রমপুরের দোহার থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। এটিরও গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

    ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মা প্লেট নামে দুটি টেকটনিক প্লেটের অবস্থান রয়েছে। এরমধ্যে ইন্ডিয়ান প্লেটটি উত্তর-পূর্ব দিকে এবং বার্মিজ প্লেটটি পশ্চিম দিকে যাচ্ছে।

    “ফলে পরষ্পরমুখী সংঘর্ষ হচ্ছে। এই দুটি প্লেটের যে সংযোগস্থল সেটা বেশ গভীরে। বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে বিশেষ করে সিলেট এলাকায় যেখানে ভূমিকম্প হচ্ছে সেটা স্যালো ডেপথ, অর্থাৎ কম গভীর। ”

    যে কারণে এমন ভূমিকম্প হয় :

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার মতো উৎস হচ্ছে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত্য এলাকা। এখান থেকে মনিপুর, মিজোরাম, মিয়ানমারে যে পার্বত্য এলাকা রয়েছে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। কিশোরগঞ্জে যে হাওর রয়েছে সেটি দিয়ে মেঘনা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে আন্দামানের পাশ দিয়ে দক্ষিণে যদি একটা রেখা কল্পনা করা যায়, এই এলাকাটা হচ্ছে দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থল। আর এই দুটি প্লেটের মধ্যে পূর্ব দিকেরটা হচ্ছে বার্মা প্লেট। আর পশ্চিমেরটা হচ্ছে ইন্ডিয়া প্লেট। এই সংযোগস্থলের উপরের ভাগটা অর্থাৎ সুনামগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে পূর্বে মনিপুর, মিজোরাম পর্যন্ত- এই অঞ্চলটি ‘লকড’ হয়ে গেছে অর্থাৎ এখানে শক্তি জমা হয়ে আছে। দুইটা প্লেটের যে সংযোগস্থল, সেটা এখানে স্যালো বা কম গভীর। অর্থাৎ পশ্চিমে পাঁচ কিলোমিটার থেকে শুরু করে পূর্বে ধীরে ধীরে এটা ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর হয়েছে।

    ড. আখতার বলেন, “গত হাজার বছরের শক্তি এখানে জমা হয়ে আছে। এর আগে যেসব ঐতিহাসিক ভূমিকম্প এই অঞ্চলে সংগঠিত হয়েছে তার বিভিন্ন বই-পুস্তক এবং পৌরাণিক কাহিনী বিশ্লেষণ করে আমরা জানতে পেরেছি যে, এই এলাকায় বড় ধরণের ভূমিকম্প হয়েছে ৮০০ থেকে হাজার বছর আগে।”

    এরপর থেকে আবার শক্তি এই এলাকায় জমা হতে শুরু করেছে। ভূমিকম্পের এই গবেষকের মতে, ৮.২ থেকে শুরু করে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সংগঠনের মতো শক্তি এই এলাকায় জমা হয়ে আছে। এই শক্তি আজ হোক, কাল হোক, বা আগামী ২৫ বছরেই হোক, এটা বের হতেই হবে, এর কোন বিকল্প নাই।

    সেই বড় ভূমিকম্প যখন হবে তার আগের সময়টাতে এ ধরণের ছোট ভূমিকম্প দেখা যায় বলে মনে করেন তিনি। সেটা কয়েক বছর এমনকি ৫-১০ বছর ধরে হতে পারে। এটার মানে হচ্ছে, বড় শক্তি বের হওয়ার একটা প্রবণতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তার মানে যেকোন সময় একটি বড় ভূমিকম্প সংগঠিত হতে পারে। তবে এই বড় ভূমিকম্প কবে হবে সেটা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।

    হিডেন ফল্ট কোন বিষয়টিকে বলা হয় :
    দু’হাজার ষোল সালে প্রকাশিত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় একটি গোপন ফল্ট রয়েছে যা বাংলাদেশে ৯ মাত্রার মতো ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রতিবেদনে গোপন এই ফল্টকে মেগাথার্স্ট ফল্ট নামে উল্লেখ করে বলা হয়, মাইলের পর মাইল বিস্তৃত পললের নিচে এই মেগাথার্স্ট অবস্থিত। এটি দুই প্লেটের সাবডাকশন জোন বা দুই প্লেটের সংযোগ স্থলে অবস্থিত এই মেগাথার্স্ট।

    এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে অসংখ্য ভূ-চ্যুতি আছে। সমতল এলাকাতেও অসংখ্য চ্যুতি রয়েছে। তবে এগুলো মারাত্মক নয়।”

    বাংলাদেশে সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত দুই প্লেটের সংযোগস্থল। এই অঞ্চলে গত ৮০০ থেকে হাজার বছরের মধ্যে জমে থাকা শক্তিটা বের হয় নাই। এ কারণে এ অঞ্চল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তার মতে, সাবডাকশন জোন বা দুই প্লেটের সংযোগ স্থলে যে ভূমিকম্প হয় তা খুবই ভয়াবহ।

    ভূমিকম্পের জন্য পরিচিত রিং অব ফায়ার যেটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত সেটিও সাবডাকশন জোনের অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলে যে ভূমিকম্পগুলো হয় সেগুলোর বেশিরভাগই ৭.৫ এর উপরে হয়ে থাকে। এগুলো শক্তিমত্তার দিক থেকে সবসময়ই ধ্বংসাত্মক। এ কারণে এই অঞ্চল নিয়ে চিন্তার বিষয় রয়েছে। তবে কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত যে ফল্টলাইন রয়েছে সেখানকার শক্তি ১৭৬২ সালে বের হয়ে গেছে বলে জানা যায়। সেখানে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে।

    উনিশশো বাষট্টি সালে টেকনাফ থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার জায়গায় যে ফল্ট লাইন রয়েছে সেখানে ৮.৫ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। এর ফলে সেন্টমার্টিন আইল্যান্ড তিন মিটার উপরে উঠে আসে। এর আগে সেন্টমার্টিন আইল্যান্ড ছিল ডুবন্ত দ্বীপ। একই ভূমিকম্পে সীতাকুণ্ড পাহাড়ে কঠিন শিলা ভেদ করে নিচ থেকে কাদা বালুর উদগীরণ হয়। এই ভূমিকম্পের কারণে বঙ্গোপসাগরে সুনামি হয়। এই সুনামির কারণে ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর ধারে বাড়িঘর ভেসে গিয়ে সে সময় ৫০০ মানুষের প্রাণহানি হয়।

