আজ দুপুর ১২টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কঠিন সিরিজের একটি হচ্ছে আজ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে শুরুতে আলোচনায় ছিলেন দ্বিতীয় দফায় কোচ হিসাবে আসা চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের লংকান কোচ বলেন, ‘আগের বার যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেছি। আপনি যদি বলেন, বাংলাদেশ আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে না, আমি সেটি বিশ্বাস করি না। আমরা আগ্রাসী ক্রিকেট খেলি।’ আগ্রাসী বলতে কোচ শুধু ব্যাটিংয়ের ধরনকে বোঝাতে চাননি। হাথুরুসিংহে বলেন, ‘এখানে শুধু ব্যাটারদের অ্যাকশন দেখলে হবে না। আগ্রাসী ক্রিকেট বলতে, ফিল্ডিং আগ্রাসী সাজানোকেও বোঝায়। আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার অনেক উপায় আছে। শুধু বল মাঠের বাইরে পাঠানোই আগ্রাসী ক্রিকেট নয়। মাঠে আমরা ওই ধরন আনার চেষ্টা করছি। হোক ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং। আমরা এভাবেই পারফর্ম করতে যাচ্ছি।’
প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশকে জয়ের ধারায় এনেছিলেন হাথুরু। সেই ধারা থেকেই দল এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর আবারও হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের কোচ হয়ে এসেছেন। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নতি চোখে পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক উন্নতি করেছে। বিশেষ করে নিজেদের ভূমিকা বুঝতে পারার ব্যাপারে। কীভাবে প্রস্তুতি নেবে সেটিও তারা নিজেরা ঠিক করছে। এদিকে উন্নতি হয়েছে। এটা দেখে আমি খুব খুশি। আর তরুণ যারা তাদেরও খুব বেশি কিছু বলতে হয় না। তারা জানে, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’
সম্প্রতি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের এক সাক্ষাৎকারে আলোচনার মোড় ঘুরে যায় সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের দিকে। তবে দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে যতই চর্চা হোক না কেন— সিরিজ শুরু হলে যে বাইরের আলোচনা থেমে যাবে, সেটি সবারই জানা। দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশকে কতটা এগিয়ে নিতে পারেন সেই চ্যালেঞ্জের সামনে এখন হাথুরুসিংহে। ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়েই দলের মধ্যে আগ্রাসী ক্রিকেটের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আভাস দিয়েছেন হাথুরুসিংহে।
ইংল্যান্ডের গতিময় পেসার ক্রিস ওকস ও জফরা আর্চারকে নিয়ে কিছুটা চিন্তায় রয়েছেন হাথুরু। তবে বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজ দিয়েই নিজেদের অবস্থা জেনে নিতে চান হাথুরুসিংহে। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের একটি দল টেস্ট খেলছে নিউজিল্যান্ডে আরেকটি দল বাংলাদেশে। তাদের দলের গভীরতা কতটা সেটা এখান থেকেই বোঝা যায়। আমরা দেখতে চাই কোথায় আছি। এই সিরিজে জিততে পারলে বাড়তি আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।’
২০১৪ সালের পর বাংলাদেশ ঘরের মাঠে একটিমাত্র সিরিজ হেরেছে, সেটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৬ সালে ওই সিরিজে বাংলাদেশ হেরেছিল ২-১ এ। এর আগে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিদায় করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সবশেষ সিরিজে ভারতের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় নিয়মিত অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ছাড়া লিটন দাসের অধীনে জিতেছিল বাংলাদেশ। ফিট তামিম দলে ফিরেছেন। আছেন সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম। ভারতবধের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদরা তো রয়েছেনই।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ
তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, মেহেদি মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।
ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ
জেসন রয়, ফিল সল্ট, ডেভিড ম্যালান, জেমস ভিন্সি, জস বাটলার (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), উইল জ্যাক, মঈন আলী, স্যাম কারেন, আদিল রশিদ, মার্ক উড ও জোফরা আর্চার।










