হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী যে উষ্ণায়নের সৃষ্টি হয়েছে তাতে পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে নানামুখি সমস্যার দেখা দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলীও চরম উদ্বেগের মধ্যে আছে। কেননা এই উষ্ণায়নের ফলে এশিয়ার সবচেয়ে বড় পর্বত হিমালয়ে গলছে দ্রুত গতিতে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছে এই ভাবে বরফ গলতে থাকলে দশ বছরের মধ্যে হারিয়ে যাবে দশটি নদী। যেসব নদীর সৃষ্টি হিমালয় থেকে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন গত কয়েক বছর ধরে এই উষ্ণায়ন বাড়তে থাকবে।
জানা গেছে উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের বরফ গলে যাওয়ার গতি এতটাই যে, একের পর এক হিমবাহ উধাও হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে চরম উদ্বেগের বলে মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, গত দশকে অর্থাৎ ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিমালয়ের বরফ যে গতিতে গলেছে, তা পূর্ববর্তী দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, বরফ গলনের গতি এক দশকে ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পাহাড় পর্বতে জমে থাকা বরফ গলবে, এটাই স্বাভাবিক। বরং, বরফ গলে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু হিমালয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে চিন্তার তা হচ্ছে এই সময়ের মধ্যে দ্রুত এত বরফ হিমালয় থেকে গলে যাবে, তা আশা করেননি কেউ। এ বিষয়ে এখন থেকেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।
হিন্দুকুশ হিমালয়ের হিমবাহগুলি সরাসরি অন্তত ২৪ কোটি মানুষের প্রতি দিনের প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি মেটায়। এ ছাড়া, বিভিন্ন নদী উপত্যকায় বসবাসকারী আরও অন্তত ১৬৫ কোটি মানুষ পরোক্ষ ভাবে এই হিমবাহগুলির উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই শতাব্দীর শেষে হিমালয়ের হিমবাহগুলি ৮০ শতাংশ আয়তন হারাবে। তাতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে ওই এলাকা থেকে সৃষ্টি হওয়া ১০টি প্রধান নদী এবং তাদের যাবতীয় উপনদী ও শাখানদী।
গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র, মেকং, ইয়েলো, ইরাবতীর মতো ভারত ও চিনের বহু গুরুত্বপূর্ণ নদীর জলের উৎস হিমালয়ের হিমবাহ। সেগুলি গলে গেলে এই নদীতে প্লাবন দেখা দেবে। নদীর উপত্যকায় বসবাসকারী বহু মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠবে তাতে। উপত্যকার বাসিন্দাদের শুধু বাসস্থান নয়, খাবার, বিদ্যুৎ প্রভৃতি একাধিক প্রাথমিক চাহিদা মেটে নদীর জল থেকেই।
নেপালের ইন্টারন্যাশানাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহের পরিমাণ দাঁড়াবে এক তৃতীয়াংশ। হিমবাহ অর্ধেক হয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়। উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বের তাপমাত্রা সার্বিক ভাবে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই কারণেই বিশ্বের নানা প্রান্তে আগের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। বেড়েছে দাবদাহের মাত্রাও। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে আবহাওয়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য পদক্ষেপ করতে হবে, মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
এই উষ্ণায়নের ফলে এবং হিমালয় থেকে সৃষ্ট ১০ টি নদী হারিয়ে গেলে বিরাট ক্ষতির মুখোমুখী হবে বাংলাদেশ। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, বিশ্বব্যাপি দাবদাহ ফলে জলবায়ুর জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। তবে এর জন্য শুধুমাত্র প্রাকৃতিক কারণেই নয়, এর মধ্যে মানবসৃষ্ট কারণও রয়েছে। বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, বন্যা ইত্যাদি সবগুলো দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং হচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও অনেক অনেক বেশি। তাই মানব সৃষ্ট উষ্ণায়ন অবশ্যই আমাদের কমাতে হবে। বিশেষ ভাবে এই উষ্ণায়ন কমাতে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
সূত্র : আনন্দবাজার প্রত্রিকা