    ছোট ভূমিকম্প কি ঝুঁকি কমিয়ে দেয়:
    অনেকে মনে করেন যে, ঘন ঘন ছোট ছোট ভূমিকম্প হলে, ভূ-অভ্যন্তরে জমে থাকা শক্তি ধীরে ধীরে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং এর ফলে বড় ধরণের ভূমিকম্পের আশঙ্কা কমে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই ধারণাটি আসলে সত্য নয়।

    যে পরিমাণ শক্তি সাবডাকশন জোন বা দুই প্লেটের সংযোগস্থলে জমে থাকে তার পরিমাণ এতোই বেশি যে, এটি বের হয়ে আসলে ৮.২ থেক ৯ মাত্রার মতো ভূমিকম্প হতে পারে। এতো পরিমাণ শক্তি ছোট ছোট ভূমিকম্পের মাধ্যমে বের হয়ে আসা সম্ভব নয় উল্লেখ করে ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, দৈনিক যদি ছোট থেকে মাঝারী আকারের ভূমিকম্প হয় তাহলেও এতো শক্তি বের হয়ে আসতে সময় লাগবে দুই থেকে তিনশ বছর। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয় রিং অব ফায়ারে অবস্থিত এলাকা বা দেশ যেমন জাপান, চিলি, সান ফ্রান্সিসকোতে দৈনিকই মৃদু ভূমিকম্প হয়। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করেই একেকটা বড় ভূমিকম্পের খবর পাওয়া যায়।

    “বড় ভূমিকম্প তৈরি হওয়ার যে ভূ-কাঠামো ওই এলাকায় রয়েছে, সেই একই ভূ-কাঠামো আমাদের এখানেও রয়েছে,” বলেন তিনি।

    এক স্কেল থেকে যখন আরেক স্কেলে ওঠানো হয়, সেখানে শক্তির মাত্রা ৩২ গুণ বেশি বলে ধরা হয়। যদি ৩ মাত্রার ভূমিকম্পের তুলনায় যদি সেটি ৪ মাত্রায় হয় তাহলে সেখানে ৩২গুণ বেশি শক্তির ভূমিকম্প হবে।

    তবে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে সেখানে কি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন সেই সক্ষমতা আমাদের আছে কি না সেটা নিয়ে ভাবতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • ফেসবুকের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় না

    ফেসবুকের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় না

    www.HelloBangla.News – প্রযুক্তি – ১০ আগস্ট, ২০২৩ : বিশ্বের ৭২টি দেশের প্রায় ১০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওপর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউট এক গবেষণা চালায়। এই গবেষণার সময় ছিলো ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। গবেষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ জানিয়েছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুকের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে এই ধারণার পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    এই গবেষণা দলের অধ্যাপক এন্ড্রু সাবিলস্কি বলছেন সাধারণভাবে একটা বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে ফেসবুক ক্ষতিকর, কিন্তু তাদের গবেষণার ফলাফল এই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে।

    তিনি বলছেন বরং তারা দেখেছেন যে কোথাও কোথাও ফেসবুক হয়তো মানুষের মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঠিক কী কারণে ফেসবুক থেকে উপকার পাওয়া যাচ্ছে গবেষণায় সেবিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা করা হয়নি। তবে দেখা গেছে এই সামাজিক মাধ্যমটির কারণে পুরুষ ও অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা একটু বেশিই আনন্দ পেয়ে থাকে।

    রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স সাময়িকীতে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখন যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর দিক থেকে তাদের ব্যবহারকারীদের রক্ষা করার জন্য আইন প্রণয়নের কথা বিবেচনা করছে।

    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি হয়েছে শুধু ফেসবুকের ওপর। এই গবেষণায় মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম যেমন ইনস্টাগ্রামের দিকে নজর দেওয়া হয়নি।

    অধ্যাপক এন্ড্রু সাবিলস্কি বলেছেন, তাদের গবেষণায় যে প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে তা হচ্ছে: “যেহেতু দেশে দেশে ফেসবুক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তার ফলে সেসব দেশের জনগণের ভালো থাকার ওপর এর কেমন প্রভাব পড়ছে।”

    তিনি বলেন: “সাধারণত মনে করা হয় যে মানসিকভাবে ভালো থাকার জন্য এটি খারাপ। কিন্তু আমরা যখন সব তথ্য একসাথে করলাম, সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হলো, দেখা গেল বিষয়টা আসলে ঠিক এরকম নয়।”

    এর আগেও তিনি কিশোর কিশোরীদের প্রযুক্তি ব্যবহার ও তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ওপর গবেষণা চালিয়ে এই দুটোর মধ্যে খুব সামান্যই সংযোগ খুঁজে পেয়েছিলেন।

    গবেষকরা এই বলে অভিমত দিয়েছে যে, এবার ফেসবুকের ওপর যে গবেষণাটি চালানো হলো তাতে জাতীয় পর্যায়ে এই মাধ্যমটি ব্যবহারের কী প্রভাব পড়ছে সেটা দেখা হয়েছে, তবে বিশেষ কোনো একটি গ্রুপের ওপর কী প্রভাব পড়ছে সেটা খতিয়ে দেখা হয়নি।

    উদাহরণ হিসেবে অধ্যাপক এন্ড্রু সাবিলস্কি বলছেন কারো কারো ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখলেও, ফেসবুক হয়তো ছোট্ট কোনো গ্রুপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে যার ওপর এই গবেষণায় আলোকপাত করা হয়নি।

    ফেসবুকের বিভিন্ন কনটেন্ট এর ব্যবহারকারীদের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে সেটাও এই গবেষণায় পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

    অধ্যাপক এন্ড্রু সাবিলস্কি বলেন, এসব দেখার জন্য আরো অনেক তথ্যের প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “কখনও কখনও অল্প কিছু লোক হয়তো সোশাল মিডিয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, কিন্তু এবিষয়ে আমাদের কাছে আসলেই কোনো তথ্য নেই।”

