Category: বিনোদন

  • কিংবদন্তী চার্লি চ্যাপলিনের ১৩৪ তম জন্মবার্ষিকী এবং জীবন বদলানো তাঁর সেরা কিছু উক্তি

    কিংবদন্তী চার্লি চ্যাপলিনের ১৩৪ তম জন্মবার্ষিকী এবং জীবন বদলানো তাঁর সেরা কিছু উক্তি

    ১৬ এপ্রিল ২০২৩, সাম্প্রতিক মহান কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের ১৩৪ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হলো। সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রিয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন চার্লি চ্যাপলিন। ১৮৮৯ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। চ্যাপলিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ব্রিটিশ মিউজিক হলগুলিতে একজন শিশু অভিনয়শিল্পী হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন মাত্র ৫ বছর বয়সে। ১৯১৩ সালে, তার কেরিয়ার চলাকালীন, তিনি নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের সবচেয়ে স্বীকৃত এবং আইকনিক তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন। তার মুভিতে স্মরণীয় চরিত্র, ট্র্যাম্পের জন্য ধন্যবাদ।

    কিন্তু চ্যাপলিন শুধুমাত্র একজন কৌতুক অভিনেতাই ছিলেন না। তিনি একজন যুগান্তকারী পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং সুরকার ছিলেন। যিনি হলিউড এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে একটি অমোঘ চিহ্ন রেখে গেছেন৷

    চার্লি চ্যাপলিন তাঁর অসাধারণ মেধা এবং মনন দিয়ে কাজ করে গেছেন। অভিনয়ের মাধ্যমে হাসিয়েছেন মানুষকে। তাঁর অনবদ্য অভিনয় এবং সৃষ্টিগুলো আজও মানুষকে হাসিয়ে যাচ্ছে, অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি তাঁর জীবনবোধ থেকে অসাধারণ সব উক্তি ও বাণী দিয়ে গেছেন। এসব উক্তি আপনার জীবনের জন্যও মূল্যবান স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম। আসুন জেনে নেই চ্যাপলিনের কিছু উল্ল্যেখযোগ্য বাণী-

    কিংবদন্তী চার্লি চ্যাপলিনের

    • এই বিশ্বে স্থায়ী কিছুই না, এমনকি আমাদের সমস্যাগুলোও না।
    • মন খুলে হাসতে হলে নিজের যন্ত্রনাগুলোর সাথে খেলতে শেখো।
    • একটি সৃষ্টিশীল কাজের ভেতরে সত্যটা যত বেশী গভীর হবে, সেটা তত বেশী সময় টিকে থাকবে।
    • আমার সব থেকে ভালো বন্ধু হল আয়না, কারণ আমি আমি যখন কাঁদি তখন সে হাসে না।
    • আমার দুঃখ কষ্টগুলো কারো কারো হাসির কারণ হয়ে থাকতে পারে কিন্তু আমার হাসিগুলি যেন কখনই কারো দুঃখের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
    • আমি বৃষ্টিতে হাঁটি যাতে কেউ আমার অশ্রু দেখতে না পারে।
    • হাসি হল ঔষধ, যেটা দুঃখ থেকে মুক্তি দেয়।
    • ক্লোজ – আপে জীবন হচ্ছে ট্রাজেডি , কিন্তু লং শটে সেটা কমেডি।
    • আমরা চিন্তা করি বেশি, কাজ করি কম।
    • আমি সবকিছুতেই অসঙ্গতি চেয়েছিলাম: ব্যাগি প্যান্ট, আঁটসাঁট কোট, ছোট মাথার টুপি এবং বড় জুতা… আমি একটি ছোট গোঁফও ব্যবহার করি, যার ফলে আমাকে বয়স্ক দেখাবে কিন্তু আমার অভিব্যক্তিও লুক্কায়িত থাকবে না। আমার এই চরিত্র সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না। কিন্তু যখন আমি পোশাক পরিধান করি, সেই পোশাক ও মেকআপ আমাকে সেই ব্যক্তিত্বকে অনুভব করতে সাহায্য করে। আমি তাকে চিনতে শুরু করি এবং যে সময়ে আমি ক্যামেরার সামনে দাড়াই, ততক্ষণে সেই চরিত্রের জন্ম হয়।

