Author: Hello Bangla News

  • কলাবাগান মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিলেন শেখ হাসিনা

    কলাবাগান মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিলেন শেখ হাসিনা

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ জানুয়ারি, ২০২৪: রাজধানীর কলাবাগান মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার (১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ১৭ মিনিটে মঞ্চে উপস্থিত হন তিনি। এসময় স্লোগান স্লোগানে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশের পতাকা হাতে স্লোগানের জবাব দেন তিনি। পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান পৃথকভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

    ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের নৌকার প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ আসনের নৌকার প্রার্থী নায়ক ফেরদৌস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস প্রমুখ।

    ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, “৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল। তারা ক্ষমতায় এসেছিল অস্ত্র হাতে নিয়ে। মানুষের ভাগ্য গড়েনি। এই দেশটাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়। যে জয় বাংলা স্লোগানে দেশের মানুষ তাজা রক্ত দিয়েছিল, সেটিও নিষিদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়ে দেয়।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেদিন বাংলাদেশে ফিরে আসি। আমার ফেলে রাখা আপনজনদের পাইনি। পেয়েছি, হাজার হাজার মানুষ। সেদিন ঘোষণা দিয়েছিলাম, এ বাংলাদেশের মানুষই আমার পরিবার। তাদের মধ্যেই আমি খুঁজে পাবো, বাবা-মা ভাইবোনের স্নেহ। হ্যাঁ, এটা পেয়েছি। একটা প্রত্যয় ছিল, সবার মুখে খাদ্য তুলে দেবো। কেউ গৃহহীন ভূমিহীন থাকবে না। সবাইকে উন্নত জীবন দেবো। ক্ষমতায় এসে সেই কাজ শুরুও করেছিলাম। কিন্তু গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিইনি বলে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি।”

    তিনি আরও বলেন, “তবে তাদের দুর্নীতির কারণে ২০০৮ সালে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা ২৩৩ আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছি। ২০১৩-১৪ সালে আগুনে মানুষ পুড়িয়েছে, কিন্তু নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। ২০১৮ সালে নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। তারেক জিয়া দেয় নমিনেশন, গুলশান থেকে ফখরুল দেয় নমিনেশন, পল্টন অফিস থেকে রিজভী দেয়। ওইভাবে নমিনেশন বিক্রির ফলে তাদের নির্বাচন ভেস্তে যায়।”

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “অথচ আওয়ামী লীগ ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য আমাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার সয়েছে, জেলে খেটেছে। এখন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করে দিয়েছে।”

    ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, “আজ আমাদের মাঝে দখিনের বাতাস হয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আমাকে এই মর্যাদাপূর্ণ ঢাকা-১০ আসনে মনোনীত করেছেন। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও এই ঢাকা আসনের মানসম্মান ধরে রাখবো।”

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “খেলা হবে, হবে খেলা, বিএনপি কোথায়? মাঠে আছে? কোথায় গেছে? পালিয়ে গেছে? খেলা থেকে বাদ, ফাউল করে লাল কার্ড খেয়েছে। লাল কার্ড খেয়ে ২৮ তারিখেই বাদ। ফাইনাল খেলা ৭ জানুয়ারি।”

    তিনি আরও বলেন, “এদেরকে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দিতে হবে। বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী, লুটতরাজ, দুর্নীতিবাজ ষড়যন্ত্রকারী। তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। যারা আমার প্রিয় জন্মভূমি পাকিস্তান বানাতে চায়, আফগানিস্তান বানাতে চায়, তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। খেলা হবে। জোরদার খেলা হবে। আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে খেলা হবে। লুটপাটের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে খেলা হবে, অবরোধের বিরুদ্ধে খেলা হবে।”

    গত বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্কমকর্তা সাবিরুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ জনসভার অনুমতি দেওয়া হয়।

  • নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই: সিইসি

    নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই: সিইসি

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ জানুয়ারি, ২০২৪: নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই, বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, “অনেকেই বলেন ওনারা (কমিশন) নির্বাচনটা তিনমাস পিছিয়ে দিলে ভালো হতো। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। নির্বাচন তিনমাস পিছিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই। অনেকে মনে করেন নির্বাচন কমিশন আসল ক্ষমতার অধিকারী। প্রয়োজনে তিনমাস তিন বছর বা ত্রিশ বছর পিছিয়ে দিতে পারে। এগুলো সত্য নয়। যারা রাজনীতিবিদ তারা অবশ্য অবহিত আছেন একটা নির্ধারিত সময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে পারে।”

    আজ সোমবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

    সিইসি বলেন, “আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি সুন্দর রাখতে হবে। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি বলেন, “যখনই নির্বাচনের প্রশ্নটা আসে অনেকেই এটাকে হালকা করে নেয়। এটা হালকা করে নেওয়ার বিষয় না। আমাদের কাজ কিন্তু সরকার গঠন করা নয়। আমাদের কাজটা খুব সীমিত, নির্বাচন আয়োজন করে দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার ব্যবস্থা করা।”

    একই দিনে ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, “সর্বোচ্চ দায়িত্বটা কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কখনোই তার একক শক্তিতে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে না। এ কারণেই সংবিধানে আরপিওয়ে সুষ্পষ্ট করে বলা আছে, নির্বাচন পরিচালনায় কমিশন যেভাবে চাইবে রাষ্ট্র বা সরকার তা দিতে বাধ্য।”