    এই গবেষণাটি করতে গিয়ে গবেষকরা ফেসবুক থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে তারা স্বাধীনভাবেই এই কাজটি পরিচালনা করেছেন এবং এজন্য ফেসবুকের মালিক মেটা থেকে তাদেরকে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। গবেষকদের ফেসবুক যেসব তথ্য দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি দেশে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কিভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ব্যবহারকারীদের ১৩-৩৪ এবং ৩৫ বছরের বেশি বয়সী এই দুটো গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।
    এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন সোশাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। বাথ স্পা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও যোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক পিটার এচেলস এই গবেষণাকে আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করেছেন।
    তবে তিনি বলেছেন, গবেষকরাও যেমন পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে এখানে কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তবে এটা থেকে বোঝা যায় যে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন গবেষকদের জন্য তাদের দরজা উন্মুক্ত করে দিচ্ছে।

    ফেসবুকের উপর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা ইতিবাচক হলেও ফেসবুক আসক্তির বিষটি অবশ্যই একজন ব্যক্তির উপর ইতিবাচক নয়। তাই ফেসবুকের আসক্তির উপর এমন একটি গবেষণা চালানো জরুরী হয়ে পড়ছে।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • প্রযুক্তির বহুল ব্যবহারে হতে পারে এক ভয়াবহ অসুখ – ফোমো

    প্রযুক্তির বহুল ব্যবহারে হতে পারে এক ভয়াবহ অসুখ – ফোমো

    প্রযুক্তির অতি ব্যবহারের কারনে এক ধরনের জটিল মানসিক ভীতি, উদ্বিগ্নতা এবং উত্তেজনাপূর্ণ এক অনুভূতির প্রবনতা কাজ করে বেশিরভাগ মানুষের মাঝে যার নাম ফিয়ার অব মিসিং আউট (ফোমো)। এটি এমন একটি বিষয়, যা আপনার মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা বা হারানোর অনুভূতির জন্ম দেয় । এসব বেশিরভাগই সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়, যেমন আপনি ভাবছেন অন্যরা হয়তো আপনার অনুপস্থিতিতে অনেক মজা করছেন বা বন্ধুরা কে কি করছেন? অথবা, অন্যদের দেখে মনে হওয়া যে তারা আমার থেকে অনেক ভালো জীবনযাপন করছেন, অথচ আপনি তাদের মতো সুখী হতে পারছেন না ইত্যাদি।

    মোটকথা, এটি আপনার মধ্যে এমন একটি অনুভূতির সৃষ্টি করে যে আপনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিস করছেন। কিন্তু বাস্তবতা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভিন্ন। ফোমোর ফলে ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক অস্বস্তি, অসন্তোষ, বিষণ্নতা, চাপের অনুভূতি, হীনম্মন্যতা, হিংসা, একাকিত্ব এবং তীব্র ক্রোধের মতো গভীর অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি এটি আপনার আত্মসম্মানকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফোমো একটি অপেক্ষাকৃত নতুন ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা। বিপণন কৌশলবিদ ড্যান হারম্যান ১৯৯৬ সালে একটি গবেষণাপত্রে শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় পর্যবেক্ষণ করা একটি ঘটনা বর্ণনা করার জন্য ‘ফোমো’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ফোমোর অনুভূতি প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়। উদ্বেগটি আপনাকে বোঝায় যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ বা আকর্ষণীয় ঘটনা বর্তমানে অন্য কোথাও ঘটছে, যেটি সম্পর্কে আপনি অনবরত খোঁজ না রাখলে পিছিয়ে পড়বেন।

    মানুষ তাদের বাছাই করা সেরা ছবি দিয়ে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন, যা অন্যদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। নিজের মধ্যে কী কী অভাব রয়েছে, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে তোলে।

    দ্য ওয়ার্ল্ড জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল কেস দ্বারা প্রকাশিত একটি ২০২১ সালের গবেষণায়, লেখক মায়াঙ্ক গুপ্তা এবং আদিত্য শর্মা লিখেছেন যে, যেকোনো ব্যক্তির জীবনযাপন ফোমোর কারনে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ভূমিকায় পরিণত হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:

    ঘুমের অভাব, ব্যর্থ হতাশ জীবন, মানসিক উত্তেজনা, শারীরিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব, উদ্বেগ, মানসিক নিয়ন্ত্রণের অভাব।

    ফোমোর মতো প্রযুক্তিনির্ভর ভয়াবহ মানসিক ক্রাইসিস অল্প অল্প করে আমাদের জীবনকে নষ্ট করে তুলছে। এর থেকে রক্ষা পেতে আমরা প্রযুক্তিকে অস্বীকার করতে পারবো না আবার প্রযুক্তিকে পৃথিবীর থেকে উধাও করেও দিতে পারবো না। সুতরাং আমাদের সতর্ক হতে হবে যেন এমন ক্রাইসিসে আমাদের না পড়তে হয়। সেজন্য প্রথমেই দরকার –

    দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনঃ

    আপনার কিসের অভাব রয়েছে, তার ওপর মনোযোগ দেয়ার পরিবর্তে আপনার কী আছে, সেদিকে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করুন। আপনার কী নেই, সেই তালিকা যদি বেশি লম্বা করে ফেলেন, তাহলে নিজেকে অসুখী মনে হবে। তাই নিজের যা আছে, সেটার মধ্যে সুখ খোঁজার চেষ্টা করুন।

    ডিজিটাল ডিটক্স করার চেষ্টা করুন

    ডিজিটাল ডিটক্স মানে হচ্ছে- সব ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিরতি নেয়ার প্রক্রিয়া। ফোমো থেকে দূরে থাকতে এবং আপনার বাস্তব জীবনের দিকে আগ্রহী হতে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমাতে হবে। এতে আপনার মধ্যে ফোমোর প্রবণতা কমে আসবে।

    বাস্তব সম্পর্ক স্থাপন

    বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় যেরকমভাবে একজন ব্যবহারকারী নিজেকে উপস্থাপন করে তার সাথে বাস্তব জীবনের সাথে অনেক সময়ই মিল থাকে না। আর আমরা প্রতিটি মানুষ বাস্তব দুনিয়ায় বাস করি এটা ভুলে যাওয়া যাবেনা। সব সময় যোগাযোগ ধরে রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্বারস্থ হওয়া স্বাভাবিক মনে হলেও শুধু ভার্চুয়াল জগতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে, বাস্তবে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারেন।

