Author: Hello Bangla News

  • বেড়িয়ে আসুন ঐতিহাসিক হারানো নগরী- পানাম নগর

    বেড়িয়ে আসুন ঐতিহাসিক হারানো নগরী- পানাম নগর

    প্রাচীন প্রাচীরের ইট এবং কালো পাথরের উপর পোড়ামাটির কারুকার্যে এখনও রাজত্বের নিদর্শন রয়েছে! এক সময়ের ব্যস্ত শহর এখন ইতিহাসের অংশ মাত্র। ভিড় নেই, কোলাহল নেই। শত বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া শহরের মতো। এটি পানাম নগর যা ‘হারানো নগরী’ নামেও পরিচিত। এটি এখনও সোনারগাঁওয়ের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে, যা বাংলার রাজধানী হিসাবে পরিচিত ছিল। শহরটি প্রায় ধ্বংসের মুখে। ২০০৬ সালে, ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড পানাম নগরকে ১০০টি ধ্বংসাত্মক ঐতিহাসিক স্থাপনার একটি হিসাবে ঘোষণা করে।

    প্রায় ৪৫০ বছর আগে, ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। সোনারগাঁয়ের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠে এই নগরী। পানাম নগরী চতুর্দিক থেকে পঙ্খীরাজ খাল দিয়ে ঘেরা। পঙ্খীরাজ খাল মেনিখালী নদ নামে মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। পানাম নগরীর পূর্ব দিকে রয়েছে মেঘনা নদী আর পশ্চিম দিকে শীতলক্ষ্যা। এই নদী পথেই বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন রপ্তানি হত। পানাম নগরীর প্রবেশ পথে আছে বিশাল গেট, সূর্যাস্থের সাথে সাথে এই গেট বন্ধ করা হত। বর্তমানেও কোন দর্শনার্থী সন্ধ্যার পর পানাম নগরীতে অবস্থান করতে পারেনা।

    পানাম নগরীর বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণশৈলীতে রয়েছে ভিন্নতার ছাপ। তৎকালীন ধনী শ্রেনীর এই নগরীর প্রতিটি দালানে রয়েছে অপূর্ব কারুকার্য ও আভিজাত্য ছোঁয়া। নগরীর বুক চিরে চলে যাওয়া রাস্তার দুই পাশে রয়েছে প্রায় ৫২ টি ভবন। মূল রাস্তার উত্তর দিকে ৩১ টি এবং দক্ষিণ দিকে ২১ টি ভবন আছে। এই ভবন গুলো কোনটি এক তলা, কোনটি আবার দুই বা তিন তলা বিশিষ্ট।

    নগরীর অভ্যন্তরে আবাসিক ভবন ছাড়াও মসজিদ, গির্জা, মন্দির, মঠ, নাচঘর, চিত্রশালা, পান্থশালা, খাজাঞ্চিখানা (কোষাগার), দরবার কক্ষ, পুরনো জাদুঘর, গোসলখানা ও গুপ্ত পথ রয়েছে। এছাড়া ৪০০ বছরের পুরনো টাকশাল বাড়ি ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তৈরি নীলকুঠি এখানে দেখতে পাওয়া যায়।

    পানাম নগরে আর যা দেখবেন    

    লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর: পানাম নগরী থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দুরত্বে রয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের প্রবেশ পথে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের একটি ভাস্কর্য রয়েছে। জাদুঘরে মোট ১১ টি গ্যালারিতে দুর্লভ ঐতিহ্যের নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। গ্যালারিগুলোতে নিপুণ কাঠ খোদাই করা জিনিস, মুখোশ, নৌকার মডেল, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়া মাটির নিদর্শন, জামদানি ও নকশিকাঁথা ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।

    গোয়ালদি মসজিদ: লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর থেকে কাছেই রিকশা ভাড়া করে গোয়ালদি মসজিদ থেকে ঘুরে আসতে পারেন। ১৫১৯ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর রাজত্বকালে মোল্লা হিজাবর আকবর খান কতৃক নির্মিত গোয়ালদি মসজিদটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান।

