www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৬ জানুয়ারি, ২০২৪: বলিউযে যে সব পরিবার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সফলতার সঙ্গে পদচারনা করেছে বা এখনও করছে তাদের মধ্যে অন্যতম কাপুর পরিবার, সেলিম খান পরিবার, অমিতাভ বচ্চন পরিবার, সাইফ আলী খান পরিবার এবং শাহরুখ খান পরিবার। এই পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বলিউডে রাজত্ব করছে এবং একটি পরিবারিক ঐতিহ্য বজায় রেখে নিজের সম্পদের পরিমান একটা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
কিন্তু এই সব পরিবাগুলোর থেকে সবচেয়ে সফল এবং ধনী পরিবার বলা হচ্ছে সেলিম খানের পরিবারকে। জানা গেছে বলিউডের সেলিম খানের পরিবার বহু বছর ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয়। সেলিম খান দিয়ে শুরু হওয়া বলিউডে তাদের যাত্রা এখন তৃতীয় প্রজন্মে পৌঁছেছে। সালমান খানের বাবা সেলিম খান বলিউডের একজন বিখ্যাত লেখক যার কলম থেকে অনেক হিট ছবির গল্প এসেছে।
সেলিম খান “সরহদি লুটেরা” চলচ্চিত্রটি নির্মানের সময় প্রথমবারের মত জাভেদ আখতারের সাথে কথা হয়। সেলিম ছোট চরিত্রে অভিনয় করা একজন অভিনেতা ছিলেন এবং সরহদি লুটেরা চলচ্চিত্রটি ছিল তার সর্বশেষ অভিনীতি চলচ্চিত্র। প্রাথমিকভাবে ১৯৭০ দশকের সময়ে মানুষের চিত্রনাট্য, গল্প এবং সংলাপে কৃতিত্ব দেখানোর মত কোন ধারণা ছিলনা। রাজেশ খান্না সর্বপ্রথম সেলিম খান এবং জাভেদ আখতারকে “হাতি মেরে সাথি” নামের চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্য লেখক হিসেবে সুযোগ দেন। এছাড়াও তাদের ব্যবসাসফল জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে: ইয়াদো কি বারাত (১৯৭৩), জাঞ্জির (১৯৭৩), হাত কি সাফাই (১৯৭৪), দিওয়ার (১৯৭৫), শোলে (১৯৭৫), প্রেমাদা কান্নিকি, চাচা ভাতিজা (১৯৭৭), ডন (১৯৭৮), ত্রিশূল (১৯৭৮), মনুশুলু চেছিনা দঙ্গালু, যুগনধার, দোস্তানা (১৯৮০), ক্রান্তি (১৯৮১), জামানা (১৯৮৫) এবং মি. ইন্ডিয়া (১৯৮৭)।তারা একত্রে প্রায় ২৪টির মত চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। এর মধ্যে চলচ্চিত্রের মধ্যে ২০টি ব্যবসাফল হিট ছবি। পরে অবশ্য দুই বন্ধু আলাদা হয়ে কাজ শুরু করে। সেলিম খান জাভেদ আক্তারের সাথে আলাদা হওয়ার পরে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কোন চলচ্চিত্রের সাথে সক্রিয় ছিলেন না। তিনি ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মাত্র ১০টি চলচ্চিত্রের জন্য স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন। জাভেদ আক্তারের সাথে বিভক্তির পর তার লেখা স্ক্রিপ্টগুলি হল নাম, কবজা, তুফান, জুর্ম, আকায়লা, পাথ্তার কি ফুল, মাস্ত কালেন্দার, আ গালে লাগ জা, মাজদাহার, দিল তেরা দিওয়ানা (১৯৯৬)। সালমান খান পাত্থার কি ফুল এবং মাঝদার চলচ্চিত্রে তার পিতা সাথে কাজ করেন। এর পরে নায়ক হিসেবে সালানের উত্তরণ ঘটে এবং এখনও তা বহাল আছে।
সুতরাং, এটা সুস্পষ্ট যে শিল্পে এই ধরনের একটি সফল পরিবারও অর্ধেক পরিমাণ সম্পদ ভোগ করবে। আজ, আমরা আপনাকে এই পরিবারের মোট সম্পদ সম্পর্কে বলব। আপনি জেনে আরও অবাক হবেন যে সালমান খান একাই তার দুই ভাইয়ের মোট সম্পদের চেয়ে বেশি।
খান পরিবারের নামে নথিভুক্ত সম্পত্তির ৫০ শতাংশের একক মালিক সালমান খান। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সালমান খানের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২০০০ কোটি রুপি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সঠিকভাবে গণনা করলে, সালমান খানের সম্পদ দাঁড়াবে ২৯১৬কোটি রুপি। এই রিপোর্ট অনুসারে, পুরো খান পরিবারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৫২৫৯ কোটি টাকা।
এছাড়াও, যদি আমরা খান পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথা বলি, সালমান খানের দুই ভাই আরবাজ খান এবং সোহেল খান মোট সম্পদের দিক থেকে তার থেকে অনেক পিছিয়ে। প্রতিবেদন অনুসারে, উভয়ের সম্পদ সহ তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৯০০ কোটি টাকা। এতে আরবাজ খানের মোট সম্পত্তি ৫০০ কোটি টাকা এবং সোহেল খানের মোট সম্পত্তি ৩৩৩ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে তার বাবা সেলিম খানও তাদের দুজনের চেয়ে এগিয়ে। তার মোট মূল্য ১০০০ কোটি রুপি যা সালমা খান, হেলেন এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে।
সেলিম খান এখন চিত্রনাট্যে ও গল্প লেখার কাজে খুব একটা সক্রিয় না হলেও তার তিন ছেলে সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। এই কারণে সেলিম পরিবারকে অর্থ ও ঐশ্বর্যের দিক দিয়ে সেরা বলা হচ্ছে। কেননা সালমান খানের প্রতিটি ছবি এখনও ব্যবসা সফল। তাছাড়া তাদের প্রোডাকশন ব্যবসাও চুটিয়ে চলছে।