Category: অর্থনীতি

  • আগামী ১ জুলাই থেকে পানির দাম বাড়ছে

    আগামী ১ জুলাই থেকে পানির দাম বাড়ছে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৯ মে, ২০২৪: আগামী ১ জুলাই থেকে পানির দাম বাড়াতে যাচ্ছে ওয়াসা । এই নিয়ে গত ১৪ বছরে ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়েছে উক্ত সেবা সংস্থাটি।

    জানা গেছে, ওয়াসা আইন ১৯৯৬ এর ২২ ধারা অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করার লক্ষ্যে চলতি বছরের আগামী ১ জুলাই থেকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগের প্রতি ১০০০ লিটার পানির মূল্য ১০ শতাংশ হারে সমন্বয় করা হবে।

    এই বিষয়ে আজ বুধবার (২৯ মে) গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা ওয়াসা। সেখানে বলা হয়েছে, ওয়াসা আইন ১৯৯৬ এর ২২ ধারা অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করার লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগের প্রতি ১ হাজার লিটার পানির মূল্য ১০ শতাংশ হারে সমন্বয় করে ১৫.১৮ টাকার স্থলে ১৬.৭০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ৪২.০০ টাকার স্থলে ৪৬.২০ টাকায় নির্ধারণ করা হলো। এ সিদ্ধান্ত মিটারবিহীন হোল্ডিং, গভীর নলকূপ, নির্মাণাধীন ভবন ও ন্যূনতম বিলসহ সকল প্রকার (পানি ও পয়ঃ) অভিকরের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। ওয়াসা আইন ১৯৯৬ এর ২৩ ধারা অনুযায়ী এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো।

    তারা বলছে, ঢাকা ওয়াসা সর্বশেষ বিগত ২০২১ সালের ১ জুলাই পানি ও পয়ঃ সেবা মূল্য ৫ শতাংশ সমন্বয় করেছিল।

  • একনেক সভায় ১১টি প্রকল্প অনুমোদন

    একনেক সভায় ১১টি প্রকল্প অনুমোদন

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৮ মে, ২০২৪: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৪ হাজার ৩৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১১টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে ।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক-এর চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

    অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৬ হাজার ৫৪১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, বৈদেশিক অর্থায়ন ৭ হাজার ৮৭৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের; শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান; ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুস শহীদ; যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান ও শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভার কার্যক্রমে অংশ নেন। সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সিনিয়র সচিব ও সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প যথাক্রমে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলাধীন কর্ণফুলী নদী ও সংযুক্ত খালসমূহের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন রোধকল্পে তীর সংরক্ষণ কাজ প্রকল্প এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা (১ম পর্যায়) প্রকল্প; খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় ৪৮ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন চালের আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণ প্রকল্প।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘Technical Assistance for Repurposing of Agricultural Public Support Towards a Sustainable Food System Transformation in Bangladesh (TARAPS)’ প্রকল্প; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ (আর-১৪০) (লক্ষ্মীপুর আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ড হতে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা) এবং বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ (আর-১৪২) (সোনাইমুড়ী হতে রামগঞ্জ) আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (১ম পর্যায়) প্রকল্প; ১. সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, ২. বিদ্যুৎ বিভাগ, ৩. স্থানীয় সরকার বিভাগ, ৪. পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ৫. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ মোট ৫টি বিভাগের সমন্বয়কারী বিভাগ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের গুচ্ছ প্রকল্প ‘Host and Forcibly Displaced Myanmar Nationals (FDMN)/Displaced Rohingya Population (DRP) Enhancement of Lives through a Multi-Sectoral Approach Project (HELP): Infrastructure Related Project’ প্রকল্প।

    ১. প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ২. স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, ৩. স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, ৪. মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ৫. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ৬. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ মোট ৬টি বিভাগের সমন্বয়কারী বিভাগ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের গুচ্ছ প্রকল্প ‘Inclusive Services and Opportunities (ISO) for Host communities and FDMN Populations Project’ প্রকল্প; এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর এ পানি শোধনাগার ও গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্প।

  • দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন মন্ত্রীর বৈঠক

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন মন্ত্রীর বৈঠক

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৭ মে, ২০২৪: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মজুত কার্যক্রমে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করতে বৈঠক করেছেন তিন মন্ত্রী।

    আজ সোমবার (২৭ মে) দুপুর ১টায় সচিবালয়ে এ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুস শহীদ, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। কৃষিমন্ত্রী সভায় সভাপতিত্ব করছেন।

    সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।

    সভার শুরুতে কৃষিমন্ত্রী জানান, আরেকটি বড় উৎসব ঈদুল আজহা আসছে। এসময়ে মানুষ যাতে নিত্যপণ্য নিয়ে ভোগান্তিতে না পড়ে সেজন্য আজ এই সভা আহ্বান করা হয়েছে।

    এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে এ সভা হয়েছিল।

  • টিসিবির জন্য তেল, পামওয়েল ও মসুর ডাল কেনার অনুমোদন সরকারের

    টিসিবির জন্য তেল, পামওয়েল ও মসুর ডাল কেনার অনুমোদন সরকারের

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৭ মে, ২০২৪: ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য সরকার য়াবিন তেল, পামওয়েল ও মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে । স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এই পণ্য কেনা হবে। এরমধ্যে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল, এক কোটি ৩০ লিটার পামওয়েল এবং ১০ হাজার মেট্রিকটন মসুর ডাল রয়েছে।

    আজ সোমবার (২৭ মে) দুপুরে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, আজকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রস্তাব টেবিলে উত্থাপন করা হলে তিনটি প্রস্তাবেরই অনুমোদন দেওয়া হয়। এরমধ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

    এ সয়াবিন তেল কিনতে মোট খরচ হবে ৭৫ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৫১ টাকা ৪৫ পয়সা। আগের মূল্য ছিল ১৫২ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ আগের থেকে লিটারে এক টাকা কমে এবার সয়াবিন তেল কেনা হবে। সুপারিশকৃত দরদাতা সোনারগাঁও সিক্সক্রাসিং মিলস লিমিটেড।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অপর এক প্রস্তাবে টিসিবির জন্য এক কোটি ৩০ লাখ লিটার পরিশোধিত পামওয়েল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৪৩ টাকা। এতে মোট ব্যয় হবে ১৮৫ কোটি ৯০ লাখ। সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকার সুংসিং এডিবেল ওয়েল লিমিটেড।

    এছাড়া সরকার ১ কোটি পরিবারকে যে সাপোর্ট দিচ্ছে তার আওতায় টিসিবির জন্য ১০ হাজার মেট্রিকটন মসুর ডাল আমদানি। প্রতিকেজির দাম পড়বে ১০১ টাকা ৩ পয়সা। যা আগে ছিল ১০১ টাকা ৯৪ পয়সা। সুপারিশকৃত দরদাতা শবনম ভেজিটেবল ইন্ডাস্ট্রিজ।

    এর আগে গত ২১ মে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৫২ টাকা ৪৫ পয়সা।

    তারও আগে ৮ মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৫২ টাকা।

    এছাড়া টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড এবং মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস লিমিটেডের কাছ থেকে ৪০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৫৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রতি লিটার রাইস ব্রান তেলের দাম পড়বে ১৪৮ টাকা ৭৫ পয়সা। যা আগে ছিল ১৫২ টাকা।

  • আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ জুনেই পাওয়া যাবে: অর্থমন্ত্রী

    আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ জুনেই পাওয়া যাবে: অর্থমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৬ মে, ২০২৪: আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ জুনেই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ জুনেই পাওয়া যাবে।”

    আজ রবিবার (২৬ মে) দুপুরে সচিবালয়ে আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক ড. কৃষ্ণমূর্তি ভি সুব্রামানিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি যাতে ডলারের প্রবাহ বাড়ানো যায়। এখানে অনেক নেগোসিয়েশন আছে। আমরা যেটা আশা করছি এ সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারব। আমরা কাজ করছি। আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, আপনারা সঠিক পথে আছেন। আপনারা যে কাজ করছেন সমস্যা সমাধানে সেটাতে আমাদের সমর্থন আছে।”