    বেড়িয়ে আসুন ঐতিহাসিক হারানো নগরী- পানাম নগরপানাম নগর কিভাবে যাবেন

    ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ কিংবা বোরাকের এসি বাসে করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামতে হবে। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা থেকে ব্যাটারী চালিত অটোতে কিংবা রিকশায় ভাড়া করে পানাম নগরীতে যেতে পারবেন।

    প্রবেশ ফি : পানাম সিটিতে প্রবেশ করতে ১৫ টাকার টিকেট কাটতে হয়। জাদুঘরে প্রবেশ করতে জনপ্রতি ৩০ টাকায় টিকিট কাটতে হয়।

    সময়সূচী : প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে।

    সতর্কতা : ভবনগুলো অনেক বছরের পুরনো হওয়া সেগুলি এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ তাই নির্দেশনা অমান্য করে কোন ভবনের উপরে উঠবেন না।

    তথ্যসূত্রঃ উইকিওয়ান্ড ও ভ্রমণ ব্লগ

  • সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঈদে রেমিট্যান্স এসেছে

    সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঈদে রেমিট্যান্স এসেছে

    পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৯৫ কোটি ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ১০৭ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি এপ্রিলের প্রথম ২১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১২৭১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১২৭ কোটি ১৭ লাখ ডলার)। তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১০৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

    এতে দেখা গেছে, চলতি এপ্রিলের প্রথম ২১ দিনে ১২৭১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১২৭ কোটি ১৭ লাখ ডলার) রেমিট্যান্স এসেছে। তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১০৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

    এর আগে চলতি এপ্রিলের প্রথম ৭ দিনে ৪৭ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। পরে ৮ থেকে ১৪ এপ্রিল পাঠিয়েছে ৪৮ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার। আর ১৫ থেকে ২১ এপ্রিল পাঠান ৩১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রবাসীরা রোজার শুরু ও মাঝামাঝিতে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। শেষ দিকে তা কমে গেছে। যার কারণে চলতি মাসের প্রথমদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি থাকলেও শেষ দিকে কম ছিল।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গেল মার্চ মাসে বৈধপথে ২০১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ১০৭ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ ২১ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। যা আগের মাসের চেয়ে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ডলার বেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৬ কোটি ১২ লাখ ডলার।

    এ ছাড়া আগের বছরের (২০২২ সালের) মার্চ মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮ দশ‌মিক ৪৯ শতাংশ বা ১৫ কো‌টি ৮০ লাখ ডলার। গত বছর মার্চে প্রবাসী আয় ছিল ১৮৫ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।

    ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম (জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত) ৯ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫২৯ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে ৭৪ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বেশি এসেছে।

    ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

  • ৫৭ মরদেহ ভেসে এলো লিবিয়া উপকূলে

    ৫৭ মরদেহ ভেসে এলো লিবিয়া উপকূলে

    ভূমধ্যসাগরের লিবিয়ার উপকূল থেকে ৫৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্ট গার্ড। এদের মধ্যে বেশিরভাগই পাকিস্তান, সিরিয়া ও মিশরের নাগরিক। লিবিয়ার পশ্চিমের দুটি শহরের উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী দুটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।  এ ঘটনায় অন্তত ৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (২৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    অভিবাসীদের বহনকারী দু’টি নৌকা ডুবে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নৌকাডুবির পর লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহরের উপকূলে এসব মরদেহ ভেসে আসে। পরে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

    নৌকাডুবি থেকে বেঁচে ফেরা মিসর থেকে আসা বাসসাম মাহমুদ জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ২টায় ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করা নৌকাগুলোর একটিতে ৮০ জনের মতো যাত্রী ছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী দু’টি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর পশ্চিম লিবিয়ার বিভিন্ন শহরের কাছে অন্তত ৫৭টি মৃতদেহ উপকূলে ভেসে এসেছে বলে একজন উপকূলরক্ষী কর্মকর্তা এবং একজন সাহায্যকর্মী জানিয়েছেন।

    ডুবে যাওয়া নৌকায় থাকা একজন জীবিত ব্যক্তি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ২ টায় ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি নৌকায় প্রায় ৮০ জন আরোহী ছিলেন। পরে ওই নৌকাটি ডুবে যেতে থাকলে, তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। তা সত্ত্বেও নৌকা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিটি নৌকা থামাতে রাজি হননি।

    উপকূলরক্ষী কর্মকর্তা ফাথি আল-জায়ানি জানিয়েছেন, পূর্ব ত্রিপোলির কারাবুল্লি থেকে এক শিশুসহ ১১টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত এসব শরণার্থীরা পাকিস্তান, সিরিয়া, তিউনিসিয়া ও মিসরের নাগরিক।

    পশ্চিম ত্রিপোলির সাবরাথায় অবস্থানরত রেড ক্রিসেন্টের এক ত্রাণকর্মী জানান, তারা গত ৬ দিনে সমুদ্র উপকূল থেকে ৪৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। মৃতদের সবাই একই নৌকার যাত্রী ও ‘অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী’।

    আগামী দিনগুলোতে আরও মরদেহ ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেন এই ত্রাণকর্মী।

    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এ মাসে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ভূমধ্যসাগরের মধ্য দিয়ে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে এ পর্যন্ত ৪৪১ জন অভিবাসন প্রত্যাশী ও শরণার্থী পানিতে ডুবে মারা গেছেন। গত ছয় বছরের হিসাবে ৩ মাসের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ।

  • চলন্ত বিমানে পলকের সেলফিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা

    চলন্ত বিমানে পলকের সেলফিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বিমানে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সেলফি শেয়ার করেন। ছবিতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে।

    মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সফরসঙ্গীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।

    সবার কাছে দোয়া চেয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর তৌফিক দান করুন। আমিন।’

    জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে মেট্রোরেলের সমীক্ষা, জাহাজভাঙা শিল্পের আধুনিকায়ন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ আধুনিকায়ন, শিল্পের মানোন্নয়নের অংশীদরিত্ব এবং শুল্ক খাতের সমন্বয়সহ ৮টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।

    ক্যাপশনে পলক লিখেছেন, ‘আকাশে শান্তির নীড়! বাংলাদেশ বিমানে জাপানের পথে!’

    জাপান থেকে আগামী ২৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আগামী ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের পার্টনারশিপ প্রোগামের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ২ মে সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ৪ মে প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করবেন।

    এরপর আগামী ৪ থেকে ৮ মে যুক্তরাজ্য সফর করবেন শেখ হাসিনা। ৬ মে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন থেকে লন্ডন যাবেন। সেখানে লন্ডনের একটি হোটেলে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি। সফর শেষে আগামী ৯ মে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ছবি তুললেন পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ছবি তুললেন পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে

    বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সপরিবারে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য টুঙ্গিপাড়ায় যাবার সময় এ ছবি তোলেন তিনি।

    দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

    বুধবার সকাল সোয়া দশটায় বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পৌঁছে। পদ্মা সেতু হয়ে সড়কপথে টুঙ্গিপাড়ায় যান রাষ্ট্রপ্রধান।

    টুঙ্গীপাড়া যাওয়ার পথে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পদ্মা সেতুতে নামেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় পদ্মা সেতুর মাঝখানে কয়েক মিনিট যাত্রাবিরতি করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

    রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা ও ছেলে মোহাম্মদ আরশাদ আদনান রনিসহ পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয়, রাষ্ট্রপতির সচিবরা এবং বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ পৌঁছেছে : প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ পৌঁছেছে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ-জাপান বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘ব্যাপক অংশীদারিত্ব’ থেকে সফলভাবে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ পৌঁছেছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিসিদা এবং আমি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আদ্যপান্ত আলোচনা করেছি। আমরা খুব খুশী যে, আমরা বাংলাদেশ-জাপান বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পকর্কে ‘ব্যাপক অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে পৌঁছাতে পেরেছি।’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিসিদার কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বিনিময় প্রত্যক্ষ করার পর যৌথ বিবৃতি প্রদানের পর এই মন্তব্য করেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘আজ, প্রধানমন্ত্রী কিসিদা এবং আমি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ ওপর যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছি। আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের দ’ুদেশের জনগণ ও সরকারের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সামনের দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দুই পক্ষ কৃষি, শুল্ক সংক্রান্ত, প্রতিরক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, শিল্পোন্নোয়ন, মেধা সম্পদ, জাহাজ রিসাইক্লিং, এবং মেট্রোরেল বিষয়ে যেসব চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে,ভবিষ্যত সহযোগিতার ক্ষেত্রে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে।’

