Tag: আন্তর্জাতিক

  • প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চাইলেন

    প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চাইলেন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৮ জানুয়ারি, ২০২৪: রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে ও সেখানে তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্বের উচিৎ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় বের করা, যাতে তারা স্বদেশে ফিরে গিয়ে সেখানে একটি সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে।’

    আজ রবিবার ( ২৮ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় দলের (এপিপিজি) ভাইস চেয়ার ও ইন্দো-ব্রিটিশ বিষয়ক এপিপিজি-র চেয়ার বীরেন্দ্র শর্মা এমপি’র নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের ক্রস পার্টি একটি পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীল সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

    বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এটিই যুক্তরাজ্য সংসদীয় দলের প্রথম সফর।

    বৈঠককালে শেখ হাসিনা বলেন, “২০১৭ সালে অমানবিক নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গাদের ব্যাপকভাবে দেশত্যাগের পর বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছিল।”

    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হলেও, ছয় বছর অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এই লক্ষ্যে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”

    কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে বৈশ্বিক আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সুতরাং রোহিঙ্গারা এখন বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশের জন্য বিশাল বোঝা হয়ে উঠছে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “জোরপূর্বক দেশ থেকে বিতারিত করার সময় বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার গর্ভবতী নারী ছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ প্রাথমিকভাবে তাদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছয় বছর অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বাস্তবসম্মত কিছুই করেনি। যদিও, তারা আগে তা করতে রাজি হয়েছিল। ফলে, মিয়ানমারের নাগরিকরা বাংলাদেশের ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি রোহিঙ্গারাও এখন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে-যার মধ্যে মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও রয়েছে যেগুলো থেকে কখনও কখনও রক্তপাতও ঘটছে,’ তিনি যোগ করেন “

    শেখ হাসিনা আরো বলেন, “ভাসানচর দ্বীপে সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা করেছে।”

    তিনি বলেন, “কিছু রোহিঙ্গাকে ইতোমধ্যে ভাসানচরে পুনর্বাসন করা হয়েছে। আমরা তাদের জন্য খাবার, চিকিৎসা সুবিধা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি বলে তারা সেখানে অনেক ভালো আছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গারা কয়েকটি ছোট ছোট দলে বিভক্ত। এক দল ভাসানচরে যেতে চাইলে আরেক দল বাধা দেয়।”

    প্রতিনিধি দল মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের উদার আতিথেয়তা ও দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে তাদের সমর্থন পুনর্নিশ্চিত করতে ৩০ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে।

    পাঁচ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- প্রাক্তন টেক ও ডিজিটাল অর্থনীতির কনজারভেটিভ মন্ত্রী পল স্কুলি, এমপি, ইউকে হাউস অফ কমন্স সিলেক্ট কমিটির মেম্বার ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্স নীল কোয়েল, এমপি, হাউস অফ কমন্সের বিরোধীদলীয় হুইপ অ্যান্ড্রু ওয়েস্টার্ন, এমপি এবং হাউস অফ কমন্সের সিনিয়র সংসদীয় সহকারী ডমিনিক মফিট।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব এম সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিনিধি দলটির আগামী ৩১ জানুয়ারি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

     

    সূত্র: বাসস

  • বিদ্রোহ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিছু হটছে ‍ওয়াগানারের সৈন্যরা

    বিদ্রোহ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিছু হটছে ‍ওয়াগানারের সৈন্যরা

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: ওয়াগনারের সৈন্যরা বিদ্রোহ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোস্তোভ-অন-ডন শহর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে । এর আগে রাশিয়ার ভাড়াটে গোষ্ঠীর প্রধান ওয়াগনার বলেন, রক্তপাত এড়াতে তিনি তার যোদ্ধাদের ইউক্রেনে ফিরে যেতে বলেছেন। মনে করা হচ্ছে এর মাধ্যমে রাশিয়ায় একটি বিশৃঙ্খল এবং অভাবনীয় দিনের পরিসমাপ্তি হল।

    ওয়াগনার গ্রুপ হল ভাড়াটে সৈন্যদের নিয়ে গড়ে তোলা একটি বেসরকারি সেনাবাহিনী যারা ইউক্রেনে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিয়মিত লড়াই করছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে রুশ বাহিনীর সাথে ওয়াগনার গ্রুপের উত্তেজনা শুধু বাড়ছিল। প্রিগোশিন সাম্প্রতিক মাসগুলোয় রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার সমালোচনা শুরু করেছিলেন। গতকাল শনিবার সকালে ওয়াগনারের ভাড়াটে সৈন্যরা ইউক্রেনে তাদের ফিল্ড ক্যাম্প থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রোস্তোভ-অন-ডনে প্রবেশ করে। শ্বাসরুদ্ধকর গতিতে তারা আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং মস্কোর উত্তরে আরেকটি শহর ভোরোনেজের সামরিক স্থাপনা দখল করে নেয় বলে জানা গিয়েছে।

    যোদ্ধারা মস্কোর দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে, ক্রেমলিন মস্কোসহ অনেক অঞ্চলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করে। মস্কোর মেয়র শহরের বাসিন্দাদের বাইরে ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলতে বলেন। ওয়াগনার সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনে হাজার হাজার এলিট চেচেন সৈন্য মস্কোর দিকে যাচ্ছে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।

    এর জবাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, যারা রাশিয়ার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।

    রুশ টিভি চ্যানেল রোসিয়া ২৪-এর খবরে বলা হয়, বেলারুশের নেতা আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো প্রিগোশিনের সঙ্গে বৈঠকের পর শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে উত্তেজনা প্রশমনে এই সমঝোতা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াগনার সৈন্যরা রোস্তোভ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তাদের সমর্থকরা উল্লাস করছে এবং ওয়াগনার সেনাদের সঙ্গে তারা হাত মেলাচ্ছেন।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, “ক্রেমলিনের দায়িত্বরত ব্যক্তি নিশ্চয়ই খুব ভয় পাচ্ছেন এবং সম্ভবত কোথাও লুকিয়ে আছেন, নিজেকে সামনে আনছেন না। আমি নিশ্চিত যে তিনি আর মস্কোতে নেই।

    “তিনি জানেন যে তিনি কীসে ভয় পান, কারণ তিনি নিজেই এই হুমকি তৈরি করেছেন। সব পৈশাচিকতা, সব ধরণের ক্ষয়ক্ষতি, ঘৃণা যা কিছু তৈরি হয়েছে – তিনিই এসব ছড়িয়েছেন। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, পুতিন মস্কো ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ে দেখা গিয়েছে যে, শনিবার দুটি প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান মস্কো ছেড়ে গিয়েছে। তবে তার প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এখনো ক্রেমলিনেই আছেন।

    এদিকে ওয়াগনারের যোদ্ধারা চলে যাওয়ার সময় তাদেরকে আকাশে গুলি চালাতে দেখা যায়। রাস্তায় সারিবদ্ধ বেসামরিক মানুষদের দেখা যায়, তারা যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে হাততালি দিচ্ছে এবং উল্লাস করছে।

  • ভাড়াটে ওয়াগনার বাহিনী রাশিয়ার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

    ভাড়াটে ওয়াগনার বাহিনী রাশিয়ার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: ওয়াগনার বাহিনী মূলত একটি ভাড়াটে সেনাদল যারা এবার রুশ সামরিক বাহিনীর হয়ে উইক্রেনীয় বাহিনীর বিপক্ষে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। কিন্তু গঠাৎ করেই জানা যাচ্ছে রুশ সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করেছে ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার গ্রুপ। ফলে রুশ বাহিনীর জন্যই বড় হুমকি হয়ে উঠেছে তারা।

    রাশিয়ার ২০১৪ সালের যুদ্ধে ক্রাইমিয়া দখলের জন্য ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধারা প্রথম ভুমিকা পালন করে। এর পর ২০১৫ সালে সিরিয়াতে সরকার সমর্থক বাহিনীর পাশাপাশি থেকে যুদ্ধ করে ওয়াগনার বাহিনী, এবং সেসময় তারা তেলের খনিগুলোও পাহারা দিত। কিন্তু ইদানিং এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি যে কোন মূল্য রাশিয়ান সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের পতন ঘটাবেন। এরই মধ্যে তিনি দাবি করছেন ইউক্রেন থেকে সীমান্তের পার্শবর্তী রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে প্রবেশ করেছেন এবং একটা রাশিয়ান হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছেন । এদিকে সশস্ত্র বিদ্রোহে লিপ্ত হয়েছেন এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে মস্কো।

    ভরোনেঝ অঞ্চলের গভর্নর অনুরোধ করেছেন সাধারণ মানুষদের মহাসড়ক এড়িয়ে চলার। কারণ সে পথে রাশিয়ার মিলিটারি কনভয় আসছে। টেলিগ্রামে তিনি লিখেছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য পরিকল্পনা নেয়া আছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায় ওয়াগনার যোদ্ধারা মিলিটারি কনভয় সারি নিয়ে রোস্তভের রাস্তায় আছে।

    এদিকে অনলাইনে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেটাতে দেখা যাচ্ছে যে রোস্তভ-অন-ডনে অবস্থিত রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের মিলিটারি হেডকোয়ার্টার্সে ঢুকছেন প্রিগোঝিন। ভিডিওতে প্রিগোঝিন বলছেন তার সৈন্যরা শহর ঘেরাও করে নেবে এবং মস্কোর দিকে যাত্রা শুরু করবে যদি প্রতিরক্ষা প্রধান সের্গেই সুইগো এবং ভ্যালেরি গেরাসিমভ তার সাথে দেখা না করেন।

    এর আগে থেকেই ভাড়াটে ওয়াগনার গ্রুপ এর নেতা ৬২ বছর বয়সী ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন বিভিন্ন সময় যুদ্ধের কৌশল নিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর নেতৃ্ত্বের সমালোচনা করে আসছেন। শুক্রবার তিনি তার দলের সৈন্যদের উপর এক মারাত্মক মিসাইল হামলার অভিযোগ করেন রাশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। মি. প্রিগোঝিন এই অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমাণ দেখাননি তবে যারা এই হামলা করেছে তাদের শাস্তি দেয়ার শপথ নেন তিনি।

    তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মিসাইল হামলার কথা অস্বীকার করে এবং প্রিগোঝিনকে সবরকম ‘অবৈধ কার্যক্রম’ বন্ধের আহবান জানায়। তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগ এনেছে ক্রেমলিন। তবে কোন সামরিক অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেন ওয়াগনার দলনেতা।

    মি. প্রিগোঝিন বলছেন রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ভেতর যে ‘শয়তান’ আছে তাদের থামাতে হবে এবং তিনি ‘ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই’-এর ঘোষণা দিয়েছেন।

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছের লোক হিসেবে খ্যাত প্রিগোঝিন বলেছেন যারাই তার বাহিনীর সামনে দাঁড়াবে তাদেরই ধ্বংস করে দেয়া হবে।

    “যারা আমার সৈন্যদের এবং হাজার হাজার রাশিয়ান সৈন্যদের (যারা ইউক্রেনে যুদ্ধে লিপ্ত) হত্যা করেছে, তারা সাজা পাবে,” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক অডিও পোস্টে একথা বলেন তিনি। একইসাথে রাশিয়ার জনগণকেও তার সাথে থাকার আহবান জানান।

    ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে অধিবাসীদের ঘরের ভেতর শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে স্থানীয় গভর্ণর। এমফোর হাইওয়ে লিপেতস্ক ও ভরোনেঝ অঞ্চলের সীমান্তে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিপেতস্কের গভর্ণর। এমফোর মস্কোর সাথে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ ঘটায় এবং একই সাথে রোস্তভ অঞ্চল ও এর প্রধান শহর রোস্তফ-অন-ডনেও যাবার রাস্তা এটি।

    মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন রাজধানীতে সন্ত্রাস-দমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিতে। পুরো রাশিয়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং মস্কোর রাস্তায় সামরিক ট্রাকের দেখা মিলছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র তাস নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে টিভিতে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।

    যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্কট্যাঙ্ক দ্য ইন্সটিটিউট অফ ওয়্যার (আইএসডব্লিউ) বিশ্বাস করে ইয়েভগিনি প্রিগোঝিন ক্রেমলিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটা জোরপূর্বক পরিবর্তন আনতে চান। তবে ক্রেমলিন এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় তার জন্য ‘সাফল্য পাওয়া কঠিন’ হবে। তবে রোস্তভ-অন-ডন দখলের চেষ্টা যুদ্ধে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। কারণ রোস্তভ হল রাশিয়ার সাউদার্ন মিলিটারি ডিস্ট্রিক্ট কমান্ড, যা যুদ্ধে বড় অবদান রাখছে।

    এখানকার সেনাবাহিনী ‘এই মূহুর্তে ইউক্রেন যে পাল্টা আক্রমণ করছে সেটা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং একই সাথে পুরো ইউক্রেনে রাশিয়ার যৌথ বাহিনীর কমান্ড সেন্টার এখানে’।

    এই লড়াইটাকে বিশ্লেষকরা দেখছেন রাশিয়ার ক্ষমতার শীর্ষে থাকা দুজনের লড়াই হিসেবে। একদিকে ডাকসাইটে ওয়াগনার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা, অন্যদিকে রাশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, যারা দুজনই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

    ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যখন থেকে ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার যুক্ত হয়েছে তখন থেকেই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগুর সঙ্গে প্রিগোঝিনের একটা বিরোধ দেখা গেছে। যার শুরুটা হয় বাখমুটের যুদ্ধ থেকে। রাশিয়ার সেনাবাহিনী যখন সুবিধা করে উঠতে পারছিল না তখন ওয়াগনার গ্রুপ ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ডনবাস অঞ্চলের এই শহর দখল করে। এসময় প্রিগোঝিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে যথেষ্ট অস্ত্র সরবরাহ না করার অভিযোগ করেন। গত মে মাসে এক ভিডিও বার্তায় তিনি তার সৈন্যদের মৃতদেহের মাঝে দাঁড়িয়ে সের্গেই শোইগু ও চিফ অফ জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। শুক্রবার প্রিগোঝিন দাবি করেন ইউক্রেনে যুদ্ধটা করাই হচ্ছে “যাতে শোইগু মার্শাল হতে পারেন”।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে “সামাজিক মাধ্যমে প্রিগোঝিন যেসব ছড়াচ্ছেন” ওয়াগনার গ্রুপের উপর রাশিয়ান বাহিনীর হামলা নিয়ে এগুলো “সত্যি নয় এবং উত্তেজনা ছড়াচ্ছে”।

    রাশিয়ান সেনাবাহিনীর ডেপুটি প্রধান জেনারেল সের্গেই সুরুভিকিন প্রিগোঝিনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ‘কনভয় থামিয়ে নিজেদের ঘাঁটিতে ফেরত যাবার’।

    মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ বাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ হচ্ছে ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধা। এর মধ্যে হাজার হাজার যোদ্ধা এসেছে রাশিয়ার কারাগারগুলোতে থাকা বন্দীদের মধ্যে থেকে। প্রথমদিকে তাদের সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৫,০০০ – যাদের অধিকাংশই ছিল বিভিন্ন রেজিমেন্টের সাবেক সৈন্য। তবে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা বলেন, ক্রেমলিন নিয়মিত বাহিনীর জন্য লোক পেতে সমস্যায় পড়ার পর এই ওয়াগনার বাহিনী বড় সংখ্যায় সেনা নিয়োগ শুরু করে।

  • মিয়ানমারে ছয় ঘণ্টারও কম সময়ে ৪ বার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে

    মিয়ানমারে ছয় ঘণ্টারও কম সময়ে ৪ বার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বুধবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ছয় ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে মিয়ানমারে চার দফায় আঘাত হেনেছে ভূমিকম্প । তবে  ভূমিকম্পের জেরে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ভারতীয় বার্তাসংস্থায় মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ছয় ঘণ্টারও কম সময়ে চার দফায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে মিয়ানমার। রাত ১২টার কিছু আগে প্রথম কম্পনের প্রায় তিন ঘণ্টা পর মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফায় কম্পন হয়। আর এর প্রায় ৩ ঘণ্টা পর তৃতীয় দফায় ভূমিকম্প প্রত্যক্ষ করে দেশটি।

    শেষে,  বৃহস্পতিবার ভোররাতে মিয়ানমারে আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৪। এর গভীরতা ১৫ কিমি ছিল বলে জানা গেছে।

    এদিকে ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

    এর আগে গত মে মাসে দুই দফায় ভূমিকম্পে কাঁপে মিয়ানমার। মে মাসের শুরুতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে হওয়া প্রথম ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে এবং রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ২।

    এরপর একই মাসের ২২ তারিখ সকালে আঘাত হানা দ্বিতীয় দফার ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৫। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৪ কিলোমিটার গভীরে।

    এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে দিকে মিয়ানমারে মাঝারি মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে দেশটির আয়াবতী ও রাখাইন রাজ্যে এ দুই ভূমিকম্প আঘাত হানলেও কম্পন অনুভূত হয়েছিল বাংলাদেশের কক্সবাজারেও।

  • উষ্ণায়নের কারণে হিমালয় থেকে সৃষ্টি হওয়া ১০টি নদী হারিয়ে যাবে

    উষ্ণায়নের কারণে হিমালয় থেকে সৃষ্টি হওয়া ১০টি নদী হারিয়ে যাবে

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী যে উষ্ণায়নের সৃষ্টি হয়েছে তাতে পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে নানামুখি সমস্যার দেখা দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলীও চরম উদ্বেগের মধ্যে আছে। কেননা এই উষ্ণায়নের ফলে এশিয়ার সবচেয়ে বড় পর্বত হিমালয়ে গলছে দ্রুত গতিতে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছে এই ভাবে বরফ গলতে থাকলে দশ বছরের মধ্যে হারিয়ে যাবে দশটি নদী। যেসব নদীর সৃষ্টি হিমালয় থেকে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন গত কয়েক বছর ধরে এই উষ্ণায়ন বাড়তে থাকবে।

    জানা গেছে উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের বরফ গলে যাওয়ার গতি এতটাই যে, একের পর এক হিমবাহ উধাও হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে চরম উদ্বেগের বলে মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, গত দশকে অর্থাৎ ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিমালয়ের বরফ যে গতিতে গলেছে, তা পূর্ববর্তী দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, বরফ গলনের গতি এক দশকে ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পাহাড় পর্বতে জমে থাকা বরফ গলবে, এটাই স্বাভাবিক। বরং, বরফ গলে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু হিমালয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে চিন্তার তা হচ্ছে এই সময়ের মধ্যে দ্রুত এত বরফ হিমালয় থেকে গলে যাবে, তা আশা করেননি কেউ। এ বিষয়ে এখন থেকেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।

    হিন্দুকুশ হিমালয়ের হিমবাহগুলি সরাসরি অন্তত ২৪ কোটি মানুষের প্রতি দিনের প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি মেটায়। এ ছাড়া, বিভিন্ন নদী উপত্যকায় বসবাসকারী আরও অন্তত ১৬৫ কোটি মানুষ পরোক্ষ ভাবে এই হিমবাহগুলির উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই শতাব্দীর শেষে হিমালয়ের হিমবাহগুলি ৮০ শতাংশ আয়তন হারাবে। তাতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে ওই এলাকা থেকে সৃষ্টি হওয়া ১০টি প্রধান নদী এবং তাদের যাবতীয় উপনদী ও শাখানদী।

    গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র, মেকং, ইয়েলো, ইরাবতীর মতো ভারত ও চিনের বহু গুরুত্বপূর্ণ নদীর জলের উৎস হিমালয়ের হিমবাহ। সেগুলি গলে গেলে এই নদীতে প্লাবন দেখা দেবে। নদীর উপত্যকায় বসবাসকারী বহু মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠবে তাতে। উপত্যকার বাসিন্দাদের শুধু বাসস্থান নয়, খাবার, বিদ্যুৎ প্রভৃতি একাধিক প্রাথমিক চাহিদা মেটে নদীর জল থেকেই।

    নেপালের ইন্টারন্যাশানাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহের পরিমাণ দাঁড়াবে এক তৃতীয়াংশ। হিমবাহ অর্ধেক হয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়। উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বের তাপমাত্রা সার্বিক ভাবে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই কারণেই বিশ্বের নানা প্রান্তে আগের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। বেড়েছে দাবদাহের মাত্রাও। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে আবহাওয়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য পদক্ষেপ করতে হবে, মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