    তথ্যসূত্রঃ ইউএসএটুডে

  • লাইফস্টাইলের অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে স্মার্ট চশমা- রিজজিপিটি

    লাইফস্টাইলের অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে স্মার্ট চশমা- রিজজিপিটি

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিস্ময়কর চশমা উদ্ভাবন করেছেন এক মার্কিন তরুণ। ‘রিজজিপিটি’ নামের চশমাটির উদ্ভাবকের নাম ব্রায়ান চিয়াং। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভাইস নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই রিজজিপিটি চশমাটি মানুষকে কথোপকথনে সাহায্য করবে। বিশেষ করে যাদের স্মৃতিশক্তি কিছুটা দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে কথোপকথন শুনে জবাবে কি বলতে হবে তা জানিয়ে দেবে চশমাটি। কারো সঙ্গে কথোপকথনের সময় প্রায়ই আমরা বিভিন্ন তথ্য ভুলে যাই। এতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় অনেক সময়। কিংবা অনেকেই ইন্টারভিউয়ের সময় গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য মনে করতে পারেননা। এসব সমস্যার সমাধান নিয়ে এসেছেন মার্কিন তরুণ ব্রায়ান চিয়াং। কেউ কোনো কিছু ভুলে গেলেও ভুলবে না তার আবিষ্কৃত ‘রিজজিপিটি’ নামের চশমাটি।

    স্মার্ট এ চশমায় ব্যবহার করা হয়েছে ক্যামেরা, মাইক্রোফোনসহ একটি টু-ডি (দ্বিমাত্রিক) স্ক্রিন। কারো সঙ্গে কথা বলার সময় এসবের সাহায্যে সেটি শুনে নেবে চশমাটি। এরপর কি বলতে হবে তা জানাতে, কথোপকথনের সব তথ্য লিখিত আকারে ওয়াইফাই-এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবে, কৃত্রিম চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে। এরপর স্ক্রিনে ভেসে উঠবে প্রয়োজনীয় উত্তর। বিস্ময়কর চশমাটির উদ্ভাবক ব্রায়ান চিয়াং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র। চশমাটির ডিজাইন তৈরি করেছে ‘ব্রিলিয়ান্ট ল্যাব’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

    ব্রায়ান জানিয়েছেন, ‘কৃত্রিম এ চশমা কোনোভাবেই মানুষের মস্তিষ্কের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে না বরং কথোপকথনের সময় ভুলে যাওয়া বিষয়গুলোকে মনে করিয়ে দিয়ে মানুষকে সাহায্য করবে চশমাটি।’ ব্রায়ান আরও জানান, এই চশমা কথোপকথনের সময় মানুষের ভূমিকাকে কমিয়ে দেবেনা। এটি কেবলই একটি সাহায্যকারী প্রযুক্তি। যার সাহায্যে ভুলে যাওয়া বিষয়গুলোকে মনে করতে পারবে। মূলত যারা ভুলে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন তাদের বেশি কাজে লাগবে এ চশমা।

    তথ্যসূত্রঃ রয়টার্স

  • ফেসবুক পেইজের অর্গানিক রিচ বাড়ানোর কিছু কার্যকর পরামর্শ

    ফেসবুক পেইজের অর্গানিক রিচ বাড়ানোর কিছু কার্যকর পরামর্শ

    ফেসবুক একটি বৃহত্তর সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে পরিণত হওয়ায় ঘরে বসেও অনেকেই আয় করার সুযোগ পাচ্ছে। ফেসবুকে নানারকম ব্যবসায়িক জটিলতা কম এবং ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে খুব ভালো একটি মাধ্যম। পাশাপাশি সেবামূলক বা পণ্য সংক্রান্ত বিষয় বিক্রি করার প্রক্রিয়াগুলো গুছিয়ে নিতে পারলে মোটামুটি বাসায় বসেও একজন ব্যক্তি ভালো বিজনেস পরিচালনা ও আয় করতে সক্ষম হতে পারে। সেজন্য অনেকেই তার নিজের বিজনেস পেইজ তৈরি করে। কিন্তু খুব একটা রিচ অনেকেই বাড়াতে পারেনা। পোস্ট রিচ করতে হলে ফেসবুক নিজেই টাকার অপশন চালু রেখেছে, তাতে করে আপনার পোস্ট অনেকের কাছে ফেসবুক থেকেই রিচ পৌছাবে। কিন্তু আপনি যদি আপনার ক্রিয়েটিভ ট্যালেন্টের মাধ্যমে পে/ টাকা ছাড়াই পেইজের রিচ বাড়াতে চান, তাহলে অনেকগুলোর মধ্যে থেকে কিছু পরামর্শ এখানে আপনারই জন্য-

    • পোস্ট দেয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ-মানের, আকর্ষকভাবে কনটেন্ট প্রকাশ করুন। যা আপনার দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় এবং প্রাসঙ্গিক হবে। প্রতিদিন কনটেন্টে ও উপস্থাপনে নতুনত্ব কিছু করার চেষ্টা করুন যেন একঘেয়েমি না আসে ফলোয়ারদের।
    • সঠিক সময়ে পোস্ট করুন। যখন আপনার পেইজের ফলোয়ারেরা অনলাইন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
    • রিয়েল-টাইম, আকর্ষক কনটেন্ট প্রদান করতে Facebook লাইভ ভিডিও ব্যবহার করুন। এতে আপনার শ্রোতাদের এনগেজমেন্ট বাড়বে এবং ভালো প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে।
    • সবসময় ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট পোস্ট করুন। যেমন ফটো এবং ভিডিও, যেহেতু তারা টেক্সট-ভিত্তিক পোস্টের চেয়ে বেশি রিয়েক্ট পেতে থাকে।
    • বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপগুলি ব্যবহার করুন, তাতে করে নতুন শ্রোতাদের তৈরি হবে। আপনার ব্র্যান্ডকে ঘিরে একটি কমিউনিটি তৈরি করুন।
    • আপনার কনটেন্টগুলো সহজে খুঁজে পেতে প্রাসঙ্গিক ‘কীওয়ার্ড’ এবং ‘হ্যাশট্যাগ’ ব্যবহার করুন।
    • আপনার পোস্টে বিভিন্ন ধরনের অফার, কনটেন্ট এবং পুরষ্কার ব্যবস্থা করতে পারেন। তাতে পেইজের এক্টিভিটি বাড়বে এবং শেয়ারিং এর মাধ্যমেও পেইজের রিচ বাড়বে।
    • পোস্টের কমেন্টের রিপ্লাই এবং ম্যাসেজের রিপ্লাইয়ের মাধ্যমেও একটি পেইজের রিচ বাড়ে। সুতরাং এই বিষয়গুলো অবহেলা করা যাবে না। যতোটা আপনি পেইজের এক্টিভ মেম্বারদের সাথে আন্তরিক হবেন আপনার পেইজের সম্পর্কে নতুন সদস্যদের জন্যও ব্যাপারটি ততোই স্বস্তিকর হবে।
    • আপনার পোস্টের সময়সূচী এবং আপনার কর্মক্ষমতা বিশ্লেষণ করতেগুরুত্বপূর্ণ একটি টুল ব্যবহার করুন। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহার করুন।

