www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১৭ মে, ২০২৪: জুনের ৬ তারিখে দেওয়া বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করব, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমরা ৬ তারিখে বাজেট দেব। বাজেট আমরা ঠিক মতো দিতে পারব, বাস্তবায়নও করব। দেশি-বিদেশি নানা কারণে জিডিপি কিছুটা হয়তো কমবে, সেটা পরবর্তীতে উত্তরণ করতে পারব সে আত্মবিশ্বাস আছে।”
আজ শুক্রবার (১৭ মে) রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২২তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গ্রামের অর্থনীতি পাল্টে গেছে। যারা একবেলা ভাত খেতে পারতেন না, তারা এখন চারবেলা খান। হাট-বারের বাইরে কিছু পাওয়া যেতো না, এখন সুপার মার্কেট হয়েছে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “২০০৮-এর নির্বাচনি ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’-এ আমরা ‘রূপকল্প ২০২১’ এর ঘোষণা দিই। জনগণ আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আমরা ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সবসময়ই বিশ্বাস করি, অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে প্রয়োজন সবার অংশগ্রহণ। ১৯৭৫ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার মাটির সঙ্গে, আমার মানুষের সঙ্গে, আমার কালচারের সঙ্গে, আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে, আমার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করেই আমার ইকোনমিক সিস্টেম গড়তে হবে’। তাই আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এমনভাবে বাস্তবায়ন শুরু করি যাতে সমাজের কেউ বাদ না পড়ে। এসব বিষয় মাথায় রেখে সেসময় আমি ‘জনগণের ক্ষমতায়ন, উন্নয়ন ও শান্তির মডেল’ নামে একটি মডেল তৈরি করি। ২০১১ সালে এই মডেলটি জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।”
তিনি বলেন, “২০১৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহার ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহার ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ এর প্রতিও জনগণ বিপুল রায় দেয়। ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনার ফলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক চিত্র বদলে যায়। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে পরিচিতি পায় ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের শিরোনাম দিয়েছি, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ। উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’। এই স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জ্ঞানভিত্তিক, বুদ্ধিগত এবং উদ্ভাবনশীল। যাতে রয়েছে চারটি স্তম্ভ- স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার ও স্মার্ট সমাজ।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের গ্রামের বাজার পাটগাতি থেকে ঈদের আগে ২০০ ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি যত বেশি মজবুত হচ্ছে, শিল্প কলকারখানা বাড়ছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আজ অর্থনীতি সমিতির প্রোগ্রামে আসছি। এখানে অনেকের অনেক বড় বড় ডিগ্রি আছে। আমার কিন্তু তা নেই। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছি। অর্থনীতির সুক্ষ ও জটিল বিষয়াদি আপনাদের মতো আমি বুঝি না। এতটুকু বুঝি কীভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়। কীভাবে মানুষের উপকার হবে। আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকেই আমি এটা শেখেছি। তিনি তো বেশিরভাগ সময়ই জেলে থাকতেন। যতক্ষণ বাইরে থাকতেন। আমাদের সঙ্গে গল্প করতেন- কীভাবে তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান, কীভাবে গ্রামগুলোকে সাজাবেন।”