    এই উষ্ণায়নের ফলে এবং হিমালয় থেকে সৃষ্ট ১০ টি নদী হারিয়ে গেলে বিরাট ক্ষতির মুখোমুখী হবে বাংলাদেশ। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, বিশ্বব্যাপি দাবদাহ ফলে জলবায়ুর জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। তবে এর জন্য শুধুমাত্র প্রাকৃতিক কারণেই নয়, এর মধ্যে মানবসৃষ্ট কারণও রয়েছে। বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, বন্যা ইত্যাদি সবগুলো দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং হচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও অনেক অনেক বেশি। তাই মানব সৃষ্ট উষ্ণায়ন অবশ্যই আমাদের কমাতে হবে। বিশেষ ভাবে এই উষ্ণায়ন কমাতে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

    সূত্র : আনন্দবাজার প্রত্রিকা

  • পৃথিবীর গভীরে আছে এভারেস্টের চেয়ে চারগুণ উঁচু পর্বতমালা 

    পৃথিবীর গভীরে আছে এভারেস্টের চেয়ে চারগুণ উঁচু পর্বতমালা 

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক:  পৃথিবীর গভীরে কিছু রহস্যময় স্থান আছে যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায়ানি। হাজার হাজার কিলোমিটার নিচে অন্ধকার সেই জায়গায় পড়েনি মানুষের পা। অথচ সেখানেই আছে বিরাট পর্বতমালা যার কিছু শৃঙ্গ এভারেস্টের চাইতেও চারগুণ উঁচু। এগুলোর তৈরি রহস্য কেউ এখনও কেউ জানে না।

    অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকালের একটি উজ্জ্বল দিন। তাপমাত্রা মাইনাস ৬২ সেলসিয়াস – অর্থাৎ শূন্যের ৬২ ডিগ্রি নিচে। সামান্থা হ্যানসেনের চোখের পাতায় বরফ জমে গেছে। তার সামনে বরফের সাদা দেয়াল। কোনখানে যে তা ওপরের দিকে উঠে গেছে, কোথায় যে ঢালু হয়ে নিচের দিকে নেমে গেছে, কোথায় দিগন্তরেখা আকাশের সাথে মিলেছে তা বোঝা যায়না। সামনে তাকালে তাই একটা যেন মানসিক বিভ্রম তৈরি হয়। এর মধ্যেই তুষারের ওপর একটা সুবিধেমত জায়গা বের করলেন সামান্থা। তারপর হাতে তুলে নিলেন একটা কোদাল।

    অ্যান্টার্কটিকার উষর অভ্যন্তরভাগ:

    হ্যানসেন যেখানে আছেন তা হচ্ছে এই অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের একেবারে ভেতরের একটি উষর অঞ্চল। যেসব বিলাসবহুল জাহাজ অ্যান্টার্কটিকায় পর্যটকদের বেড়াতে নিয়ে আসে – তারা এখানে আসে না। এখানে পরিবেশ একেবারেই নির্মম। এমনকি অ্যান্টার্কটিকায় যেসব স্থানীয় বন্যপ্রাণী বাস করে তারাও এদিকে খুব কমই আসে। এখানেই এসেছেন সামান্থা ।

    সামান্থা হ্যানসেন হচ্ছেন আমেরিকার দুটি বিশ্ববিদ্যালয়, আলাবামা ও আরিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অনুসন্ধানী দলের একজন।  তিনি এখানে এসেছেন গোপন কিছু পর্বতমালার হদিস খুঁজে বের করতে। আজ পর্যন্ত এসব পর্বতমালার চূড়ায় কোন অভিযাত্রীর পা পড়েনি। এমনকি কোনদিন সূর্যের আলো পড়ে ঝলমল করে ওঠেনি সেসব শৃঙ্গ। কারণ – এসব পর্বত লুকিয়ে আছে পৃথিবীর মাটির নিচে অনেক গভীরে।

    পৃথিবীর অভ্যন্তরে কী আছে:

    এ গবেষণা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। অ্যান্টার্কটিকায় এসে একটি গবেষক দল একটি সিসমোলজি স্টেশন বসিয়ে গিয়েছিলেন। এগুলো এমন কিছু যন্ত্র যার অর্ধেকটা বরফের মধ্যে প্রোথিত – বাকি অর্ধেকটা বাইরে। আমাদের পৃথিবীর ভেতরে কি আছে – তা বের করাটাই ছিল এর লক্ষ্য। অ্যান্টার্কটিকার নানা স্থানে এরকম ১৫টি স্টেশন বসিয়েছিলেন গবেষকদের দলটি। এই সিসমোলজি স্টেশনের যন্ত্র দিয়ে যে পর্বতের মত কাঠামোগুলোর কথা জানা গেল – তা ছিল চরম রহস্যময়। এগুলোর নাম দেয়া হয়েছে ‘আল্ট্রা লো ভেলোসিটি জোন’ বা ইউএলভি জেড।

    কিন্তু হ্যানসেনের দলটি জানতে পারলো যে এই ইউএলভিজেডগুলো সম্ভবত পৃথিবীর সবখানেই আছে। আপনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন আপনার পায়ের নিচেই হয়তো আছে এগুলো।

    প্রশ্ন হলো এই ইউএলভিজেড জিনিসটা আসলে কী? আর পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরে এরা কী করছে?

    রহস্যময় ইতিহাস:

    পৃথিবীর ভেতরে যে পর্বতগুলো আছে তাদের অবস্থান একটা গুরুত্বপূর্ণ স্তরে। আমাদের গ্রহের অভ্যন্তরে একেবারে কেন্দ্রস্থল বা ‘কোর’ হচ্ছে একটি অতি উত্তপ্ত ধাতব স্তর। তার চারপাশে আছে নরম ও শক্ত পাথুরে স্তর বা ম্যান্টল। পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক গঠনের এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ – কিন্তু তা কয়েক দশক ধরেই বিজ্ঞানীদের বিস্ময়ের কারণ হয়ে আছে।

    পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার ভেতরে ‘কোর-ম্যান্টল সীমারেখার’ অবস্থান। কিন্তু যে উপরিভাগে মানুষ বাস করে তার সাথে তার অভ্যন্তরভাগের অনেক পার্থক্য। অনেক জায়গা এরকম যে মনে করা হয় – এগুলো বহু আগে সমুদ্রের তলদেশ ছিল, হয়তো তারই কিছু টুকরো সেখানে চাপা পড়ে আছে। পৃথিবীর অনেক জায়গায় – যেমন হাওয়াইতে – যে আকস্মিকভাবে আগ্নেয়গিরি তৈরি হয়েছে, তার পেছনে কারণ হয়তো এগুলোই।

    ‘ডীপ-আর্থ’ পর্বতের কথা কীভাবে জানা গেল:

    এগুলো নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয় ১৯৯৬ সাল থেকে। সেসময় বিজ্ঞানীরা মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের অনেক নিচে থাকা কোর-ম্যান্টল বাউন্ডারি নিয়ে গবেষণা করছিলেন। এ গবেষণা করা হচ্ছিল সিসমিক ওয়েভ – বা ভূমিকম্পের মতো ঘটনার সময় পৃথিবীর ভেতরের স্তরগুলোর ভেতর দিয়ে যে কম্পনের তরঙ্গ বয়ে যায় এবং এতে যে ঝাঁকুনি লাগে – তারই বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে। এগুলো সমন্বয় করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ভেতরে কী আছে তার এক্সরে ছবির মত একটা চিত্র তৈরি করতে পারলেন।

    বিজ্ঞানীরা যখন এরকম ২৫টি ভূমিকম্পের চিত্র পরীক্ষা করলেন – তারা দেখলেন যে কোর-ম্যান্টল বাউন্ডারিতে একটি উঁচুনিচু অংশে এসে এই কম্পনটির গতি কমে যাচ্ছে – যা কেন হচ্ছে তার কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।

    এটা একটি পর্বতমালার মতো যার শৃঙ্গগুলো ম্যান্টলের ভেতরে ঢুকে আছে। এরকম কিছু শৃঙ্গের উচ্চতা ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত – তার মানে এগুলোর উচ্চতা এভারেস্টের চাইতেও সাড়ে চারগুণ বেশি। অন্য আরো কিছু শৃঙ্গের উচ্চতা তিন কিলোমিটারের মত।

    এর পর পৃথিবীর ‘কোর’ জুড়ে এমন আরো অনেকগুলো পর্বত চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পাওয়া গেছে যা অত্যন্ত বিশাল। এটি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঞ্চলের নিচে এবং তা ছড়িয়ে রয়েছে ৯১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। এগুলো কিভাবে হলো, বা এগুলো কী দিয়ে তৈরি – তা এখনো কেউ জানে না। তা ছাড়া এ পর্বতগুলোর কাছাকাছি আরো কিছু গোলাকার পিন্ডের উপস্থিতি দেখা গেছে – তবে এগুলো যে ঠিক কী এবং কোথা থেকে এলো – তা রহস্যময় । কিন্তু এই পর্বত ও পিন্ড একই জায়গায় উপস্থিত থাকায় তাদের মধ্যে কিছু একটা সম্পর্ক আছে বলেই অনুমান করা হয়।

    কেন এসব পর্বতমালা তৈরি হয়েছে:

    সাধারণত পৃথিবীর ম্যান্টলের তাপমাত্রা ৩,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু কোরের তাপমাত্রা আরো বেশি প্রায় ৫,৫০০ ডিগ্রি সেললিসিয়াস। এ তাপমাত্রা প্রায় সূর্যের উপরিভাগের কাছাকাছি।

    একটা তত্ত্ব হচ্ছে – এসব পর্বতগুলো ম্যান্টলের নিচের দিকের অংশ, যা জ্বলন্ত কোরের কাছাকাছি থাকার কারণে অতি উত্তপ্ত হয়ে আংশিকভাবে গলে গেছে এবং সেটাকেই ইউএলভিজেড বলা হচ্ছে। দ্বিতীয় আরেকটি তত্ত্ব হলো এই ডীপ-আর্থ মাউন্টেনগুলো তৈরি হয়েছে কিছুটা ভিন্ন আরেক ধরনের শিলা দিয়ে – যা ম্যান্টলকে ঘিরে আছে।

    অনেকে বলেছেন হয়তো এটি কোন প্রাচীন মহাসাগরের নিচের ভূস্তর বা ক্রাস্টের টুকরো – যা কোন কারণে ম্যান্টলের ভেতরে ডুবে গেছে এবং কোটি কোটি বছর পর এখন তা কোরের ঠিক ওপরে এসে অবস্থান নিয়েছে। হ্যানসেন বলেন, “আমরা আমাদের গবেষণা চালিয়েছি দক্ষিণ গোলার্ধে – যা ওই সব বড় কাঠামো থেকে অনেক দূরে।”

    অতীতে একটা সময় মনে করা হতো যে ডীপ-আর্থ পর্বতগুলো সবখানে নেই, বরং কিছু কিছু জায়গায় ছড়িয়ে আছে মাত্র। কিন্তু হ্যানসেনের দল আন্ট্রার্কটিকায় যেখানেই নমুনা নিয়েছেন সেখানেই ইউএলভিজেড কাঠামো পেয়েছেন। এমন হতে পারে যে এই ইউএলভিজেড হয়তো পুরো কোরের চারদিকেই একটি কম্বলের মতো জড়িয়ে আছে। কিন্তু এমন কোন অনুমান নিশ্চিত করতে হলে আরো অনেক বেশি অনুসন্ধান ও গবেষণা দরকার।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • তীব্র দাবদাহে গত তিন দিনে ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে ৯৮ জনের মৃত্যু

    তীব্র দাবদাহে গত তিন দিনে ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে ৯৮ জনের মৃত্যু

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে তীব্র দাবদাহ চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই তীব্র গরম ও দাবদাহের শিকার হচ্ছে। এর জেরে ভারতের উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে গত তিন দিন মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের। এই ৯৮ জনের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের মৃতের সংখ্যা ৫৪ এবং বিহারে ৪৪।

    উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলা হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাপপ্রবাহের কারণে অসুস্থ হয়ে ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে ওই তিন দিন চারশোরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    জানা গেছে যে সব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এদিকে জেলায় তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা প্রতি দিন বাড়ছে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত ১৫ জুন মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। ১৬ জুন ২০ জনের এবং ১৭ জুন বিকেল ৪টে পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বালিয়ায় গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি। আবাহাওয়া অফিস জানায় শুক্রবার বালিয়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৫ ডিগ্রি বেশি।

    অন্য দিকে পূর্ব ভারতের রাজ্য বিহারও তীব্র গরমে পুড়ছে । এই রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র গরমে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে । রাজ্যের ১৮টি জায়গায় চরম তাপদাহ চলছে। ৪৪ জনের মধ্যে শুধুমাত্র পটনাতেই মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। তাঁদের মধ্যে নালন্দা মেডিক্যাল কলেজে মারা গিয়েছেন ১৯ জন এবং পটনা মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। বাকি ন’জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকে।

    রাজ্য আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার ১১টি জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। পটনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার শেখপুরায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে । তীব্র গরমের কারণে আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত পটনা এবং রাজ্যের সমস্ত জেলায় স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাজ্যের আবহাওয়া অফিস গত ১৮ এবং ১৯ জুন দাবদাহে সতর্কতা জারি করেছে অওরাঙ্গাবাদ, রোহতাস, ভোজপুর, বক্সার, কাইমুর এবং আরওয়াল জেলায়। লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এই সব জেলায়। কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে পটনা, বেগুসরাই, খাগারিয়া, নালন্দা, বাঁকা, শেখপুরা, জামুই এবং লখিসরাইয়ে। হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে পূর্ব চম্পারণ, গয়া, ভাগলপুর, জেহানাবাদে।

    সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

  • বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১১ কোটিতে পৌঁছেছে 

    বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১১ কোটিতে পৌঁছেছে 

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান জানিয়েছেন বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১১ কোটিতে পৌঁছেছে। গত বছরের শেষ নাগাদ এই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১০ কোটি ৮৪ লাখে। সম্প্রতি ইউক্রেইন ও সুদানের সংঘাতে লাখ লাখ উদ্বাস্তু যোগ হওয়ায় নতুন করে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু যুক্ত হয়েছে। এর আগে কখনোই এক বছরে এত বাস্তুচ্যুত বাড়েনি, আজ বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলেছে ইউএনএইচসিআর।

    গত বছর শেষের ওই সংখ্যাও এখন বেড়ে ১১ কোটিতে দাঁড়িয়েছে, এর প্রধানতম কারণ সুদানের ৮ সপ্তাহের সংঘাত, বলেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপো গ্রানি্‌দ।

    “এমন একটা প্রতিবেদন হচ্ছে, যার জন্য পুরো বিশ্বকেই অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এই জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির সমাধান এতই কঠিন হয়ে উঠছে যে তার সমাধান তো দূর টেবিলে আলোচনার জন্যই তোলা যাচ্ছে না।

    “মেরুকরণ প্রবল এমন একটি বিশ্বে আছি আমরা, যেখানে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা যাবতীয় মানবিক ইস্যুকে খারিজ করে দিচ্ছে,” জেনিভায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি।

    ২০১১ সালে সিরিয়ায় সংঘাতের আগের দুই দশক বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ও আন্তর্জাতিক শরণার্থীর সংখ্যা মোটামুটি ৪ কোটিতে স্থির ছিল বলে জানাচ্ছে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি সংক্রান্ত ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদন।

    পরের এক যুগে প্রতিবছর এই সংখ্যা বেড়েছে; বাড়তে বাড়তে এখন তা ২০১১-র প্রায় তিন গুণে এসে পৌঁছেছে।

    এখন গড়ে বিশ্বের প্রতি ৭৪ জনের মধ্যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা একজনেরও বেশি, বলছে ওই প্রতিবেদন।

    এসবের জন্য সংঘাত, নিপীড়ন, বৈষম্য, সহিংসতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কারণগুলোকে দায়ী করেছেন গ্রান্দি।

    ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, মোট শরণার্থী এবং যাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দরকার তাদের প্রায় অর্ধেকই এসেছে তিনটি দেশ থেকে- সিরিয়া, ইউক্রেইন ও আফগানিস্তান।

    শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মকানুন এবং কোথাও কোথাও তাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন গ্রান্দি। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।

    ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন,  “১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের মূলনীতি অনুসরণে দেশগুলোর মধ্যে শিথিলতার মাত্রা বাড়তে দেখছি আমরা, এমনকি ওই কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী অনেক দেশের মধ্যেও এমনটা দেখা যাচ্ছে,” ।

    গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রীরা অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিষয়ে দায়িত্ব ভাগাভাগির চুক্তিতে পৌঁছেছেন, এরকম বেশকিছু অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি গ্রান্দি।

    “কিছু বিষয়ে উদ্বেগ আছে, তা সত্ত্বেও (ইইউ মন্ত্রীদের চুক্তি) এটিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি আমি। ইউরোপীয়রা কোনো এক বিষয়ে একমত হয়েছে, এতে আমরা খুব খুশি,” বলেছেন তিনি।

    গ্রান্দি কেনিয়ারও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আফ্রিকার এই দেশটি এখন তাদের দেশে আশ্রিত ৫ লাখ শরণার্থীর জন্য নতুন সমাধান খুঁজছে; এ আশ্রিতদের মধ্যে দারিদ্র্য, খরার কারণে আফ্রিকার শিং অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা অনেকেও আছেন।

  • সাইপ্রাসে ইদুরের হাত থেকে চাষের জমি রক্ষা করছে পেঁচা

    সাইপ্রাসে ইদুরের হাত থেকে চাষের জমি রক্ষা করছে পেঁচা

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: কৃষিপ্রধান দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সাইপ্রাস । কিন্তু ইদানিং চাষের জমিতে ইদুরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় ফসল রক্ষার্থে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবেশ রক্ষাকারি পাখি পেঁচাকে। দেশটির সমাজমাধ্যম বিষয়টি বেশ আলোচনায় এসেছে।

    এক সময়ে ইদুরের তাণ্ডবে জমির ফসল অধিকংশ নষ্ঠ হয়ে যেত।  সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হত সাইপ্রাসের সেইসব কৃষকদের, যাদের জমির বিস্তার রয়েছে রিপাবলিক অব সাইপ্রাস এবং রিপাবলিক অব নর্দান সাইপ্রাসের মধ্যবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত। সব সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে জমির ঠিক মতো দেখাশোনা করতে পারতেন না কৃষকরা। ফলে ইদুর এসে নষ্ট করে যেত ফসলের এক বিরাট অংশ।

    এই সমস্যার মোকাবিলা করতে এগিয়ে আসে ‘বার্ডলাইফ’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দুই সীমান্তের মধ্যবর্তী ওই এলাকায় বিভিন্ন গাছের ডালে পেঁচাদের থাকার মতো প্রায় ৫০টি কাঠের বাক্স বসায় তারা। একই সঙ্গে কৃষকদের ইদুর মারার বিষের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। বদলে ইদুর নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বটি পেঁচাদের উপরেই ছেড়ে দেওয়ার আর্জি জানান কর্তৃপক্ষ।

    প্রায় এক দশক ধরে চলছে এই অভিযান। যার ভিত্তিতে বার্ডলাইফেরই করা এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বছরে কম করে হলেও পাঁচ হাজার ইদুর মারে ওই অঞ্চলে চাষের জমির আশপাশে বাসা বাঁধা পেঁচারা। বিশেষত ‘বার্ন’ প্রজাতির পেঁচাদেরই দেখা মেলে সেখানে। গোটা ইউরোপ জুড়ে যাদের সংখ্যা কমে আসায় এক সময়ে চিন্তায় পড়েছিলেন পরিবেশবিদেরা। এই প্রক্রীয়ার ফলে একদিকে যেমন রক্ষা পাচ্ছে পেঁচা জাতীয় পাখি অন্য দিকে ইদুরের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে কৃষকের জমির ফসল।

    সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

  • পাকিস্তানের বৃষ্টি জনিত দুর্যোগে ২৫ জনের প্রাণহানি

    পাকিস্তানের বৃষ্টি জনিত দুর্যোগে ২৫ জনের প্রাণহানি

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: পাকিস্তানে বৃষ্টি জনিত দুর্যোগে অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে ১৪৫ জন। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাইবার পাখতুন খোয়া প্রদেশে এই দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

    জানা গেছে, প্রদেশের বান্নু জেলায় ১৫ জনের প্রাণহানি এবং আরো একশ জন আহত হয়েছে। এছাড়া লাক্কি মারওয়াত জেলায় পাঁচজনের প্রাণহানি এবং ৪২ জন আহত হয়েছে।

    কারাক জেলায় চার জন এবং দেরা ইসমাইল খান জেলায় একজনের প্রাণহানি ও দুজন আহত হয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, প্রদেশে মোট ১৭ জন পুরুষ, একজন নারী ও সাত শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শনিবার শাহবাজ শরীফ এসব প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।