    জুনে আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জুন মাসেই তারা দেবে। সেখানে বাধা তো নেই।”

    আগামী বাজেটে কোন খাতে প্রাধান্য থাকছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য অর্থনীতি অনট্র্যাকে ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে নিত্যপণ্য যাতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, এগুলো নিশ্চিত করা। মানুষের জীবনযাত্রার মান, এটাও যেন সীমার মধ্যে থাকে। সর্বোপরি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার একটা প্রতিফলন বা প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন আগামী বাজেটে। একই সঙ্গে সরকার যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিল, সেটার একটা প্রতিফলন দেখতে চাই।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের অনেক অসুবিধা আছে, সেগুলো ওভারকাম করতে হবে। আমরা আশা করব, আস্তে আস্তে এগুলো থাকবে না। মানে নির্বাচনী ইশতেহারে মানুষকে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সেটার একটা প্রতিফলন। কিন্তু অনেক বাধা আছে, সেটা অতিক্রম করতে হবে। ইতোমধ্যে অনেকগুলোর কাজ হচ্ছে।”

    অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন দেশের অর্থনীতি দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে, এটা কি আপনি স্বীকার করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “দুর্যোগ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন আমি বুঝলাম না।”

    বাজেট দিতে গিয়ে কোন কোন জায়গায় চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করেন জানতে চাইলে আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, “চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে। যেমন, মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ, রাজস্ব আদায়। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি আগে ছিল, এখন আর নেই। আমরা সঠিক ট্র্যাকে আছি। তবে এখন আমরা ঋণখেলাপিদের ধরব।”

    আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কী বাড়ানো হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটা বাড়ানো হবে, দেখতে পারবেন বলে আশা করছি। এটা তো একটা প্রসেসের মধ্যে আছে। এটা তো বলা যাবে না।”

    বাজেট ব্যয় সংকোচনমূলক হবে কি না, জানতে চাইলে আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, “সংকোচনমূলক তো ইতোমধ্যে হয়েছে। ওটা পার হয়ে যাচ্ছি আমরা। সংকোচন থেকে আমরা ফেরত আসব। কীভাবে এক্সপানশন করা যায়, সেটাই চেষ্টা করছি। এই বাজেট থেকেই সেটি চেষ্টা করব।”

  • আর্থিক খাতে সুশাসনে আমরা কীভাবে পিছিয়ে গেলাম সেটাই বিস্ময়কর: ড.ওয়াহিদউদ্দিন

    আর্থিক খাতে সুশাসনে আমরা কীভাবে পিছিয়ে গেলাম সেটাই বিস্ময়কর: ড.ওয়াহিদউদ্দিন

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৫ মে, ২০২৪: আর্থিক খাতে সুশাসনে আমরা কীভাবে পিছিয়ে গেলাম সেটাই বিস্ময়কর, বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।তিনি বলেন, “দেশে রিজার্ভের পরিমাণ যেভাবে কমে যাচ্ছে তা শঙ্কার কারণ হতে পারে। আর্থিক খাতে সুশাসনে আমরা অনেকটা এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু বর্তমানে কীভাবে পিছিয়ে গেলাম সেটাই বিস্ময়কর। বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে আইএমএফ খুব বেশি জানে এটি বিশ্বাস করার কারণ নেই। আইএমএফের পরামর্শ দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের কিছু ব্যক্তি দুবাই-সিঙ্গাপুরসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন। তারা কোন দেশের নাগরিক সেটাও স্পষ্ট নয়। তারা কীভাবে টাকা আনা-নেওয়া করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সে বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারছে না।”

    আজ শনিবার (২৫ মে) এফডিসিতে অর্থনৈতিক সুরক্ষায় আগামী বাজেটের কৌশল নিয়ে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ শঙ্কার কথা জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ

    ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “কর ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, বৈষম্য, দুর্নীতি ও অন্যায্য বহাল রেখে আসন্ন বাজেটে করারোপ করা হলে সেটি রাজস্ব আহরণে ভালো ফল দেবে না। রাজনীতিবিদ বা প্রভাবশালীদের চাপের কারণে রাজস্ব আহরণ যাতে বিঘ্নিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৮০ শতাংশ বিত্তবান কর ফাঁকি দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বড় একটা অংশ ভ্যাট দেয় না। এত কম রাজস্ব আয় দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন চালানোই যাচ্ছে না, সেখানে উন্নয়ন ব্যয় মেটাবে কীভাবে? ডিসি-ইউএনওদের দামি গাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে ঋণনির্ভরতা বাড়ছে।”

    বিতর্ক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, “মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্য বৈদেশিক ঋণের চাপ, আর্থিক খাতে অনিয়ম, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানান চ্যালেঞ্জের মধ্যে ঘোষিত হচ্ছে আসন্ন বাজেট। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্য সমাজে নীরব অসন্তোষ তৈরি করছে। রিজার্ভের ঘাটতির ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে। আমদানি ব্যয় বেড়েছে।”

    অর্থনৈতিক সুরক্ষায় আসন্ন বাজেটের কৌশল নির্ধারণে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পক্ষে ১০ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কৃষিবান্ধব বাজেট প্রণয়ন, পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি খাতে অপ্রয়োজনীয় প্রণোদনা কমিয়ে আনা, নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন, শেয়ার বাজারে ক্যাপিটাল গেইনের ওপর ট্যাক্স আরোপ, যারা কর প্রদান করছে তাদের ওপর অযৌক্তিকভাবে করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানো, প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা ২.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় বরাদ্দ বাড়িয়ে এর আকার বৃদ্ধি করা, আসন্ন বাজেট সামনে রেখে জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তা নিরসন করা, এনবিআরকে কর আহরণে কঠোর অবস্থান নিতে রাজনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করা। এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআরটিসি ও বিমানসহ লোকসানি খাতে বরাদ্দ প্রদানে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা।

    ‘অর্থনৈতিক সুরক্ষায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আগামী বাজেটের প্রধান কৌশল হওয়া উচিত’ শীর্ষক ছায়া সংসদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।

    প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, বিআইডিএস এর রিসার্চ ফেলো তাহরিন তাহরীমা চৌধুরী, প্রফেশনাল অ্যাকাউনটেন্ট আবুল বশির খান, সাংবাদিক শাহ আলম খান। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

  • ইভ্যালি শর্তসাপেক্ষে টাকা ফেরত দিবে: ভোক্তার মহাপরিচালক

    ইভ্যালি শর্তসাপেক্ষে টাকা ফেরত দিবে: ভোক্তার মহাপরিচালক

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৫ মে, ২০২৪: ইভ্যালি শর্তসাপেক্ষে টাকা ফেরত দিবে, বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজামান। তিনি বলেন, “ইভ্যালির মালিক ২৭ মাস কারাগারে ছিলেন, কিন্তু কারাগারে আটকে রাখলে টাকা পাওয়া সম্ভব নয়। সম্প্রতি ইভ্যালি ব্যবসা শুরু করার পর আমরা তাদের শোকজ করেছি। তারপর কিছু শর্তসাপেক্ষে আলোচনার মাধ্যমেই টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূলত যারা নিয়ম মেনে ভোক্তাদের স্বার্থে ব্যবসা পরিচালনা করবে আমরা তাদের পাশে থাকবো। ভোক্তার অধিকার রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

    আজ শনিবার (২৫ মে) রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

    ভোক্তার মহাপরিচালক বলেন, “মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীরা তিন মাস আগ থেকে এলসি খুলে বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে মসলা আমদানি করেছেন।সেটি এখন বাজারে মজুদ রয়েছে।তাই এখন ইচ্ছে করলেই এলসির অজুহাতে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।এরপরও যদি কেউ দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উল্লেখ্য রাজশাহীর একটি তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে শনিবার সকালে ‘সিটিজেন ওয়ার্কশপ বিষয়ক’ এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।এ কর্মশালায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

  • মন্দঋণের কারণে পুরো অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে: সিপিডি

