Tag: আন্তর্জাতিক

  • অর্ধেকের বেশি জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর

    অর্ধেকের বেশি জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর

    শুকিয়ে যেতে বসেছে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি হ্রদ ও জলাশয়। এতে ভয়াবহ হুমকিতে পড়েছে কৃষি, জলবিদ্যুৎ ও মানুষের পানযোগ্য পানির ভবিষ্যৎ।

    বৃহস্পতিবার (১৮ মে) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক এই গবেষকদের একটি দল তাদের সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছেন। সায়েন্স জার্নালে তারা গবেষণার তথ্য তুলে ধরেছেন। সেখানেই তারা লিখেছেন, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি জলাশয় শুকিয়ে গেছে বা শুকিয়ে যাওয়ার মুখে। এর একটি কারণ অবশ্যই উষ্ণায়ন। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের হঠকারিতা। একের পর এক জলাশয় বুজিয়ে ফেলা।

    বিশ্বের দুই হাজার জলাশয় ও হ্রদ পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ১৯৯২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এসব হ্রদ ও জলাশয়ের স্যাটেলাইট ছবি পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

    গবেষকরা বলেন, বিগত দশকে কাস্পিয়ান সাগর থেকে শুরু করে লেক টিটিকাকার মতো বিশ্বের অন্যতম প্রধান জলাশয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ২২ গিগাটন করে পানি কমেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

    ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের গবেষক ফ্যাংফ্যাং ইয়াও এই গবেষণা দলের প্রধান। তিনি বলেছেন, প্রাকৃতিক হ্রদগুলো শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে ৫৬ শতাংশ অবদান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং মনুষ্য ব্যবহারের। এর মধ্যে বড় কারণ উষ্ণতা।

    গবেষকরা দেখেছেন, ১৯৯২ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৫৩ শতাংশ হ্রদের পানি কমেছে। মানুষের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার, বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বিশ্বব্যাপী জলাশয়ের পানির স্তরকে নিচে নেমে যেতে বাধ্য করেছে।

    শুকিয়ে যাওয়া এসব হ্রদ এলাকায় বসবাস করে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দিয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম মাপকাঠি গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধি। এর ফলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বদলে গেছে। আগে যেখানে যেমন বৃষ্টি হতো, এখন তা হচ্ছে না। এর ফলে স্বাভাবিক হ্রদগুলোর পলি আগে যেভাবে জমতো, এখন তা বদলে গেছে। হ্রদ ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে এটিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    গবেষকরা বলেছেন, বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে না পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরো হ্রদ এবং জলাশয় শুকিয়ে যাবে। আর তেমনটি ঘটলে তার প্রভাব হবে ভয়ংকর।

    সূত্র : ডয়চে ভেলে

  • ৭ বাংলাদেশি ফোর্বসের সফল তরুণ উদ্যোক্তার তালিকায়

    ৭ বাংলাদেশি ফোর্বসের সফল তরুণ উদ্যোক্তার তালিকায়

    প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ সংগঠক, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকের তালিকা প্রকাশ করে থাকে বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। আজ বৃহস্পতিবার ফোর্বসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে এবারের সফল এশীয় তরুণ উদ্যোক্তার তালিকা, যেখানে স্থান করে নিয়েছেন ৭ বাংলাদেশি।

    ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ নামের এই তালিকায় স্থান পান ৩০ বছরের কম বয়সীরা।  যেখানে বাংলাদেশি তরুণরাও থাকেন। এবারও ২০২৩ সালে এশিয়ার মধ্যে এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন সাত বাংলাদেশি।

    বৃহস্পতিবার (১৮ মে) ফোর্বসের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়। ১০টি ক্যাটাগরিতে ৩০ জন করে মোট ৩০০ জনের ‘৩০ অনূর্ধ্ব ৩০’ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে । এই তালিকায় মিডিয়া, মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন, সামাজিক প্রভাব ও কনজ্যুমার টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে রয়েছেন সাত বাংলাদেশি।

    তালিকার মিডিয়া, মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন ক্যাটাগরিতে রয়েছেন মার্কোপলো ডটএআই’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়াত ফারহান ও তাসফিয়া তাসবিন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা দিচ্ছে মার্কোপলো ডটএআই।  ২০২২ সালে কোম্পানিটি ভেনচার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ‘সিঙ্গাপুর ভিসি’ থেকে সাত লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে।

    সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট বা সামাজিক প্রভাব ক্যাটাগরিতে রয়েছেন বাংলাদেশের রিল্যাক্সি’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাহ্নবী রহমান। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বাংলাদেশি তরুণদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহায়তা দিয়ে থাকে রিল্যাক্সি। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ডাউনলোড দিয়েছে। একই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের আরও দুই তরুণ রয়েছেন, তারা হলেন টার্টল ভেনচারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার সায়েফ ও সারাবান তাহুরা। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মূলধন সহায়তা করে থাকে টার্টল ভেনচার। ২০১৮ সাল থেকে কাজ শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ৯০টি উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছে এবং এদেরকে দেড় কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

    কনজ্যুমার টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে যানবাহনের প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠান যাত্রী’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা আজিজ আরমান এবারের ‘৩০ অনূর্ধ্ব ৩০’ তালিকায় রয়েছেন। গত বছর ঢাকা বাস মালিক সমিতি ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু করতে সম্মত হয় এবং যাত্রী’র মাধ্যমে পাঁচ হাজার ৬৫০টি বাসে ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু হয়। ২০২১ সালে কোম্পানিটি ১২ লাখ ডলার বিনিয়োগ পায়। রিফ্লেক্ট ভেঞ্চারস, ব্রেইন-টু-ফ্রি ভেঞ্চারস ও এসবিকে টেক ভেঞ্চারের মতো প্রতিষ্ঠান এতে বিনিয়োগ করে। এদের কাছ থেকে মোট সাড়ে ৫২ লাখ ডলার বিনিয়োগ পাওয়ার কথা রয়েছে।

    অ্যাগ্রোশিফট টেকনোলজিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা দীপ্ত সাহাও কনজ্যুমার টেকনলোজি ক্যাটাগরিতে ফোর্বসের এবারের ‘৩০ অনূর্ধ্ব ৩০’ তালিকায় রয়েছেন। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল এনে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করে গত বছর চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি। গত বছর তারা এইচঅ্যান্ডএম-এর ‘এসটিআইটিসিএই ফর আরএমজি গ্লোবাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ জিতে নেয়। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান শুরুক পার্টনার্স ও অ্যাঙ্করলেস বাংলাদেশের কাছ থেকে গত অক্টোবরে ১৮ লাখ ডলার বিনিয়োগ পায় অ্যাগ্রোশিফট।

  • বৈশ্বিক গড় উষ্ণতা রেকর্ড ভেঙে দেড় ডিগ্রি বাড়তে পারে

    বৈশ্বিক গড় উষ্ণতা রেকর্ড ভেঙে দেড় ডিগ্রি বাড়তে পারে

    বৈশ্বিক গড় উষ্ণতা রেকর্ড ভেঙে দেড় ডিগ্রি বাড়তে পারে

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, বৈশ্বিক গড় উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তার আগের রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উষ্ণতা বৃদ্ধির বিষয়টি পরিলক্ষিত হবে। ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি। খবর: বিবিসি’র।

    অন্যদিকে বিবিসি জানায়, গবেষকরা বলছেন, ৬৬ ভাগ সম্ভাবনা রয়েছে যে ২০২৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সীমায় পৌঁছানোর অর্থ হলো, ১৯ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের পর বিশ্ব ১ দশমিক ৫ সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ।

    তবে ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির যে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সীমা লঙ্ঘন করবে না এটি।

    যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘকালীন আবহাওয়া পূর্বাভাসের প্রধান অ্যাডাম স্কেইফ বলেছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে ৬৬ শতাংশ। ইতিহাসে এবারই প্রথম আমরা উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির এত কাছাকাছি রয়েছি।

    গত বছর বলা হয়েছিল, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির এ আশঙ্কা ৫০-৫০। উষ্ণতা বৃদ্ধির আংশিক কারণ হলো এল নিনো ওয়েদার প্যাটার্ন। আগামী কয়েক মাসে এ প্যাটার্ন তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র!

    আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র!

    আগামী পহেলা জুনের মধ্যেই অর্থসংকটে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কোষাগারে আর মাত্র ১৫ দিনের সরকারি ব্যয় মেটানোর মতো অর্থ রয়েছে। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির খোদ অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন। খবর রয়টার্সের।

    যুক্তরাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ ঋণগ্রহণ সীমা বাড়ানো না হলে আগামী ১ জুনের পর থেকে আর সরকারি ব্যয় পরিশোধের উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তথা অর্থ মন্ত্রণালয়। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থাভাবে দেউলিয়া হতে পারে দেশটি। মার্কিন কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন।

    গত সপ্তাহেই দেশটির ঋণগ্রহণ সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভিসসে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা। তবে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটদের চাওয়া আরও বেশি। সেই প্রস্তাবে সরকারি ব্যয়সহ বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কমানোর কথাও বলা হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসকে দুবার চিঠি লিখে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন। তার সবশেষ চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জুন মাসের প্রথম দিকের পর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সরকারের সব ব্যয় মেটাতে ব্যর্থ হতে পারে। যার সহজ অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেউলিয়া হতে পারে।

    জ্যানেট ইয়েলেন তার চিঠিতে জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে আগামী ১ জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ঋণগ্রহণ সীমা না বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্র গভীর বিপদে পড়বে।

    এর আগে, রাজস্ব এবং অন্যান্য খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপাত্তের ভিত্তিতে জ্যানেট ইয়েলেন গত ১ মে কংগ্রেসে বলেছিলেন যে, জুনের শুরুতে, সম্ভবত ১ জুনেই সরকারি বিল পরিশোধের জন্য ট্রেজারিতে নগদ অর্থের অভাব হবে।

    মঙ্গলবার (১৬ মে) মার্কিন কংগ্রেসকে লেখা চিঠিতে জ্যানেট ইয়েলেন উল্লেখ করেন, তিনি ১ মে তার চিঠিতে দেউলিয়া হওয়ার বিষয়ে যে দিন-তারিখের কথা বলেছিলেন, তার চেয়ে কিছুদিন বা কয়েক সপ্তাহ বেশিও লাগতে পারে। তিনি চিঠিতে লেখেন, আগামী সপ্তাহে তিনি এ বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত জানাবেন।

    এদিকে, জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার (১৭ মে) জাপান যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেখানে তিনি প্রায় এক সপ্তাহ কাটাবেন। এ সময় তিনি জাপান সফরের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া সফরেও যাবেন। এ অবস্থায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলেও সোমবার জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার কেভিন ম্যাককার্থি।

  • থাইল্যান্ডের নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থিদের জয়জয়কার

    থাইল্যান্ডের নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থিদের জয়জয়কার

    থাইল্যান্ডে রবিবারের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে সেনা সমর্থিত দলগুলোকে পেছনে ফেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিরোধীদল প্রগ্রেসিভ মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি (এমএফপি) এবং ফেউ থাই পার্টি। থাইল্যান্ডের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সয়লাব হয়ে গেছে মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির সমর্থকদের বিজয়বার্তায়। তারা দলের বিজয়কে ‘পরিবর্তনের বাতাস’ ও ‘নতুন যুগের ঊষালগ্ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, সামরিক সমর্থিত দলগুলোর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে তারা। এমন ফলাফলকে বড় জয় বলে বর্ণনা করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

    বিবিসির সোমবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে সব পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০ আসনের মধ্যে ১৫১টিতে জিতেছে সংস্কারপন্থি মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি।

    এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে দেশটির সেনা সমর্থিত সরকারের অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রগ্রেসিভ মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি পেয়েছে ১৫১টি আসন। অন্যদিকে ১৪১ আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ফেউ থাই। এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ৫০০ আসনের মধ্যে ২৮৬টিতেই জয় পেতে পারে এই দুই দল।

    ফেউ থাইয়ের নেতা পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা মুভ ফরোয়ার্ডকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমরা মুভ ফরোয়ার্ডের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা বিশ্বাস করি থাইল্যান্ডে ভালো কিছু সম্ভব। আজ থেকেই পরিবর্তন হতে পারে, যদি আমরা শুরু করি। যদি আপনাদের দ্বিমত না থাকে।

    মুভ ফরোয়ার্ড ও ফেউ থাই জোট গঠনের জন্য শিগগিরই আলোচনা শুরু করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এবারে থাইল্যান্ডের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবারও ক্ষমতায় আসার জোর চেষ্টায় আছেন সেনা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচাও। ৬৯ বছরের এই সাবেক সেনাপ্রধান ২০১৪ সালে দেশটিতে সর্বশেষ অভ্যুত্থান ঘটান। সে সময় থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রার কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তবে এবার সুবিধাজনক অবস্থানে নেই তার দল।

    সূত্র: সিএনএন

  • ভোটগ্রহণ শেষ হলো থাইল্যান্ডে, ফলাফলের অপেক্ষা

    ভোটগ্রহণ শেষ হলো থাইল্যান্ডে, ফলাফলের অপেক্ষা

    থাইল্যান্ডে রবিবার (১৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ফলাফল প্রত্যাশিত হবে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ পর্ব। প্রাথমিক জরিপ বলছে, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা আছেন শক্ত অবস্থানে।

    নির্বাচনে এবার অংশগ্রহণ করেছে প্রায় ৭০টি দল। তাদের মধ্যে এগিয়ে আছে ফেউ থাই দল; যার নেতৃত্বে আছেন ৩৬ বছরের পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। নিজের ভোট দেওয়ার পর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করে পেতংতার্ন বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়’।

    অন্যদিকে আবারও ক্ষমতায় আসার জোর চেষ্টায় আছেন সেনা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচাও।  ৬৯ বছরের এই সাবেক সেনাপ্রধান ২০১৪ সালে দেশটিতে সর্বশেষ অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন। সে সময় থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রার কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।

    এর আগে বিবিসি জানায়, এবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০ সদস্যকে নির্বাচিত করতে ভোট দিচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি নিবন্ধিত ভোটার। এ ছাড়া প্রায় ২০ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন।

    সেনা সমর্থিত সরকারকে রুখতে অবশ্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্যান্য দল। ওচা’র ইউনাইটেড থাই নেশনের চেয়ে এগিয়ে আছে ফেউ থাই ও মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি। মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৪২ বছরের সাবেক প্রযুক্তি নির্বাহী পিটা লিমজারোনরাত।

    ৬২ বছরের ভোটার ওনেসুয়াত চক্রবুন্ধু বলেন, ‘নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছি।  কেননা আমি চাই, কোনও যুদ্ধ ছাড়াই দেশ সামনে এগিয়ে যাক।’

    জরিপে ফেউ থাই দল এগিয়ে থাকলেও আদতে ক্ষমতায় আসতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান দেশটির নাগরিকরা। ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানের পর সংবিধানের পরিবর্তনের কারনে তৈরি হয়েছে এমন শঙ্কা।

    নতুন নিয়ম অনুসারে কারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে সিনেট সদস্যদের ভোটে সরকার গঠন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, সিনেটের প্রায় সব সদস্যই সেনা সমর্থিত দল থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাই স্বভাবতই তাদের ভোট যাবে প্রায়ুথ চান ওচার পক্ষে।

    সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি 

  • এরদোয়ানের ভাগ্য নির্ধারণের দিন আজ, চলছে ভোট

    এরদোয়ানের ভাগ্য নির্ধারণের দিন আজ, চলছে ভোট

    তুরস্কের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন আজ। প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ২০ বছর ক্ষমতায় থাকা রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট থাকবেন কিনা তা নির্ধারণে রায় দিচ্ছেন তুর্কিরা। ২০১৬ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থান থেকে বেঁচে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অর্জিত অনেক ক্ষমতা বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিকদারোগলু।

    আধুনিক তুরস্কের ১০০ বছরের ইতিহাসে এটি অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচন। দেশটিতে ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কি না, তা আজকের নির্বাচনে নির্ধারিত হবে।

     স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৮টা থেকে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় তুরস্কে। ইতোমধ্যে ১৭ লাখের বেশি ভোটার বিদেশ থেকে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো এবার ভোট দিচ্ছেন ৫০ লাখ ভোটার।

    নির্বাচনে একজন ভোটার দুটি করে ভোট দেবেন। একটি প্রেসিডেন্টের জন্য, অন্যটি পার্লামেন্টের জন্য।

    এ ধাপে কোনও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ৫০ শতাংশের কম ভোট পেলে ২৮ মে শীর্ষ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ভোট হবে।

    তুরস্কের ৬ কোটি ৪০ লাখ ভোটার কঠিন এক সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি দেশের ১১টি প্রদেশ সম্প্রতি ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে। প্রাকৃতিক ওই দুর্যোগে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।

    বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগলু কিছুটা এগিয়ে আছেন। বিরোধী ছয়টি দলের জোটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিলিচদারোগলু।

    প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান অর্থনীতিতে সংস্কার আনায় মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। অন্য দেশগুলো যখন সুদের হার বাড়াচ্ছে, তখন তিনি তা কমিয়ে দিয়েছেন।

    এবারের নির্বাচনে ২৪টি রাজনৈতিক দল এবং ১৫১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ৬০০ সদস্যের তুরস্কের পার্লামেন্ট আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    ভোটাররা তিন জন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে একজনকে বেছে নেবেন। এবার এই পদে লড়ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান, প্রধান বিরোধী নেতা কামাল কিলিকদারোগলু ও মুহাররেম ইনসে।

    বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগলু কিছুটা এগিয়ে আছেন। বিরোধী ছয়টি দলের জোটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিলিচদারোগলু।

    ন্যাটোর সদস্যদেশ তুরস্ক। সাড়ে ৮ কোটি মানুষের বসবাস দেশটিতে। এরদোয়ানের সরকার ক্রমবর্ধমানভাবে কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে। তুরস্কের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। দেশটির পররাষ্ট্রনীতি অপ্রত্যাশিত দিকে মোড় নিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা–ও নির্ধারিত হবে আজকের ভোটে।

    নির্বাচনে এরদোয়ানের রক্ষণশীল একে পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্সের সঙ্গে কিলিচদারোগলুর নেতৃত্বাধীন নেশন অ্যালায়েন্সের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।

    তুরস্কের মোট ভোটারের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কুর্দি। নির্বাচনে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা 

  • ‘মোহাম্মদ’ জার্মানির বার্লিনে জনপ্রিয় নাম

    ‘মোহাম্মদ’ জার্মানির বার্লিনে জনপ্রিয় নাম

    হজরত মুহাম্মদ সা: সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। তাঁর চেয়ে সেরা কোনো নবী নেই এবং তিনিই সর্বশেষ নবী। তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না। মুসলিম বিশ্বের মতো ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও এ নামটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এবার জার্মানিতেও জনপ্রিয় নামের তালিকায় আছে নামটি। ২০২১ ও ২০২২ সালে জার্মানির রাজধানী বার্লিন শহরে ছেলেশিশুদের জনপ্রিয় নামের তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করেছে মোহাম্মদ, যা পুরো জার্মানিতে ২০তম অবস্থানে রয়েছে।

    গত ৮ মে উইসবাডেনভিত্তিক ভাষা গবেষণাপ্রতিষ্ঠান দ্য সোসাইটি ফর দ্য জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রকাশিত সমীক্ষা থেকে এই তথ্য জানা যায়।

    নামের সমীক্ষায় দেখা যায়, বার্লিন শহরের ছেলেশিশুদের জনপ্রিয় অপর দুটি নাম হলো নুহ (Noah) ও আদম (Adam)। এর আগে নুহ ও আদম যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল।

    এদিকে মেয়েশিশুদের সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনটি নাম হলো সোফিয়া (Sophia/Sofia) এমিলিয়া (Emilia) ও এমা (Emma)। আর পুরো দেশে ছেলেশিশুদের জনপ্রিয় নামের তালিকার শীর্ষে রয়েছে নুহ, ম্যাথিও (Matt(h)eo/Mat(h)eo) ও লিওন (Leon)।

    হামবুর্গভিত্তিক সাপ্তাহিকী ডাই জেইট থেকে জানা যায়, জার্মানির ৭৫০টির বেশি জন্মনিবন্ধন অফিস থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়; যেখানে প্রায় ৭০ হাজার ভিন্ন ভিন্ন নামে ১০ লাখ এন্ট্রি রয়েছে। এসব নামের ৯০ শতাংশের বেশি সোসাইটি ফর দ্য জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ কর্তৃক রেকর্ড করা হয়। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর জনপ্রিয় নামের সমীক্ষা প্রকাশ করছে।

    তাতে আরো বলা হয়, ২০১৮ সালেও বার্লিন শহরে মোহাম্মদ নামটি সাধারণ মানুষের পছন্দের শীর্ষে ছিল না। তবে ২০২১ সালে এসে নামটি পছন্দের তালিকার তৃতীয় অবস্থানে চলে যায়। এবং ২০২২ সালে দুই হাজার ৭৫৮ জনের নাম মোহাম্মদ রাখা হয়; ফলে নামটি তালিকার শীর্ষস্থান অধিকার করে।

    ডয়চে ভেলের তথ্য মতে, জার্মানির জনপ্রিয় নামগুলোর মধ্যে অনেক আরবি নামও রয়েছে। নামবিষয়ক ওয়েবসাইটে (beliebte-Vornamen) প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, গত বছর ছেলেদের জনপ্রিয় নামের মধ্যে মালিক ও আলী এবং মেয়েদের নামের মধ্যে আলিয়া ও জয়নব ছিল। তাছাড়া অনেক জার্মান ও আরবদের মধ্যে হানা, লিনদা ও লিনা নামের প্রচলন দেখা যায়।

    মোহাম্মদ নামটি এশিয়া অঞ্চলে খুবই পরিচিত নাম। গত এক দশক ধরে নামটি যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় নামের শীর্ষে রয়েছে। ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের (ওএনএস) তথ্য মতে, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে মোহাম্মদ নামটি যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় নামের তালিকায় রয়েছে। তাছাড়া গত বছর আয়ারল্যান্ডের একটি শহরে মোহাম্মদ নামটি জনপ্রিয় নামের শীর্ষে ছিল। ফ্রান্সে প্রতি পাঁচ নবজাতকের মধ্যে একজনের নাম মোহাম্মদ। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও নামটি খুবই জনপ্রিয়।

    ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক ও শেষ নবীর নাম মোহাম্মদ সা:। তাঁর ওপর অবতীর্ণ পবিত্র কুরআনে নামটির উল্লেখ আছে। তাঁর নামানুসারে অনেক ছেলেশিশুর নাম মোহাম্মদ রাখা হয়। আরবি ভাষায় মোহাম্মদ শব্দের অর্থ প্রশংসিত। এছাড়া হাদিসে সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে।

    সূত্র : আলজাজিরা

  • ইউটিউবে ভিউ বাড়াতে কি ধ্বংস করে দিলেন আস্ত বিমান?

    ইউটিউবে ভিউ বাড়াতে কি ধ্বংস করে দিলেন আস্ত বিমান?

    ভিডিওতে ভিউ বাড়াতে অনেক কিছুই করেন ইউটিউবাররা। অনেকভাবেই ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকদের ধোঁকা দিয়ে থাকেন তারা। তবে ভিউ বাড়াতে বিশাল এক কাণ্ড করে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেভর জ্যাকব নামক ২৯ বছরের এক ইউটিউবার।

    ২৯ বছর বয়সী প্রাক্তন অলিম্পিক ‘স্নোবোর্ডার’ একটি প্রপেলার বিমান থেকে লাফ দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে বিমান থেকে প্যারাশুট নিয়ে লাফ দিয়েছিলেন। তিনি একাই বিমানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লোমপক থেকে ম্যামথ লেকসের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘটনাটি প্রায় দেড় বছর আগের। কিন্তু পুরো বিষয়টিই আসলে একটি মিথ্যা ছিল। ইউটিউবে ভিউ ও ফলোয়ার বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই স্টান্টবাজি ভিডিও করেছিলে তিনি।

    পাইলট ট্রেভর জ্যাকব বৃহস্পতিবারে এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং স্বীকারও করেছেন। শুধু তাই নয়, ফেডারেল তদন্তে বাধা দেওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ধ্বংস করে ফেলেন তিনি। বিমানটি সান্তা বারবারা কাউন্টিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে জানায় ক্যালিফোর্নিয়ার কেন্দ্রীয় জেলায় অবস্থিত মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস।

    তার বিরুদ্ধে ‘ফেডারেল তদন্তে বাধা দেওয়া, বিমানের ধ্বংসাবশেষ ধ্বংস এবং গোপন করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অপরাধে তার ২০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের একজন মুখপাত্রের মতে,  শুনানির জন্য জ্যাকব আগামী সপ্তাহে প্রাথমিক আদালতে উপস্থিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ আনুষ্ঠানিক আবেদনের শুনানির কয়েক মাস পরেই তার সাজা ঘোষণা করা হবে। জ্যাকবের পাইলটের লাইসেন্সও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রত্যাহার করেছে।

    ঘটনাটি ঘটেছিল নভেম্বর ২৪, ২০২১ সালে এবং জ্যাকব ‘আই ক্র্যাশড মাই এয়ারপ্লেন’ শিরোনামের একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন। তখন থেকে প্রায় ৩ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছেন জ্যাকব। ভিডিওটিতে দেখা যায়, লোমপক সিটি বিমানবন্দর থেকে মসৃণ টেকঅফ করে পাহাড়ের ওপরে চলে যাচ্ছে বিমানটি। বিডিওতে জ্যাকব বলছে, সে ম্যামথ লেকে যাচ্ছে। একপর্যায়ে তার বন্ধু জনি স্ট্রেঞ্জের ছাইও দেখায়, যে ২০১৫ সালে সুইস আল্পসে লাফ দেওয়ার সময় মারা গিয়েছিলেন। ভিডিওতে প্রায় এক মিনিটের মাথায় প্লেনের প্রপেলারটি থেমে যায় এবং জ্যাকব দরজা খুলে ফেলেন। এরপর তিনি বলেন, বিমানের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। তিনি দরজা দিয়ে বের হয়ে প্যারাশুটসহ লাফ দেন এবং মাটিতে নামেন। ওদিকে চালকবিহীন বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। নিচে নামার পর তিনি বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান আর ধ্বংস করেন। স্থানীয় কৃষকরা কয়েক ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করেন।

    এফএএ-এর মতে, বিমান দুর্ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল এবং এটি প্রমাণ করার জন্য প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। জ্যাকবস বিমানে উড্ডয়নের আগে ক্যামেরা বসিয়েছিলেন, যেটি প্রপেলারের দিকে ছিল। তিনি একটি প্যারাশুট নিয়ে লাফ দিয়েছিলেন। ইঞ্জিন নষ্ট ও বন্ধ হয়ে গেছে বলার আগেই বিমানের দরজা খুলে ফেলেন। তিনি ইঞ্জিন আবার চালু করার চেষ্টা করেননি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা অবতরণ করার জন্য নিরাপদ জায়গা খোঁজেননি। জ্যাকবস একটি সেলফি স্টিক ব্যবহার করে বিমানটি থেকে লাফ দেন। এ জন্য মন্তব্যকারীদের তিরস্কারের শিকারও হয়েছিলেন। বিমানের ধ্বংসাবশেষ পুনরুদ্ধার এবং ধ্বংস করলেও তার ক্যামেরাগুলো কিন্তু ঠিকঠাক উদ্ধার করেছেন।

    জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের রিলিজ বলছে, জ্যাকব এমন একটি কম্পানির কাছ থেকে স্পন্সরশিপ পেয়েছিলেন, যার ‘ওয়ালেট’ তিনি ওই ভিডিওতে প্রচার করেছিলেন। ভিডিওটির পূর্ববর্তী সংস্করণে জ্যাকবস প্লেনের সামনে দাঁড়িয়ে ‘রিজ ওয়ালেট’র জন্য একটি প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন দেখিয়েছেন। তবে রিজের প্রতিনিধিরা এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

    সূত্র : লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

  • জাতিসংঘের বিশেষ দূত ওলিভিয়ার ডি শ্যুটার ঢাকায় আসছেন

    জাতিসংঘের বিশেষ দূত ওলিভিয়ার ডি শ্যুটার ঢাকায় আসছেন

    চরম দারিদ্র্য ও মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ওলিভিয়ার ডি শ্যুটার দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের উদ্যোগ পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ সফর করবেন। আগামী ১৭ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন।

    স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ডি শ্যুটার বিঞ্জপ্তিতে বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও জলবায়ুজনিত অভিঘাতের প্রেক্ষাপটে মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত রাখতে ও সবার জন্য মানসম্পন্ন জীবনমান নিশ্চিতকরণে সরকার যাতে সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখতে পারে, সেসব বিষয়ে কিছু দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারবো।’

    সফরকালে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ ঢাকা ও রংপুর বিভাগের কিছু এলাকা এবং কক্সবাজার পরিদর্শন করবেন। তিনি এসব এলাকার স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, দারিদ্র্যপীড়িত সম্প্রদায় ও মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

    এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা নিরূপণে ডি শ্যুটার দারিদ্র্যের ওপর বাংলাদেশের শ্রম আইন, স্বাস্থ্যসেবা, গৃহায়ণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাবগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, তৈরি পোশাককর্মী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ যেসব গোষ্ঠী দারিদ্র্য ও বৈষম্যের শিকার, তাদের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।

    সফরের শেষ দিকে ২৯ মে বাংলাদেশ সময় ৩টায় ঢাকার হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ডি শ্যুটার তার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শগুলো একটি সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাবেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পেশ করবেন তিনি।