ঘূর্ণিঝড় মোখা এখন সুপার সাইক্লোনের দিকে

ঘূর্ণিঝড় মোখা এখন সুপার সাইক্লোনের দিকে

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের বুকে তৈরি হতে চলেছে এই ঘূর্ণিঝড়। বুধবার সকালেই দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ আরও পশ্চিমে সরে গিয়ে পরিণত হয়েছে অতি গভীর নিম্নচাপে। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই সেই অতি গভীর নিম্নচাপ থেকে জন্ম নেবে ঘূর্ণিঝড় মোখা।

আবহবিদরা বলছেন, দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে ‘মোখা’। আর সেই জন্যই এক দিনের মধ্যেই তা পরিণতি পেতে চলেছে গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে।

আবহবিদরা মনে করছেন, এভাবে শক্তি সঞ্চয় করলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার পর তা দু’দিনের মাথাতেই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে।

১৩ মে সন্ধ্যা থেকে ১৪ মে ভোরে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় আকারে আঘাত হানতে পারে। কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিনের নিম্ন এলাকায় আঘাত হানবে প্রথমে। এরপর চট্টগ্রাম এলাকায় আঘাত করবে। তবে এর গতি পরিবর্তন হতে পারে যেকোনও সময়।

নিম্নচাপ সংক্রান্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তৃতীয় বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি (বুধবার) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫১৫ কি.মি. দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৪৩৫ কি.মি. দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫১০ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৪৬৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে আগামীকাল পর্যন্ত উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এবং পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে ক্রমান্বয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।

দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

 বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে অবস্থান করছে অতি গভীর নিম্নচাপটি। তবে ক্রমেই সেটি সরে যাচ্ছে আরও পশ্চিমে এবং উত্তর-পশ্চিমে। সেখানেই সরে গিয়ে তৈরি হবে ঘূর্ণিঝড়।

বুধবার সকালের তুলনায় পোর্ট ব্লেয়ারের থেকে দূরত্ব কমিয়েছে অতি গভীর নিম্নচাপটি। বর্তমানে এই অতি গভীর নিম্নচাপ পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ৫১০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।

অতি গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে ১৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে। মিয়ানমারের সিতওয়ে থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৩৬০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

অতি গভীর নিম্নচাপটি বর্তমান অবস্থান থেকে আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছে। এই অঞ্চলেই শক্তি বাড়িয়ে অতি গভীর নিম্নচাপ দ্রুত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর মোখার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৮০ কিমি। সমুদ্রে বাধা না পেয়ে তা হু-হু করে এগিয়ে আসবে উপকূলের দিকে। তবে উপকূলে আছড়ে পরার আগেই শক্তিক্ষয় করতে শুরু করবে মোখা। শনিবার থেকে ধীরে ধীরে শক্তি কমতে শুরু করবে মোখার। রোববার দুপুরের দিকে কক্সবাজার এবং মিয়ানমারের কাউকপুর ওপর আছড়ে পড়তে পারে মোখা। এরপর তা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ এবং উত্তর মায়ানমারের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার উপকূলে সর্বোচ্চ ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি।

পূর্ববর্তী ৬ টি আশ্চর্যজনক উপকার পেতে প্রতিদিন হাঁটুন
পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিদেশি কোনো চাপ নেই: ওবায়দুল কাদের