    মন্দঋণের কারণে পুরো অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে: সিপিডি

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৩ মে, ২০২৪: মন্দঋণের কারণে পুরো অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে, বলে জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।তিনি বলেন, “সুশাসনের অভাব, জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি ও স্বচ্ছতা না থাকার কারণে মন্দঋণ বেড়েছে। আর মন্দঋণ পুরো অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে।”

    আজ বৃস্পতিবাবার (২৩ মে) রাজধানীর হোটেল লেকসোরে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য সামনে কী আছে’শীর্ষক সেমিনারে মূল্য প্রবন্ধে এ সব তথ্য তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এই তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

    ফাহমিদা খাতুন বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। এই অর্থনীতির আকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ ও সাধারণ মানুষদের লেনদেনের জন্য আর্থিক খাতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক চড়াই-উতড়াইয়ের পরও ব্যাংকিং খাতের প্রসার ঘটেছে। আমরা শুধু ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা করি, নন-ব্যাংকিং খাতেরও সমস্যা কম নয়। ব্যাংকিং খাতের স্বাস্থ্যের অন্যতম মূল নিয়ামক হচ্ছে খেলাপি ঋণ। সেটার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে। এ খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অনেকখানি ক্ষরণ ঘটেছে। সেই ক্ষরণের কারণে ব্যাংকিং খাত এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ব্যাংকিং পারফর্মেন্স বিষয়টি বিদেশিরা পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তারা সময় সময় এ বিষয়ে র‍্যাটিং করে থাকে। সর্বশেষ বি-১ র‍্যাটিং এর থেকে বিদেশিরা তাদের আউটলুক র‍্যাটিং আরও কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাংক বাই ব্যাংক হিসাব করে দেখা গেছে ২০১২ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ৪২ হাজার ৭১৫ থেকে বেড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা হয়েছে। এর বাইরে অনেক ধরনের দুর্বল বিষয় রয়েছে।

    ২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া প্রতিবেদন অনুসারে, পুনঃ তফসিল ঋণসহ খারাপ ঋণ যদি যোগ করা হয় তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। যা বড় অংক। এছাড়াও খারাপ ঋণ রয়েছে। বর্তমানে অর্থ ঋণ আদালতে ৭২ হাজার ৫৪৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ যোগ করলে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকেও বাড়ছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের যে আইনি কাঠামো দরকার, সেটা বাংলাদেশে নেই। ঋণ খেলাপের মামলাগুলো সহজে নিষ্পত্তি রয়েছে। যথেষ্ট বিচারক নেই সেখানে।

    প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ব্যাংকগুলোর সমস্ত তথ্য জনসন্মুখে প্রকাশ পাচ্ছে না। যারা প্রকাশ করে না, তারা লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না। যতটুকু প্রকাশিত হয়, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। আর একটি বিষয় হচ্ছে তথ্যের দরজা ক্রমান্বয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া। আমরা তথ্যের জন্য মিডিয়ার ওপরে নির্ভর করতাম, সেটাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তথ্যের অভাবের কারণে ভুল নীতি গৃহীত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।”

     

    তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতের এই অবস্থা থেকে যদি টেনে তুলতে হয়ে, তাহলে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিগত দিনে আমরা দেখেছি লাভের ব্যক্তিকরণ এবং ক্ষতির রাস্ট্রীয়করণ করা।”

    সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক ইসতিয়াক আহমেদ।

  • ডলারের দাম বাড়লেও পণ্যের দাম একই পর্যায় রাখবো: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

    ডলারের দাম বাড়লেও পণ্যের দাম একই পর্যায় রাখবো: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২১ মে, ২০২৪: ডলারের দাম বাড়লেও পণ্যের দাম একই পর্যায় রাখবো, বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসমাল টিটু।তিনি বলেন, “আমদানিনির্ভর পণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেলের কোনো অ্যাডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) করবো না। আশ করছি উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক যারা আছেন, ঈদ পর্যন্ত নতুন করে কোনো মূল্য বেঁধে দেবে না। পুরোনো মূল্যেই তারা সরবরাহ করতে পারবেন। ডলারের দাম বাড়লেও ভোক্তাদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম একই পর্যায় রাখবো।”

