আলি ফজলের ‘কান্দাহার’ আমেরিকার পর আসছে ভারতে

আলি ফজলের ‘কান্দাহার’ আমেরিকার পর  আসছে ভারতে

হ্যালো বাংলা ডেস্ক: চলতি বছরের ২৬ মে আমেরিকায় মুক্তি পেয়েছে  আলি ফজল অভিনীত ‘কান্দাহার’ ছবি। এর আগে ২০২২ সালে ‘ডেথ অন দ্য নাইল’ সিরিজ়ে আলির অভিনয় দর্শকের মন ছুঁয়েছিল। আলি হলিউডে ও বলিউডে সমান জনপ্রিয়।

কান্দাহার ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে নানা রকম প্রস্তুতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল আলিকে। বালি-কাদার মধ্যে দিয়ে বাইক চালানোর কৌশল শিখতে হয়েছে তাকে, যাকে বলে ‘ডার্ট বাইকিং’! থ্রিলারধর্মী সেই ছবির কেন্দ্রে আছে যুদ্ধ। ‘কহিল’ নামের এক খলচরিত্রে অভিনয় করছেন আলি। চরিত্রের স্বার্থেই ঝুঁকিপূর্ণ বাইক চালনা শিখে নিতে হয়েছে অভিনেতাকে। ভারতে অবশ্য ‘ডার্ট বাইকিং’-এর চল নেই তেমন। আমেরিকার পর ‘কান্দাহার’ আসছে ভারতে।

আলি বলেন,“কিন্তু স্টান্টটা সত্যি সত্যিই করতে হয়েছিল আমাদের। মরুভূমির মধ্যে এটা করতে হত। সাজানো কিছু করা সম্ভব ছিল না। তাই ধুলো-কাদার মধ্যে বাইক চালানো সত্যিই শিখতে হয়েছিল। শুটিংয়ের আগে পঁচিশ দিন ধরে আমায় এই কৌশলটা রপ্ত করতে হয়েছিল।”

আলি ফজলের ‘কান্দাহার’ আমেরিকার পর  আসছে ভারতে

অভিনেতার কথায়, “শেষ অবধি অবশ্য স্টান্টটা কত সফল ভাবে করা গেল সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, চরিত্রটি জীবন্ত করে তোলাই আসল কথা ছিল।”

অভিনেতা অবশ্য স্বীকার করে নেন ‘বডি ডাবল’-এর সঙ্গে মিলেমিশেই করেছেন কাজটা। পুরোটা একা করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছিল। তাঁর কথায়, “কঠিন কিছু দৃশ্য ছিল। অনেকটা উঁচুতে চড়া, খাড়া রাস্তায় পাথরের উপর বাইক চালানো, এগুলো তো আমি কখনও করিনি।”

‘কান্দাহার’-এ জেরার্ড বাটলার, ত্রাভিস ফিম্মেল, নাভিদ নেগাবানের মতো আন্তর্জাতিক তারকার সঙ্গে অভিনয় করেছেন আলি। এই কাজ তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বেরও। আমেরিকার পর ভারতেও খুব শীঘ্রই মুক্তি পাবে ‘কান্দাহার’।

সুদর্শন এই অভিনেতা অভিনয়েও দক্ষ।  অভিনয় শুরু করেন স্কুল জীবনে। তারপর নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে একজনর দক্ষ অভিনতা হয়ে উঠেছেন তিনি।

আলি ফজলের জন্ম ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর, লখনউ শহরে। শৈশবেই বিচ্ছেদ হয়ে যায় তার বাবা মায়ের। আলির ছোটবেলা কেটেছে তাঁর দাদু দিদার কাছে। পড়াশোনা দূন স্কুল এবং লখনউয়ের লা মার্টিনিয়ের কলেজে। পরে তিনি মুম্বইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন। বিষয় ছিল অর্থনীতি।