    মনে রাখবেন যে, ধারাবাহিকভাবে মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করা এবং পোস্ট করা – আপনার ফেসবুক পেইজের অর্গানিক গ্রোথের চাবিকাঠি। আপনার কনটেন্টে বৈচিত্র্য আনুন, ফলোয়ারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, তাদের চাহিদা বুঝতে চেষ্টা করুন। আপনার বিজনেস পেইজের রিচ বাড়বে।

    তথ্যসূত্রঃ স্প্রাউটসোশ্যাল.কম ও ব্র্যান্ডওয়াচ.কম

  • ঝুঁকি থেকে ভবন ভূমিকম্প সহনীয় করা সম্ভব বলছেন প্রকৌশলীরা

    ঝুঁকি থেকে ভবন ভূমিকম্প সহনীয় করা সম্ভব বলছেন প্রকৌশলীরা

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: ভূমিকম্পের কোন আগাম বার্তা বিজ্ঞানীরা আজও আবিষ্কার করতে পারেনি। তাই ভূমিকম্প নিয়ে আমাদের বড় একটি উদ্বেগ রয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ঢাকা ও সিলেট এই  দুটি শহর ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। গত দুই মাসের মধ্যে ঢাকায় এনিয়ে দুবার ভূমিকম্প হলো।

    বাংলাদেশে অপরিকল্পিত নগরায়ন ভূমিকম্পে সবচেয়ে ঝুঁকি। কেননা অনেকে বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মান করে। এ বছর তুরস্ক ও সিরিয়ার ভুমিকম্পে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পেছনে সেই কারণই উঠে এসেছিলো।

    বড় ভূমিকম্পে ঘনবসতি শহর ঢাকার ভয়াবহতা কতটা হতে পারে তার একটি চিত্র উঠে এসেছে রাজউকের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায়। তাদের হিসেবে টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকায় ধসে পড়তে পারে সাড়ে ৮ লাখের বেশি অর্থাৎ প্রায় ৪০% স্থাপনা। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি আড়াই হাজার কোটি মার্কিন ডলার বা আড়াই লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। আবার সিলেটের ডাউকি চ্যুতিরেখায় ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকায় ধসে পড়তে পারে প্রায় ৪১ হাজার স্থাপনা। এরপরও কিছু উপায় আছে যেগুলোর মাধ্যমে প্রকৌশলীরা ভবনকে ভূমিকম্প সহনীয় করতে পারেন।

    বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদি আহমেদ আনসারী জানিয়েছিলেন এমন সাতটি প্রযুক্তি সম্পর্কে। এর তিনটি খুব উঁচু ভবনের ভবনের জন্য যেগুলো খুব বেশ ব্যয়বহুল, আর অন্য চারটি সাধারণ ভবনের জন্য।

    (ক) প্রচলিত চারটি উপায়:

    যেভাবে সাধারণ ভবনকে ভূমিকম্পের জন্য মজবুত করা হয়, যেগুলোকে রেট্রোফিটিং বলা হয়। এগুলো দেখতে খুবই সহজ মনে হলেও যদি একজন প্রকৌশলী এর সাথে যুক্ত না থাকেন তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী কিভাবে করতে হবে সেটি নির্ধারণ করা যাবে না। প্রকৌশলীরা প্রথমে ভবনের বিভিন্ন অংশে কেটে পরীক্ষা করে দেখবেন ভেতরে কী অবস্থা। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন। রেট্রোফিটিং সাধারণত যেসব উপায়ে করা হয়।

    (১) কলাম জ্যাকেটিং:

    কলাম বা পিলারকে জ্যাকেট পরিয়ে দেয়ার মতো উপায় এটি। অর্থাৎ পিলারগুলোকে যা আছে তার চেয়ে আরো মোটা করে দেয়া যেন সেটি আরো শক্তিশালী হয়। অনেক সময় বিশেষায়িত উপকরণও দিয়েও এটি করা হয়।

    ঝুঁকি থেকে ভবন ভূমিকম্প সহনীয় করা সম্ভব বলছেন প্রকৌশলীরা

    (২) শিয়ার ওয়াল:

    শিয়ার ওয়ালে পিলারের পাশে আরো রড দিয়ে ঢালাই করে একটি দেয়ালের মতো তোলা হয়। এটি আংশিক হতে পারে (যেমন ছবিতে দ্বিতীয়) অথবা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে (যেমন ছবিতে তৃতীয়) তবে ভবনের কোন কোন অংশে করতে এটা করা সম্ভব সেটাও নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

    (৩) স্টিল ব্রেসিং:

    এক্ষেত্রে দুই পিলারের মাঝখানে একটি ধাতব ফ্রেম বসানো হয় যেটি ভুমিকম্পের ঝাঁকুনি থেকে পিলারকে রক্ষা করতে পারে। এটি ঠিক ছবির মত না হয়ে কোণাকুণি বরাবরও হতে পারে।

    (৪) ওয়াল থিকেনিং:

    এক্ষেত্রে দুই কলামের মাঝের দেয়ালটাকেই মোটা করে ওজন বাড়িয়ে নেয়া হয়। এটিও রড ব্যবহার করে ঢালাইয়ের মত প্রক্রিয়ায় করা হয়।

    (খ) উন্নত বিশ্বের তিন প্রযুক্তি:

    (১) টিএমডি (টিউন মাস ড্যাম্পার)

