
ঘর থেকে বের হলেই যেন খরচ আর খরচ। এতো খরচ সামলানো মোটেও সহজ বিষয় নয় বর্তমান সময়ে। তাই নিজেদেরকেই সচেতন হতে হবে খরচ কমিয়ে বা সঞ্চয়ী হবার। কিন্তু কীভাবে? আসুন একটি ধারনা নেই লেখাটি পড়ে।
১. প্রথমে একটি বাজেট লিখুন যেখানে আপনার আয় এবং ব্যয়ের দৈনন্দিন বিবরণী থাকবে। এটি আপনাকে খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ী হতে সাহায্য করবে। যেমন ধরুন, আপনি বুঝতে পারলেন যে আপনার খাদ্য খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে আপনার খাদ্য তালিকা করা থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার মূলত কতোখানি খাদ্য চাহিদা রয়েছ। সে অনুযায়ী রান্না করলেই হয়।
২. কুপন বা ডিসকাউন্ট ব্যবহার করে কেনাকাটা করুন। উদাহরণস্বরূপ আপনি বিভিন্ন শপের আইটেম গুলিতে ডিসকাউন্ট পেতে কুপন ব্যবহার করতে পারেন বা বিভিন্ন ডিসকাউন্ট অফার রয়েছে এমন প্রোগ্রামগুলোতে অংশ নিয়ে কেনাকাটা করতে পারেন।
৩. পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এর যাতায়াত সুবিধা নিলে খরচ বাচানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনার নিজের গাড়ি চালানো বা প্রাইভেট গাড়ি ভাড়ার পরিবর্তে বাস বা ট্রেনে যেতে পারেন। বা সহকর্মীর সাথে একই যাত্রাপথে রিকশাভাড়া বা প্রাইভেট গাড়ির ভাড়া শেয়ার করে যেতে পারেন।
৪. গেরস্থালী বা বাসাবাড়িতে এনার্জি সেভিংস ইলেকট্রনিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব এতে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি LED লাইটবাল্বগুলি ব্যবহার করতে পারেন এবং ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট, ফ্যান ইত্যাদি বন্ধ করুন।
৫. মোবাইল খরচ বাঁচাতে আপনি প্রিপেইড সিম ব্যবহার করতে পারেন। এবং বিভিন্ন রকম সাশ্রয়ী বান্ডিল প্যাকেজ বা অফার ব্যবহার করে আপনি আপনার প্রয়োজন মিটিয়ে খরচ কমাতে পারেন।
৬. বাইরের খাওয়ার অভ্যাস বন্ধ করুন। বাইরের খোলা খাবার অস্বাস্থ্যকর হয় এবং রেস্টুরেন্টের খাবার ব্যয়বহুল। সুতরাং, ঘরের জন্য বাজার করে বাসায় রান্না করুন। এতে আপনার অনেক টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
৭. স্বাস্থ্য সচেতনতা আপনাকে সাশ্রয়ী করতে পারে। যেমন, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির নূন্যতম ৩০ মিনিট প্রতিদিন হাটা উচিত। এতে তার ফিটনেস ভালো থাকবে। সুতরাং ৩০ মিনিট বা তার থেকে কম দূরত্বের পথগুলোতে কখনোই রিকশা ব্যবহার না করে টাকাটা সঞ্চয় করতে পারেন।
৮. বর্তমান সময় অনলাইনে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম আছে যেখানে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনা যায়। সেসব ক্ষেত্রে বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করে আপনি একটি ভালো মানের পণ্য অনেক সাশ্রয়েও পেয়ে যেতে পারেন। উদাহরণস্বরুপ- একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সে প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র, ফ্যান বা এসি ইত্যাদি বিক্রয় করতে পারে। সেসব পণ্য যাচাই করে খুব সাশ্রয়ী দামে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসটি কিনে নিতে পারেন।
৯. মার্কেটে বা কেনাকাটা করার আগে অবশ্যই লিস্ট করে নিয়ে যাবেন। তা নয়তো আপনার অনেক অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কেনা হয়ে যাবে।
১০. অনেক সময় বাজারের থেকে অনলাইনে কেনাকাটায় সাশ্রয় হয়। তাই মার্কেটে বা বাজারের আগে অনলাইনেও যাচাই করুন।
১১. দৈনন্দিন কেনাকাটার চেয়ে মাসিক বাজারের লিস্ট করে বের হোন। এতে করে বাজার বেশি করলে ছাড় পাওয়া যায় এবং কেনাকাটায় খরচ কমে।
লেখাটি পড়তে পড়তে যদি আপনারও কিছু আইডিয়া চলে আসে তবে দেরি না করে সেই পয়েন্টগুলোর লিস্ট করে ফেলতে পারেন।