স্কুলের অনুষ্ঠানে অভিনয় করেছিলেন শেক্সপিয়রের ‘দ্য টেম্পেস্ট’ নাটকে। অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হন। পান পুরস্কারও। এর পর থেকেই অভিনয়ের ইচ্ছে বাড়তে থাকে মনে। পরে মুম্বইয়ে কলেজে পড়ার সময় হাতেখড়ি থিয়েটারে। থিয়েটারজীবনেই শুরু ছবিতে অভিনয়ও। ২০০৮ সালে তিনি অভিনয় করেন ইন্দো মার্কিন ছবি ‘দ্য আদার এন্ড অব লাইফ’-এ। তবে এই ছবি ব্যর্থ হয়। আলির পারফরম্যান্স আলোর মুখ দেখিনি।  থিয়েটার করতে করতেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় বিখ্যাত পরিচালক সৈয়দ মির্জার সঙ্গে। তিনি আলিকে সুযোগ দেন ‘এক ঠো চান্স’ ছবিতে। ছবিতে অমৃতা অরোরা, সৌরভ শুক্লর মতো তারকার সঙ্গে তিনি অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি বিদেশে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু ভারতে ছবিটি মুক্তিই পায়নি। হতাশ আলি আবার ফিরে যান থিয়েটারে। এ বার তিনি সুযোগ পান রাজকুমার হিরানির ছবি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ। ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন জয় লোবোর চরিত্রে। যিনি ড্রোন বানিয়েছিলেন। সেটা গ্রহন করেনি শিক্ষক। এতে তিনি খুব মর্মাহত হয়েছিলেন। চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিলেন। ছবিতে তাঁর ভূমিকা ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ তাঁর আত্মহত্যা ঘিরেই আবর্তিত হয় ছবির গল্প। যেখানে মূল বার্তা ছিল জীবনে চাপের মুখে ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনও বিষয়েই সফল হওয়া যায় না।

‘থ্রি ইডিয়টস’ এ অভিনয় করার পর আলি জানিয়েছিলেন -এ কাজ করা নিয়ে তিনি খুবই নার্ভাস ছিলেন। অডিশনে হাজির ছিলেন আমির খান স্বয়ং। ১০ দিন ওয়ার্কশপের পরে শুরু হয়েছিল শ্যুটিং।

পরে শাহরুখ খান প্রযোজিত ছবি ‘অলওয়েজ কভি কভি’-তে অভিনয়ের জন্য আলি ১৫ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছিলেন। তবে আলি ফজল সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা পান ‘ফুকরে’ ছবিতে। সেখানে তাঁর ‘জাফর’ চরিত্রটি প্রথমে ছিল অন্তর্মুখী। তার পর বন্ধুদের সাহচর্যে তিনিও নিজেকে মেলে ধরেন। এই ছবিতে অভিনয়ের সময়েই আলির আলাপ হয় রিচা চড্ডার সঙ্গে। এই ছবিতে রিচা ছিলেন গ্যাংস্টার ‘ভোলি পঞ্জাবন’-এর চরিত্রে। পরে তাঁদের আলাপ ঘনিষ্ঠ হয়ে রূপান্তরিত হয় প্রেমে।

অল্প সময়ের মধ্যেই বলিউডে নিজের জায়গা করে নিচ্ছিলেন আলি। ‘ববি জাসুস’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন বিদ্যা বালনের সঙ্গে। ছবিটি বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও প্রশংসিত হয়েছিল আলির কাজ। অল্প সময়ের মধ্যেই বলিউডে নিজের জায়গা করে নিচ্ছিলেন আলি। হিন্দির পাশাপাশি ইংরেজি ছবিতেও সমান স্বচ্ছন্দ আলি। ‘ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আব্দুল’ ছবির মাধ্যমে তিনি প্রশংসিত হন বিশ্বে দরবারেও। জুডি ডেঞ্চের মতো দাপুটে অভিনেত্রীর পাশে একেবারে সমানে সমানে ছিলেন আলি।

২০২২ সালে মুক্তি পেয়েছে ‘ডেথ অন দ্য নাইল’-এর ট্রেলার। আগাথা ক্রিস্টি সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র এরকুল পোয়েরোর কাহিনি অবলম্বনে তৈরি এই ছবিটি। সেই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন আলি। পোয়েরোর চরিত্রে কেনেথ ব্রানা তো আছেনই, তার সঙ্গে ছবিতে গ্যাল গ্যাডট, রাসেল ব্র্যান্ড, এমা ম্যাকে-রা রয়েছেন।

তাঁর অনুরাগীদের মত, অভিনয় ভাল করলেও আলির জনসংযোগ দুর্বল। পাবলিসিটি স্টান্সেরও পক্ষপাতী নন তিনি। বলিউডের চেনা ছকের বাইরে তিনি জীবনের অন্য শর্তগুলিকেও গুরুত্ব দেন।

কেরিয়ারের ইঁদুরদৌড়ে যোগ না দিয়ে আলি ফজল জীবনকে সাজিয়েছেন নিজের পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতেই।

পূর্ববর্তী লাইফস্টাইলের অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে স্মার্ট চশমা- রিজজিপিটি
পরবর্তী কোস্ট গার্ডের বহরে পাঁচটি অত্যাধুনিক জাহাজ কমিশন করেছেন প্রধানমন্ত্রী