বঙ্গবাজারের আগুন অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবচেয়ে কষ্ট লাগে বঙ্গবাজারে একবার ১৯৯৫ সালে আগুন লাগে। এরপর ২০১৮ সালে আবার আগুন লাগে। তারপর আমরা এখানে সুপরিকল্পিত মার্কেট করবার প্রকল্প গ্রহণ করি। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করে দেওয়ার চিন্তা থাকলেও ব্যবসায়ীদের বাধায় তা হয়নি। শুধু বাধা নয়, একটা রিটও করে এবং হাইকোর্ট এটাকে স্থগিত করে দেয়।
বুধবার (৫ মার্চ) গণভবনে পদ্মা সেতুর ঋণ পরিশোধের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।
সরকার প্রধান বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কান্না সহ্য করা যায় না। ইতিমধ্যে বলে দিয়েছি আমরা যতটুকু পারি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাহায্য করবো। এবং কার কী রকম ক্ষতি হয়েছে তা আমরা দেখবো।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘সে সময় যদি এটা স্থগিত না করতো, তাহলে আমরা এখানে একটা ভালো মার্কেট তৈরি করে দিতে পারতাম। তাহলে আজ এই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতো না।’
গতকাল মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ছয়টার কিছু আগে থেকে বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিটের ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো পুরোপুরি নেভেনি। এনেক্সকো টাওয়ারের ভেতরে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরদিন এসব কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।
বঙ্গবাজারে আগুন নেভানোর সময় ফায়ার ব্রিগেডে হামলাকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি বলব আমাদের দেশের কিছু লোকের আচরণ আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে। যখনই আগুন লেগেছে, ফায়ার ব্রিগেড সেখানে চলে গিয়েছে আগুন নেভাতে। এর সঙ্গে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার বাহিনী, ভলান্টিয়ার প্রত্যেকে সকাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। কথা নেই বার্তা নেই, দুপুরের পর একদল লোক লাটিসোঁটা নিয়ে ফায়ার সার্ভিস অফিসের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালানো শুরু করে।
স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে পুরো বঙ্গবাজারের হাজার হাজার দোকান। এখানকার কয়েকটি মার্কেটের সব দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যদিও ব্যবসায়ীদের কারও কারও অভিযোগ এখানে বড় করে মার্কেট নির্মাণের জন্য ‘পরিকল্পিত’ অগ্নিকাণ্ডের।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঈদের আগে এমন একটা দুর্ঘটনায় কত মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে, তাদের সত্যিই যে কষ্টটা, তাদের কান্না, এটা সহ্য করা যায় না। ইতোমধ্যে আমি বলে দিয়েছি তাদের যতটুকু পারি সাহায্য করব এবং কার কী রকম ক্ষতি হয়েছে, এটা দেখব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ।










