Category: খেলাধুলা

  • নেপালকে ১ রানে হারিয়ে ডি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা

    নেপালকে ১ রানে হারিয়ে ডি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৫ জুন, ২০২৪: টি টোযেন্টি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দক্ষিণ আাফ্রিকা খুব একটা ভালো খেলতে পারেনি। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ড ও নেপাল সবার কাছেই অল্পের জন্য হারতে হারতে জিতেছে দেশটি। অথচ সম্ভাব্য চ্যাস্পিয়নের তালিকায় তিনিটি দেশের মধ্যে সব সময় থাকে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম। আজকের খেলায় ক্রিকেট শক্তির দিক থেকে অনেক পিছিয়ে নেপালকে হারিয়েছে মাত্রা ১ রানে।চার খেলার চারিটিতে জিতে ডি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।

    টি-টোয়েন্টিতে এর আগে কখনোই সাক্ষাৎ হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেপালের ।সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভ্যালে স্টেডিয়ামে প্রথম সাক্ষাতে নেপালকে ১ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রোটিয়াদের মাত্র ১১৫ রানে আটকে দেয় নেপাল। তাড়া করতে নেমে সাবধানী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে পার করে তারা। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬ ওভারে যোগ করে ৩২ রান।

    অষ্টম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্রেকথ্রু এনে তাবরাইজ শামসি। কেশভ মহারাজের জায়গায় আজ একাদশে সুযোগ পান বাঁহাতি এই লেগ স্পিনার। সেই সুযোগ লুফে নিলেন দু হাতে।

    শামসির আঘাতের ধাক্কা কাটিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন আসিফ শেখ ও অনিল শাহ। তাতে জেতার আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায় নেপাল। একটা পর্যায়ে রানরেট ছিল হাতের নাগালে। ২৪ বলে ২৭ রান করা অনিলকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম। ১৮তম ওভারে আবারও জোড়া আঘাত হানেন শামসি। দীপেন্দ্র সিং ঐরীকে কট বিহাইন্ডের পর আসিফকে বোল্ড করেন ওভারের শেষ বলে। ৪৯ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রান করেন আসিফ।

    ১৯তম ওভারের প্রথম চার বলে কোনো রানই দেননি নরকিয়া। একইসঙ্গে শিকার করেন একটি উইকেটও। কিন্তু পঞ্চম বলে ১০৫ মিটার বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন সোমপাল কামি। পরের বলে দুই রান নিলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য আট রান লাগে নেপালের।

    ওটনিল বার্টম্যানের প্রথম দুই বল থেকে অবশ্য কোনো রান আসেনি। তবে তৃতীয় বলে হালকা শাফল করে কাভার দিয়ে চার হাঁকান গুলশান ঝা। পরের বলে একইভাবে ব্যাট চালালেও দুই রানের বেশি নিতে পারেননি। পঞ্চম বলে তাকে শর্ট বলে সমস্যায় ফেলেন বার্টম্যান। কাট করতে গিয়েও ব্যাটে লাগাতে পারেননি গুলশান। শেষ বলটিও একইভাবে করেন বার্টম্যান। এবারও ব্যাটে লাগাতে পারেননি গুলশান। কিন্তু দৌড়ে এক রান নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু অপর প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই দারুণ এক থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন হাইনরিখ ক্লাসেন। নেপালকেও ৭ উইকেটে ১১৪ রান নিয়ে।

    এর আগে ব্যাট করতে নেমে সমান উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকাও। নেপালের স্পিনারদের সামনে তাদের কোনো ব্যাটারই খোলস ছেড়ে বের হতে পারেননি। ৪৯ বল খেলে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন রিজা হেনড্রিকস। নেপালের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন কুশল ভুর্তেল। এছাড়া বাকি তিন উইকেট নেন দীপেন্দ্র। সেই স্পিনের ভরসায় থেকেই জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকার। ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন শামসি।

    চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করল প্রোটিয়ারা। তবে আজকের হারে বিদায় ঘণ্টা বেজেছে নেপালের। তাই ডি গ্রুপ থেকে সুপার এইটের লড়াইয়ে রয়েছে কেবল বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা অবশ্য সহজই বলা যায়। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।গ্রুপের শেষ ম্যাচে ১৭ জুন নেপালকে হারালেই সুপার এইটে উঠবে তারা। অন্যদিকে ২ পয়েন্ট পাওয়া নেদারল্যান্ডসকে সুপার এইটে যেতে হলে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পাশাপাশি চেয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশের বড় হারের দিকে।

    আজকে অপর খেলায় জিতেছে নিউজিল্যান্ড

    বিশ্বকাপ থেকে দুদলেরই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে আগে। তবে নিউজিল্যান্ডের ছিটকে পড়াটা ছিল বিস্ময়ের। আফগানিস্তানের পর স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেও হেরেছে তারা। তবে ব্যর্থতা ভুলে অবশেষে জয়ের দেখা পেয়েছে কেইন উইলিয়ামসনের। নবাগত উগান্ডাকে আজ ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দেয় তারা।

    টিম সাউদি-ট্রেন্ট বোল্টের মতো অভিজ্ঞ পেসারদের সামনে উগান্ডার ব্যাটাররা যে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারবেন না, তা আগে থেকেই অনুমিত ছিল। হলোও তা-ই। ১৮ ওভার ৪ বল খেলে মাত্র ৪০ রানেই গুটিয়ে যায় উগান্ডা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ। যৌথভাবে এই রেকর্ডের মালিকানা অবশ্য উগান্ডার দখলেই। এর আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অলআউট হয়েছিল ৩৯ রানে।

    পাকিস্তানের বিদায়

    গতাকাল রাতে বৃষ্টির জন্য পরিত্যাক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ড খেলা। ফলে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।ফলে এ গ্রুপ থেকে সুপার এইটে খেলবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। 

    আজকের খেলা

    ভারত ও কানাডা খেলবে ফ্লোরিডায়, খেলো শুরু হবে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। দিনের অপর খেলায় নামিবিয়া খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। অ্যান্টিগায় রাত ১১ টায় খেলা শুরু হবে রাত ১টায়।

  • সাকিব দলের বোঝা থেকে  হয়ে গেলেন নায়ক

    সাকিব দলের বোঝা থেকে হয়ে গেলেন নায়ক

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৪ জুন, ২০২৪: সাকিবের জীবনে হয়তো এমন খারাপ সময় খুব কম এসেছে। যখন দেশের ক্রিকেট ভক্তরা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন ক্রিকেটার সাকিবের বর্তমান পারফরমেন্স  দেখে তিরস্কার করেছে। সাবেক ভারতীয় তারকা বীরেন্দর শেবাগের দুদিন আগে করা একটি মন্তব্যও সামনে চলে আসে। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টাইগারদের হারের পর এক আলোচনায় তিনি সাকিবের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি (সাকিব) এতই সিনিয়র খেলোয়াড়, অধিনায়ক ছিলেন দলের, এটা শেষ আসর। কিছু তো লজ্জা থাকা উচিৎ। বলা উচিৎ, আমি টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিচ্ছি। আমার বোলিং ভালো হচ্ছে না, ব্যাটিং ভাল হচ্ছে না। দলের জন্য আমি কিছু করতেই পারছি না। তাহলে আমি খেলে কী করব?’

    সরাসরি এই ধরণের শেবাগের কথায় কিছুটা হলেও আঘাত পেয়েছিলেন সাকিব। কেননা ধারাবাহিক ভাবে এত খরাপ খেলতে কখনও দেখা যায়নি। দেখা গেছে নিজের দক্ষতায় ফিরেছন তিনি। এবারও হয়েছে তাই। তিনি ফিরেছেন। দারুণ ভাবে।

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল জয় দিয়ে। এরপর যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারতে হয়, তবে গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় ম্যাচটি ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। হারিয়েছে নেদারল্যান্ডকে। দারুণ এই জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান। চাপের মুখে ব্যাট হাতে লড়েছেন তিনি। হাকিয়েছেন ফিফটিও। এই ইনিংসে তিনি গড়েছেন দারুণ এক রেকর্ডও।

    সেন্ট ভিসেন্টের আর্নস ভালে গ্রাউন্ডে গতকাল টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো করলেও তানজিদ হাসান তামিমের বিদায়ে বিপাকে পড়ে তারা। সেই চাপ সামলে লড়তে থাকেন সাকিব। ফিফটি ছাড়ানো ইনিংস খেলে দলকে এনে দেন ১৫৯ রানের সংগ্রহ। এই রান তাড়ায় নেমে ১৩৪ রানেই থেমে যায় ডাচরা। ২৫ রানের জয়ে সুপার এইটে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলে টাইগাররা।

    এই ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সাকিব। অষ্টাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে ফন মিকারেনের ডেলিভারি ডিপ মিডউইকেটে শট নিয়ে ৩৮ বলে পূর্ণ করে নেন ফিফটি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যেটি ১৩তম।

    এই ফিফটিতে তিনি গড়েছেন দারুণ এক রেকর্ড। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিফটি হাকালেন তিনি। আর বিশ্বের ১৯তম ক্রিকেটার হিসেবে এই ক্লাবে নাম লেখালেন তিনি। ফিফটি হাকিয়েও লড়ে যান দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। ৪৬ বলে ৬৪ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি।

    অবশ্য এই ইনিংস খেলার আগে একটি দুঃসংবাদ পান সাকিব। প্রথম দুই ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ে তিনি পিছিয়েছেন পাঁচ ধাপ। অবস্থান করছেন পাঁচে। তবে গতকাল তার পারফরম্যান্স জানান দেয়, আগের অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সাকিব আল হাসান আরও একবার বাংলাদেশের হয়ে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচের ট্রফি গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জয় পাওয়া শেষ ১২ ম্যাচে ৮টিতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন সাকিব আল হাসান।

    এটাও এক অনন্য পাওয়া। যা শুধু সাবিকের পক্ষে সম্ভব। তিনি কয়েক ম্যাচের পরে দেখা যাবে র‌্যাংকিংয়ের সাবর উপরে উঠে এসছে।

  • সাকিবের রানে ফেরার দিনে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে বাংলাদেশ

    সাকিবের রানে ফেরার দিনে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে বাংলাদেশ

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৪ জুন, ২০২৪: বিশ্বসেরা সাকিব আল হাসানের রানে ফেরার দিনে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে ওঠার সমীকণে টিকে থাকতে হলে জয় ছাড়া কোন বিকল্প ছিলোনা শান্ত বাহিনীর হাতে। সেটাই করে দেখালেন সাকিবের রানে ফেরার দিনে টাইগাররা

    জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৫৯ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজিও গড়ে বাংলাদেশ। তবে ডাচদের ব্যাটিংয়ের একটা পর্যায়ে দারুণ অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ । ১৫তম ওভারেলেগস্পিনার রিশাদ হোসেন দুই উইকেট শিকার করে ম্যাচের চেহারা বদলে দিলেন তিনি। অবশেষে নেদারল্যান্ডসকে ২৫ রানে হারিয়ে সুপার এইটের পথ উজ্জ্বল করলো বাংলাদেশ।

    শুরুতে নেদারল্যান্ডস শিবিরে আঘাত করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে মাইকেল লিভিটের উইকেট তুলে নেন ডানহাতি এই পেসার। দেখেশুনে খেলে এগোতে থাকা এই ডাচ ব্যাটারকে ১৮ রানের (১৬ বলে) মাথায় তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান তিনি।

    পরের ওভারে বোলিংয়ে এসেই ডাচ শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হানেন তানজিম হাসান সাকিব। ডানহাতি এই পেসারকে ফলোথ্রু করে সাজঘরের পথে হাঁটেন আরেক ওপেনার ম্যাক্স ও’ডাইউ (১৬ বলে ১২)। দলীয় ৩২ রানের মাথায় ২ উইকেট হারায় নেদারল্যান্ডস।

    ১৪ ওভারের খেলা শেষে নেদারল্যান্ডসের বোর্ডে ১০৪ রান। চতুর্থ উইকেটে ৪২ রানের ঝোড়ো জুটি। এই জুটির কারণে দারুণ অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশকে। অবশেষে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দিলেন রিশাদ। ১৫তম ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিলেন তিনি। চতুর্থ বলে ৩১ বলে ৪২ রানের জুটি ভাঙেন। ২২ বলে ৩২ রান করা সাইব্রান্ড এনগেলব্রখটকে তানজিম সাকিবের ক্যাচ বানান তিনি। রিশাদের ওভারের শেষ বল খেলতে গিয়ে স্টাম্পড আউট হন ডি লিডে।

    মোস্তাফিজের করা ১৭তম ওভারে ১ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকারও বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্কট এডওয়ার্ডসকে (২৩ বলে ২৫) জাকির আলির ক্যাচ বানান তিনি।

    ব্যাক-টু-ব্যাক বোলিংয়ে এসেই আবারও রিশাদের উইকেট শিকার। লোগান ফন বিক (৩ বলে ২) রিশাদের হাতেই ক্যাচ হন। সর্বশেষ টিম প্রিংলেকে ফেরান তাসকিন। এতে ২০ ওভারে ডাচরা তুলতে পারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান।

    এর আগে সেন্ট ভিনসেন্টে টস হেরে ব্যাট করে নেমে সাকিব আল হাসানের ৬৪ ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৫৯ রান করে বাংলাদেশ। যদিও শুরুতেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারায় টাইগাররা। ৩ বলে ১ করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আইরিশ স্পিনার আরিয়ান দত্তকে রিভার্স সুইপ খেলে ক্যাচ দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

    এরপর আরিয়ানের দ্বিতীয় শিকার হন লিটন। সুইপ খেলে স্কয়ার লেগে এনগেলব্রেখটে দুর্দান্ত ক্যাচ হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ২ বলে তিনি করেন ১ রান।

    তৃতীয় উইকেটে সাকিবকে নিয়ে ৩২ বলে ৪৮ রানের দারুণ একটি জুটি করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তানজিদ ২৬ বলে ৩৫ রান করে আউট হয়ে গেলে জুটি ভাঙে। পল ফন ম্যাকেরেনের বলে ডি লিডের হাতে ক্যাচ হন তিনি।

    এদিন ভালো করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়। তার ব্যাটে যেন বলই আসতেছিল না। ১৫ বল খেললেও রান করতে পেরেছেন মাত্র ৯। শেষ পর্যন্ত টিম প্রিংলের বলে স্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ডানহাতি এই ব্যাটার।

    মাহমুদউল্লাহ বেশ ভালোভাবেই পিচে সেট হয়েছিলেন। কয়েকটি দারুণ শটও খেলেছিলেন। তবে ম্যাচটি শেষ করে আাসতে পারেননি। ২ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ২১ বলে ২৫ রান করেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ফন ম্যাকেরেনের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি, ক্যাচ হন এনগেলব্রেখটের হাতে।

    দুর্দান্ত ব্যাট করে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন সাকিব। ৪৬ বলে ৬৪ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রায় ২ বছর পর সাকিবের ব্যাট থেকে আসে অর্ধশত রানের ইনিংস। কোনো ছক্কা হাকানো ছাড়াই ৯ বাউন্ডারিতে এই রান করেন সাকিব। তার সঙ্গে ৭ বলে ১৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জাকের আলি।

    নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেন আরিয়া দত্ত ও পল ফন ম্যাকেরেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট নেন রিশাদ। ২ উইকেট নেন তাসকিন। ম্যাচসেরা হন সাকিব আল হাসান।

    ওমানকে হারিয়ে সুপার এইটে খেলার সংশয় কাটিয়ে উঠেছে ইংল্যান্ড

    সে কারণে রানরেটও দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই সুপার এইটে তাদের খেলা নিয়ে ছিল সংশয়। ওমানকে উড়িয়ে দিয়ে সেই সংশয় অনেকটাই দূর করে ফেলল জস বাটলারের দল।

    ওমানকে হারানোর আগে ইংল্যান্ডের রানরেট ছিল -১.৮০০, ওমানকে হারানোর পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে +৩.০৮১ এ। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাড়া করতে নেমে সবচেয়ে কম বল খেলে জয়ের রেকর্ডও গড়েছে ইংল্যান্ড। ওমানের দেওয়া ৪৮ রানের লক্ষ্য পেরোতে কেবল ১৯ বল খরচ করে তারা। ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করার পর হাতে বাকি ছিল আরও ১০১ বল।

    পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে সুপার এইটে আফগানিস্তান

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের প্রথম তিন প্রতিপক্ষের দলীয় রান তিন অংকে যেতে দেয়নি। এতেই বোঝা যায়, এবার কতটা বিধ্বংসী বোলিং করছেন আফগান বোলাররা।

    তিন ম্যাচেই দাপুটে জয় পেয়েছে তারা।এর মধ্যে আজ পাপুয়া নিউগিনিকে উড়িয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তো বটেই আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব পাড়ি দিল আফগানরা।

    অন্যদিকে আফগানিস্তানের জয়ে কপাল পুড়েছে নিউজিল্যান্ডের। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে কিউইরা।

    আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ডের। ফ্লোরিডায় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে খেলাটি।

  • নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৩ জুন, ২০২৪: দারুণ এক জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে ‘সি’ গ্রুপ থেকে সুপার এইটে খেলা নিশ্চিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ নিউজিল্যান্ডকে ১৩ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় নিউজিল্যান্ড। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। জবাবে ১৩৬ রানের বেশি করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।

    তিন ম্যাচের তিনটিটেই দাপুটে জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে একই পথে আছে আফগানিস্তান। তিন ম্যাচে ১ জয়ে দুই পয়েন্ট নিয়ে তিনে উগান্ডা। ২ ম্যাচের দুটিতেই হার নিয়ে চারে পাপুয়া নিউগিনি। আর একই অবস্থা নিয়ে সবার শেষে নিউজিল্যান্ড।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা হয় বিবর্ণ। নিজেদের মাঠেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। স্রেফ ৩০ রানে তাদের ৫ উইকেট নিয়ে নেন কিউই বোলাররা। শুরুটা হয় জনসন চার্লসকে দিয়ে। প্রথম ওভারের শেষ বলে বোল্টের বলে বোল্ড হন তিনি। তিনে নেমে ভালো শুরুর আভাস দিলেও ১৭ বলে উইকেট হারান নিকোলাস পুরান। এরপর একে একে বিদায় নেন রসটন চেজ, রভম্যান পাওয়েল ও ব্র্যান্ডন কিং।

    ষষ্ঠ উইকেটে জুটি গড়ে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়েন শেরফানে রাদারফোর্ড ও আকিল হোসাইন। তবে ১৫ রানে আকিল বিদায় নিলে ভাঙে ২৮ রানের জুটিটি। আটে নেমে আন্দ্রে রাসেল ১৪ রান করে বিদায় নেন। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রোমারিও ‍শেফার্ডও। ১৩ রান করে তিনি ফার্গুসনের এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন।

    ব্যাট হাতে বাকিদের ব্যর্থতার দিনে শেষ পর্যন্ত একাই লড়ে যান রাদারফোর্ড। ৩৩ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে তিন চার-ছক্কার বৃষ্টি ঝরাতে থাকেন। ১১২ রানে ৯ উইকেট হারানো ক্যারিবিয়দের সংগ্রহ দেড়শর কাছে নিয়ে যান তিনি। ৩৯ বলে ৬৮ রানের অপরাজিত ইনিংসটি সাজান ২ চার ও ৬ ছক্কায়।

    নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৪ ওভারে স্রেফ ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন বোল্ট। ২১ রান খরচায় দুটি উইকেট পান টিম সাউথি। সমান উইকেট নেন ফার্গুসনও। একটি করে উইকেট পান জিমি নিশাম ও মিচেল স্যান্টনার।

    রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ডেভন কনওয়েকে (৫) রানে হারা নিউজিল্যান্ড। আরেক ওপেনার ফিন অ্যালেনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২৩ বলে ২৬ রান করে তিনি জোসেপের বল তুলে দেন রাসেলের হাতে। ব্যর্থ ছিলেন কেইন উইলিয়ামসনও। স্রেফ ১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। রাচিন রবীন্দ্র ১০ ও ড্যারিয়েল মিচেল ১২ রানে বিদায়ের পর হাল ধরেন গ্লেন ফিলিপস।

    তবে সেই লড়াই স্থায়ী হলো না শেষ পর্যন্ত। ৩৩ বলে ৪০ রান করে জোসেপের বল তিনি উড়িয়ে মারেন। লং অনে থাকা পাওয়েল সহজেই সেটি তালুবন্দি করেন। পরের বলেই সাউদিকে ফেরান জোসেপ। শেষদিকে মিচেল স্যান্টনার ১২ বলে ২১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও হারতে হয় কিউইদের। এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারল তারা।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন জোসেপ। ৩টি শিকার ধরেন গুদাকেশ মোটি।

    গত রাতের খেলায় জিতেছে ভারত

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিতে মামুলি পুঁজি দাঁড় করিয়েও শুরুর দিকে ভারতকে বেশ শক্তভাবেই চেপে ধরেছিল বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ পর্যন্ত আশাহত হয়েছে স্বাগতিক দল। ভারতের সঙ্গে বড় ব্যবধানে হেরে সুপার এইট নিশ্চিতের অপেক্ষা বাড়ল তাদের। অন্যদিকে এই গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে নিলো রোহিতরা।

    গতকাল বুধবার (১২ জুন) রাতে নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার এইটে ওঠার লড়াইয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১০ রানের পুঁজি দাঁড় করায় স্বাগতিকেরা। জবাব দিতে নেমে ৭ উইকেট এবং বল ১০ হাতে থাকতেই জয়ের বন্দরে নোঙ্গর করে ভারত।

    এ গ্রুপ থেকে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে ভারত।

    আজ বাংলাদেশের খেলা

    ডি গ্রুপের আজকের গুরুত্বপুর্ণ খেলায় নেদারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই খেলায় জিতলে বাংলাদেশ সুপার এইট প্রায় নিশ্চিত হবে।

    সেন্ট ভিনসেন্টে খেলাটি শুরু হবে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে।

  • অস্ট্রেলিয়া ৯ উেইকেটে হারিয়েছে নামিবিয়াকে

    অস্ট্রেলিয়া ৯ উেইকেটে হারিয়েছে নামিবিয়াকে

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১২ জুন, ২০২৪: বর্তমান ওয়ানডে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট সেটা আরেকবার প্রমাণ করলো। ৭২ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া নামিবিয়াকে হারিয়েছে ৯ উইকেটে। জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়া খেলেছে মাত্র ৩৪ বল।

    আজ বুধবার অ্যান্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে নামিবিয়াকে মাত্র ৭২ রানে অলআউট করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে বোলিং নিলে অসি বোলারদের দাপটে ক্রিজে টিকতে পারেনি নামিবিয়ানরা।

    ছোট পুঁজির সামনে আগ্রাসী মেজাজেই খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। নেমেছেন তিন ব্যাটার। প্রত্যেকেই ব্যাট করেছেন ২০০ বা তার বেশি স্ট্রাইকরেটে। ডেভিড ওয়ার্নার করেছেন ৮ বলে ২০। তার স্ট্রাইকরেট ২৫০। ডেভিড উইসার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন তিনি। এরপর বাকি কাজ সেরেছেন ট্রাভিস হেড এবং অধিনায়ক মিচেল মার্শ। হেড করেছেন ১৭ বলে ৩৪, আর মার্শের ৯ বলে এসেছে ১৮ রান। দুজনেরই স্ট্রাইকরেট ২০০।

    নামিবিয়ার বোলারদের ওপর কেমন ঝড় গিয়েছে, তা টের পাওয়া যায় বোলারদের ইকোনমিতে চোখ রাখলে। অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস এক ওভারে দিয়েছেন ৬ রান। সেটাই সর্বনিম্ন। ডেভিড উইসা এক ওভারে দিয়েছেন ১৫ রান। বেন সিকোঙ্গো দিয়েছেন ১৯ রান। রুবেন ট্রাম্পেলম্যানের ২ ওভারে এসেছে ১৯ রান। সবমিলিয়ে, নামিবিয়ার জন্য রাতটা বিভীষিকারই ছিল।

