Author: Hello Bangla News

  • ভারতে বাড়ছে করোনা, কয়েকটি রাজ্যে চিঠি

    ভারতে বাড়ছে করোনা, কয়েকটি রাজ্যে চিঠি

    এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতে ফের বাড়ছে করোনা। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৪১ জনের শরীরে; যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে ভারতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮৯-এ ঠেকেছে।

    ঝাড়খন্ড এবং মহারাষ্ট্রে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, কেরালায় দুইজন সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে কেরালা, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক এবং গুজরাটে।

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এনডিটিভি জানায়, দৈনিক গড় আক্রান্ত এক মাসে ছয় গুণ বেড়েছে। এক মাস আগে যেখানে দিনে গড়ে শনাক্ত হতো ১১২ জন; সেখানে এখন ৬২৬ জন গড়ে শনাক্ত হচ্ছেন।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসারে, বর্তমানে করোনায় আক্রান্তের হার শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ। আর করোনা থেকে সেরে ওঠাদের হার ৯৮ দশমিক আট শূন্য।

    মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসারে, দেশব্যাপী টিকাকরণ অভিযানের অধীনে ২২০ কোটি ৬৪ লাখ ডোজ করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে প্রকোপ বাড়তে থাকায় ছয় রাজ্যকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্র। এতে বলা হয়েছে, সংক্রমণের আকস্মিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব বুধবার মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং কর্ণাটকে চিঠি লিখে পরীক্ষা, চিকিত্সা, শনাক্তকরণ এবং টিকা দেওয়ার ওপর জোর দিতে বলেছেন। সূত্র: এনডিটিভি

  • রেকর্ড ব্যবধানে আইরিশদের হারাল বাংলাদেশ

    রেকর্ড ব্যবধানে আইরিশদের হারাল বাংলাদেশ

    সাকিব-হৃদয় ঝলকে ব্যাট হাতে রেকর্ড স্কোর, ৩৩৮/৮। এমন রান পাহাড় টপকাতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে ছিল তারা অসহায়। সিলেটে শনিবার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে আইরিশদের রেকর্ড ১৮৩ রানে হারিয়ে সিরিজ শুরু করেছে তামিম বাহিনী।

    টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ৩৩৮ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে আয়ারল্যান্ড ৩০.৫ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৫৫ রানে। রানের দিক থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের এটি সবচেয়ে বড় জয়। আগেরটি ছিল ১৬৯ রানে, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এই সিলেটের মাটিতেই, ২০২০ সালে। আবার ওয়ানডেতে ৩৩৮ রানের স্কোরও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ, আগেরটি ছিল ৩৩৩ রানের।

  • ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ উদ্বোধন

    ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ উদ্বোধন

    ঢাকা, ১৮ মার্চ – প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে জ্বালানি তেল আনতে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    শনিবার (১৮ মার্চ) বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ পাইপলাইনটি উদ্বোধন করেন তারা।

    দুই দেশের মধ্যে প্রথম আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি তেলের পাইপলাইনটি নির্মাণের আনুমানিক খরচ ৩৭৭ কোটি রুপি। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাংলাদেশ অংশে প্রায় ২৮৫ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে। ভারত সরকার থেকে এ আর্থিক সহায়তা বহন করা হয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পাইপলাইনটি বিস্তৃত।

  • আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রানের রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

    আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রানের রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

    আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম খেলায় সাকিব-হৃদয়মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং তান্ডবে টাইগারদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩৩৮ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটাই বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ।

    এর আগে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে সর্বোচ্চ ৩২৯ রান করেছিল টাইগাররা।

    শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২.৩ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ফেরেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

    ৯.৩ ওভারে দলীয় ৪৯ রানে আউট হন আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাস। লিটন ৩১ বলে দুই চার আর এক ছক্কার সাহায্যে ২৬ রান করে ফেরেন।

    ৪৯ রানে তামিম ও লিটন আউট হওয়ার পর তৃতীয় উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি গড়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ৩৪ বলে ২৫ রানে ফেরেন।

    এরপর চতুর্থ উইকেটে অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ১২৫ বলে সাকিব গড়েন ১৩৫ রানের জুটি। এই জুটিতেই ক্যারিয়ারের ২২৮তম ওয়ানডে ম্যাচে ৫৩তম ফিফটি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন সাকিব।