    তিনি আরও বলেন, “এরপরও এটা ঐতিহাসিক সত্য বাংলাদেশের নির্বাচনটা আজ অবধি একটি স্থিতিশীল অবস্থানে এসে থিতু হতে পারেনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ের নির্বাচন দেখেছি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে না বা হয় মোটামুটি যদি গ্রহণযোগ্য হয় সেটা নির্বাচন। কারণ নিরুঙ্কুশ অর্থে সামান্যতম অনিয়ম যে হবে না এটা কখনোই বলা যাবে না।”

    ২০১৪ সালের নির্বাচন সার্বজনীন হয়ে ওঠেনি উল্লেখ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “১৮ সালের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। পাবলিক পারসেপশনটা ইতিবাচক হয়নি। নির্বাচন শুধু সুষ্ঠু হলে হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, অবাধ হয়েছে— ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন সেটা বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। এই বিশ্বাসযোগ্যতা যদি না থাকে তাহলে পাবলিক পারসেপশন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের চেষ্টা করতে হবে যতদূর সম্ভব নির্বাচনটাকে দৃশ্যমানভাবে স্বচ্ছ করে তুলতে হবে। দৃশ্যমানতার মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে।”

    তিনি বলেন, “আমাদের চেষ্টা করতে হবে যতদূর সম্ভব নির্বাচনকে দৃশ্যমানভাবে স্বচ্ছ করে তুলতে হবে। দৃশ্যমানতার মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে।”

    সিইসি বলেন, “দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইন্টারন্যাশনাল ডাইমেনশন আছে। সেটাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছে দেখাতে হবে নির্বাচনটা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। সহিংসতাকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা উচিত না, এটা জনমনে ভীতির সৃষ্টি করে।

    দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটা অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের বিপক্ষে বক্তব্য রাখছেন। সেটা অসুবিধা নেই; তারা জনমত সৃষ্টি করতে পারেন। কিন্তু সহিংস পন্থায় যদি এটার বিরুদ্ধাচরণ করা হয় বা যারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তাদের যদি বাধা দেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই সংকট দেখা দেবে। সেই সংকট মোকাবিলা আমাদের করতে হবে। ”

    নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.), নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান।

  • বছরের শুরুতে নতুন বই পাচ্ছে ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী

    বছরের শুরুতে নতুন বই পাচ্ছে ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ জানুয়ারি, ২০২৪: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বছরের শুরুতে স্কুল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার রেওয়াজটি অভিনন্দনযোগ্য একটি ইভেন্ট। অর্থাৎ নতুন বছেরের প্রথম দিনেই কোমলমতি শিশুরা আকৃষ্ট হয় নতুন বইয়ের ঘ্রাণে। এটা তাদের জন্য একটি বিশেষ উপহার।

    আজ সোমবার (০১ জানুয়ারি) পাঠ্যপুস্তক বিতরণের মাধ্যমে ‘বই উৎসব’ উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড জানিয়েছে, তিন কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী পাবে বিনামূল্যে নতুন বই। বই উৎসবে মোট ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি বই বিতরণ করা হবে।

    নির্বাচনকালীন সরকারের সময়ে উৎসব হলেও কিছু নির্দেশনা মেনে বই বিতরণ করতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। গত ২৪ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এক চিঠিতে ১ জানুয়ারি বই উৎসবের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচনকালীন এ অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

    ইসির সম্মতিপত্রে উল্লেখ করা হয়, অন্যান্য বছরের ন্যায় ১লা জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে শিক্ষাবর্ষ শুরুর দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র দেশে নতুন পাঠ্যবই বিতরণ সংক্রান্ত ‘বই উৎসব’ সরকারের রুটিন কাজ।

    মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলে নিজ নিজ কর্মস্থলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যথানিয়মে বই বিতরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরুর সদয় সম্মতি প্রদান করলে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে বই উৎসব করা হচ্ছে।

    বই উৎসবে প্রাক-প্রাথমিক থেকে এসএসসি ও সমমান পর্যন্ত তিন কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই দেওয়া হবে।

    বই উৎসবে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রাক প্রাথমিকের ৩০ লাখ ৮০ হাজার ২০৫ জন, প্রাথমিক স্তরের এক কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৪ জন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৮৫ হাজার ৭২২ জন, ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৬০৮ জন, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির এক কোটি চার লাখ ৯০ হাজার ১০৭ জন, দাখিলের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৮ জন, ইংরেজি ভার্সন ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির এক লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৫ জন, কারিগরির ট্রেড বই ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির দুই লাখ ৭১ হাজার ৯৫২ জন, দাখিল ভোকেশনালের ছয় হাজার ১৫ জন ও ব্রেইল পদ্ধতির ৭২৪ জন; এই মোট তিন কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী পাবে বিনামূল্যে নতুন বই।

    বই উৎসবে মোট ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭ টি বই বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে শিক্ষক সহায়িকা রয়েছে ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৮টি।

    আজ সোমবার (১ জানুয়ারি) প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীর মাঝে নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম ‘বই বিতরণ উৎসব-২০২৪’ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মিরপুরের ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত।

    প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, “আমরা নতুন আঙ্গিকে, নতুন সম্ভাবনায়, নতুন উদ্দীপনায় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে নব উদ্যমে ২০২৪ সালে পদার্পণ করেছি। মুক্তির বিশাল ভুবনে নিজেকে আবিষ্কার করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার আলোয় সেটি সম্ভব। বর্তমান সরকার তাই শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।”

    তিনি বলেন, “অত্যন্ত স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য শারীরিক শিক্ষকদের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পদোন্নতি চালু করা হয়েছে। শিক্ষক ঘাটতির কারণে শিক্ষক নিয়োগের কাজ গ্রহণ করেছি। বিদ্যালয়কে শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য ঢাকা মহানগরের ৩৪২টি স্কুলকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য দশমাসব্যাপী যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে এই প্রশিক্ষণ শুরু করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা চাই।”

    জানা গেছে, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে এবার নতুন কারিকুলামে বই যাবে। এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরিতে দেরি হওয়ায় এই দুটি বইয়ের ছাপা কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। তাই এই দুটি শ্রেণির বই পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই প্রায় শতভাগ উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিকের কোনো শিক্ষার্থী হয়ত দুই শ্রেণির বই পাবে না, কিন্তু একদম খালি হাতে ফিরে যাবে না।

    এরআগে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন তিনি।

    এ সময় সেখানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জানুয়ারি প্রথম মাস হওয়ার ইতিহাস রোমানদের থেকে এসেছে

    জানুয়ারি প্রথম মাস হওয়ার ইতিহাস রোমানদের থেকে এসেছে

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১ জানুয়ারি, ২০২৪: আজ সারা বিশ্বে জানুয়ারির ১ দিনটিকে নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। অতীতে তা ছিলো না। কিন্তু আমরা কি জানি কেন পহেলা জানুয়ারি বছরের প্রথম দিন?

    এর আগে এক সময় ২৫শে মার্চ, আবার ২৫শে ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন তারিখে বছরের শুরু ধরা হতো। মূলত রোমান পেগান উৎসব এবং দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার যে ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা চালু করেছিলেন তার সূত্র ধরে।

    ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডায়ানা স্পেনসার ব্যাখ্যা বলেন, “জানুসের দুটি মুখের একটি সামনের দিকে এবং আরকটি পিছনের দিকে ঘোরানো।”

    সামনের মুখটি দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এবং পেছনের মুখটি অতীতের দিকে ফেরানোকে নির্দেশ করে। জানুয়ারি বছরের প্রথম মাস হওয়ার পেছনে অতীত এবং ভবিষ্যৎ – উভয় দিকে তাকানোর একটা সম্পর্ক আছে।

    “সুতরাং যদি বছরের মধ্যে একটা সময় আসে যখন আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে ‘এটাই আবার শুরু করার সময়’, সেক্ষেত্রে জানুয়ারি প্রথম মাস হওয়াটা যৌক্তিক।”

    আবার ইউরোপে এটি এমন এক সময় যখন শীতকালের পরের দিনগুলো দীর্ঘ হতে শুরু করে।

    অধ্যাপক স্পেন্সার বলেছেন, “এটি রোমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল, কারণ এটি সেই ভয়ানক ছোট দিনগুলোর পরে আসতো, যখন পৃথিবী ছিল অন্ধকার, হীম শীতল এবং যখন ঠান্ডার কারণে কোন ফসল ফলত না৷”

    কেননা, বছরের দীর্ঘতম রাত ২২শে ডিসেম্বর থেকে ক্রমে দিন বড় হতে থাকে, আর জানুয়ারির শুরু থেকে দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যায় সূর্যের দক্ষিণায়নের ফলে। এ কারণে অধ্যাপক স্পেন্সারের মতে “জানুয়ারি এক ধরণের বিরতি এবং প্রতিফলনের সময়কাল।”

     

    সেসময় রোমানরা যতো বেশি ক্ষমতা অর্জন করতে শুরু করে, তারা নিজেদের বিশাল সাম্রাজ্য জুড়ে নিজেদের ক্যালেন্ডার ছড়িয়ে দিতে শুরু করে। কিন্তু মধ্যযুগে, রোমের পতনের পরে, খ্রিস্টধর্ম নিজেদের দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে এবং তারা দাবি করে যে পহেলা জানুয়ারি পেগানদের তারিখ।

    অনেক দেশে যেখানে খ্রিস্টধর্মের আধিপত্য ছিল, তারা ২৫শে মার্চকে নতুন বছরের শুরু হিসাবে উদযাপন করতে চেয়েছিল। কারণ তাদের মতে, সেই দিনটি ছিল যখন দেবদূত গ্যাব্রিয়েল, ভার্জিন মেরির কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন। স্পেন্সার বলেছেন, “যদিও খ্রিস্টের জন্মের সময় ক্রিসমাস হয়, কিন্তু খ্রিস্টের এ জন্মের ঘোষণাটি মেরির কাছে আরও আগে আসে যে, তিনি ঈশ্বরের এক নতুন অবতারের জন্ম দিতে চলেছেন।”

    “সেই মুহূর্ত থেকে যেহেতু খ্রিস্টের গল্পের শুরু হয়েছে, তাই ২৫শে মার্চ থেকে নতুন বছর শুরু হওয়াকে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ভাবা হয়।”

     

    যেভাবে বছরের প্রথম দিন হলো পহেলা জানুয়ারি:

    ষোড়শ শতকে, পোপ গ্রেগরি ত্রয়োদশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন এবং ক্যাথলিক দেশগুলিতে ওই সময় থেকে পহেলা জানুয়ারিকে নতুন বছরের শুরু হিসাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। আমরা এখন যে ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি বা যেটি ইংরেজি বর্ষপঞ্জি হিসেবে চেনেন অনেকে, সেটাই ‘গ্রেগরিয়ান’ ক্যালেন্ডার।

    ইতালি, স্পেন এবং পর্তুগালের মতো ক্যাথলিক দেশগুলো তখন দ্রুতই এই নতুন ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে। তবে প্রোটেস্ট্যান্ট এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টান প্রধান দেশগুলো এটি বেশ দেরিতে গ্রহণ করে।

    ইংল্যান্ড, যে দেশটি পোপের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়কে গ্রহণ করেছিল, তারা ১৭৫২ সালের আগ পর্যন্ত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করেনি। এর আগ পর্যন্ত তারা ২৫ মার্চকেই নববর্ষের প্রথম দিন হিসেবে উদযাপন করতো। সে বছর ব্রিটেনের পার্লামেন্টের একটি আইন ব্রিটিশদের ইউরোপের বাকি অংশের সাথে একীভূত করেছিল।

    এর আগে ১৬৯৯ সালে জার্মানির বিভিন্ন প্রোটেস্ট্যান্ট অধ্যুষিত রাজ্যগুলো নতুন এই বর্ষপঞ্জি গ্রহণ করে। ব্রিটেনের পর ১৭৫৩ সালে সুইডেন, ১৮৭৩ সালে জাপান, ১৯১২ সালে চীন, ১৯১৮ সালে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং ইউরোপের সবশেষ দেশ হিসেবে গ্রীস ১৯২৩ সালে এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খ্রিস্টান প্রধান নয় এমন দেশও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে শুরু করে।

    বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে, আর ঠিক এই কারণেই আমরা প্রতি বছরের পহেলা জানুয়ারি সারা বিশ্বে আতশবাজি পোড়ানোর উদযাপন দেখি।

     

    গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের আগে প্রচলিত ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। রোমান শাসক জুলিয়াস সিজার প্রথম শতকে ওই বর্ষপঞ্জি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যেখানে বছরের সময়কাল ১১ সেকেন্ড বেশি স্থায়ী হয়। সেইসাথে দেখা যায় ক্যালেন্ডারটিতে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ সংক্রান্ত কিছু ভুল গণনা ছিল।

    যে কারণে প্রায়শই ঋতুর সঙ্গে এর বিচ্যুতি ঘটতো। ফলে বার বার সংশোধন করতে হতো। হিসাবে এই ভুলের কারণে পরের কয়েক শতক ভুল সময়ে পালিত হয় অনেক উৎসব। বিশেষ করে ‘ইস্টার’-এর তারিখ নির্ধারণে সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়ায় সেসময় এই ক্যালেন্ডারের কিছু পরিবর্তন অত্যাবশ্যক হয়ে উঠে।

    ফলস্বরূপ জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন এবং প্রতিস্থাপন হিসেবে চালু করা হয় বর্তমানের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারটি। সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিভ্রমণে ৩৬৫ দিন, পাঁচ ঘন্টা, ৪৮ মিনিট এবং ৪৫ দশমিক দুই পাঁচ সেকেন্ড সময় লাগে। বছর এবং দিন তারিখের হিসাব এই পরিভ্রমণের সময়কালকে ঘিরেই নির্ধারণ করা হয়।

    বিশ্বকোষ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনুসারে, নতুন এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ৩৬৫ দিনে এক বছর গণনা করা হয়। বাকি যে ঘণ্টা, মিনিট ও সেকেন্ড থাকে সেগুলোকে ভারসাম্যে আনতে প্রতি চার বছর পর পর লিপ ইয়ার থাকে, যেখানে প্রতি চার বছরে একদিন বেড়ে যায়।

    মূলত জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ভুল গণনা সংশোধন বা ঠিক করার জন্য, জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার ক্ল্যাভিয়াসকে একটি নতুন ক্যালেন্ডার ডিজাইন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

    পরে জ্যোতির্বিজ্ঞানী লুইগি লিলিওর (অ্যালোসিয়াস লিলিয়াস) সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি হয় নতুন ক্যালেন্ডার, যা পরবর্তীতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার হিসাবে পরিচিতি পায়। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি চতুর্থ বছর একটি অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার হবে। কিন্তু বেজোড় শতকের বছর অর্থাৎ যেসব বছর ৪০০ দ্বারা বিভাজ্য নয়, সেগুলোকে এই পদ্ধতিতে ছাড় দেওয়া হয়।

    যেমন ১৬০০, ২০০০, ২৪০০ সালগুলো লিপ ইয়ার ছিল। কিন্তু, ১৭০০, ১৮০০, এবং ১৯০০ বছর লিপ ইয়ারের তালিকা থেকে বাদ যায়। আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংশোধনী আনা হয় ১৫৮২ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি। পোপের শাসনে এই সংশোধনী গৃহীত হলেও, একে ঘিরে ধর্মীয় নেতা এবং পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছিল তখন।

    বিশেষ করে প্রোটেস্ট্যান্ট দেশগুলো নতুন ক্যালেন্ডারকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

     

    সার্বজনীন হয়েছে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি:

    গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে বড় দিক হল এটি সর্বজনীন, যেখানে তারিখগুলো কখনই দিন পরিবর্তন করে না। তবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে, এমন অনেক দেশেরই তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যগত বা ধর্মীয় ক্যালেন্ডারও রয়েছে। যেমন, বাংলাদেশের নিজস্ব বাংলা ১২ মাসের পঞ্জিকা রয়েছে। দেশটি ১৪শ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিবছর এপ্রিলের মাঝামাঝি বাংলা নববর্ষ পালন করে আসছে।

    একইভাবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মিয়নামার এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া ১৯১২ সালে চীন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করলেও তাদের নিজস্ব চন্দ্র বর্ষপঞ্জিও অনুসরণ করে এবং প্রতি বছর চীনসহ বিভিন্ন দেশে চীনা নববর্ষ উদযাপন অব্যাহত রেখেছে।