    এর আগে ব্যাট হাতেও সুবিধা করতে পারেনি নামিবিয়া। অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস একা চালিয়েছেন লড়াই। সঙ্গী হিসেবে কাউকেই পাননি পুরোটা সময় জুড়ে। পুরো দল যখন অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনআপের সামনে খাবি খেয়েছে, তখন নামিবিয়া অধিনায়ক খেলেলেন একা হাতেই। ৪৩ বলে ৪ চার এবং ১ ছক্কা হাঁকিয়ে করেছেন ৩৬ রান। নবম উইকেটের যখন পতন হয়, তখন দলীয় সংগ্রহের অর্ধেকটাই ছিল এরাসমাসের।

    শেষ উইকেটে নামিবিয়া আর কোনো রানই যোগ করতে পারেনি। ৭২ রানেই থামে তাদের ইনিংস। অ্যাডাম জাম্পার ৪ আর জশ হ্যাজেলউড-মার্কাস স্টয়নিসের জোড়া উইকেট শিকারের দিনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে রীতিমত নাস্তানাবুদ আফ্রিকান দেশটি। পুরো দলের হয়ে এদিন এরাসমাসের বাইরে ডাবল ডিজিটে গিয়েছেন কেবল ওপেনার মিচেল ভ্যান লিনগেন। ১০ বলে করেছেন ১০ রান।

    শুরুর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজেলউড। হ্যাজেলউডের শিকার লিনগেন এবং নিকোলাস ডেভিস। আর জেই ফ্রাইলিংকে ফিরিয়েছেন প্যাট কামিন্স। ১৫ রানেই নেই তিন উইকেট। নামিবিয়ার বিপর্যয়ের আভাস মিলেছিল তখনই। এরপরই তাতে যোগ দেন অ্যাডাম জাম্পা। নাথান এলিস এক উইকেট নিয়েছেন বটে, তবে জাম্পা একাই নাস্তানাবুদ করেছেন নামিবিয়ার মিডল অর্ডার।

    নবম উইকেটে এরাসমাস আর ব্রাসেল মিলে যোগ করেছেন ২৯ রান। এটাই নামিবিয়ার স্কোর টেনে নিয়ে গেল ৭২ পর্যন্ত। যদিও তাতে ব্রাসেলের অবদান মোটে ২ রান। চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ও্যাডাম জাম্পা।

    অ্যাডাম জাম্পা ১২ রান খরচায় একাই নেন ৪ উইকেট। এর ফলে প্রথম পুরুষ অস্ট্রেলিয়ান বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই লেগস্পিনার।

    বৃষ্টির কারণে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের খেলা পরিত্যক্ত

    শ্রীলঙ্কার জন্য ছিল বাঁচামরার ম্যাচ। অপরদিকে নেপালও মুখিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম জয়ের জন্য। কারা স্বপ্নই পূরণ হতে দিলো না বৃষ্টি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের কারণে একটি বলও মাঠে গড়াতে পারলো না। অবশেষে বাধ্য হয়ে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেন আম্পায়াররা।

    পয়েন্ট ভাগাভাগির কারণে সুপার এইটে ওঠার দৌড় থেকে বলতে ছিটকে গেছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে এই ম্যাচটি লঙ্কানদের অবশ্যই জিততে হতো।

    পাকিস্তান হারিয়েছে কানাডাকে

    বিশ্বকাপের সুপার এইটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দুর্বল কানাডার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান। টানা দুই ম্যাচ হারের পর এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প কিছু ছিল না বাবর-রিজওয়ানদের সামনে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কানাডাকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান।

    মঙ্গলবার (১১ জুন) রাতের খেলায় আগে ব্যাট করে পাকিস্তানকে ১০৭ রানের সহজ লক্ষ্য দেয় কানাডা। জবাব দিতে ৭ উইকেট এবং বল ১৫ হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। এতে সুপার এইটের আশা বাঁচিয়ে রাখল বাবর-আমিররা।

    ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে রাতের খেলা

    আজকের রাতের খেলায় মুখোমুখি হবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। খেলাটি নিউইয়র্কে শরু হবে রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে।

  • দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাংলাদেশ হেরেছে ৪ রানে

    দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাংলাদেশ হেরেছে ৪ রানে

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১১ জুন, ২০২৪: শেষ ২ বলে জয়ের জন্য যখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ৬ রান ঠিক তখনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের একটি নিশ্চিত ছয় ক্যাচে পরিণত করেন মার্করাম। কেশভ মহারাজের ৫ম বলে লো ফুলটস পান মাহমুদউল্লাহ।ঠিক সেই সময় উড়িয়ে মারা ছাড়া আর কোন বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের এই গ্রেট ফিনিশারের হাতে।ছয় হতে হতে ক্যাচে পরিণত হয় বলটি। তারপর শেষ বলে তাসকিন এক রান নিতে পারে। বাংলাদেশ পরাজয় বরণ করে ৪ রানে।

    শুরুতে বোলারদের দাপট। এরপর ব্যাটিংয়ে শুরুতে বিপদে পড়লেও দলকে টেনে তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু অল্প রান তাড়া করেও দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের। হারা ম্যাচ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা আর বাংলাদেশে জেতা ম্যাচ হেরেছে।

    সোমবার নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে জিতে ব্যাটিং করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান করে প্রোটিয়ারা। ওই রান তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। এই জয়ে প্রথম দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে প্রোটিয়ারা।

    ১১৪ রান তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারে কিছুটা চাপে পড়া বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ওভারেই ভালো কিছুর বার্তা দেন তানজিদ হাসান তামিম। টানা দুই বলে কাগিসো রাবাদকে বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। কিন্তু শেষ বলে গিয়ে আউটও হয়ে যান তানজিদ। রাবাদার বলে শট খেলতে গেলে তার ব্যাট ছুয়ে যায় ডি ককের হাতে। ৯ বলে ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ।

    এরপর লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের হাল ধরেন ওপেনিংয়ে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তাদের ২৫ বলে ২০ রানের জুটি ভেঙে যায় পাওয়ার প্লের ঠিক পরের বলে। ১৩ বলে ৯ রান করে কাভারে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দাস। বল হাতে স্রেফ এক ওভার করা সাকিব আল হাসান ব্যাটিং এ ভালো কিছু করতে পারেননি।

    এনরিখ নরকিয়ার অফ স্টাম্পের বাইরের বাউন্সারে পুল করতে যান তিনি। কিন্তু ৪ বলে ৩ রান করে ক্যাচ দেন মিড অফে দাঁড়ানো মার্করামের হাতে। আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত করা তাওহীদ হৃদয় এদিনও ইনিংসের তৃতীয় বলেই ছক্কা হাঁকান।

    কিন্তু নরকিয়া পরের ওভারে এসে শান্তর উইকেট তুলে নিলে ফের চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ২৩ বলে ১৪ রান করে বাংলাদেশ অধিনায়কও শিকার হন নরকিয়ার বাউন্সারের। এরপর উইকেটে এসে হৃদয়ের সঙ্গী হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

    তিনি কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া পান। তার বল স্লিপে অল্পের জন্য ধরতে পারেননি ইয়ানসেন। হৃদয়-রিয়াদের জুটিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে থাকে বেশ ভালোভাবে। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বদলে যায় ম্যাচের মোড়।

    ১৭তম ওভারে বর্টম্যানের বল রিয়াদের প্যাডে লেগে বল চলে যায় বাউন্ডারির বাইরে। কিন্তু এর আগেই আউট দেন আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিয়ে মাহমুদউল্লাহ বাঁচলেও বল ডেড হয়ে যাওয়ায় চার রান পায়নি বাংলাদেশ।

    এরপর আরও একবার আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত যায় বাংলাদেশের বিপক্ষে। ১৮তম ওভারে রাবাদার অল্প আবেদনে সাড়া দিয়ে তাওহীদ হৃদয়কে এলবিডব্লিউ আউট দেন আম্পায়ার। কিন্তু পরে রিভিউতে দেখা যায়, আম্পায়ারস কলের শিকার হয়ে ফিরতে হচ্ছে হৃদয়কে। দুই চার ও সমান ছক্কায় ৩৪ বলে ৩৭ রানে আউট হন তিনি।