    তথ্য সূত্রঃ উইকি ওয়ান্ড, চার্লি চ্যাপলিনের-মাই অটোবায়োগ্রাফী

  • ৯৬ বছর বয়সে চলে গেলেন আমেরিকান কিংবদন্তী – হ্যারি বেলাফন্টে

    ৯৬ বছর বয়সে চলে গেলেন আমেরিকান কিংবদন্তী – হ্যারি বেলাফন্টে

    হ্যারি বেলাফন্টে ছিলেন একজন আমেরিকান গায়ক, অভিনেতা এবং নাগরিক অধিকার কর্মী। ছয় দশকেরও বেশি সময় জুড়ে তাঁর বিস্তৃত প্রশংসিত এক কর্মজীবন। হ্যারি বেলাফন্টে তাঁর আবেগ এবং প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পকলায় চ্যাম্পিয়ন। মানবিক সমস্যা এবং নাগরিক অধিকারে ন্যায়বিচারে দেখিয়েছেন আলোর পথ।৯৬ বছর বয়সে চলে গেলেন আমেরিকান কিংবদন্তী - হ্যারি বেলাফন্টে

    তিনি ১৯৫০ এর দশকে ট্রিনবাগোনিয়ান ক্যালিপসো সঙ্গীত শৈলীর জনপ্রিয়তার মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি ব্লুজ, ফোক, গসপেল এবং আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড সহ বিভিন্ন জেনারে রেকর্ড এবং পারফর্ম করেছেন।

    বেলাফন্টে ‘কারমেন জোন্স’, ‘আইল্যান্ড ইন দ্য সান’ এবং ‘অডস এগেইনস্ট টুমরো’ সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিনোদন শিল্পে তার অবদানের জন্য জিতেছেন বহু পুরস্কার। যেমন একাধিক গ্র্যামি, একটি এমি, একটি টনি এবং একটি কেনেডি সেন্টার পুরষ্কার।

    তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল তার রাজনৈতিক এবং মানবিক সক্রিয়তায়। যেখানে তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন এবং জাতিগত ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দিকে কাজ করেছিলেন। তিনি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি আফ্রিকায় জরুরী দুর্ভিক্ষ ত্রাণের জন্য সচেতনতা বাড়াতে, গ্র্যামি পুরস্কার বিজয়ী গান “উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড” এবং ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এককভাবে সাহায্য করেছিলেন।

    ২৫ এপ্রিল, ২০২৩- ৯৬ বছর বয়সে প্রয়াত হোন গায়ক হ্যারি বেলাফন্টে। মঙ্গলবার ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন গায়ক। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয় শিল্পীর। বেলাফন্টের দীর্ঘদিনের সঙ্গী তথা তাঁর মুখ্যপাত্র কেন সানসাইনই (Ken Sunshin) খবরটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

    তথ্যসূত্রঃ সিএনএন, ব্রিটানিকা, অল মিউজিক.কম

  • রুচির দুর্ভিক্ষে উত্থান হয়েছে হিরো আলমের : মামুনুর রশীদ

    রুচির দুর্ভিক্ষে উত্থান হয়েছে হিরো আলমের : মামুনুর রশীদ

    অভিনয় শিল্পী সংঘের একটি অনুষ্ঠানে কথা বলেন নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়েছি। আর সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একজন মানুষের উত্থান হয়েছে।

    নাট্যজন মামুনুর রশীদ আরও বলেন, এই উত্থান কুরুচি, কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতির উত্থান। এই উত্থান কীভাবে রোধ করা যাবে, এটা যেমন রাজনৈতিক সমস্যা, আবার তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক সমস্যাও।

    সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। প্রথমে মিউজিক ভিডিওতে মডেল হওয়ার মাধ্যমে যাত্রা করলেও পরবর্তীতে কখনো গান গাওয়া, সিনেমা নির্মাণ, কবিতা আবৃত্তি করা এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সময়ভেদে ইস্যু নিয়ে প্রায় সময়ই আলোচনায় থাকেন হিরো আলম।

    এ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের উত্থান নিয়ে সম্প্রতি অভিনয় শিল্পী সংঘের একটি অনুষ্ঠানে কথা বলেন নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়েছি। আর সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একজন মানুষের উত্থান হয়েছে।

    এছাড়া রোববার (২৬ মার্চ) মামুনুর রশীদ দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, হিরো আলম সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না তার। নাট্যাঙ্গনের কিছু মানুষ তার (হিরো আলম) কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। তারপর থেকেই হিরো আলমকে নিয়ে তিনি বিরক্ত ছিলেন।

    ক্ষোভ থেকে মামুনুর জানালেন, ‘আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বলেছিলেন, দেশে একটা রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে। আমরা সেই রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে গেছি। কী রকম? একদিকে মুক্তচিন্তা।