    এক্ষেত্রে ভবনের ছাদের দিকে বড় আকারের একটি সিস্টেম বসানো হয়। এর ভেতরে তেল বা পানির মতো তরল পদার্থ থাকে। সেটা এমনভাবে করা হয় যেন বসানো সিস্টেমটি নিজে দুলে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি শোষণ করতে পারে। কোনো ক্ষেত্রে এর ভেতরের তরল পদার্থ দুলবে, আবার কোনো ক্ষেত্রে সিস্টেমটাই ডানে-বামে স্লাইড করবে।

    আরেকভাবেও এটা করা যায় সেটা পেন্ডুলামের মতো। সেক্ষেত্রে তরল পাদার্থবিশিষ্ট বিশেষ পেন্ডুলামও ঝাঁকির সাথে দুলে ভবনের নড়াচড়া কমাতে পারে।

    এটা ভবনের উপরে বিশালাকারের হতে পারে যেমন তাইওয়ানের তাইপেই ওয়ান ও ওয়ান। এটি ১০১ তলা একটি ভবন যেখানে এমন বড় পেন্ডুলাম ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো কোথাও এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি বলে জানান ড. আনসারী।

    তাইওয়ানের ১০১ তলা ভবন তাইপেই ১০১ এ ব্যবহার করা হয়েছে পেন্ডুলাম আকৃতির বিশাল টিএমডি।  তবে পেন্ডুলাম আরেকভাবেও ব্যবহার হয় বিমের মাঝে, তবে সেটিকে ঠিক এই টিএমডি প্রযুক্তি না, বরং বেজ আইসোলেটরের মধ্যে ফেলা হয়।

    (২) বেজ আইসোলেটর:

    বেজ আইসোলেটর প্রযুক্তি বসানো হয় ভবনের নিচ দিয়ে যেটি ভবনকে ভিত্তি থেকে আলাদা করে দেয়। এটিকে এমনভাবে সেট করা হবে যেনো ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে নিচের অংশটি নড়বে, কিন্তু উপরের অংশ দুলবে না।

    সেটি সহজভাবে বুঝতে ধরুন একটি বাক্সের নিচে এমনভাবে চাকা বা বল বসালেন যেন তার নিচে দুললে চাকাটি এদিক-ওদিক নড়বে, কিন্তু চাকার উপরে বাক্স পর্যন্ত সেই দুলুনি যাবে না। এটি অনেক ক্ষেত্রে তেলভিত্তিক পেন্ডুলাম দিয়েও করা হয়। উন্নত বিশ্বে অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালকে নিরাপদ করতে এটি করা হয়। বাংলাদেশে কোনো ভবনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার না করা হলেও যমুনা ব্রিজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান ড. আনসারী।

    (৩) বিআরবি (বাকলিং রিস্ট্রেইন্ড ব্রেইস):

    বিআরবিতে লাল অংশের মতো প্রযুক্তি বসানো হয় যেটি ঝাঁকুনি শোষণ করে।

    বিআরবিও একটি অতি ব্যয়বহুল প্রযুক্তি। সহজে বুঝালে স্টিল ও স্প্রিঙের মতো একটি কাঠামো যেটি সংকোচন-প্রসারণে সক্ষম। ভুমিকম্পে এর ভেতরের স্প্রিং-এর সংকোচন-প্রসারণ হয় এবং সেটি পিলারের উপর চাপ না ফেলে নিজে কাঁপুনি শোষণ করে। এটি সাধারণত আমেরিকা বা চীনে তৈরি হওয়ায় সেখানেই বেশি ব্যবহার হয়।

    তবে এসব প্রযুক্তিই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এজন্য ভবন তৈরির পরের চেয়ে আগেই মাটি ও ভবন সংক্রান্ত বিষয়ে ভুমিকম্পের দিক বিবেচনা করে ভবন নির্মানটাই বেশি যৌক্তিক।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • ওয়াইফাই রাউটার কিনবেন? এই ৬ টি ভুল এড়িয়ে চলুন

    ওয়াইফাই রাউটার কিনবেন? এই ৬ টি ভুল এড়িয়ে চলুন

    কর্মক্ষেত্র হোক বা বিনোদন, জীবনের প্রতিটি পদে মানুষ এখন ভার্চুয়াল জগতের ওপর নির্ভরশীল। আর দৈনন্দিন জীবনে ঘরে বসেই অবাধে সেই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে ওয়াইফাই রাউটার। প্রতিটি বাসা এবং অফিসে রাউটার এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। করোনা পরবর্তী সময়ে এর গুরুত্ব যেন আরও বহুগুণে বেড়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে বেড়েছে বেচাকেনার হার। ভালো ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য একটি ভালো ওয়াইফাই রাউটারের কোনো বিকল্প নেই। ওয়াইফাই রাউটার কেনার সময় প্রায়ই আমরা কিছু সাধারন ভুল করে থাকি। এ রকম ছয়টি ভুল না করলে ওয়াইফাই কেনার বিষয়টি অনেকটাই সহজ হয়।

    ওয়াইফাই এক্সটেন্ডারের সাথে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এর পার্থক্য বুঝতে না পারা

    অনেক সময়ই দেখা যায় পুরনো ওয়াইফাইটি বদলে ফেলার প্রয়োজন হলেও আমরা তা করতে চাই না। সবগুলো ডিভাইসে সংযোগ না পাওয়া, প্রায় সময়ই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, গেম সেশন শেষ হওয়ার আগেই টাইম আউট হওয়া- এসবই রাউটার পরিবর্তনের আভাস দেয়। কিন্তু অনেকেই ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার দিয়ে এসব সমস্যা পাশ কাটাতে চায়। ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার দিয়ে এসব সমস্যার একটি বা দুটি সমাধান করা যায়। কিন্তু পুরোপুরি সমাধানের জন্য রাউটার কেনাই সেরা সিদ্ধান্ত।

    কম্বো মডেম বা রাউটার ইউনিট কেনা

    ওয়াইফাই রাউটার/ইন্টারনেট মডেম ইউনিটের সাথে বেশিরভাগ মানুষই পরিচিত। এই ইউনিটের সংমিশ্রন অনেক লোকের জন্য কাজ করতে পারে তবে এক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও থাকে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে পরিমান অর্থ ব্যয় করা হয় তা দিয়ে সেরা রাউটার বা মডেম পাওয়া যায় না। আরো একটি সমস্যা হচ্ছে এই ডিভাইসটি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একেবারে সেট করে নিতে হয়। অর্থাৎ পুরনো বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়িতে গেলে তা সহজেই নিয়ে যাওয়া যায় না।