    তার বিদায়ের পর উইকেটে এসে টানা তিনটি ডট বল খেলেন জাকের আলি। ১৮তম ওভারে হৃদয়ের উইকেট নিয়ে স্রেফ ২ রান দেন রাবাদা। শেষ দুই ওভারে ১৮ রান দরকার হয় বাংলাদেশের। ১৯তম ওভারে কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ ও জাকের।

    শেষ ওভারে ১১ রানের সমীকরণ দাঁড়ায়। বল হাতে নেন কেশভ মহারাজ। নিজের প্রথম ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। শেষ ওভারে এসে প্রথম বলেই দেন ওয়াইড।

    এরপর দ্বিতীয়টিতে সিঙ্গেলস নিয়ে দেন রিয়াদ। তৃতীয় বলে ফুলটস পেয়েও বাউন্ডারি হাঁকাতে ব্যর্থ হন জাকের। ওই বল থেকে আসে দুই রান। পরের বলে জাকের ৯ বলে ৮ রান করে আউট হয়ে যান ক্যাচ দিয়ে। পঞ্চম বলে স্ট্রাইক পাওয়ার পর ফুলটস পেয়ে যান রিয়াদ। লং অনের উপর দিয়ে তুলে মারেন তিনি।

    কিন্তু অল্পের জন্য বাউন্ডারির ঠিক সামনে থেকে দারুণ এক ক্যাচ নেন মার্করাম। শেষ বলে ফুলটস পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশকে ম্যাচটা হারতে হয় স্রেফ ৪ রানে। লেগ বাইতে মাহমুদউল্লাহর না পাওয়া চারের গুরুত্ব আরেকটু বেশিই হয়তো টের পাওয়া গেছে ম্যাচের শেষে!

    এর আগে টস হেরে প্রথম ওভার বল করতে এসে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ছক্কা ও চার হজম করেন তানজিম হাসান সাকিব। কুইন্টন ডি ককের কাছে বাউন্ডারি হজমের পরও অবশ্য মনোবল হারাননি তিনি। ওভারের শেষ বলেই পেয়ে যান উইকেটের দেখাও। অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে থাকা বলে এলবিডব্লিউ হন রেজা হেনরিকস।

    দ্বিতীয় ওভারে আসা তাসকিন আহমেদকেও ছক্কা হাঁকান ডি কক। কিন্তু পরের ওভারে এসে তাকে ফিরিয়ে দেন তানজিম। তৃতীয় বলে ডি কককে বোল্ড করেন তিনি বেশ বাইরে থেকে অনেকটুকু ভেতরে ঢোকা বলে। ১টি চার ও ২ ছক্কায় ১১ বলে ১৮ রান করেন ডি কক।

    তানজিমের পর তাসকিনও উইকেটের দেখা পান। ৮ বলে চার রান করা এইডেন মার্করামের অফ স্টাম্প ভাঙেন তাসকিন। পাওয়ার প্লের মধ্যেই বাংলাদেশকে আরও একটি উইকেট এনে দেন তানজিম। তার বাউন্সার ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারেননি ক্রিস্তিয়ান স্টাবস। কাভারে সামান্য এগিয়ে দাঁড়ানো সাকিব আল হাসান ক্যাচ নেন তার।

    পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ প্রথম ছয় ওভারে। কিন্তু পাওয়ার প্লের পরই প্রেক্ষাপট বদলাতে থাকে। বাংলাদেশের তিন পেসারের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হয়। নিয়ে আসে স্পিনারদের।

    এরপরই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামলে উঠতে থাকেন হেনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। দুজনের জুটি বড় হতে থাকে, আসে রানও। পেসারদের বিপক্ষে কঠিন সময় কাটানো ব্যাটাররা খুঁজে পান স্বস্তি। রিশাদ হোসেন তার প্রথম দুই ওভারে দেন ২০ রান। তাকে টানা দুই বলে ছক্কা হাঁকান ক্লাসেন।

    সাকিব এক ওভারে ৬ রান দেন। এর মধ্যে শান্ত বোলিংয়ে নিয়ে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। প্রথম দুই ওভারে ৭ রান দিয়ে আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। তার করা প্রথম বলেই ডেভিড মিলারের ক্যাচ উইকেটের পেছনে ছাড়েন লিটন দাস। বাইরের দিকে যাওয়া বলটি ধরা অবশ্য বেশ কঠিন ছিল।

    এর মধ্যে জুটি বড় হতে থাকে মিলার ও ক্লাসেনের। ১৮তম ওভারে গিয়ে অবশেষে এই জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। তার ভেতরে ঢোকা দুর্দান্ত এক বলে বোল্ড হয়ে যান ক্লাসেন। ৭৯ বলে ৭৯ রানের জুটি ভাঙে, যেটি নাসাউ কাউন্টিতে সর্বোচ্চ রানের জুটি। ৪টি চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ বলে ৪৬ রান করে ফেরেন ক্লাসেন।

    ইনিংসের শেষ অবধি ব্যাট করতে পারেননি ডেভিড মিলারও। রিশাদের করা ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। এর আগে ৩৮ বলে একটি চার ও সমান ছক্কায় ২৯ রান করেন মিলার। তার বিদায়ের পর আর তেমন রান হয়নি। শেষ ওভারে চার রান দেন মোস্তাফিজ।

    বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে স্রেফ ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তানজিম হাসান সাকিব। এক রান বেশি দিয়ে দুই উইকেট পান তাসকিন। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে রিশাদ নেন এক উইকেট। কোনো উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মোস্তাফিজ দেন ১৮ রান, ৩ ওভারে ১৭ রান দেন রিয়াদ। সাকিব একমাত্র ওভারে ৬ রান দিয়েছেন।

     

    আজকে পাকিস্তুন খেলবে কানাডার বিপক্ষে

    নিউ ইয়র্কের বোলিং ফ্রেন্ডলি উইকেটে কানাডার বিপক্ষে খেলতে নামাবে পাকিস্তান। ম্যাচ শুরু হবে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে।

  • পাকিস্তানকে ৬ রানে হারিয়েছে ভারত

    পাকিস্তানকে ৬ রানে হারিয়েছে ভারত

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১০ জুন, ২০২৪: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গতকাল রাতের খেলায় পাকিস্তানকে ৬ রানে হারিয়েছে ভারত। এই পরাজয়ের ফলে ভারতের সুপার এইট পর্বে খেলা অনেকটাই নিশ্চিত হলেও পাকিস্তানের জন্য তা হয়ে পড়েছে কঠিন। কেননা পাকিস্তান প্রথম খেলায় সুপার ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরাজিত হয়।

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গতকাল নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে ভারত ১১৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান সংগ্রহ করে। ফলে জাসপ্রিত বুমরাহ দুর্দান্ত বোলিংয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ভারত জয় পেয়েছে ৬ রানের ব্যবধানে।

    ১২০ বলে ১২০ রানের জয়ের লক্ষে পাকিস্তান খেলছিল বেশ বুঝেশুনেই। কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের। তৃতীয় ওভারে রিজওয়ানকে সাজঘরে ফেরানোর ফন্দি এঁটেছিলেন বুমরাহ। কিন্তু শিভাম দুবে ক্যাচ মিস করায় হতাশই হতে হয় তাকে। যদিও পঞ্চম ওভারে বাবরকে ফিরিয়ে ভারতকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন ডানহাতি এই পেসারই। লেংথ ডেলিভারিটি খেলা নিয়ে প্রথমে দ্বিধায় ছিলেন বাবর। শেষ পর্যন্ত খেলতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন তিনি। স্লিপ ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ক্যাচ নেন সূর্যকুমার যাদব। ১০ বলে ২ চারে ১৩ রান করে সাজঘরে ফিরে যান পাক অধিনায়ক।

    রিজওয়ানের সঙ্গে থিতু হওয়া উসমান খানকে ফেরাতে ১১তম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ভারতকে। নিজের প্রথম বলেই উসমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন অক্ষর প্যাটেল। আম্পায়ার আবেদনে সাড়া না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় ভারত। ১৩ রান করা উসমানের জায়গায় এসে ফখর জামানও আউট হন ১৩ রানে। দেখে মনে হয়েছিল দ্রুত ম্যাচ শেষ করার জন্য নেমেছিলেন। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়ার শিকার হয়ে ফিরতে হলো ৮ বলে ১ চার ও ১ ছক্কা মেরে।