    মুক্ত চিন্তার জন্য হুমায়ূন আজাদ প্রাণ দিয়েছিলেন। মুক্তচিন্তার আরও অনেক মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মিডিয়া মুক্ত হওয়ার ফলে আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে গেছি। সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একটা লোকের উত্থান হয়েছে। যে উত্থান কুরুচি, কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতি দ্বারা উত্থান। আজ আমাদের অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। কী সুন্দর রাস্তাঘাট হচ্ছে, মেট্রোরেল হচ্ছে, আমরা খুব মুগ্ধ। দেশের মানুষের কষ্টের অবসান হবে। কিন্তু দেশের মানুষের সংস্কৃতি ও রুচিই যদি ঠিক না করা যায়, এসব কে ব্যবহার করবে, তাই সংস্কৃতি ও রুচির উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

    এ নাট্যজন হিরো আলম সম্পর্কে বলেন, কয়েকজন বলার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে যখন সংসদ নির্বাচন করছে, তাকে কেউ একটা গাড়ি দিচ্ছে। সেই গাড়ির আবার ৯-১০ বছর ধরে কোনো ফিটনেস নেই। তাকে নিয়ে অনেক দিনই আমি বিরক্ত ছিলাম। এ নিয়েও বিরক্ত ছিলাম, দেশের মানুষের তো রুচির দুর্ভিক্ষ হয়ে গেছে।

     

  • নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘গৌতম বুদ্ধ’ পুরস্কার পেল ‘সাঁতাও’

    নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘গৌতম বুদ্ধ’ পুরস্কার পেল ‘সাঁতাও’

    নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার ‘গৌতম বুদ্ধ এওয়ার্ড’ পেয়েছে। খন্দকার সুমন পরিচালিত চলচ্চিত্রটির প্রযোজক শারিফ উল আনোয়ার সজ্জন, মুখ্য অভিনয় শিল্পী আইনুন পুতুল এবং বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিকের হাতে বিচারক মণ্ডলী পুরস্কার তুলে দেন।

    গত ১৬ থেকে ২০ মার্চ নেপালে অনুষ্ঠিত হলো নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সেখানে ৩৫টি দেশের ৯৫টি ছবি দেখানো হয়। উৎসবের ওয়ার্ল্ড প্যানোরমা ইন্টারন্যাশনাল ফিচার বিভাগে গত ১৭ মার্চ রাজধানী কাঠমান্ডুর দুইটি সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হয় ‘সাঁতাও’। গত ৩ মার্চ ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র আয়োজনে ‘তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব’-এ প্রতিযোগিতা সেরা ‘প্রযোজনা এবং পরিকল্পনা’ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়। গত ৫ মার্চ ভারতের কেরলা প্রদেশের ত্রিশুল শহরে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ত্রিশুল (ইন্ডিয়া)-এর ১৮ তম আসরে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়। এর আগে চলচ্চিত্রটি গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ প্যানওরমা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার ‘ফিফরিসি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিল।

    গত ২৭ জানুয়ারি ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশে। এরপর বিকল্প ভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে ২৪ তারিখে ভারতের ‘৫৩তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া’ চলচ্চিত্র উৎসবের গোয়া প্রদেশের পাঞ্জি শহরে চলচ্চিত্রটির ‘ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার’ হয়। কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সর্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় গল্প চলচ্চিত্রের পর্দায় হাজির করেছে চলচ্চিত্র “সাঁতাও’’।

    গণ-অর্থায়নে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সাঁতাও’-এর মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল, ফজলুল হক। ‘‘সাঁতাও’’ চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখেছেন খন্দকার সুমন, সহকারি পরিচালক হিসাবে ছিলেন শ্যামল শিশির, সুপিন বর্মণ ও মাসুদ রানা নকীব, সম্পাদনা, রং-বিন্যাস, এফেক্ট ও টাইটেল, সাউন্ড ডিজাইন ও সাউন্ড মিক্সিং করেছেন সুজন মাহমুদ, শব্দ গ্রহণে ছিলেন নাহিদ মাসুদ, চিত্রগ্রহণে ছিলেন সজল হোসেন, ইহতেশাম আহমদ টিংকু ও খন্দকার সুমন, আবহ সংহীত করেছেন মাহমুদ হায়াৎ অর্পণ, গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কামরুজ্জামান রাব্বী, লায়লা তাজনূর সাউদী, লিমা হক, শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন রবি দেওয়ান, পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন আফ্রিনা বুলবুল, নৃত্য পরিচালনা করেছেন ফাহিম রায়হান, রূপসজ্জা করেছেন ফরহাদ রেজা মিলন, পোস্টার ডিজাইন করেছেন সাজ্জাদুল ইসলাম সায়েম। চলচ্চিত্রটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোঃ সালাউদ্দিন, সাবেরা ইয়াসমিন, স্বাক্ষ্য শাহীদ, শ্রাবণী দাস রিমি, তাসমিতা শিমু, মিতু সরকার, ফারুক শিয়ার চিনু, আফ্রিনা বুলবুল, রুবল লোদী, কামরুজ্জামান রাব্বী, আব্দুল আজিজ মন্ডল, বিধান রায়, জুলফিকার চঞ্চল, বিনয় প্রসাদ গুপ্ত, সুপিন বর্মণ, রেফাত হাসান সৈকত, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, আলমগীর কবীর বাদল, রবি দেওয়ান, দীনবন্ধু পাল, হামিদ সরকার, মোঃ হানিফ রানা, আকতার হোসেন, আজিজুল হাকিম শিউস, সাইফুল ইসলাম লিটন, রাসেল তোকদার, মজনু সরকার, আবু কালাম, সিদ্দীক আলী, সুজন মাহমুদ, তাহসিনা আকতার তন্বী, নিশাত তাহিয়াত মিমন এবং তিস্তাবাজার এলাকাবাসী।

     

  • কে এই বুরাক ওজচিভিত!

    কে এই বুরাক ওজচিভিত!

    জনপ্রিয় টিভি সিরিজ কুরলুসঃ ওসমানের, ওসমানকে কে না চিনে! কিন্তু অভিনয়ের সেই মানুষটা সম্পর্কে আমরা কতোটা জানি? আসুন জেনে নেই ওসমান সম্পর্কে। ওসমানের আসল নাম বুরাক ওজচিভিত। তিনি একাধারে একজন খ্যাতিমান অভিনয় শিল্পী, একজন টপ মডেল, প্রযোজক এবং উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত আছেন।

    বুরাক ওজচিভিত তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি ইসলামী মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন এবং বুরাক্কান ওজচিভিত নামে তার একটি ছোট ভাই রয়েছে। বুরাক ওজচিভিত ২০১৭ সালে ফাহরি ইভসেনকে বিয়ে করেন, তিনিও একজন অভিনেত্রী। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে, যার নাম কারাণ ওজচিভিত এবং একটি মেয়ে লারা ওজচিভিত । বুরাক ওজচিভিত বিনোদন শিল্পে একটি বর্ণাঢ্য কর্মজীবন তৈরি করেছেন। তিনি কারা সেভদা এবং কুরুলুস: ওসমান এর মতো টিভি শোতে অভিনয়ের জন্য একাধিক পুরস্কার এবং প্রশংসা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি মুসাল্লাত, আস্ক সানা বেনজার এবং ক্যান ফেদা-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। উপরন্তু তিনি একজন তুরষ্কের মডেল হিসেবেও কাজ করেছেন। তুরস্কের শীর্ষ মডেলদের মধ্যে তিনি একজন। বুরাক ওজচিভিতরে নিজস্ব প্রোডাকশন কোম্পানি আছে যার নাম বিআরকে প্রোডাকশন। বুরাক ওজচিভিতকে তুরস্কের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং তার কাজ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তুরষ্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পে বুরাক ওজচিভিত মারা গেছেন এরকম খবর সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লেও সেটা সম্পূর্ণভাবে গুজব ছিলো। এ বিষয়ে বুরাক ওজচিভিত নিজেই জানিয়েছিলেন।

  • অস্কারের ৯৫তম আসরে পুরস্কার পেলেন যারা

    অস্কারের ৯৫তম আসরে পুরস্কার পেলেন যারা

    যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলছে অস্কারের জমকালো অনুষ্ঠান। সেখানে জড়ো হয়েছেন হলিউডসহ বিশ্বের বিনোদন জগতের নামি-দামি সব তারকা। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কার। ১২ মার্চ রাতে (বাংলাদেশ সময় ১৩ মার্চ ভোর ৬টায়) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল এবারের ৯৫তম আসর। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তারকারা।

    ৯৫তম অস্কারে সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে ‘এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’। সব মিলিয়ে সাত ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে সিনেমাটি।

    আজ বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বসে অস্কারের ৯৫তম আয়োজন। এ উপলক্ষে সেখানে জড়ো হন হলিউডসহ বিনোদন জগতের নামিদামি সব তারকা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

    ‘এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’ যে সাত বিভাগে পুরস্কার জিতেছে—সেরা সিনেমা, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেত্রী, সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী, সেরা পার্শ্ব অভিনেতা, অরিজিনাল স্ক্রিন প্লে ও সেরা এডিটিং।