    এছাড়াও ক্যাবল মডেম এবং ওয়াইফাইয়ের সংমিশ্রন থাকলে এর ক্যাবল মডেমের অংশটি কোন ফাইবার কোম্পানি অথবা ইন্টারনেট নেই এমন স্থানে কাজ করবে না। এছাড়া ক্যাবল কোম্পানি নতুন ডিওসিএসআইএস মানদন্ডে উন্নীত হলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিবে। এক্ষেত্রে একটি ভালো স্ট্যান্ড এলোন রাউটারে বিনিয়োগ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে রাউটার/মডেম ইউনিটের কম্বিনেশন উপকারী হলেও সবার জন্য তা নয়।

    নতুন বা আপগ্রেড রাউটার না কেনা

    রাউটার কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাজারে যে নতুন রাউটার এসেছে তা কেনা। পুরনো মডেলের নতুন রাউটার কেনা এক অর্থে অর্থেরই অপচয়। নতুন বক্সে থাকা পুরনো মডেলের রাউটারটি মূলত পাঁচ বছর আগের প্রযুক্তির। ফলে এই রাউটার কিনলে সেখানে কখনোই নতুন ওয়াইফাই প্রযুক্তি থাকবে না। প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর অন্তর ওয়াইফাই রাউটার হালনাগাদ করা উচিত। তাই যদি প্রথম কেনা রাউটারটিই যদি পাঁচ বছর আগের প্রযুক্তির হয় তাহলে এমনিই ওয়াফাই প্রজন্মের কার্ভে পিছিয়ে থাকবেন আপনি।

    তাই ওয়াইফাই রাউটার কেনার সময় শুধুমাত্র রিভিউ এবং রেটিংয়ে কান দিলে হবে না; এটি কখন তৈরি করা হয়েছে সে বিষয়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

     ওয়াইফাই কভারেজ এরিয়া মাথায় না রাখা

    শুধুমাত্র একটি ডিভাইসে সংযোগ দেয়ার জন্য কেউ কখনো রাউটার কেনে না। অনেকগুলো ডিভাইসে ব্যবহারের জন্যই তা ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে অনেকেই বলে থাকেন বাড়ির কিছু কিছু জায়গায় তারা ওয়াইফাই সংযোগ পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে ওয়াইফাই মেশ সিস্টেম কিনে নেয়া যায় যা বাড়ির প্রতিটি কোনা কভার করবে।

     স্মার্ট হোম চাহিদা এড়িয়ে যাওয়া

    যখন নতুন রাউটার কেনার বিষয়টি চিন্তা করা হয় তখন শুধুমাত্র স্মার্ট টিভি অথবা ফোনের বিষয়টিই ভেবে থাকি আমরা। তবে এক্ষেত্রে বাসায় থাকা ভিডিও ডোরবেল, স্মার্ট ক্যামেরা, স্মার্ট প্লাগ ও স্মার্ট স্পিকারের মতো অন্যান্য হোম নেটওয়ার্কের কথাও মাথায় রাখা উচিত।

    একটি ভালো আধুনিক রাউটার এমনভাবে তৈরি থাকে যা শুধুমাত্র ল্যাটপট ও স্মার্টফোনের মতো গুটিকয়েক ডিভাইসের সংযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না। স্মার্ট হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বিষয়টি সেখানে অন্তর্ভূক্ত থাকে।

     অতি সাধারন বা অতি টেকনিক্যল রাউটার বাছাই করা

    কয়েক বছর ধরে রাউটার নির্মাতারা বিশেষ করে মেশ নেটওয়ার্ক তৈরি করে আসছে তারা ব্যবহারীরর অভিজ্ঞতাকে আরো সহজ করার চেষ্টা করছে। নেটওয়াার্ক প্রযুক্তি সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা না থাকলে সেক্ষেত্রে মেশ রাউটারের মতো রাউটার প্লাটফর্ম বাছাই করা খুব ভুল কিছু নয়। বেশিরভাগই কাস্টম ভার্চুয়াল ল্যানস সেট আপ করতে, রাউটারে স্টার্ট আপ স্ক্রিপ্ট অথবা সফটওয়্যার চালাতে অথবা এসএসএইচ টানেল করতে চায় না। তবে কেউ যদি এধরনের কিছুতে আগ্রহি হয় তাহলে ইয়েরোর মতো ইন্টারফেস সেটআপ নিলে হতাশ হতে হবে।

    আর একটি মেশ প্লাটফর্ম চাইলে এএসইউএস জেনওয়াইফাই প্লাটফর্মের বিষয়টি ভাবা যেতে পারে।
    সূত্রঃ টেকশহর

  • ইলন মাস্কের নিউরালিংক অনুমতি পেলো মানবমস্তিষ্কে চিপ স্থাপনের

    ইলন মাস্কের নিউরালিংক অনুমতি পেলো মানবমস্তিষ্কে চিপ স্থাপনের

    মানব মস্তিষ্কে বিশেষ ধরনের চিপ স্থাপনের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুমতি পেয়েছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন নিউরালিংক। এর ফলে মানুষের মস্তিষ্কে চিপ স্থাপনের মাধ্যমে সরাসরি কম্পিউটারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি এক টুইটে বিষয়টি জানিয়েছে নিউরালিংক।

    বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি (এফডিএ) নিউরালিংককে মানুষের মস্তিষ্কে চিপ স্থাপনের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। নিউরালিংক হলো এমন একটি প্রকল্প, যার মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কে চিপ স্থাপন করা হবে। যার ফলে সেই ব্যক্তির মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। টেসলা, স্পেসএক্স ও টুইটারসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানার পাশাপাশি এ উদ্যোগের মালিকও ইলন মাস্ক। এ প্রযুক্তিতে নিউরালিংকই প্রথম চিপ বসাতে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি টুইটে বলেছে, ‘এ খাতে এটিই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে।’ তারা আরও বলেছে, ‘আমরা উচ্ছ্বসিত যে, আমরা প্রথমবার মানুষের মস্তিষ্কে চিপ স্থাপনের (ইমপ্ল্যান্ট) বিষয়ে পরীক্ষা চালানোর জন্য এফডিএ-র অনুমতি পেয়েছি।’