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় পক্ষ রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি মহেশখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ (এমআইডিআই) এবং বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, তাঁরা অতিরিক্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির কারণে স্থানীয় জনগণের জীবন ও জীবিকার মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে তাদের যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার জন্য জাপানকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরেই ঢাকা-নারিতা সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে।
    তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যে ঢাকা-নারিতা সরাসরি বিমান চলাচলের ঘোষণা করতে পেরে আমরা খুশী।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে এমআইডিআই ও বিগ-বি উদ্যোগ গ্রহণ এবং বঙ্গোপসাগর ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ স্থাপনের বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার হওয়ায় আমরা জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা জাপানের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পন্ন করার অপেক্ষায় আছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার হৃদয় ঘনিষ্ঠ জাপানের মতো একটি সুন্দর দেশে অবস্থান আমার জন্য সব সময় আনন্দের বিষয়।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর সম্পন্ন হওয়ায় পর টোকিওতে সরকারি সফর শুরু করতে পেরে আমি বিশেষভাবে আনন্দিত।’

    শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিসিদা এবং জাপান সরকারের আতিথেয়তায় আমি এবং আমার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা গভীরভাবে মুগ্ধ।

    তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। যে কয়েকটি দেশ ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছিল জাপান তাদের মধ্যে একটি।

    তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক জাপান সফরের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছেন।

    মহামারি কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার আগে ২০১৯ সালে সর্বশেষ সফরের পরে তিন বছর পর শেখ হাসিনা জাপান সফর করছেন।

    এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৫ দিনের সরকারি সফরে ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং একই দিন স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে টোকিও’র হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাপান বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানায় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করে।

    সূত্র : বাসস

  • শেখ হাসিনাকে জাপানে লাল গালিচা সংবর্ধনা

    শেখ হাসিনাকে জাপানে লাল গালিচা সংবর্ধনা

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে চারদিনের সফরে আজ বিকেলে টোকিও পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি চাটার্ড ফ্লাইট (বিজি১৪০৩) আজ জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে টোকিও’র হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরন করে। বিমানবন্দরে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়ামাদা কেনজি ও জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

    এর আগে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৫ দিনের সরকারি সফরের প্রথম পর্যায়ে টোকিও’র উদ্দেশে আজ সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

    টোকিও’র বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে আকাসাকা প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী টোকিও’র এই প্রাসাদেই অবস্থান করবেন।
    সফরকালে টোকিওর সাথে আটটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে ঢাকা আশা করছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংকালে বলেন, ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর (বাংলাদেশ ও জাপান) উপস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।’

    তিনি আরো বলেন, জাপান সফরকালে কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়, মেধাস্বত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি ও সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

     

    শেখ হাসিনাকে জাপানে লাল গালিচা সংবর্ধনামোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ এপ্রিল জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

    একই দিন চুক্তি স্বাক্ষরের পর শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নৈশভোজের মাধ্যমে বৈঠকটি শেষ হবে।
    জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিনিয়োগ সম্মেলন এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।

    মোমেন বলেন, একই দিন প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য চার জাপানি নাগরিককে ‘ফ্রেন্ড অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান করবেন।

    ২৭এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টোকিওতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং জেট্রোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ বিজনেস সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিবেন।

    সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও কমিউনিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। টোকিও সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়াও তিনি জাইকা, জেইটিআরও, জেইইআইসি, জেবিপিএফএল, জেবিসিসিইসি’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকসহ আরও কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহধর্মিনী আকি আবে ও জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর সঙ্গেও দেখা করবেন।

    এছাড়া,জাপানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘এনএইচকে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করবে।

    প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

    প্রধানমন্ত্রী টোকিও থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছে ১ মে বিশ্ব ব্যাংকের সদর দফতরে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

    মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ মে যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য কমনওয়েলথ দেশের রাজা ও রাণী তৃতীয় চার্লস এবং তার পরবর্তীতে ক্যামিলার রাজ্যাভিষেকে যোগদানের জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ত্যাগ করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী আগামী ৯ মে লন্ডন থেকে ঢাকা পৌঁছবেন।

    সূত্র : বাসস

  • চাঁদের পৃষ্ঠে নামছে প্রথম মনুষ্যবিহীন বেসরকারি মহাকাশযান

    চাঁদের পৃষ্ঠে নামছে প্রথম মনুষ্যবিহীন বেসরকারি মহাকাশযান

    জাপানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাঁদে একটি মনুষ্যবিহীন মহাকাশযান পাঠিয়েছে। মহাকাশযানটি মঙ্গলবার রাতে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবে বলে আশা করছে তারা। তাদের এই চন্দ্রাভিযানের নাম হাকুতো–আর এম১। যদি এই মিশন সফল হয়, তাহলে প্রথম কোনো বেসরকারি কোম্পানির ‘পা’ পড়বে চাঁদের পৃষ্ঠে।

    মহাকাশযানটির ল্যান্ডারে আছে দুই চাকার একটি রোবট, যেটি একটি টেনিস বলের সমান।  রোবটটি তৈরি করেছে জাপানি রোবট নির্মাতা কোম্পানি আইস্পেস। আরও আছে একটি রোভার, যেটি তৈরি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। মহাকাশযানটি সফলভাবে অবতরণ করার পর এগুলো চাঁদের পৃষ্ঠে মোতায়েন করা হবে।

    সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে জাপানের এই মনুষ্যবিহীন মহাকাশযানটি চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চাঁদের পৃষ্ঠে সফলভাবে কোনো মহাকাশযান অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছে মাত্র তিনটি দেশ। এই তিন দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন।

    মহাকাশযানটি পাঠানো হয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন–৯ রকেটে। রকেটটি গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে উড্ডয়ন করে। চাঁদের উত্তর গোলার্ধে অবতরণের পরই দুটি পেলোড বা স্যাটেলাইট মোতায়েন করবে হাকুতো-আর।

    মহাকাশযানটিতে থাকা ল্যান্ডারটির উচ্চতা ২ মিটার, ওজন ৩৪০ কেজি। এর আগে চাঁদে পাঠানো মহাকাশযানগুলোর তুলনায় এটি অনেক ছোট। তবে এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সবই আছে। নিজের কক্ষপথে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে এটি অবতরণ করা হবে। এ সময় এটি ঘণ্টায় প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার বেগে ঘুরবে।

    আইস্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাকেশি হাকামাদা বলেন, তাঁদের এই চন্দ্রাভিযানের মাধ্যমে চাঁদে একের পর বাণিজ্যিক মিশন শুরুর পথ তৈরি হবে। তিনি বলেন, ‘এটা একটা বড় পরিবর্তন। এতে ভবিষ্যতে অন্য বেসরকারি কোম্পানি, এমনকি ছোট দেশগুলোর চন্দ্রাভিযানের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হবে।’

  • ডেথ ওভারে সাথে ছিটকে গেছে মুস্তাফিজ

    ডেথ ওভারে সাথে ছিটকে গেছে মুস্তাফিজ

    সোমবার (২৪ এপ্রিল) হায়দরাবাদের রাজিব গান্ধী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করছে দিল্লি। এখন পর্যন্ত আসরে মাত্র ১ ম্যাচে জিতেছে ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন দলটি। স্বাভাবিকভাবেই পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে তারা।

    টানা ৫ হারের পর জয়ের দেখা পেয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। সেই ম্যাচে একাদশে ছিলেন বাংলাদেশ পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখল না তারা। ফলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে প্রথম একাদশে জায়গা হারিয়েছেন তিনি। অবশ্য হায়দরাবাদের অবস্থানও ভালো নয়। দিল্লির তুলনায় ১ ম্যাচ বেশি জিতেছে তারা। এতে প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ ওপরে আছে দক্ষিণ ভারতের দলটি। এর আগে মাত্র দুই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পান মুস্তাফিজ। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ডেথ ওভারে অবদান রাখতে না পারায় একাদশ থেকে ছিটকে গেছেন মুস্তাফিজ।

    ২০২৩ আইপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৮ রান দেন ফিজ। পরের ম্যাচে ৩ ওভারে ৪১ রান খরচ করেন কাটার মাস্টার। এরপর থেকে ডাগআউটে বসে থাকছেন তিনি।

    হায়দরাবাদের বিপক্ষে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে দিল্লি। ফর্মহীনতায় ভোগা পৃথ্বী শ’র বদলে জায়গা পেয়েছেন সরফরাজ খান। আল ললিত যাদবের স্থানে এসেছেন রিপাল প্যাটেল।

    সানরাইজার্স হায়দরাবাদ একাদশ : মায়াঙ্ক আগারওয়াল, হেনরিখ ক্লাসেন, হ্যারি ব্রুক, অ্যাইডেন মারক্রাম, অভিষেক শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর, মার্কো জানসেন, ভুবনেশ্বর কুমার, মায়াঙ্ক মারকান্দে, উমরান মালিক ও টি নাতারাজন।

    দিল্লি ক্যাপিটালস একাদশ : ডেভিড ওয়ার্নার, ফিল সল্ট, মিচেল মার্শ, সরফরাজ খান, মনিশ পান্ডে, অক্ষর প্যাটেল, রিপাল প্যাটেল, আমান খান, আনরিখ নরকিয়া, কুলদীপ যাদব ও ইশান্ত শর্মা।

  • ‘সাদা স্বর্ণ’ এ বিনিয়োগ বাড়ছে আর্জেন্টিনায়

    ‘সাদা স্বর্ণ’ এ বিনিয়োগ বাড়ছে আর্জেন্টিনায়

    ‘সাদা স্বর্ণ’ হিসেবে রুপালি-সাদা লিথিয়াম ধাতুটির সরবরাহকারী হিসেবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ আর্জেন্টিনা। এই খনিজ ধাতু তথাকথিত ‘লিথিয়াম ট্রায়াঙ্গল’-এ অবস্থিত। এই খনিজ কানাডা থেকে চীনা খনি কোম্পানিকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করছে। এক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও বাজারমুখী মডেলের ব্যবহার বাড়ছে। এমনকি অঞ্চলটিতে সম্পদের জাতীয়করণের একটি ঢেউ শুরু হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকায় লিথিয়াম প্রকল্পের একটি শক্তিশালী পাইপলাইন চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এটি চালু হলে ইলেক্ট্রিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর উৎপাদন বাড়বে। আগামী দুই বছরে তা তিনগুণ হতে পারে।

     

    আর্জেন্টিনার প্রতিবেশী দেশ চিলি হলো বিশ্বের শীর্ষ লিথিয়াম সরবরাহকারী। গত সপ্তাহে দেশটি একটি রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বাধীন সরকারি-বেসরকারি মডেল উন্মোচন করেছে। এতে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ভয়ের মধ্যে আছেন। বলিভিয়া দীর্ঘদিন ধরে অনাবিষ্কৃত সম্পদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। আর মেক্সিকো গত বছর নিজের লিথিয়ামের মজুতের রাষ্ট্রীয়করণ করেছে।

    আর্জেন্টিনায় গত বছর রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ওয়াইপিএফ লিথিয়ামের অনুসন্ধান শুরু করলেও এই খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিরল সম্ভাবনা হিসেবে খনির মাধ্যমে ডলার দেশে আনতে নিয়মিত নতুন নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

    আর্জেন্টিনার চেম্বার অব মাইনিং বিজনেস-এর সভাপতি ফ্রাঙ্কো মিগনাক্কো বলেছেন, গত দশ বছর ধরে প্রকল্পগুলো আর্জেন্টিনা ছাড় দিয়েছে। এর ফলে আজ লিথিয়ামে বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ এই মাত্রায় পৌঁছেছে।

    মিগনাক্কোর ধারণা, ২০২৪-২০৫ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনার বর্তমান লিথিয়াম কার্বোনেট উৎপাদন ৪০ হাজার টন থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ২০ হাজার টন। এর ফলে দেশটি লিথিয়াম উৎপাদনে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে প্রতি বছর ১ লাখ ৮০ হাজার টন উৎপাদন করা চিলির কাছাকাছি পৌঁছে যাবে আর্জেন্টিনা।