    বিভিন্ন বিভাগে যারা পুরস্কার পেলেন—

    স্বল্পদৈর্ঘ্যের সেরা লাইভ অ্যাকশনঃ

    টম ব্রাকলে এবং রস হোয়াইটের স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘অ্যান আইরিশ গুডবাই’ সিনেমাটি এই বিভাগে পুরস্কার জিতেছে।

    সেরা ডকুমেন্টারি ছবিঃ

    রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে নিয়ে তৈরি করা ‘নাভালনি’ সেরা ডকুমেন্টারির ছবির পুরস্কার জিতেছে। নাভালনি জেলে বন্দি থাকায় অস্কার অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনা উপস্থিত ছিলেন।

    সেরা সিনেমাটোগ্রাফিঃ

    সেরা সিনেমাটোগ্রাফির পুরস্কার জিতেছে ‘অল কুয়াইট অন দ্য ওয়েস্টান ফ্রন্ট।’

    সেরা অ্যানিমেশনঃ মেক্সিকান পরিচালক গুইলারমো দেল তোরোর অ্যানিমেশন ছবি পিনোচ্চিও সেরা অ্যানিমেটেড ছবি।

    সেরা মেকআপ আর্টিস্টঃ

    ‘দ্য হোয়াল’ ছবিতে দুর্দান্ত কাজ করে সেরা মেকআপ আর্টিস্টের পুরস্কার জিতেছেন আদ্রিয়েন মোরোট, জুডি চিন ও অ্যান্নিমারি ব্র্যাডলি।

    সেরা আন্তর্জাতিক ছবিঃ

    এবারের আসরে সেরা আন্তর্জাতিক ছবির পুরস্কার জিতেছে ‘অল কুয়াইট অন দ্য ওয়েস্টান ফ্রন্ট’।

    স্বল্পদৈর্ঘ্যের সেরা ডকুমেন্টারিঃ

    মা হারানো এক হাতিকে ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ বড় করে তুলছেন— এ ঘটনার ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘দ্য এলিফ্যান্ট হুইসপার্স’সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ডকুমেন্টারির পুরস্কার জিতেছে।

    সেরা এনিমেটেড শর্ট ফিল্মঃ

    দ্য বয়, দ্য মোল, দ্য ফক্স অ্যান্ড দ্য হর্স নামে এনিমেশন ছবি জিতেছে সেরা এনিমেটেড শর্ট ফিল্মের পুরস্কার।

  • মেল গিবসনের ক্যারিয়ার বিতর্কের পর বিতর্কে টিকে আছে

    মেল গিবসনের ক্যারিয়ার বিতর্কের পর বিতর্কে টিকে আছে

    মেল গিবসন একজন আমেরিকান বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক। ৩ জানুয়ারী, ১৯৫৬ সালে, নিউ ইয়র্কের পিকস্কিল-এ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সেই কয়েকজন অভিনেতাদের মধ্যে একজন যিনি অনায়াসে ব্রেভহার্টের মতো ঐতিহাসিক মহাকাব্য থেকে লেথাল ওয়েপন ফিল্ম সিরিজের মতো গ্রিটি অ্যাকশন মুভিতেও অসাধারণ অভিনয় করেছেন।

    তিনি ১৯৭০ এর দশকের শেষদিকে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন এবং ১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন। যদিও তিনি তার অ্যাকশন হিরো ভূমিকা এবং বড় পর্দায় তার প্রতিভার জন্য পরিচিত। তিনি বছরের পর বছর ধরে বেশ কিছু বিতর্কে জড়িয়েছেন। বিশেষ করে, তিনি ইহুদি বিরোধী মন্তব্য করার জন্য সমালোচিত হয়েছেন, যার কারণে তার চলচ্চিত্র বর্জন করা হয়েছে এবং থিয়েটারে তার কাজ দেখানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি হলিউডে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, পরিচালনা ও বিভিন্ন ছবিতে অভিনয় করেছেন।

    তার চলচ্চিত্রের কাজ ছাড়াও, গিবসন একজন প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং এমনকি একজন কন্ঠ অভিনেতা হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি তার কাজের জন্য দুটি একাডেমি পুরস্কার, একটি গোল্ডেন গ্লোব এবং একটি BAFTA সহ অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন।

  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১ প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১ প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। ২৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২১ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো: হুমায়ুন কবির খন্দকার।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে আজীবন সম্মাননা প্রাপ্ত অভিনেত্রী ডলি জহুর বক্তব্য রাখেন।

    এর আগে এ বছর ২৯ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২৭ ক্যাটাগরিতে ৩৪টি পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেয়।