    নিউরালিংক টুইটে আরও বলেছে, ‘এটি মূলত নিউরালিংকের সঙ্গে এফডিএ-র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ফলাফল।’ তবে কারা নিউরালিংকের প্রথমবারের ইমপ্ল্যান্টে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে, গত বছর ইলন মাস্ক বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের প্রথম মানব ইমপ্ল্যান্টের জন্য প্রস্তুত হতে কঠোর পরিশ্রম করছি এবং স্পষ্টতই আমরা অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে চাই। পাশাপাশি একজন মানুষের মধ্যে ডিভাইসটি স্থাপন করার আগে তা ভালোভাবে কাজ করবে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাই।’

    নিউরালিংক দল জানিয়েছে মস্তিষ্কের চিপটি প্যারালাইজড এবং অন্যান্য স্নায়বিকভাবে-অক্ষম রোগীদের নড়াচড়া এবং আবার যোগাযোগ করার ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।  আরও বলেছে যে এটি কারও দৃষ্টি পুনরুদ্ধার করতেও সক্ষম হতে পারে।
    তথ্যসূত্রঃ আলজাজিরা

  • ব্যক্তিগত তথ্য সরানোয় মেটাকে রেকর্ড অংকের জরিমানা

    ব্যক্তিগত তথ্য সরানোয় মেটাকে রেকর্ড অংকের জরিমানা

    ইউরোপে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সার্ভারে স্থানান্তর করায় ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটাকে রেকর্ড অংকের জরিমানা করেছে ইউরোপিয়ান ডাটা প্রটেকশন বোর্ড। সোমবার এক বিবৃতিতে ১৩০ কোটি ডলার জরিমানার কথা জানায় ইউরোপীয় সংস্থাটি।

    আইরিশ ডাটা প্রটেকশন কমিশনের তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে ওই জরিমানা করা হয়। খবর এএফপি ও সিএনএনের ইউরোপে মেটার পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আইরিশ ডাটা প্রটেকশন কমিশন। ইউরোপের তথ্য সুরক্ষা আইন বা জিডিপিআরের অধীনে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলারই সবচেয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা। এর আগে ২০২১ সালে আমাজনকে ৮০৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়।

    ছয় মাসের মধ্যে ইউরোপীয় ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর বন্ধ করতে বলা হয়েছে মেটাকে। ইউরোপিয়ান ডাটা প্রটেকশন বোর্ডের চেয়ার আঁন্দ্রে জেলিনেক বলেন, ‘ইউরোপে লাখ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে ফেসবুকের। তাদের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারণ স্থানান্তরের কাজটি নিয়মিত পদ্ধতিগতভাবে করা হয়।’ তবে ইউরোপে ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয়নি বলে জানায় ইউরোপিয়ান ডাটা প্রটেকশন বোর্ড।

    প্রযুক্তি

    ফেসবুকের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রটেকশন কমিশন জানিয়েছে, মেটা তথ্য নিরাপত্তা আইনের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ভঙ্গ করেছে। কারণ, অনলাইনে ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো কাজে লাগিয়ে স্প্যাম বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি বিভিন্নভাবে প্রতারণা করা সম্ভব। তাই এ জরিমানা করা হয়েছে।

    তথ্যসূত্রঃ টাইমস.কম

  • হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট লকঃ আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কথোপকথনকে গোপন রাখবে

    হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট লকঃ আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কথোপকথনকে গোপন রাখবে

    গোপন কথোপকথন, সবাই গোপনেই রাখতে চায়। কেউ তা দেখে ফেলুক বা শুনে ফেলুক, এমনটা কেউ চান না। এবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের কথোপকথন গোপনে রাখতে মেটা নিয়ে এসেছে ‘চ্যাটলক’। এই ফিচারটি সেই সমস্ত লোকেদের জন্য দুর্দান্ত হবে যারা সময়ে সময়ে তাদের প্রিয়জন বা পরিবারের সদস্যের সাথে চ্যাটিংয়ে মুহুর্তগুলো ভাগ করে নেয়। এমন মুহুর্তগুলিতে যদি অন্য কেউ আপনার ফোন ধরে এবং ঠিক সেই মুহূর্তে একটি ব্যক্তিগত অতিরিক্ত-বিশেষ চ্যাট আসে তাহলে তা সত্যিই বিব্রতকর।

    এমন পরিস্থিতিতে, আপনি যে কথোপকথনগুলো গোপন রাখতে চান, সেগুলো একটি বিশেষ ফোল্ডারে স্টোর করা থাকবে। সেখানে কার সঙ্গে কথা হচ্ছে, তার নাম লুকানো থাকবে। মেসেজ নোটিফিকেশনও আসবে না। হোয়াটসঅ্যাপ লক করার জন্য বায়োমেট্রিক বা পিন কোড দিয়ে তা লক করার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস দুটিতেই রয়েছে। এতে যেকোনো গোপন চ্যাট নিরাপদে রাখা যায়। আপনার ফোনে কেউ গোপনে দেখতে চাইলেও এই চ্যাট তিনি খুঁজে বের করতে পারবেন না পিন কোড বা বায়োমেট্রিক্স ছাড়া।

    কীভাবে করবেন ইনস্টল

    হোয়াটসঅ্যাপ ইতোমধ্যেই প্রাইভেসি সেটিংয়ে একাধিক বিষয় যুক্ত করেছে। তারমধ্যে রয়েছে ডিসঅ্যাপিয়ারি মেসেজ, স্ক্রিনশট ব্লকিং, কে স্টেটাস মেসেজ দেখবেন তা নির্ধারণ করা, লাস্ট সিন বন্ধ রাখা। নতুনটি হলো চ্যাটলক। এর জন্য হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ভার্সান ডাউনলোড করুন। তারপর যার সঙ্গে চ্যাটটি লক করতে চান তার প্রোফাইল পিকচারে যান। সেখানেই পাবেন নতুন অপশন চ্যাটলক। ডিস অ্যাপিয়ারিং মেসেজের নিচেই পাবেন অপশন। সেটিকে ‘এনাবেল’ করুন। এরপর অথেন্টিকেট করুন আপনার ফোনের পাসওয়ার্ড ও বায়োমেট্রিক্স দিয়ে।

    তথ্যসূত্রঃ হোয়াটসঅ্যাপ ব্লগ