www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: এই বাংলা একাডেমি অনেক আন্দোলন ও সংগ্রামের সাক্ষী, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে এসেছি, তা নয়। স্কুলজীবন থেকেই আমরা মেলায় আসি। এই বাংলা একাডেমি অনেক আন্দোলন সংগ্রামের সাক্ষী। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, আমি ও আমার বন্ধু বেবী মওদুদ বাংলা একাডেমির লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতাম।”
আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বইমেলার জায়গাটা অনেক ছোট। প্রচুর মানুষ মেলায় আসতে চায়। আরো বড়ো পরিসরে আয়োজন করার বিষয়টি আমি ভেবে দেখার অনুরোধ জানাবো।”
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি যখন আমরা পেলাম, তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই— এখানে একটা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলব। ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করি। আমার সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান ছিলেন। কাজ শুরু করি, ২০০১ এ ক্ষমতায় আসতে পারিনি, তখন খালেদা জিয়া সেই কাজটি বন্ধ করে দিয়েছিল।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রক্ত দিয়ে আমরা যে ভাষার অধিকার আদায় করেছি সেটা এখন সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ধন্যবাদ জানাই তাকে (খালেদা), বন্ধ করে দিয়েছিলেন, ভালো হয়েছিল। কারণ, দ্বিতীয়বার যখন আমি সরকারে আসি সেটা প্রতিষ্ঠা করি। এখন সারা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। সেটা যেন আরো সমৃদ্ধ হয়, সেটা আমি চাই।”
শেখ হাসিনা বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের ভাষা আন্দোলনের মাস। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির সত্তা জাগ্রত হয়। এই পথ বেয়েই আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা। আমারা বাঙালি বাংলা ভাষায় কথা বলি, মায়ের ভাষায় কথা বলি। এই অধিকারটাও আমাদের রক্ত দিয়ে অর্জন করতে হয়েছে। বাংলা একাডেমী আমাদের অনেক আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার। বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা।”
বাংলা একাডেমীর সভাপতি সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ছোটন।
বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-: শামীম আজাদ (কবিতা), ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর ও সালমা বাণী (যৌথভাবে কথাসাহিত্যে), জুলফিকার মতিন (প্রবন্ধ/গবেষণা), সালেহা চৌধুরী (অনুবাদ), নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা ও মাসুদ পথিক (যৌথভাবে নাটক), তপঙ্কর চক্রবর্তী (শিশু সাহিত্য), আফরোজা পারভিন এবং আসাদুজ্জামান আসাদ (মুক্তিযুদ্ধের উপর গবেষণা), সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল এবং মো. মজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধুর উপর গবেষণা), পক্ষীবিদ ইনাম আল হক (পরিবেশ/বিজ্ঞান ক্ষেত্র), ইসহাক খান (জীবনী) এবং তপন বাগচী ও সুমন কুমার দাস (যৌথভাবে লোক কাহিনী)।
বইমেলার উদ্বোধনের আগে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগৃহীত রচনা: দ্বিতীয় খণ্ড’ এবং আরো কয়েকটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা।
বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘পড়ো বই, গড়ো দেশ: বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।
বইমেলায় ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি মাঠে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি রয়েছে ৩৭টি প্যাভিলিয়ন।
মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাসব্যাপী সেমিনারের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য ছবি আঁকা, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে।
এবারও মেলার মূল মঞ্চ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে থাকছে।
রমনা কালী মন্দিরের পাশে সাধুসঙ্গ এলাকায় ‘শিশু চত্বর’ স্থাপন করা হয়েছে।
[প্রতি কর্মদিবসে বইমেলা বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য এক ঘণ্টা বিরতি থাকবে।