    রিজওয়ান যতক্ষণ ছিলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচ ছিল পাকিস্তানের হাতেই। কিন্তু রানের চেয়ে বেশি ডট খেলে দলের ওপর চাপ বাড়িয়েই যাচ্ছিলেন এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত তার ইতি ঘটে অদ্ভুত এক শটে। ১৫তম ওভারে বুমরাহর হালকা ওপরের লেংথের ডেলিভারি বুঝে ওঠার আগেই ক্রস ব্যাট চালান তিনি। কিন্তু বল ব্যাটে লাগাতে না পেরে উল্টো হারিয়ে ফেলেন নিজের স্টাম্প। ৪৪ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় তার ৩৩ রানের ইনিংসটি জন্ম দেবে অনেক প্রশ্নের।

    সেই ওভারে মাত্র ৩ রান দেন বুমরাহ। এরপর দ্রুতই শাদাব খানকে সাজঘরে ফেরান পান্ডিয়া। ১৯তম ওভারে বুমরাহ আসেন নিজের শেষ ওভারটি করতে। সেখানেও ৩ রান খরচ করেন তিনি। শিকার করেন ইফতিখারকেও। শেষ ওভারে পাকিস্তানের জয়ের জন্য ১৮ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের,হাতে ৪ উইকেট। কিন্তু অর্শদীপ সিং প্রথম বলেই তুলে নেন ইমাদ ওয়াসিমের উইকেট (১৫)। এরপর নাসিম শাহর কাছে দুটি চার হজম করলেও পুরো ওভারে ১১ রানের বেশি দেননি বাঁহাতি এই পেসার।

    এমন হারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নাসিম। বুমরাহর মতো আজ নায়ক হয়ে উঠতে পারতেন তিনিও। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত বিফলে যায় তার দারুণ বোলিং ফিগারটি।

    বিশ্বকাপের গত আসরে এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংসটি খেলেছিলেন কোহলি। কিন্তু এবার তাকে খোলস ছেড়ে বের হতে দেননি নাসিম। তার প্রথম বলে কোহলি চার মারলেও তৃতীয় বলে সাজঘরে ফেরেন উসমান খানকে ক্যাচ দিয়ে। অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের ডেলিভারি খেলতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন ৪ রান করা এই ব্যাটার। পরের ওভারে ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে (১৩) নিজের শিকারে পরিণত করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।

    দুই ওপেনারকে হারানোর পরও পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৫০ রান তুলে ফেলে ভারত। ঋষভ পন্ত ও অক্ষর প্যাটেলের ব্যাটে চাপে কাটিয়ে ওঠার আভাস দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু  অষ্টম ওভারে নাসিমকে তেড়ে মারতে গিয়ে উল্টো নিজের স্টাম্প হারিয়ে ফেলেন অক্ষর। ১৮ বলে ২০ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। কেউই ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক। সর্বোচ্চ রান করা ঋষভকে শেষ পর্যন্ত নত স্বীকার করতে হয় আমিরের কাছে। ৩১ বল খেলে ৬ চারে ৪২ রান করেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক।

    ইনিংসের এক ওভার বাকি থাকতেই নিজেদের সবকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন নাসিম ও রউফ। এছাড়া আমির দুটি ও শাহিনের শিকার একটি উইকেট। পেসারদের এমন জ্বলে ওঠার দিনেও পাকিস্তানকে হতাশায় ডোবালেন ব্যাটাররা। এই হারে সুপার এইটে যাওয়ার সমীকরণ আরও জটিল হয়ে গেল তাদের জন্য। কেননা দুই ম্যাচ খেলে এখনো পয়েন্টের খাতাই খুলতে পারেনি। সমান ম্যাচে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট নিয়ে এ গ্রুপের শীর্ষে আছে ভারত। একই পয়েন্ট যুক্তরাষ্ট্রেরও। বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটি ম্যাচ জিতলেই সুপার এইটে খেলবে স্বাগতিকরা।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    ভারত: ১১৯/১০ (ঋষভ ৪২, অক্ষর ২০; নাসিম ৩/২১, রউফ ৩/২৩, আমির ২/২৩)

    পাকিস্তান: ১১৩/৭ (রিজওয়ান ৩১, ইমাদ ১৫, বাবর ১৩; বুমরাহ ৩/১৪, পান্ডিয়া ২/২৪)

    ফল: ভারত ৬ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: জাসপ্রিত বুমরাহ।

    দিনের অপর খেলায় স্কটল্যান্ড হারিয়েছে ওমানকে

    ওমানের বোলারদের উপর দিয়ে ভয়াবহ তাণ্ডবলীলা চালালেন স্কটল্যান্ডের ব্যাটাররা। ১৫১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ড জয় তুলে নিয়েছে মাত্র ১৩.১ ওভারে। ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতে অস্ট্রেলিয়াকে টপকে বি-গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে তারা।

     আজ বাংলাদেশ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথম খেলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অল্প রান তাড়া করতে গিয়েও হারিয়েছে ৮ উেইকেট। বাংলাদেশ জয় পায় ২ উইকেটে। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই খেলায় জয় পেলেও সুনামের সঙ্গে খেলতে পারেনি।তাই আজকের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেবারিট হলেও বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায়না। আজ সোমবার (১০ জুন) নিউেইয়র্কে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে এই দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ খেলাটি।

  • বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন ৩৯ রানে অলআউট হয়ে হেরেছে উগান্ডা

    বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন ৩৯ রানে অলআউট হয়ে হেরেছে উগান্ডা

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৯ জুন, ২০২৪: বিশ্ব ক্রিকেটের পরিচিত একটি দল জিম্বাবুয়ে। অথচ বাছাই পর্বে টিকতে পারেনি দলটি। বরং উগান্ডা বাছাই পর্বে ভালো খেলে এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে দেশটি।কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত প্রতিপক্ষের দাড়াতেই পারেনি তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৩৯ রানে অলআউট হয়ে ১৩৪ রানে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গড়লো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন রান করে হারের রেকর্ড।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের আকিল হোসেন একাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন উগান্ডার ব্যাটিং লাইনকে। ১১ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এছাড়া আলজারি জোসেপ ২ টি এবং রোমারিও জোসেপ, আন্দ্রে রাসেল, মোটি একটি করে উইকেট শিকার করেছেন। ক্যারিবীয়দের দেয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দাড়াতেই পারেনি উগান্ডার ব্যাটসম্যানরা। ২০ রান তুলতেই হারাতে হয়েছে পাঁচ উইকেট। এরপর একে একে সকলেই যোগ দিয়েছেন আত্মহুতির মিছিলে। ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন জুমা মিয়াজি। এছাড়া দলের কোনও ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বনিম্মরানের রেকর্ড এতদিন ছিল নেদারল্যান্ডসের। চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০.৩ ওভারে ৩৯ রানের অলআউট হয়েছিল তারা। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডও ছিল নেদারল্যান্ডসেরই। শারজাহতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৪ রানে অলআউট হয়েছিলেন তারা। তবে এই লজ্জার রেকর্ডে নেদাল্যান্ডসকে ছাড়িয়ে এবার শীর্ষে উগান্ডা। নেদারল্যান্ডসের সমান ৩৯ রান করলেও রান রেটের কারণে শীর্ষে রয়েছে উগান্ডার নাম। এই বিশ্বকাপে আরও একবার এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরতে হয়েছিল দলটিকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৮ রানে অল আউট হয়েছিলেন তারা।

    এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুবাইতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৫ রানে অল-আউট হয়েছিল ক্যারিবীয়রা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৮ রানে অল আউট হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরেই অবস্থান করছিল উগান্ডা। এবার সকলকে ছাড়িয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে তারা।

    এর আগে ব্যাট হাতে শুরুতে ভালোই করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার ব্রান্ডন কিং এবং জনসন চার্লস দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ভালোভাবেই। উগান্ডাকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন আলপেস রামজানি। ৪.৩ ওভারে ব্রান্ডন কিংকে বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান। দলীয় ৪১ এবং ব্যাক্তিগত ১৩ রানে ফেরেন তিনি।

    চার্লসকে সঙ্গ দিতে মাঠে আসেন নিকোলাস পুরান। আজ তার সামনে ছিল টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার সুযোগ। কিন্তু অল্পের জন্য রেকর্ড গড়া হয়নি তারা। ক্রিস গেইলকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি তিনি। রেকর্ড গড়ার পথে বেশ ভালো ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে ২২ রানে মাসাবার বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফির যান পুরান।

    ক্যারিবিয় ব্যাটসম্যানদের হাত খুলে খেলার খুব একটা সুযোগ দেননি উগান্ডার বোলাররা। জনসন চার্লস (৪৪), রোভম্যান পাওয়েল (২৩) ও শেরফান রাদারফোর্ড (২২) কাউকেই খোলসের বাইরে বের হতে দেয়নি ব্রায়ান মাসাবার দল। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ক্যারিবীয় ঝড় আটকে দেয় তারা।

    শেষদিকে আন্দ্রে রাসেলের দিকে তাকিয়ে ছিল দল। শুরুতে ধীরেগতিতে রান করলেও পরে রানের চাকায় গতি আনেন এই ক্যারিবীয় তারকা। তার ১৭ বলে ৩০ রানের ইনিংসে ভর করে বড় সংগ্রহ পায় দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। রাসেলের ইনিংসে কোনো ছক্কা না থাকলেও ছিল ৬টি চারের মার।

    উগান্ডার পক্ষে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন অধিনায়ক ব্রায়ান মাসাবা। ১টি করে উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন আলপেশ রামজানি, কসমস কেউয়াটা ও দীনেশ নাকরানি।

    গতকাল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে

    ২০২৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ বি-এ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ ইংলিশদের ৩৬ রানে হারিয়েছে মার্শবাহিনী। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেট ২০১ রান করে অস্ট্রেলিয়া। এবারের আসরে অজিরাই প্রথম দল যারা দুইশ ছাড়াল। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান তুলতে পারে ইংল্যান্ড। এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এলো অজিরা। আর দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে যাওয়ার স্বপ্ন প্রায় শেষ ইংল্যান্ডের।

    নেদারল্যান্ড লড়াই করে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে

    নেদারল্যান্ডসকে অল্প রানে আটকে দিয়েও লড়াই করে জিততে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তবে দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে হারতে হারতে লজ্জার হাত থেকে দলকে বাঁচিয়েছেন ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবস। স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের বিপরীতে ওয়ানডে ধাচের ব্যাটিং করে তারা কঠিন এক লড়াইয়ে দলকে জয় পাইয়ে দিয়েছেন। এই জয়ে মিলারের অবদানকে বিশেষ বলতেই হবে। কারণ বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতেও শেষ পর্যন্ত দাঁত কামড়ে ক্রিজে টিকে ছিলেন তিনি। শেষে দলের প্রয়োজনে হাত খুলেছেন এবং জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

    ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ডি-এ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ নেদারল্যান্ডসকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে  ৯ উইকেটে মাত্র ১০৩ রান করতে পারে নেদারল্যান্ডস। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ও ৭ বল হাতে রেখে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

    আজ অনুষ্ঠিত হবে আরও দুটি ম্যাচ:

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। ওমান ও স্টল্যান্ডের ম্যাচটি অনুষ্টিত হবে অ্যান্টিগায় রাত ১১টায়।

  • বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কষ্টার্জিত জয় বাংলাদেশের

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কষ্টার্জিত জয় বাংলাদেশের

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৮ জুন, ২০২৪: শ্রীলঙ্কার দেওয়া মাত্র ১২৫ রানের লক্ষ্যটাই টপ অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার কারণে বাংলাদেশের কাছে হয়ে গিয়েছিল পাহাড়সম। ৬ রানে মাত্র ২ উইকেট হারানোর পর ২৮ রানে হারায় ৩ উইকেট। এর পর লিটন দাশের ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ে এবং তাওহীদ হৃদয়ের ঝড়ো ইনিংসে বাংলাদেশ বাংলাদেশ জয়ের কাছেই পৌঁছে গিয়েছিলো। কিন্তু ৯১ থেকে ১১৩ রানে মাথায় বাংলাদেশ হারায় ৫ উকেট। ম্যাচ চলে যায় শ্রীলঙ্কার আয়ত্বে। কিন্তু মাহমুদউল্লার ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বাকাপের প্রথম খেরায় বাংলাদেশ জয় পায় ২ উইকেটে। কিন্তু জয়টা যদি ৭ উকেটে হতো তাহলে বলা যেত বাংলাদেশের সম্ভাবনা আছে ভালো কিছু একটা করার।লিটন ছাড়া প্রথম সারির সব ব্যাটসম্যান দায়িত্বহিনতার পরিচয় দিয়েছে।এই বিষয়টি শুধরে নিতে না পারলে বাংলাদেশ হতাশ করবে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের।

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে, নানামুখী সমালোচনায় বাংলাদেশের পিঠ ঠেকে গিয়েছিল দেয়ালে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জিতে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা পাওয়া নাজমুল হোসেন শান্তর দলের কাছ থেকে।

    আজ শনিবার (৮ এপ্রিল) ডালাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান করে শ্রীলঙ্কা। ওই রান তাড়া করতে নেমে এক ওভার হাতে রেখে জয় পায় বাংলাদেশ।

    টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়ার পর প্রথম ওভারে তানজিম হাসান সাকিবের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় বল থেকে বাউন্ডারি হাঁকান পাথুম নিশাঙ্কা, ওই ওভার থেকে আসে পাঁচ রান। দ্বিতীয় ওভারে সাকিব আল হাসান এসে ৮ রান দেন, তাতে অবশ্য ছিল ওভারথ্রোতে আসা চারের অবদান।

    ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তাসকিন আহমেদ আসেন তৃতীয় ওভারে। শুরুতে ছন্দটা একদমই খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। প্রথম দুই বলেই তাকে চার মারেন কুশল মেন্ডিস। কিন্তু তৃতীয় বলেই বাংলাদেশ পেয়ে যায় উইকেটের দেখা। শট খেলা নিয়ে দ্বিধায় থাকা কুশল মেন্ডিসের ব্যাট ছুয়ে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে আঘাত হানে স্টাম্পে। ৮ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি। ওই ওভারে আরও এক বাউন্ডারি হজম করা তাসকিন ১২ রান দেন।

    চতুর্থ ওভারে আবার তাসকিনকে ফেরানো হয়। এক ছক্কা খেলেও সাত রানের বেশি দেননি তিনি। পঞ্চম ওভার করতে এসে সাকিব আল হাসান দিশেহারা হয়ে পড়েন। এক ওভারেই তার বল চারবার বাউন্ডারির বাইরে পাঠান নিশাঙ্কা। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে বোলিংয়ে আনেন শান্ত।

    প্রথম বলেই উইকেট এনে দেন মোস্তাফিজ। ৫ বলে ৪ রান করা কামিন্দু মেন্ডিস মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তবুও অবশ্য বাউন্ডারি হাঁকানো থামেনি লঙ্কানদের। পাওয়ার প্লে শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান করে শ্রীলঙ্কা।

     

    পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর রান তোলার গতি কিছুটা কমে আসে তাদের। এর মধ্যেও পাথুম নিশাঙ্কা সাবলীলই ছিলেন। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে মোস্তাফিজকে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন নিশাঙ্কা, পরের বলেই ক্যাচ তুলে দেন কাভারে দাঁড়ানো শান্তর হাতে। ২৭ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৭ রান করেন নিশাঙ্কা।

    তার বিদায়ের পর রানের গতি আরও কমে আসে। চারিথ আশালাঙ্কা ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভার জুটিতে ৩২ বলে স্রেফ একটি বাউন্ডারি আসে। তাদের দুজনের ৩০ রানের জুটি ভেঙে দেন রিশাদ হোসেন। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে শেষ আঘাতটাও আসে তার হাত ধরে।

    ১৫তম ওভারের প্রথম বলেই তাকে তুলে মারতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো সাকিবের হাতে ক্যাচ দেন আশালাঙ্কা। শুরুতে ছেড়ে দিলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ২১ বলে ১৯ রান করা ব্যাটারের ক্যাচ নেন সাকিব। এরপর ব্যাটিংয়ে আসা হাসারাঙ্গার জন্য স্লিপ নিয়ে আসেন শান্ত। ওখানেই মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে ক্যাচ তুলে দেন হাসারাঙ্গা। ওই ওভারে স্রেফ ৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রিশাদ।

    নিজের পরের ওভারের এসেও প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন রিশাদ। তার টার্ন করা বলে সামান্য এগিয়ে আসেন ধনঞ্জয়া। মূহূর্তের মধ্যেই ২৬ বলে ২১ রান করা ধনঞ্জয়ার স্টাম্প ভেঙে দেন লিটন। এরপর তাসকিন ফেরান শানাকাকে, ১৮তম ওভারে ৩ রান দেন তিনি। পরের ওভারে মোস্তাফিজ দুই রান দিয়ে ৩ বলে শূন্য রানে ফেরান থিকসেনাকে।

    শেষ ওভারে এক বাউন্ডারিত ৭ রান হজম করলেও তানজিম হাসান সাকিব ফেরান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে। বাংলাদেশের সব বোলারই দারুণ করেছেন। তবে এর মধ্যে রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। সমান ওভারে স্রেফ ১৭ রান দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানও ৩ উইকেট পান। দুই উইকেট পাওয়া তাসকিন ৪ ওভারে ২৫ রান দেন। ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন সাকিব। তানজিম ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।

    ১২৫ রান তাড়ায় নেমে তৃতীয় বলেই প্রথম উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে মিড অনে সহজ ক্যাচ দিয়ে দুই বলে শূন্য রানে ফেরেন সৌম্য সরকার। তিন রান নিতে পারে বাংলাদেশ প্রথম ওভার থেকে। পরেরটিতে গিয়ে হারায় আরও এক উইকেট।

    এবার নুয়ান থুসারার বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরত যান তানজিদ হাসান তামিম। ৬ বলে ৩ রান করেন তিনি। দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। দুজন সিঙ্গেলস নিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন।

    কিন্তু হুট করেই ছন্দপতন ঘটে নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরলে। নুয়ান থুসারার বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। লিটনের সঙ্গে ২২ বলে ২২ রানের জুটি ভেঙে যায় তাতে। পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কার ঠিক বিপরীত অবস্থা হয় বাংলাদেশের। বাউন্ডারি আসে স্রেফ দুটি, ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারিই এসেছিল পঞ্চম ওভারে গিয়ে। ছয় ওভারে ৩ উইকেটে বাংলাদেশ করে ৩৪ রান।

     

    উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের হয়ে এরপর হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাসের সঙ্গী হন তিনি। সিঙ্গেলস নিয়ে রানের গতিকে সচল রাখেন তারা। মাঝেমধ্যে আসছিল বাউন্ডারিও।

    তাওহীদ হৃদয় আউট হন ১৫তম ওভারে হাসারাঙ্গার বলে। কিন্তু ওই ওভারের প্রথম তিন বলেই ম্যাচ একদম কাছে নিয়ে আসেন তিনি। হাসারাঙ্গার ওভারে হাঁকান হ্যাটট্রিক ছক্কা! স্লগ সুইপ প্রথম, দ্বিতীয়টিও তাই, তৃতীয় ছক্কা আসে কাভারের উপর দিয়ে। পরের বলে অবশ্য এলবিডব্লিউ হয়ে যান হৃদয়। কিন্তু ততক্ষণে ২০ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৪০ রান করে কাজটা করে দিয়ে গেছেন তিনি।

    কিন্তু এরপর বাংলাদেশ আরও একবার পড়ে যায় ভীষণ চাপে। উইকেটে সেট হওয়া লিটন দাসকে ফেরান হাসারাঙ্গা। ৩৮ বলে ৩৬ রান করে তিনি এলবিডব্লিউ হন। এরপর সাকিব আল হাসানও পাথিরানার বাউন্সারে মাহেশ থিকসেনার দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হন। ১৪ বলে স্রেফ ৮ রান করেন তিনি।

    হুট করেই বদলে যেতে থাকে ম্যাচের মোড়। রান খুব বেশি না হলেও, বাংলাদেশ পড়ে যায় চাপে। সেটি যেন পাহাড়সম হয়ে যায় নুয়ান থুসারার করা ১৮তম ওভারে এসে। রিশাদ হোসেন প্রথমে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বোল্ড হন ৩ বলে ১ রান করে। ঠিক তার পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে যান তাসকিন।

    শেষ দুই ওভারে ১২ রান দরকার হলেও বাংলাদেশের হাতে তখন কেবল দুই উইকেট। শ্রীলঙ্কার জন্যও অবশ্য পথটা কঠিন ছিল। ১৯তম ওভারে গিয়ে প্রথমবার বোলিংয়ে আসেন দাসুন শানাকা। প্রথম বলেই তার করা ফুলটসে ছক্কা হাঁকিয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

    পরের বলে তিনি সিঙ্গেলস নেন। তানজিম হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দৃঢ়তায় শেষ ওভারে যাওয়ার আগেই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। ১৩ বলে ১৬ রান করে শেষ অবধি অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

    বাংলাদেশের রিশাদ হোসেন হয়েছেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ।

    দিনের প্রথম খেলায় জিতেছে আফগানিস্তান

    আজ দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৭৫ রানে অলআউট করে দিয়েছে আফগানরা। ১৫৯ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজির বিপরীতে ৮৪ রানের ব্যবধানে জিতে রীতিমতো উড়ছে রশিদ খানের দল।

    গতকাল রাতের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে কানাডা

    টস জিতে প্রথমে কানাডাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। দারুণ বোলিংয়ে ৭ উইকেটে ১৩৭ রানেই কানাডাকে আটকে রাখেন ইয়ং-ম্যাকার্থিরা। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৩৮ রানও তাড়া করতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। থেমেছে ৭ উইকেটে ১২৫ রানে। ১২ রানে জয় জয় পায় কানাডা।

    আজকে রাতে দুটি খেলা

    আজ রাতে আছে আরও দুটি খেলা। প্রথম খেলায় অংশ নিবে নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ডালাসে খেলা শুরু হবে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। দিনের অপর খেলায় মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। রাত ১১টায় খেলা অনুষ্ঠিত হবে বার্বাডোজে।

  • ছয় দফা আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রাখতেই জয় বাংলা ম্যারাথনের আয়োজন: মেয়র আতিক

    ছয় দফা আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রাখতেই জয় বাংলা ম্যারাথনের আয়োজন: মেয়র আতিক

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৭ জুন, ২০২৪: ছয় দফা আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রাখতেই জয় বাংলা ম্যারাথনের আয়োজন, বলে জানিয়েছেন উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, “জাতির পিতার ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রাখতে এই আয়োজন সবার মাঝে তার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে মেধাবী ও সুস্থ মানুষ দরকার। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা ও শরীর চর্চা আবশ্যক”।

    আজ শুক্রবার (৭ জুন) সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাথলেটিক্স অ্যান্ড সাইক্লিং ক্লাব আয়োজিত জয় বাংলা ম্যারাথনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসি মেয়র ম্যারাথনে নিজে অংশ নিয়ে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন। তিনি ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পুরো হাতিরঝিল এক রাউন্ড দৌড়ান।

    ম্যারাথন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ অ্যাথলেটিক্স অ্যান্ড সাইক্লিং ক্লাবের সভাপতি অ্যাডিশনাল আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার।

    এর আগে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাথলেটিক্স ও সাইক্লিং ক্লাবের উদ্যোগে এ  হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তিন হাজার ৫০০ দৌড়বিদ অংশ নিয়েছেন।

    প্রধান অতিথি হিসেবে ম্যারাথন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

    পুলিশ জানায়, ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাত ৩টা থেকে হাতিরঝিলে ৬৫০ জন পুলিশ সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মোতায়েন ছিল।

    এতে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করা হয়। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয় এক্সপ্লুসিভ রিকভারি অ্যান্ড বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইম সিন টিম, ডগ স্কোয়াড এবং সোয়াট টিম।