    চলচ্চিত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় এ বছর যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেত্রী ডলি জহুর ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র যৌথভাবে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ও ‘নোনাজলের কাব্য’; শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ধর’, শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র কাওসার চৌধুরীর (বধ্যভূমিতে একদিন), শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনাজলের কাব্য) পুরস্কার লাভ করেছে।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব ও কৈশোরের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে চিত্রায়িত ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’ চলচ্চিত্রটি মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননা লাভ করে।

    শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার লাভ করেছেন যৌথভাবে মো: সিয়াম আহমেদ (মৃধা বনাম মৃধা) ও মীর সাব্বির মাহমুদ (রাতজাগা ফুল)।

    এছাড়া পুরস্কার লাভ করেছেন, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী যৌথভাবে আজমেরী হক বাঁধন (রেহানা মরিয়ম নূর) ও তাসনোভা তামান্না (নোনাজলের কাব্য); পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এম ফজলুর রহমান বাবু (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্রে শম্পা রেজা (পদ্মপুরাণ); শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল চরিত্রে মো: আবদুল মান্নান জয়রাজ (লাল মোরগের ঝুঁটি)। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্রে প্রভাষ কুমার ভট্টাচার্য মিলন (মৃধা বনাম মৃধা), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী আফিয়া তাবাসসুম (রেহানা মরিয়ম নূর), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার জান্নাতুল মাওয়া ঝিলিক (যা হারিয়ে যায়)।

    গানের জগতে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম (যৈবতী কন্যার মন), শ্রেষ্ঠ গায়ক কে এম আবদুল্লাহ-আল-মুর্তজা মুহিন (শোনাতে এসেছি আজ-পদ্মপুরাণ), শ্রেষ্ঠ গায়িকা চন্দনা মজুমদার (দেখলে ছবি পাগল হবি-পদ্মপুরাণ), শ্রেষ্ঠ গীতিকার মরহুম গাজী মাজহারুল আনোয়ার (অন্তরে অন্তর জ্বালা-যৈবতী কন্যার মন), শ্রেষ্ঠ সুরকার সুজেয় শ্যাম (অন্তরে অন্তর জ্বালা-যৈবতী কন্যার মন), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার নূরুল আলম আতিক (লাল মোরগের ঝুঁটি), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা তৌকীর আহমেদ (স্ফুলিঙ্গ) পুরস্কার লাভ করেছেন।

    আরো পুরস্কার পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ সম্পাদক সামির আহমেদ (লাল মোরগের ঝুঁটি), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক শিহাব নূরুন নবী (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক দলগত-সৈয়দ কাশেফ শাহবাজি, সুমন কুমার সরকার, মাজহারুল ইসলাম রাজু (লাল মোরগের ঝুঁটি), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক শৈব তালুকদার (রেহানা মরিয়ম নূর), শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা ইদিলা কাছরিন ফরিদ (নোনাজলের কাব্য)। শ্রেষ্ঠ মেক-আপম্যান দলগত- মো: ফারুখ, মো: ফরহাদ রেজা মিলন (লাল মোরগের ঝুঁটি)।

    পুরস্কার হিসেবে নির্বাচিত সবাইকে দেয়া হয়েছে ১৮ ক্যারেট মানের ১৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ দিয়ে তৈরি একটি পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও এককালীন নির্ধারিত পরিমাণ সম্মানী ও সম্মাননাপত্র। আজীবন সম্মাননার জন্য ৩ লাখ, শ্রেষ্ঠ পূর্ণদের্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রযোজক, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালকের জন্য ২ লাখ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দেয়া হয় ১ লাখ টাকা।

    এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৩ সদস্যের জুরি বোর্ড গঠন করে। ২০২১ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ২১টি পূর্ণদের্ঘ্য, ১৭টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও ৭টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রসহ মোট ৪৫টি চলচ্চিত্র থেকে বাছাই করা হয় এবারের বিজয়ীদের।