    আজ মঙ্গলবার (২১ মে) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

    ডলারের দাম বাড়ায় আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়বে, এতে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়বে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে চাই, ডলারের অ্যাডজাস্টমেন্টটা হলো ১০ টাকা থেকে ১৭ টাকা। এতে ভোক্তা পর্যায়ে কোনো প্রভাব পড়বে না।”

    তিনি আরও বলেন, “আমদানিকারকরা তখনই অভিযোগ করছিলেন যে ব্যাংক থেকে তারা সরকারি নির্দিষ্ট রেটে ডলার পাচ্ছিলেন না, তারা তখনই ১২০ টাকা, ১২২ টাকা, একেকজন একেকভাবে প্রাইভেটলি সেটলড (নিষ্পত্তি) করছিলেন।”

    বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখন সরকার সমন্বয় করার কারণে সরকারি রেটেই তারা আমদানি করতে পারবেন। কাজেই আমদানিনির্ভর পণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেলের কোনো অ্যাজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) করবো না।”

    তিনি আরও বলেন, “আগে যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, ঈদের আগ পর্যন্ত নতুন কোনো দাম নির্ধারণ করা হবে না। পুরোনো দামেই তারা সরবরাহ করতে পারবেন।”

    ঈদের পরে দাম বাড়তে পারে এই প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটা একটা আন্তর্জাতিক পণ্য। কোথায় যুদ্ধ হবে, অর্থনীতির কোথায় কী হবে, সেটা নিয়ে আগাম ধারণা করা যাবে না। তবে এই মুহূর্তে নতুন করে মূল্যা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মনে করি না। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, তাহলে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চিন্তা করবো।”

    বাজার মনিটরিংয়ে কী কোনো অবহেলা করা হয়েছে, যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রমজানের আগে-পরে আমরা বাজার স্থিতিশীল রাখতে তৎপর ছিলাম। নতুন সরকার আসার পরে সময়টা কম ছিল, জোরটা অনেক বেশি ছিল, বাজারে যাতে কোনোভাবে খাদ্যের কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কোনো সংকট না হয়।”

    তিনি বলেন, “রমজানের পর বাজার স্থিতিশীল ছিল। সামনে আবার কোরবানির ঈদ। ঈদ এলে আমাদের দেশের কিছু লোক আছে, যারা সুযোগ সন্ধানী, সরবরাহ ঠিক থাকার পরও জিনিসপত্রের দাম দুয়েক জায়গায় বেড়ে যায়। সেই লক্ষ্যে গত রোজার ঈদের সময় যেভাবে মনিটরিং করেছি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবারও সেটা করতে বলেছেন। ঈদে যাতে ভোক্তারা কোনো অসুবিধায় না পড়েন, ন্যায্যমূল্যে জিনিসপত্র পান, সেজন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা আমাদের কাজের জন্য সহায়ক হয়েছে, কাজে গতি পাবে।”

    তিনি আরও বলেন, “মনিটরিং আবার সচল করবো, যেন ঈদ সামনে রেখে বাজার থেকে কেউ সুযোগ-সুবিধা নিতে না পারেন। এটা নিয়মিত মনিটরিং। একটা স্বাভাবিক গতিতে কার্যক্রম চলে, আরেকটি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রমজানে, ঈদে আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। আমাদের অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাহলে আমাদের কার্যক্রম জোরদার হবে, দৃশ্যমান হবে।”

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনো উৎপাদন কিংবা সরবরাহ করি না। আমরা মোটামুটি কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে তাদের কাছ থেকে সরবরাহ পেয়ে ভোক্তাদের কাছে নিশ্চিত করি। তাদের নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ যেহেতু খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন না, তাই ঈদের আগে আরেকবার বসবো। সেখানে খাদ্য ও কৃষিপণ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেবো।”

