আজ তিন বিভাগের আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হবে

তিন বিভাগের আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হবে - জাতীয় - ২৩ নভেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)
তিন বিভাগের আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হবে - জাতীয় - ২৩ নভেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৩ নভেম্বর, ২০২৩: আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর এই তিন বিভাগের নৌকা প্রতীকে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীর তেজগাঁওস্থ ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা।

সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন আমি আপনাদের সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, আগামী সাধারণ নির্বাচন যে অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা নির্বাচন করব। এক্ষেত্রে আমরা কোন হস্তক্ষেপ করব না। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ভোট চুরির দরকার নেই, কারণ আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার জরীপেও একই চিত্র তুলে ধরেছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে জাতির সেবায় আরেকবার পরিবর্তন আনতে আমার দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পায় কারণ, তাদের দুই শীর্ষ নেতা দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কেউ নেই।

তিনি আরো বলেন, তারেকের বিরুদ্ধে এফবিআই সাক্ষ্য দিয়েছে এবং কানাডিয়ান পুলিশ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সাক্ষ্য দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি অতীতের মতো মনোনয়ন বাণিজ্য করতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়েছিলেন এবং নির্বাচনে যে নীতিমালা দিয়েছিলেন, সেখানে একটা বিষয় ছিল যে, ব্যালট পেপারের পেছনে প্রিজাইডিং অফিসারের সিল থাকবে, জিয়াউর রহমান নির্বাচনের আগে অর্ডিন্যান্স করে তা সবকিছু বাতিল করে দেয়। অর্থাৎ বাক্স ভরে ভরে রেখে দেওয়া ইত্যাদি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগের শক্তি দেশের জনগণ। কেউ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘২০১৪ সালে আত্মবিশ্বাস ছিল না বলেই জ্বালাও-পোড়াও করে তারা নির্বাচনে আসেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অপবাদ দিলেও কেউ এখন পর্যন্ত অনিয়মের একটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসক সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে কোনো অফিসার বদলি করা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদলি, এগুলো নির্বাচন কমিশনারের অনুমতি ছাড়া করা যাবে না। যদি নির্বাচন কমিশন চায় তখন সেটা পরিবর্তন করা যায়, তাছাড়া করা যাবে না।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে, তখনই বিভিন্ন সংস্কার করেছে। যাতে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হয়। জনগণ তার ভোট দিতে পারে, যাতে জনগণ তার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। আমরাই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে, সেক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করা, সেগুলো আওয়ামী লীগই করেছে। আমরা জোট করে বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে এসে, একে একে তা বাস্তবায়ন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বাজেট থেকে শুরু করে সবকিছু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে যেত। সেই জায়গা থেকে স্বাধীন করে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে আমরা আইন করি। যেগুলো আগে করা ছিল না। আইনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। সেখানে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আসার মতো আত্মবিশ্বাস তাদের নেই। কারণ ২০০৮ নির্বাচনে তারা মাত্র ৩০টি সিট পেয়েছে। আর আমরা দেশ পরিচালনা করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। আমরা ভোটে অনেক এগিয়ে। এটা জেনেই তারা নির্বাচনে না এসে, নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ এখন সুন্দর জীবন যাপন করছে। অনেকে এখন দেশে দেশে ফ্রিল্যান্সিং করে কাজ করছে। যারা ভূমিহীন তাদেরকে আমরা বিনা পয়সায় ঘর করে দিচ্ছি। একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না।’

তিন বিভাগে ১০৮টি আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের পদ প্রার্থীরা ১১২৭টি মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে ৪১৬টি, রাজশাহী বিভাগে ৪০৯টি এবং রংপুর বিভাগে ৩০২টি মনোনয়ন ফরম জমা পড়েছে।

আওয়ামী লীগ গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চারদিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ৩০০ আসনের জন্য ৩ হাজার ৩৬২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে। এতে দেখা যায় প্রতিটি আসনের বিপরীতে ১১টি করে ফরম বিক্রি হয়েছে।

প্রতিটি ফরম ৫০ হাজার টাকা করে বিক্রি হওয়ায় মনোনয়নপত্র বিক্রি করে আওয়ামী লীগ মোট ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা আয় করেছে।

পূর্ববর্তী রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত
পরবর্তী যুদ্ধবিরতির আগে শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় ৩০ জন নিহত