তাপমাত্রা না কমলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেবে

তাপমাত্রা না কমলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেবে

সারা দেশে মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকে মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন বয়স্ক ও শিশুরা।  এক সপ্তাহ ধরে টানা বেড়েই চলছে তাপমাত্রা। ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ঢাকায়। ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে চুয়াডাঙ্গায়। এখনও তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। আজ রাতে আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এই অবস্থায় আরও কয়েকদিন তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা চিন্তা করছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, চলমান দাবদাহে অসুস্থ হয়ে পড়া বয়স্ক, শিশু ও কোমরবিডিটি (বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত) সম্পন্নদের তাৎক্ষণিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

দেশে গত শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তাপমাত্রা প্রতিদিনই বাড়ছে। আমরাও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করছি। আগামী আরও কয়েকদিন এই তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করবো। এরপরও যদি তাপমাত্রা না কমে, তাহলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের সঙ্গে বসে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছি। তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা আপাতত পর্যবেক্ষণ করছি তাপমাত্রার অবস্থা।’

এর আগে ১৯৬৫ সালে রাজধানীতে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছিল। এমন পরিস্থিতিকে জাতীয় দূর্যোগ ঘোষণা দিয়ে বিষেশজ্ঞরা এটি মোকাবিলায় এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইভাবে ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি থেকে আরও কিছুটা বেড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইভাবে রাজশাহীর তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে আজ ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে, রংপুরে ৩৬ দশমিক ৭ থেকে বেড়ে ৩৬ দশমিক ৮ এবং খুলনায় ৩৯ দশমিক ৭ থেকে বেড়ে ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বহির্বিভাগের মেডিসিন বিভাগের প্রধান আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) শাইখ আব্দুল্লাহ বলেন, গত কয়েক দিন ধরে গরমে হাঁসফাঁস করছে সারা দেশের মানুষ। তীব্র আকার ধারণ করেছে তাপপ্রবাহ।

এর আগে ২০১৪ সালে এপ্রিলে ঢাকায় তাপমাত্রার পারদ উঠেছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এদিকে ২০১৪ সালে যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরও আগে ঢাকায় ১৯৬৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।  আর ১৯৬০ সালে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

বেশ কয়েক দিন হলো সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হওয়া রোগী আসছে। ঢাকাসহ আশপাশের অনেকেই বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়, ৩৮ ডিগ্রি হলে বলা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ আর ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে বলা হয় তীব্র তাপপ্রবাহ। সেই হিসাবে দেশের ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আর ১৬ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে মাঝারি থেকে তীব্রতার কাছাকাছি তাপপ্রবাহ।

তাদের অনেকে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, বমি, মাথাব্যথা, হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া, বমি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের কথা বলছেন। অনেকে গলাব্যথা, কাশি, সর্দি ও ঘুমের সমস্যা বেড়ে যওয়ার কথা বলছেন।

তাপ প্রবাহের বিষয়ে বলা হয়, ঢাকা, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের ওপর দিয়ে তীব্র তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং দেশের অন্যত্র মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

পূর্ববর্তী ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধের চেষ্টা চলছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিভৃতচারী নিঃসঙ্গ তরুণদের মাসে ৫০০ ডলার দেবে দ. কোরিয়া