    বর্তমানে দুটি উৎপাদনে থাকা দুটি প্রকল্পের পাশাপাশি আরও প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে এটি সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশটিতে ছয়টি লিথিয়াম প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং ১৫টির উচ্চতর অনুসন্ধান বা সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন মিগনাক্কো।

    আর্জেন্টিনার চেয়ে চিলির অবস্থান বিপরীত। দেশটিতে এসকিউএম ও আলবেমার্লে নামে দুটি কোম্পানি লিথিয়াম উৎপাদনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। খুব কম নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। বলিভিয়া সম্প্রতি একটি চীনা কোম্পানিকে নতুন এক প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন।

    আর্জেন্টিনার উৎপাদন বাড়বে মূলত দুটি প্রকল্প থেকে। একটি হলো মার্কিন প্রতিষ্ঠান লিভেন্ট-এর ফেনিক্স প্রকল্প, এটি কাটামার্কাতে অবস্থিত। অপরটি হলো জুজুয়তে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার অলকেম লিমিটেড-এর সালার ডে ওলারোজ খনি। উভয় খনিতে উৎপাদন আগামী বছরগুলোতে ৪১ হাজার ৫০০ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    এই দুটি প্রকল্পের সঙ্গে উৎপাদনে যোগ দেবে চীনের গানফেং লিথিয়াম কোম্পানি এবং কানাডার লিথিয়াম আমেরিকাস কর্প-এর প্রকল্প। ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই প্রকল্প দুটিতে ৪০ হাজার টন লিথিয়াম কার্বোনেট উৎপাদন হতে পারে।

    আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও চিলি সম্মিলিতভাবে বিশ্বের বৃহত্তম লিথিয়াম উৎপাদনকারী। কিন্তু উন্নয়ন নিয়ে দেশগুলোর পরিকল্পনা ভিন্ন।

    দ্য উইলসন সেন্টার-এর লাতিন আমেরিকা প্রোগ্রামের পরিচালক বেঞ্জামিন গেদান বলেন, আর্জেন্টিনার লিথিয়াম খাত বিকেন্দ্রীকরণ ও বাজারমুখী কৌশলের মাধ্যমে বিকশিত হচ্ছে। বিপরীতে বলিভিয়াতে রাষ্ট্রীয় কঠোর নিয়ন্ত্রণে খাতটি সংকুচিত হয়েছে। চিলি হয়ত মাঝামাঝি কোনও কৌশল পেয়েছে সরকারি-বেসরকারি মডেল হাজির করার মাধ্যমে। এর ফলে হয়ত নতুন লিথিয়াম প্রকল্পে সরকারের হাতে বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ থাকবে, কিন্তু বেসরকারি কোম্পানিগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেবে।

    রাষ্ট্রীয়করণের প্রবণতায় কর্মকর্তাদের মধ্যে অঞ্চলটিতে ওপেক ধাঁচের একটি লিথিয়াম কার্টেল গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় আসছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, খাতটির বৈচিত্র্যময় মডেল এবং উন্নয়নের এই মাত্রায় এটি অবাস্তব।

    মূল্যস্ফীতি ও পুঁজি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যে জটিলতাসহ অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। চলতি বছরের অক্টোবরে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। লিথিয়াম পাইপলাইন সম্ভবত দেশটিতে খাতটিকে আরও বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেবে। উৎপাদনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। তবে প্রতিবেশী চিলিকে ছাড়িয়ে যাওয়া হয়ত সম্ভব হবে না। তবে কিছু বিশ্লেষক উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করছেন।

    পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবিসিইবি-এর বিশ্লেষক নাতাশা ইজকুইয়ের্দো বলেন, বর্তমানে আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি লিথিয়াম উৎপাদন ও রফতানি করে চিলি। কিন্তু এখন যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে সেগুলো উৎপাদন শুরু করলে হয়ত চিলিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে দেশটি।

    সূত্র: রয়টার্স