    আবার ইথিওপিয়ার বাসিন্দারা সেপ্টেম্বর মাসে এনকুটাটাশ নামে নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী নববর্ষ উদযাপন করে।

    অন্যদিকে, মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোয় হিজরি নববর্ষ পালন হয়।

    তবে, ঠিক এই মূহুর্তে অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিক যোগাযোগে দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনে পৃথিবী জুড়ে মূলত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেই ক্যালেন্ডার হিসেবে আমরা ১লা জানুয়ারি বৎসরের প্রথম দিন হিসেবে পালন করি এবং ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ হচ্ছে বছরের শেষ দিন।

    চার বছর পর পর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিন ধরা হয়। একে বলা হয় লিপ-ইয়ার। আর এভাবেই তা সর্বজনীন হয়ে উঠেছে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেট ওয়ানডে দলে  ভারতের সাতজন

    উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেট ওয়ানডে দলে ভারতের সাতজন

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১ জানুয়ারি, ২০২৪: গত এক বছর পরফরম্যান্সের বিচারে উইজডেনের বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশে ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ভারতের ৭ জন জায়গা পেয়েছে। ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইজডেন প্রকাশ করেছে এই একাদশ। যেখানে ভারতের বাইরে সর্বোচ্চ দুজন জায়গা পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। আর একজন করে জায়গা পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে থেকে কেউ উইজডেনের একাদশে স্থান পায়নি। দলের অধিনায়ক হিসেবে আছেন রোহিত শর্মা।

    বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত লিগ পর্বের সব ম্যাচ ও সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে দেয় ভারতকে। দলগত সাফল্যের বিচারে ভারত এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে যাওয়াটা সত্যি দুঃখজনক।

     

    উইজডেনের বর্ষসেরা একাদশে যারা স্থান করে নিয়েছে:

     

    রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), ভারত

    ম্যাচ: ২৭, রান: ১২৫৫, গড়: ৫২.২৯

    পুরো বছরে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ভারতের শুভমান গিল। কিন্তু গিলের চেয়ে রোহিতই এবার আলোচনায় ছিলেন বেশি। দীর্ঘদিনের চেনা ধারা ছেড়ে এবার আক্রমণাত্মক ক্রিকেটেই বেশি মন দিয়েছিলেন তিনি। মূলত বিশ্বকাপেই দেখা গিয়েছে তার এমন রূপ। দলকেও নেতৃত্ব দিয়েছেন সমানতালে। সবমিলিয়ে তাকে রাখতেই হয়েছে এই একাদশে।

     

    ট্রাভিস হেড, অস্ট্রেলিয়া

    ম্যাচ: ১৩, রান: ৫৭০, গড়: ৫১.৮১

    পুরো বছরে অস্ট্রেলিয়ার ২২ ওয়ানডের ১৩টিতে খেলেছেন। তবে নিজেকে চেনাতে যেন অতটুকুই যথেষ্ট ছিল হেডের জন্য। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে ভুগিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। ফর্মে থাকা অবস্থায় পড়েন চোটে। তবে তাকে নিয়েই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টের মাঝপথে এসে হেড দিলেন সেই আস্থার প্রতিদান। প্রথম ম্যাচেই খেলেন তিন অঙ্কের ইনিংস। এরপর সেমিফাইনাল এবং ফাইনালেও ম্যান অভ দ্য ম্যাচ হয়েছেন তার অদাধারণ ব্যাটিং এর জন্য।

     

    বিরাট কোহলি, ভারত

    ম্যাচ: ২৭, রান: ১৩৭৭, গড়: ৭২.৪৭

    বর্ষসেরার দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার ভোট পেয়েছেন বিরাট কোহলি। ২০২৩ সালে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন। শচীন টেন্ডুলকারের ৪৯ শতকের রেকর্ড ভেঙে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ শতকের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। কাটিয়েছেন স্বপ্নের মত এক বছর। বিশ্বকাপেও ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। সেটাও এক আসরে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড করে।

     

    ড্যারিল মিচেল, নিউজিল্যান্ড

    ম্যাচ: ২৬, রান: ১২০৪, গড়: ৫২.৩৪, উইকেট: ৫।

    বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে শতক করেছেন নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল। সেটাও আবার দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতের বিপক্ষে। রান পেয়েছেন সারাবছরই। বছরজুড়ে ৫টি শতক করা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বল হাতেও কাজ চালিয়ে নিতে পারেন। উইকেট নিয়েছেন ৫টি।

     

    আইনরিখ ক্লাসেন (উইকেটরক্ষক), দক্ষিণ আফ্রিকা

    ম্যাচ: ২৪, রান: ৯২৭, গড়: ৪৬.৩৫

    ব্যাট হাতে বিস্ফোরক ইনিংস দিয়ে বছরজুড়ে আলো কেড়েছেন আইনরিখ ক্লাসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ক্রিকেটার উইকেটের পেছনেও বিশ্বস্ত। উইজডেনের বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে ক্লাসেনই জায়গা করে নিয়েছেন।

     

    গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অস্ট্রেলিয়া

    ম্যাচ: ১১, রান: ৪১৩, গড়: ৫১.৬২

    বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি ইনিংস খেলেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ক্র্যাম্প করার পর এক পায়ে ভর করে অপরাজিত দ্বিশতক করে একাই ম্যাচ জিতিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াকে। এ ছাড়া বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি। বল হাতেও বেশ কার্যকর তিনি।

     

    রবীন্দ্র জাদেজা, ভারত

    ম্যাচ: ২৬, উইকেট: ৩১, রান: ৩০৯

    মূলত বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবেই এই দলে আছেন জাদেজা। তবে দরকারে ব্যাট হাতেও ভারতের জন্য বছরের অন্যতম ভরসা ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। যদিও জাদেজার বড় শক্তির জায়গা তার স্পিন। ২৬ ম্যাচে পেয়েছেন ৩১ উইকেট।

     

    মোহাম্মদ শামি, ভারত

    ম্যাচ: ১৯, উইকেট: ৪৩, ইকোনমি: ৫.৩২

    বিরাট কোহলির পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে সবার ভোট নিয়ে বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে ঢুকেছেন শামি। বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম পছন্দের একাদশে ছিলেন না তিনি। হার্দিক পান্ডিয়া চোটে ছিটকে যাওয়ার পর দলে এসেই নিয়েছেন ৫ উইকেট। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটসহ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৪ উইকেট নেন শামি।

     

    জাসপ্রিত বুমরা, ভারত

    ম্যাচ: ১৭, উইকেট: ২৮, ইকোনমি: ৪.৪০

    নতুন বলে সুইং, মাঝের বোলিংয়ে উইকেট এনে দেওয়া আর ডেথ বোলিংয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এর সবই ছিল বুমরাহ এর কাছে।  ২০২৩ সালে ইনজুরি থাকলেও ফিরে এসে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন ভালোভাবেই।

     

    কুলদীপ যাদব, ভারত

    ম্যাচ: ৩০, উইকেট: ৪৯, ইকোনমি: ৪.৬১

    ওয়ানডেতে মাঝের ওভারে ভারতের জন্য বোলিংয়ে স্বস্তির নাম ছিলেন  কুলদীপ যাদব। এই চায়নাম্যান বোলার রান আটকেছেন, উইকেটও নিয়েছেন।

     

    মোহাম্মদ সিরাজ, ভারত

    ম্যাচ: ২৫, উইকেট: ৪৪, ইকোনমি: ৫.২৮

    এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন সিরাজ।  একই দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপেও নেন ১৬ রানে ৩ উইকেট। বুমরাহ আর শামির সঙ্গে সিরাজের গড়া পেস বোলিং অ্যাটাক যেকোন দলকেই ভড়কে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

     

    উইজডেনের ২০২৩ বর্ষসেরা ওয়ানডে দল

    রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), ট্রাভিস হেড, বিরাট কোহলি, ড্যারিল মিচেল, আইনরিখ ক্লাসেন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, রবীন্দ্র জাদেজা, মোহাম্মদ শামি, জাসপ্রীত বুমরা, কুলদীপ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ।

  • ২০২৪ সালে নতুন বছরের মহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    ২০২৪ সালে নতুন বছরের মহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ জানুয়ারি, ২০২৪: ডেঙ্গু, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, রাজনৈতিক নানা অস্থিরতার মতো জাতীয় সমস্যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমস্যার মধ্যে ছিলো করোনা মহামারির প্রভাব, অর্থনৈতিক সংকট,  ইউক্রেন যুদ্ধ ও সবশেষে গাজায় যুদ্ধের সংকটকে পাশ কাটিয়ে আমরা ২০২৪ সালের নতুন বছরে যাত্রা শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন বছর উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, “আজ আমরা যে সময়কে পেছনে ফেলে নতুন দিনের আলোয় উদ্ভাসিত হতে যাচ্ছি, সে সময়ের যাবতীয় অর্জন আমাদের সম্মুখ যাত্রার শক্তিশালী সোপান হিসেবে কাজ করছে। তাই নতুন বছরের এই মাহেন্দ্রক্ষণ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নতির নতুন শিখরে আরোহণের সোপান রচনা করার অনুপ্রেরণা।”

    নতুন বছর-২০২৪ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, “নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো জোরদার হোক, সকল সংকট দূরীভূত হোক, সকল সংকীর্ণতা পরাভূত হোক এবং সকলের জীবনে আসুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এই প্রার্থনা করি।”

    ২০২৩ সাল বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের এক স্বর্ণযুগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা গত ২০২২ সালের ২৫ জুন নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সেতুতে রেল যোগাযোগের শুভ উদ্বোধন করেছি। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা-আগারগাঁও রুটে মেট্রোরেল চালুর পর ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল সেবা সম্প্রসারণ করেছি।”

    আমাদের অন্যান্য মেগা ও মাঝারিসহ সকল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু করেছি। ৫ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ করেছি। ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারকারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ৭ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং ১৯ অক্টোবর দেশের ৩৯টি জেলায় ১৫০টি সেতু এবং ১৪টি ওভারপাস একসাথে উদ্বোধন করেছি। ২৮ অক্টোবর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছি। ১১ নভেম্বর দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঢাকা-কক্সবাজার সরাসরি রেল চালু করেছি।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে। আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচন হতে পরপর তিন দফা জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে গত ১৫ বছরে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছি।”

    তিনি বলেন, “করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের অর্থনীতিও কিছুটা মন্থর হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ ও পাল্টা অবরোধ সারা পৃথিবীতে নিরীহ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এরই মধ্যে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারই দেশের যেকোনো সংকট আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে ছিটমহল বিনিময় করেছি। মিয়ানমারে গণহত্যা থেকে আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দেশের ৩৩টি জেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেছি। শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছি। প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনামূল্যে ৩০ প্রকারের ঔষধ দিচ্ছি। ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করেছি। ২ কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছি।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চারটি ক্যাটেগরিতে ১০ কোটি মানুষের জন্য সার্বজনীন পেনশন চালু করেছি। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দিচ্ছে। এই বই উৎসব বাংলাদেশে ইংরেজি নববর্ষ উদ্যাপনের ক্ষেত্রেও এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।”

    ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টি করছি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছি। ২০২১ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের সময় জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ ঘোষণা করেছে। আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয় এবং জনগণের মঙ্গল হয়। কারণ, একমাত্র আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার সুমহান আদর্শকে ধারণ করে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে।”

    দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  “আসুন আমরা মানুষের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি, অগ্নিসন্ত্রাস প্রতিহত করে মানুষের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করি এবং সর্বোপরি গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলি।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের মহান নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। স্বাধীনতা অর্জনের পর মাত্র নয় মাসেই তিনি আমাদের একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন।”

    তিনি বলেন, “১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ৭ এপ্রিল প্রথম অধিবেশন বসেছিল। ২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল মহান জাতীয় সংসদের ৫০ বছরপূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ২২তম/বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই অধিবেশনে আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শূন্য হাতে সদ্যস্বাধীন দেশকে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে টেনে তুলেছিলেন। তখন ব্যাংকে কোন রিজার্ভ মানি ছিল না, কোনো কারেন্সি নোট ছিল না। সেই অবস্থায় গণতন্ত্রের মজবুত ভিত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছিলেন।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকার গঠনের পর ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেছিলেন এবং জাতিসংঘ  সেই স্বীকৃতি দিয়েছিল।”

    সূত্র: বাসস

  • পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩: ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আজ রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন তিনি।

    শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে নতুন বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়তে চাই। একমাত্র শিক্ষাই পারে। শিক্ষিত জাতি ছাড়া দারিদ্র্যমুক্ত হয় না। এজন্য আমরা শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা বাজেটেও বেশি টাকা রাখি। সেটাকে বহুমুখী করার ব্যবস্থাটা করে দিচ্ছি।”

    নিয়ম অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে কেন্দ্রীয় পাঠ্যবই উৎসব উদযাপন করবে।

    জানা গেছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৪ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মধ্যে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি পাঠ্যবই ও শিক্ষক সহায়িকা (টিজি) বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ লাখ ৮০ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী পাবে ৬১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৮টি পাঠ্যবই। প্রাথমিকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৪ জনকে দেওয়া হবে ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার ৬৯৭ পাঠ্যবই। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৮৫ হাজার ৭২২ শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৩১টি বই। এ ছাড়া মাদ্রাসার ইবতেদায়ি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৬০৮ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ২ কোটি ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৭৬ পাঠ্যবই।

    মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার ১০৭ শিক্ষার্থী পাবে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৭ পাঠ্যবই। মাদ্রাসার ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৮ জনের মাঝে বিতরণ করা হবে ৪ কোটি ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪২টি পাঠ্যবই।

    এ ছাড়া ইংরেজি ভার্সনের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৫ শিক্ষার্থী ১১ লাখ ৭২ হাজার ৫৭টি, কারিগরিতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৪ শিক্ষার্থী ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭০২টি, এসএসসি ভোকেশনালের ৬ হাজার ১৫ শিক্ষার্থী ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৫ পাঠ্যবই এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ৭২৮টি বই। শিক্ষকদের জন্য সহায়িকা দেওয়া হবে ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৮টি।

     

  • নির্বাচন ইন্টারন্যাশনাল ডাইমেনশন পেয়েছে: সিইসি

    নির্বাচন ইন্টারন্যাশনাল ডাইমেনশন পেয়েছে: সিইসি

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩: নির্বাচন ইন্টারন্যাশনাল ডাইমেনশন পেয়েছে, বলে জনিয়েছেন্ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, “আমরা জাতিসংঘের সদস্য। পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র, তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। সরকার এবং আমাদের সঙ্গে তারা বারবার সাক্ষাত করছেন। তাদের প্রত্যাশা তারা ব্যক্ত করেছেন, তারা আশা করেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠু হবে। তারা যখন আশা করেন, বুঝতে হবে খুব শক্তভাবেই আশা করেন। তাদের আশাটা অন্যায় নয়। আমরা যেহেতু গ্লোবাল কমিউনিটিতে বসবাস করি। আমরা গ্লোবাল কমিউনিটির সদস্য।”

    আজ রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্যে তিনি এই বক্তব্য দেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, “সংসদ নির্বাচনে ২ হাজারের মতো অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে। এবারে নির্বাচনের আন্তর্জাতিক ডাইমেশনটা দেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্বার্থে আমাদের মাথায় রাখতে হবে। কোনো রকম যদি অনাচার ধরা পড়ে, সেটা অবশ্যই ক্ষমতা দিয়ে প্রতিবিধান করবেন।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র। প্রজাতন্ত্র মানে হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হবে। নির্বাচনে যারা সংসদে বসবেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ যারা তারাই সংবিধান গঠন করবেন। নির্বাচন আমাদের দ্বারপ্রান্তে। নির্বাচন নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের যেমন বাগবিতণ্ডা হচ্ছে, সহিংসতাও হয়েছে। আমাদের নির্বাচনে আরেকটি কারণে মনোযোগী হতে হবে, কারণ রাজনৈতিক একটা অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে। সাধারণত নির্বাচন খুব উৎসবমুখর হয়।”