    কিন্তু ব্যক্তিগত ৯৩ রানে দশম ওয়ানডে সেঞ্চুরি থেকে ৭ রান দূরে থাকতেই আউট হন। গ্রাহাম হিউমের অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটকিপার লরকান টাকারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন সাকিব।

    সাকিব সাজঘরে ফেরার আগে ৮৯ বলে ৯টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯৩ রান করেন। তার বিদায়ে ৩৭.২ ওভারে ২১৬ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

  • বঙ্গবন্ধুর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে বাংলাদেশ

    বঙ্গবন্ধুর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে বাংলাদেশ

    ১৭ মার্চ, ২০২৩ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করবে। দিনটি সারাদেশে জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসেবে পালিত হবে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

    দিবসটি উদযাপনে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করবে। রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমেও শ্রদ্ধা জানানো হবে। দিবসটি স্মরণে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও নানা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি জাতীয় শিশু সমাবেশের আয়োজন করেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোও দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপন করবে। সকল মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা এবং অন্যান্য প্রার্থনার স্থানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।

    শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৪৬ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৯ সালে, তিনি তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৩ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকিটে পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

    শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন বাঙালি জাতির অধিকারের জন্য সোচ্চার ছিলেন এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য একাধিকবার কারাবরণ করেন।

  • সুস্থতায় বিশুদ্ধ পানি

    সুস্থতায় বিশুদ্ধ পানি

    সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবদেহের ৬০ ভাগ পানি। দৈনন্দিন কাজে দেহ থেকে সাধারনত যে পরিমান পানি বের হয়ে যায়, পুনরায় পানি পানে গ্রহণ না হলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য ব্যহত হয়। বিশুদ্ধ পানি পান করার মাধ্যমে শরীর টক্সিন বের করে দিতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কোষে পুষ্টি ও অক্সিজেন পরিবহন করতে পানি সাহায্য করে। হাইড্রেটেড থাকার জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে কমপক্ষে ৮ গ্লাস জল পান করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। উপরন্তু, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার জন্য বিশুদ্ধ পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি ক্ষুধা কমাতে এবং অতিরিক্ত খাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে থাকে।

  • গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় শনিবার থেকে

    গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় শনিবার থেকে

    তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানায়, পাইপলাইনের জরুরি কাজের জন্য আগামী শনিবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মিন্টো রোড, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), বারডেম, হলি ফ্যামিলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানায় তিতাস গ্যাস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি টাই-ইন কাজের জন্য আগামী ১৮ মার্চ শনিবার ১৮ মার্চ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা মিন্টো রোড, ইস্কাটন, পরীবাগ, হাবিবুল্লাহ সড়ক, বিএসএমএমইউ, বারডেম, ঢাকা ক্লাব, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, হলি ফ্যামিলি, কাওরান বাজার, পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড, অফিসার্স ক্লাব, হাতিরপুল পিডিবি কোয়ার্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

    এ ছাড়া এই সময়ে আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

  • নরেন্দ্র মোদী কি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন?

    নরেন্দ্র মোদী কি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন?

    রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্যোগের প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেননরওয়ে নোবেল প্রাইজ কমিটির উপ-প্রধান অ্যাসলে তোজো। এ কারনে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন বৃহস্পতিবার নোবেল কমিটির একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারত সফরে এসে এই বার্তা দিলেন তিনি। আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়া

    রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে মোদীর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ইউক্রেন সঙ্কটের নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ করেছেন। রাশিয়াকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

    এ প্রসঙ্গে গত সেপ্টেম্বরে উজবেকিস্তানে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে মোদীর মন্তব্যের প্রসঙ্গও তুলেছেন অ্যাসলে। সেখানে সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্টকে মোদী বলেছিলেন, ‘এটা যুদ্ধের সময় নয়।’

    অ্যাসলে বলেন, ভারত থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য অনেক মনোনয়ন রয়েছে। আমি মনে করি, বিশ্বের সব নেতাই নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য যা প্রয়োজন তা করবেন।

    তিনি বলেন, আমরা মোদীর প্রচেষ্টা লক্ষ করেছি। মোদীর মতো শক্তিশালী নেতার শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এমন একটি শক্তিশালী দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, যাকে বিশ্বের দরবারে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয়দের মধ্যে অপরিসীম ক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে। আশা করব, ভয়াবহ যুদ্ধে ইতি টানতে এই বিশ্বাসযোগ্যতা ও ক্ষমতা তারা ব্যবহার করবে।

    অ্যাসলে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়া, আমেরিকা ও চিনের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। যেখানে তিনি বলেছেন, এখন যুদ্ধের নয়- শান্তির সময়। আমি খুশি যে মোদি শুধু ভারতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই কাজ করছেন না, সেইসঙ্গে বিশ্বের শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বিশ্বের উচিত ভারতের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া। আগামীদিনে ভারত অসীম শক্তিধর হতে চলেছে।’

    এর আগেও ভারতে একাধিকবার মোদিকে নোবেল দেওয়ার দাবি উঠেছে। কিন্তু এবার খোদ নোবেল কমিটির উপ-প্রধান যেভাবে মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন, তাতে তাঁর নোবেলপ্রাপ্তির সমুহ সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। যদিও তোজে জানিয়ে দিয়েছেন, মোদির সম্পর্কে তাঁর মতামত ব্যক্তিগত এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর বড় অনুরাগী। তাছাড়া নোবেল জয়ীদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়।

  • ঢাকা থেকে দিল্লিতে চিঠি দিচ্ছে সরকার; তিস্তার পানি ভারত সরিয়ে নিচ্ছে কিনা

    ঢাকা থেকে দিল্লিতে চিঠি দিচ্ছে সরকার; তিস্তার পানি ভারত সরিয়ে নিচ্ছে কিনা

    বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিতব্য ওয়াটার সামিট উপলক্ষে আয়োজিত এক মাল্টিস্টেক হোল্ডার বৈঠক শেষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক জানান, তিস্তার পানি ভারত অন্যদিকে সরিয়ে নিচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে যে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে সেটির সত্যতা জানার জন্য দিল্লিতে চিঠি দিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে চিঠি পাঠানোর জন্য জয়েন্ট রিভার কমিশনের মেম্বারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কলকাতার এটি পেপারে আসার পরে সেটার ওপর বাংলাদেশি মিডিয়া নিউজ করেছে। আমি জেআরসি মেম্বারকে বলেছি ভারতের মেম্বারকে চিঠি দেওয়ার জন্য। কারণ, আমরা চাই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বলুক।’

    মিডিয়া রিপোর্টের ওপর কোনও কমেন্ট করবেন না জানিয়ে জাহিদ ফারুক বলেন, ‘আমরা তাদের একটি চিঠি দিচ্ছি। চিঠিটার উত্তর এলে বুঝতে পারবো সত্যি তারা পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিচ্ছে নাকি নিচ্ছে না।’

    ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদী রয়েছে ৫৪টি। এগুলোর পানিবণ্টন সমস্যা সমাধান সমঝোতার ভিত্তিতে করতে হবে উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক জানান, ১২ বছর পর গত বছর তাদের সঙ্গে জেআরসি বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমরা বলেছি, আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমাকে নিশ্চিত করতে হবে ওই নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে যে পরিমাণ পানি দরকার সেটি যেন কেউ ব্যবহার না করে। এর বাড়তি পানি দুই দেশ বণ্টন করতে পারে। ভারত এটিতে সম্মত হয়েছে।’

     

  • আ.লীগ সরকার ইসলামের খেদমতে বহু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

    আ.লীগ সরকার ইসলামের খেদমতে বহু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল দেওয়া, মজুতদারি বা কালোবাজারি এবং নিত্যপণ্যের সংকট সৃষ্টি- এটা যেন কেউ করতে না পারে সেজন্য সবাইকে আমি সতর্ক থাকার জন্য আহবান জানাচ্ছি।’ 

    বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী আরও ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

    পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে খাদ্যে ভেজাল, মজুতদারি, কালোবাজারি এবং নিত্যপণ্যের সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টাকে অত্যন্ত ‘গর্হিত কাজ’ উল্লেখ করে এসবের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শেখ হাসিনা বলেন, ইমামগণ যখন মসজিদে জুমার নামাজের খোৎবা দেন তখন কালোবাজারি বা মজুতদারি বা খাদ্যে ভেজাল দেওয়া আর অযথা মানুষকে কষ্ট দেওয়া যে গর্হিত কাজ সে ব্যাপারে মানুষকে আপনাদের আরও বলা উচিত। খোৎবাতেও এটা বলতে পারেন বা মানুষকে সচেতন করতে পারেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে রমজান মাস। এ সময় আমাদের কিছু ব্যবসায়ী জিনিসের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। কারণ রমজান মাস কৃচ্ছ্রতা সাধনের সময় এবং মানুষ যাতে ভালোভাবে তাদের ধর্মকর্ম এবং রোজা যথাযথভাবে পালন করতে পারে সেদিকেই সবার দৃষ্টি দেওয়া উচিত। সেসময় এসব মুনাফালোভীদের জিনিসের দাম বাড়ানো আর মানুষকে বিপদে ফেলার কোনো মানে হয় না।

    তিনি বলেন, সেভাবেই কাজ করতে আমি মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও খাদেমগণকে অনুরোধ করব। তাহলে মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়ার প্রবণতা নিশ্চই কমবে।

    নিম্ন আয়ের মানুষের ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার পারিবারিক কার্ডের ব্যবস্থা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অধিক দামে চাল ক্রয় করে ৩০ টাকা মূল্যে বিভিন্ন পরিবারকে দিচ্ছি।

    রমজানকে সামনে রেখে আরও ১ কোটি মানুষকে ১৫ টাকা কেজি দরে আমরা চাল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি এবং একেবারে কর্মক্ষমতাহীনদের বিনাপয়সায় ৩০ কেজি করে চালও দিয়ে যাচ্ছি। মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য সরকার ন্যায্যমূল্যে এই নিত্যপয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, এদেশের একটি মানুষও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। তার সরকার গৃহহীন-ভূমিহীনকে বিনামূল্যে ঘরবাড়ি এবং জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। কৃষিতে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। শ্রমিকদের কল্যাণে নানামুখি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন এবং ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। বিদেশগামীদের জন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকে বিনা জামানতে ব্যাংক ঋণেরও ব্যবস্থা করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তৃতীয় ধাপে এসব মডেল মসজিদ উদ্বোধন করেন।

    প্রধানমন্ত্রী তিনটি ধাপে সারা দেশে ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৫৬৪টি মসজিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫০টি মসজিদ উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রথম দফায় ২০২১ সালের ১০ জুন ৫০টি মসজিদ এবং চলতি বছর ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় আরও ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করেন। অবশিষ্ট মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হবে।

    ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী এনামুল হাসানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

    এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ ওজু ও নামাজের আলাদা জায়গা রয়েছে। এ ছাড়া হজযাত্রীদের জন্যে রেজিস্ট্রেশন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গবেষণা কেন্দ্র ও ইসলামিক লাইব্রেরি, অটিজম কর্নার, দাফন পূর্ব আনুষ্ঠানিকতা, গাড়ি পার্কিং সুবিধা, হেফজখানা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও কুরআন শিক্ষা ব্যবস্থা, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইসলামের দাওয়াতের জন্য সম্মেলন কেন্দ্র, ইসলামি বই বিক্রয় কেন্দ্র, মসজিদসহ দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য থাকার সুবিধা রয়েছে।

     

    এতে ভার্চুয়ালি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা, বরিশালের আগৈলঝাড়া ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কমকর্তা, আলেম-ওলামা ও সাধারণ জনগণ সংযুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ওপর নির্মিত ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৪ বছর ইসলামের খেদমতে বহু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৩ সালে ঢাকায় ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে।

    কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়েছে। আরবি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পবিত্র কুরআনের ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করেছে। বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ তিনটি ভাষায় পবিত্র কুরআন পড়া ও শোনার সুযোগ পাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, আমরা জাতীয় শিক্ষা নীতিতে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা এবং মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমকে জাতীয় শিক্ষা নীতির অন্তর্ভুক্ত করেছি। সম্প্রতি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এসি স্থাপন, চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে ন্যস্ত করা এবং ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩ হাজার ১২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ বছর মেয়াদী মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের ৭ম পর্যায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

    এ প্রকল্পের মাধ্যমে তার সরকার ৭৫ হাজার ৮৮৩ জন আলেমের সম্মানির ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

    সরকার প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন ও পরিচালনা’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১ হাজার ১০টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বার্ধক্যজনিত কারণে কর্মে অক্ষম ও অসহায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন করেছে। এই ট্রাস্ট থেকে দুস্থ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের এককালীন আর্থিক সাহায্য ও সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

    কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দেশের মসজিদগুলোর আয় হ্রাস পাওয়ায় প্রায় আড়াই লাখ মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের অনুকূলে ৫ হাজার টাকা হারে ১২২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। করোনাকালীন কওমি মাদ্রাসার আয়ের পথ রুদ্ধ হওয়ায় দেশের প্রায় ১৪ হাজার কওমি মাদ্রাসায় ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসজিদগুলোকে ইসলামী জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ২৮ হাজার মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে আরও আড়াই হাজার নতুন পাঠাগার স্থাপন ও আড়াই হাজার পাঠাগারে পুস্তক সংরক্ষণের জন্য আলমারি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    শরিয়ত সম্মতভাবে যাকাত সংগ্রহ, বিতরণ, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার সুবিধার্থে এ বছর ‘জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩’ জাতীয় সংসদে পাশ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২ লাখ ১২ হাজার ৬৪৭ জন ইমামকে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ, ৯৫ হাজার ৮৫ জনকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ৩৪ হাজার ৩৩০ জন ইমামকে রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ এবং ৩ হাজার ৬১৩ জন ইমামকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইমাম-খতিবগণ তাদের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেরা যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তেমনি তাদের পরামর্শে মসজিদ এলাকার জনগণও উপকৃত হচ্ছেন।

    একজন খাঁটি মুসলমান হিসেবে জাতির পিতা ইসলামের নামে স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার ছিলেন উল্লেখ করে ইসলামের খেদমতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা, বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশে আয়োজন এবং এরজন্য জায়গা প্রদান, কাকরাইল মসজিদের জায়গা প্রদান, কম খরচে হজ পালনের জন্য হিযবুল বাহার জাহাজ ক্রয় এবং রেডিও টিভিতে অধিবেশনের শুরু ও সমাপ্তিকে কুরআন তিলাওয়াতের ব্যবস্থাসহ বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের আগে যে ঐতিহাসিক বেতার ভাষণ দিয়েছিলেন তার চুম্বকাংশ উদ্ধৃত করেন।
    জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হজরত নবী করীম (সা.) এর ইসলাম, যে ইসলাম জগৎবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের এটাই প্রচেষ্টা সারা দেশে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কেউ যেন বাড়াবাড়ি করতে না পারে এবং সত্যিকারের ইসলামিক শিক্ষা মানুষ যেন পেতে পারে। যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এবং আমাদের নবী করিম (সা.) ও বলেছেন। আর এদেশের মানুষ যাতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক গ্রহণের পথে না যায়, সেজন্য ধর্ম সম্পর্কে আরও অধিক প্রচার ও প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই দেশ উন্নত হোক, এগিযে যাক। বাল্যবিয়ে, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতা, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে প্রয়োজন। ইসলামই নারীর অধিকার নিশ্চিত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবেন। কেননা শেষ বিচারতো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন করবেন। বিচারের ভার আল্লাহ মানুষকে দেননি।

    কেউ এই ধর্ম পালন করে না বলে তাকে খুন করে ফেলা ইসলামের শিক্ষা নয়। এটা আমি যেমন বিশ্বাস করি তেমনি যারা আল্লাহতে বিশ্বাস করেন এবং নবী করিম (সা.) এর নির্দেশ মানেন তারাও এতে বিশ্বাস করবেন।

    আর এই খুন খারাপি করতে গিয়ে কোনো কোনো জায়গায় আজকে ধর্মকেই অসম্মান করা হচ্ছে। দুর্নাম দেওয়া হচ্ছে, সবচেয়ে শান্তির ধর্মের নামে কুৎসা দেওয়া হচ্ছে কিছু লোকের জন্য। যেটা আমাদের জন্য দুঃখজনক।

    যার যার দ্বীনি বিশ্বাস সে সে পালন করবে মর্মে তিনি পবিত্র কুরআনের নির্দেশ ‘লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন’, উল্লেখ করেন।