    সূত্র : বাসস

  • হলিউড অ্যাকশন তারকা ব্রুস উইলিস বিরল রোগে আক্রান্ত

    হলিউড অ্যাকশন তারকা ব্রুস উইলিস বিরল রোগে আক্রান্ত

    হলিউডে নেমে এলো দুঃখের ছায়া। বিরলতম রোগ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হলিউডের অ্যাকশন তারকা ব্রুস উইলিস। গত বৃহস্পতিবার অভিনেতার পরিবারের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে এই তথ্য দেওয়া হয়। ৬৭ বছর বয়েসী এই অভিনেতা অ্যাফেসিয়ায় আক্রান্ত (মস্তিষ্কজনিত সমস্যা) হবার কারণে ২০২২ সালের মার্চ থেকেই লাইমলাইট থেকে দূরে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর পরিবার সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ডাই হার্ড তারকা ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গতবছর অভিনেতা অ্যাফেসিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যার ফলে তাঁর বক্তৃতা করতে অসুবিধায় পড়তে হয়। এবার তাঁর পরিবারের তরফ থেকে পাকাপাকি ঘোষণা, অভিনয় ছাড়ছেন ব্রুস উইলিস। ডিমেনশিয়া রোগটি অভিনেতার মস্তিষ্কের ক্ষেত্রগুলিকে প্রভাবিত করেছে। যা অভিনেতার ব্যক্তিত্ব, আচরণ এবং ভাষা প্রকাশে ব্যঘাত ঘটাচ্ছে। ব্রুস উইলিসের পরিবার তাঁর অসুস্থতার বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করে বলেছেন, “আমরা ২০২২ সালের বসন্তকালে ব্রুসের অ্যাফেসিয়া রোগ নির্ণয়ের ঘোষণা দিয়েছিলাম, ব্রুস সেই রোগ থেকে এখন মুক্ত। কিন্তু এখন আরও একটি নির্দিষ্ট রোগের শিকার হয়েছেন তিনি। যার নাম, ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া। দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমানে এই রোগের কোনও চিকিৎসা নেই। কিন্তু আমরা আশা করি, সামনের বছরগুলিতে এই বাস্তবতার পরিবর্তন হবে। ব্রুস সবসময় বিশ্বাস করতো তাঁর কন্ঠ পৃথিবীর অন্যান্য মানুষকে সাহায্য করার জন্য, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্যান্যদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য। পরিবারের তরফ থেকে আরও লেখা হয়েছে, ‘আমরা জানি যে, যদি তিনি আজকের পরিস্থিতি যদি আগেই জানতেন, তাহলে তিনি বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আনতেন। যারা এই দুর্বল রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করছেন তাঁদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইতেন।’ বিবৃতিতে উইলসের পরিবারের সদস্যরা স্বাক্ষর করেছেন। যেখানে আছেন তাঁর বর্তমান স্ত্রী এমা হেমিং, প্রাক্তন স্ত্রী ডেমি মুর ও তাঁর সন্তানরা।

    ব্রুস উইলিস সম্পর্কে: ব্রুস উইলিস কমেডি-ড্রামা সিরিজ মুনলাইটিং এর মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি ডাই হার্ড ফ্র্যাঞ্চাইজে জন ম্যাকক্লেনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি পাঁচটি গোল্ডেন গ্লোবের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর ঝুলিতে আছে দুটি এমি পুরস্কার। উল্লেখ্য, ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া রোগের একটি ‘অস্বাভাবিক’ রূপ, যা রোগীর চিন্তা, আচরণ ও ভাষা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করে।

  • একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবতাবাদী নারী- অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

    একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবতাবাদী নারী- অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

     

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলি একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং মানবতাবাদী। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ জুন, ১৯৭৫-এ অভিনেতা জন ভয়েট এবং প্রাক্তন মডেল ও অভিনেত্রী মার্চেলিন বার্ট্রান্ডের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লারা ক্রফ্ট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সারাবিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ২০০০ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার সহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

    চলচ্চিত্র জগতের বাইরে ২০০১ সালে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত মনোনীত হয়েছেন। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যায় উদারতা দেখানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুয়সী প্রশংসা করেছিলেন জাতিসংঘের শরনার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। বিশ্বব্যাপী মানবতার প্রচার, এবং বিশেষ করে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করার জন্য অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বিশেষভাবে সমাদৃত। মানবিক কাজের পাশাপাশি তিনি প্রিভেনটিং সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা এবং শিশুদের জন্য শিক্ষা অংশীদারিত্বের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলি  নিউইয়র্কের শৈশবের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছিলেন। তিনি লি স্ট্রেসবার্গ থিয়েটার এবং ফিল্ম ইনস্টিটিউটে দুই বছর অংশ নিয়েছিলেন এবং তারপরে বেভারলি হিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে তিনি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক অধ্যয়ন করেছিলেন। থিয়েটার প্রযোজনায় অভিনয় করার পাশাপাশি তিনি মডেল করেছেন এবং মিউজিক ভিডিওগুলিতে হাজির হন।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলির প্রথম চলচ্চিত্রে উপস্থিতি দেখা যায় শিশু শিল্পী হিসেবে ‘লুকিং ত গেট আউট’ (১৯৮২) চলচ্চিত্রে। এরপর চলচ্চিত্র ‘হ্যাকার’(১৯৯৫) সালে প্রকাশ পায়। কিন্তু চলচ্চিত্রটি দর্শক আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রধানত সুপারস্টার হয়ে উঠে ‘জিয়া’(১৯৯৮) একটি টেলি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রে তিনি গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড লাভ করেন। তাঁর অভিনীত অনেক চলচ্চিত্রই ব্যবসা সফল হয়েছে এবং তাকেও এনে দিয়েছে বড় মাপের খ্যাতি। তাঁর ঝুলিতে আছে ‘গার্ল ইন্টারাপ্টেড (১৯৯৯)’ চলচ্চিত্রের জন্য গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড এবং অস্কার বিজয়ী একাডেমি এওয়ার্ড লাভ করেছেন সেরা সহকারি অভিনেত্রী হিসেবে। বিশ্বব্যাপী তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিলো ‘টম্ব রাইডার (২০০১)’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই একশন মুভি এতোটাই জনপ্রিয় হয়েছিলো যে এই চরিত্রের উপর ভিডিও গেইম নির্মান করা হয়েছিলো। এছাড়াও তাঁর বেশ কিছু বৈচিত্রময় চরিত্রে চলচ্চিত্রগুলোও তাঁকে চিনিয়েছে বিশেষভাবে। রোম্যান্টিক, একশন, কমেডি সকল ধরনের অভিনয়েই তিনি বেশ পারদর্শী। যেমন – ‘অরিজিনাল সিন (২০০১)’, লাইফ অর সামথিং লাইক ইট (২০০২), সিকিউয়েল ‘লারা ক্রফটঃ টম্ব রাইডার- দ্য ক্রাডেল অফ লাইফ (২০০৩), মিঃ অ্যান্ড মিসেস স্মিথ (২০০৫)।

    তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং প্রযোজক হিসেবেও পরিচিত। উল্ল্যেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে- আনব্রোকেন(২০১৪), ফার্স্ট দে কিলড মাই ফাদার (২০১৭), বাই দ্যা সী (২০১৫), ইন দ্যা ল্যান্ড অফ ব্লাড অ্যান্ড হানি (২০১১)। তাঁর সবচেয়ে ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র হচ্ছে মেইলফিসেন্ট(২০১৪), মেইলফিসেন্টঃ মিস্ট্রেস অফ এভিল(২০১৯)।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সর্বশেষ মুক্তি প্রাপ্ত চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘দোউজ হু উইশ মি ডেড (২০১৯)

    পার্সোনাল লাইফঃ

    তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্রের কো-স্টার জনি লি মিলারকে ভালবেসে ১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন অ্যাঞ্জেলিনা জলি। কিন্তু তাদের মধ্যে একসময় সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে। অতঃপর ১৯৯৯ সালে তাদের ডিভোর্স হয়।

    বিলি বব থরটন ছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলির কো-স্টার এবং ২০ বছরের বড়। এর সাথে বিয়ে হয় ২০০০ সালে এবং ডিভোর্স হয় ২০০৩ সালে

    মিঃ অ্যান্ড মিসেস স্মিথে জুটি বাঁধাকালে পরষ্পরকে ভালোবেসে ফেললেও তাঁরা বিয়ে থেকে তখন বিরত থাকে। অতঃপর ব্রাড পিট তাঁর স্ত্রীকে ২০০৫ সালে ডিভোর্স দিলে ২০০৬ সালে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্রাড পিট বিয়ে করে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্রাড পিটের সন্তান আছে ৩ জন এবং পালক সন্তান আছে আরো ৩ জন।

    বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মহিলার একজন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ব্যাপকভাবে বিবেচিত। তার বৈশিষ্ট্যগুলি, কাঠ বাদামী চোখ, কালো চুল, পুরু চোয়াল, আকর্ষনীয় ঠোঁট, উজ্জ্বল ত্বক, চমতকার মেকাপ এবং আকর্ষনীয় দৈহিক গড়নের জন্য খুবই আলোচিত এবং হার্ট থ্রব পুরুষদের কাছে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সুন্দরীদের মধ্যে ২০ বছর ধরে এফ এইচ এম ম্যাগাযিনে তিনি অন্যতম। এমনকি ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সেরা দশের তালিকায় তাঁর নাম দেখা যায়।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনেত্রীদের তালিকায় র‍্যাঙ্কিং ১৩ তে আছে এই বছর। তাঁর নেট সম্পত্তির মূল্য ১৬০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেয়া অভিনেত্রীর মধ্যেও তিনি অন্যতম।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জীবনে অনেক প্রাপ্তি থাকলেও, চলেছে অনেক ভাঙা গড়ার খেলা। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েও তিনি তাঁর অসুস্থতা লুকায়নি। সে চেয়েছিলো তাঁকে দেখে যেন অনেক ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলা যেন সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী হয় সামনের দিকে এগিয়ে যাবার।