  • ভারত থেকে ২০০ প্যাসেঞ্জার বগি কিনবে বাংলাদেশ রেলওয়ে

    ভারত থেকে ২০০ প্যাসেঞ্জার বগি কিনবে বাংলাদেশ রেলওয়ে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২০ মে, ২০২৪: ব্রডগেজ লাইনের জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড থেকে যাত্রীবাহী ২০০ বগি (প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ) কিনবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরই মধ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে।

    আজ সোমবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর রেল ভবনে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম, রেলপথ সচিব হুমায়ুন কবীর, মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী, ভারতীয় কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিত্তাল, ভারতীয় রেলওয়ের প্রোডাকশন ইউনিটের অতিরিক্ত সদস্য সঞ্জয় কুমার পংকজ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব করপোরেশন মিচেল ক্রেজা ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

    রেলপথ মন্ত্রী জিল্লুল হাকিম বলেন, “আমাদের ক্যারেজের খুব সমস্যা। এই মুহূর্তে আপনারা (ভারতীয়) যে ক্যারেজ দিচ্ছেন এর জন্য ধন্যবাদ।”

    তিনি বলেন, “চুক্তিতে ক্যারেজ কবে দেওয়া হবে সেই সময় উল্লেখ নেই। এটা করলে আমাদের সুবিধা হবে। আমরা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে পারি। আগামী দুই মাসের মধ্যে যদি দুই সেট ক্যারেজ দেওয়া যায় তবে সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে। বাকিগুলো শিডিউল করে নিলে হবে।”

    মন্ত্রী বলেন, “রেলের কর্মকর্তারা স্লো। এটা আমার জন্য দুঃখজনক। তারা ভাবে এটা ৫ থেকে ৬ মাস লাগবে। আমাদের আরও বগি লাগবে।”

    রেলসচিব হুমায়ুন কবীর বলেন, “সম্প্রতি দক্ষিণ অংশে রেলের সংযোগ স্থাপন হয়েছে। এতে করে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণের জেলাগুলোর যোগাযোগ বাড়ছে। এর ফলে এসব প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ রেল যোগাযোগকে ত্বরান্বিত করবে।”

    মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, “রেলের লক্ষ্য হচ্ছে যোগাযোগ পরিধি বাড়ানো, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেল সংযোগ স্থাপন করা ও যাত্রীসেবা দেওয়া। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেটা অনেকাংশে সম্ভব হবে।”

    জানা যায়, প্রকল্পের সময় ১ জুলাই ২০২২ থেকে ৩০ জুন ২০২৬। বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) এর অর্থায়নে প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার ১৩৯ টাকা (ডলার ১১৬ টাকা ৭১ পয়সা)। প্রতিটি বগির দাম আসে ৬ কোটি ৪৯ টাকা। এটা দেবে ইআইবি যা ম্যাটিরিয়াল চার্জ। এরপর দেশে বগি আসার পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তা খালাস বাবদ আরও ৩৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। এই অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার যা প্রায় ৩০৩ কোটি টাকা।

    চুক্তি অনুযায়ী সবধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ২০ মাস পর থেকে বগি দেওয়া শুরু হবে এবং ৩৬ মাসে মধ্যে সব বগি হস্তান্তর করা হবে।

    রেলওয়ে বলছে, বগিগুলো হবে স্টেইনলেস স্টিলের, দ্রুত গতি সম্পন্ন, বগির ছাদে এসি থাকবে, অটোমেটিক এয়ার ব্রেক পদ্ধতি থাকবে এবং পরিবেশবান্ধব হবে। এই বগিগুলো পরবর্তীতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

    প্রকল্পের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, ক্যারেজের প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যাত্রীদের আধুনিক, নিরাপদ ও আরামদায়ক সেবা প্রদান, যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন রুটে রেল পরিচালনা, পুরোনো ও আয়ুষ্কাল শেষ হওয়া যাত্রী ক্যারেজগুলো প্রতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা।

    রেলওয়ে নিজস্ব নথিতে স্বীকার করেছে, সারা দেশে রেলের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়লেও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।

    রেলওয়ে আশা করছে, এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বাংলাদেশে রেলপথে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তবে এ প্রকল্প দুটি পরিপূর্ণভাবে শেষ হলে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রী বহনে সুবিধা হবে।