    সিইসি বলেন, “১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময় নির্বাচনটা পরিচালনা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে নির্বাচনে মুসলীম লীগের ভরাডুবি হয়েছিল। অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এরপর সব সময়ই নির্বাচন উৎসমুখর হয়েছে। সে বিষয়টা এবার বিঘ্নিত হয়েছে, যেহেতু একটা অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে। ১৪ সালে নির্বাচন বর্জন হয়েছিল, সহিংসতা হয়েছিল। সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ, আপনারা জানেন। ১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও কিছু বিতর্ক হয়েছে। নির্বাচন সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক ছিল। কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না। পরবর্তীতে সেটা নিয়ে কিছু বিতর্ক হয়েছে। যার ফলে আমাদের দেশে প্রচলিত যে নির্বাচনটা নিয়ে সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।”

    কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “এবারের নির্বাচনটা যে কোনো মূল্যে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে একটি সরকার তার দায়িত্বে থেকে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে, নির্বাচন কমিশন ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডি, সরকার সেখানে সাংবিধানিকভাবে সাহায্য করতে বাধ্য। আবার সরকারের সহায়তা ছাড়া আমরা নির্বাচন করতে পারি না। ১৬ লাখ লোক ভোটের কাজে নিয়োজিত হবে। এতে আট লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আট লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।”

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, “নির্বাচনে নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হতে হবে। সেখানে আপনাদের যে দায়িত্বটা, সেটা আপনারা খুব স্পষ্টভাবে বুঝে নেবেন। যে দায়িত্বটা আরোপ করা হবে, সে দায়িত্বটা যদি ভালোভাবে বুঝে নেন, তাহলে দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগে অনেক বেশি দক্ষ হবেন।”

    তিনি বলেন, “নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেটে দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে ভোটের দিন, ভোটের আগে আচরণ বিধি প্রতিপালনে কিছু অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা হয়। যেমন সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়া, কেন্দ্র দখল হয়ে যাওয়া, এতে ভোটাররা ভোটটাকে প্রত্যাখ্যান করেন। আপনাদের  দায়িত্ব হচ্ছে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আস্থা, বিশ্বাস গড়ে তুলবে হবে যে, নির্বাচনের পরিবেশ আছে, আপনারা নির্ভয়ে ভোটা দিতে পারবেন।”

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, “কোনো অবাঞ্ছিত লোককে কেন্দ্রে ঢুকতে দেবেন না। গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকরা অবাধে প্রবেশ করতে পারবেন। তারা স্বাধীনভাবে প্রবেশ করে অবাধে বিচরণ ও প্রচার করতে পারবে।”

  • মেট্রোরেলের কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ স্টেশন খুলেছে আজ

    মেট্রোরেলের কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ স্টেশন খুলেছে আজ

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩: মেট্রোরেল রাজধানীবাসীর জীবনের গতি নিয়ে এসেছে। দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল এই রুটের গণপরিবহনের যাত্রীদের এখন ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েনা। মেট্রোরেল খুব সহজে অল্প সময়ে পৌঁছে দিচ্ছে গন্তব্যে। প্রাথমিক পর্যায়ে সব স্ট্রেশন চালু করা সম্ভব হয়নি।

    মেট্রোরেলের কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ স্টেশনের মধ্যে দিয়ে খুলেছে আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের সব স্টেশন।

    আজ রবিবার  (৩১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে মেট্রোরেলের এই দুই স্টেশনে যাত্রী চলাচল শুরু করে।

    এর মাধ্যমে এমআরটি ৬ লাইনের দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬ স্টেশনই চালু হলো।

    এর আগে ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ও ১৪তম স্টেশন হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজয় সরণি চালু হয়। বছরের শেষ দিনে চালু হলো আরও দুটি স্টেশন।

    আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মেট্রোরেল খোলা থাকবে। আর উত্তরা- আগারগাঁও অংশে ট্রেন চলছে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত।

    ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল)  ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ৩১ ডিসেম্বর থার্টিফার্স্ট নাইটে এবং ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে মেট্রোরেলের রুট অ্যালাইনমেন্টের এক কিলোমিটারের মধ্যে ফানুস না ওড়ানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

  • ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি

    ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩: ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাতা এবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এই তাপমাত্রা। শুধু তাই নয় এই তাপমাত্রার কারণে মৃত্যুর মত ঘটনাও ঘটেছে। আর তাই এখনই যদি কিছু করা না হয়, তাহলে তাপপ্রবাহের ফলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ প্রতি বছর ৯০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে ইউরোপীয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি (ইইএ) জানিয়েছে।

    ইউরোপীয় জলবায়ু পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র কোপার্নিকাসের হিসেব অনুযায়ী এ বছরের ৬ই জুলাই গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ছিল ১৭.০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ইতিহাসে এই প্রথম গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির ওপর উঠেছে।

    এবার তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা পার করেছে ইউরোপ-আমেরিকার কিছু অঞ্চল যেখানে মানুষ শীতের সাথে বেশি অভ্যস্ত। ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা ঘটেছে কানাডা, গ্রীস, চিলি, আমেরিকার হাওয়াইয়ের একটি দ্বীপে।

    ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা উচ্চতম রেকর্ড ছুঁয়েছে যার একটা প্রধান কারণ ছিল ‘এল নিনো’ নামে প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র।

    অতি উত্তপ্ত এই বিশ্ব আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    বিশ্বে অধিকতা পমাত্রার ফলে একদিকে যেমন ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে অপরদি ভূপৃষ্ঠের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে বিপদ কমছেনা। বিশ্বে বাড়ছে ক্ষুধা ও মৃত্যু।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা