হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে তীব্র দাবদাহ চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই তীব্র গরম ও দাবদাহের শিকার হচ্ছে। এর জেরে ভারতের উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে গত তিন দিন মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের। এই ৯৮ জনের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের মৃতের সংখ্যা ৫৪ এবং বিহারে ৪৪।
উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলা হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাপপ্রবাহের কারণে অসুস্থ হয়ে ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে ওই তিন দিন চারশোরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন।
জানা গেছে যে সব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এদিকে জেলায় তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা প্রতি দিন বাড়ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত ১৫ জুন মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। ১৬ জুন ২০ জনের এবং ১৭ জুন বিকেল ৪টে পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বালিয়ায় গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি। আবাহাওয়া অফিস জানায় শুক্রবার বালিয়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৫ ডিগ্রি বেশি।
অন্য দিকে পূর্ব ভারতের রাজ্য বিহারও তীব্র গরমে পুড়ছে । এই রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র গরমে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে । রাজ্যের ১৮টি জায়গায় চরম তাপদাহ চলছে। ৪৪ জনের মধ্যে শুধুমাত্র পটনাতেই মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। তাঁদের মধ্যে নালন্দা মেডিক্যাল কলেজে মারা গিয়েছেন ১৯ জন এবং পটনা মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। বাকি ন’জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকে।
রাজ্য আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার ১১টি জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। পটনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার শেখপুরায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে । তীব্র গরমের কারণে আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত পটনা এবং রাজ্যের সমস্ত জেলায় স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের আবহাওয়া অফিস গত ১৮ এবং ১৯ জুন দাবদাহে সতর্কতা জারি করেছে অওরাঙ্গাবাদ, রোহতাস, ভোজপুর, বক্সার, কাইমুর এবং আরওয়াল জেলায়। লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এই সব জেলায়। কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে পটনা, বেগুসরাই, খাগারিয়া, নালন্দা, বাঁকা, শেখপুরা, জামুই এবং লখিসরাইয়ে। হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে পূর্ব চম্পারণ, গয়া, ভাগলপুর, জেহানাবাদে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা










