
হ্যালো বাংলা ডেস্ক: আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে জনগণ যে লাভবান হয়, জনগণের যে ভাগ্য পরিবর্তন হয় সেটা প্রমাণিত সত্য। ’
গতকাল শুক্রবার (২৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
১৯৪৯ সালের এই দিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এলে পরিবর্তন কখনোই আসত না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি গৃহহীন ব্যক্তিকে একটি বাড়ি দেওয়ার লক্ষ্যে মৌলিক চাহিদা পূরণে তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ”আমরা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান এবং শিক্ষার মতো মানুষের প্রতিটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করছি। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি।”
উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়াস অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়ে সরকার প্রধান বলেন,”স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”
কোভিড-১৯, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, “(দেশের মানুষ) একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আমি এটা জানি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি।”
শেখ হাসিনা দেশের ধনী ব্যক্তিদের আশেপাশে বসবাসতারী যারা একটু দরিদ্র তাদের প্রতি খেয়াল রাখার আহ্বান জানান।
বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যে উন্নয়ন, যে পরিবর্তন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে কোনোদিনই হতো না। আওয়ামী লীগ থাকলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। ’
সরকারের বিনামূল্যে ঘর ও বাড়ি দেওয়ার কর্মসূচি এবং আর মাত্র ৩০ হাজার পরিবারকে ঘর দিলে সবার জন্য ঘর নিশ্চিত হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ বাংলাদেশে ভূমিহীন থাকবে না, ঠিকানা বিহীন থাকবে না। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘কোনো মানুষ অস্বাস্থ্যকরভাবে থাকবে না। সবাইকে আমরা সুন্দরভাবে ঘর-বাড়ি করে সুন্দরভাবে বাঁচার ব্যবস্থা করে দিব। এটাই হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের প্রতিজ্ঞা। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। ’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেক দূর আমরা এগিয়ে গেছি। ২৬ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাব। ’
তিনি বলেন, ‘আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে। স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে আমাদের আরও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ’সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশটাকে নিয়ে যেন আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। আমি জানি অনেক চক্রান্ত আছে, ষড়যন্ত্র আছে। ’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা সরকারে আবার আসতে পারিনি। সেটাও আপনারা জানেন যে আমার ওপর প্রচণ্ড চাপ ছিল। যে আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে হবে। আমি বলেছিলাম, এই গ্যাস জনগণের। আর কতটুকু আছে জানি না। কাজে আমার পক্ষে বাংলাদেশের সম্পদ, মানুষের সম্পদ, শুধু ক্ষমতার লোভে তা বিক্রি করে আমি ক্ষমতায় থাকব সেই বাপের মেয়ে আমি না। ’
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতার জন্য গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাইনি, কিন্তু মুচলেকা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। একই জায়গায় বসেই সে ঘটনা অনেক বার বলেছি। ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটের আকার ২০০৬ সালের মাত্র ৬১,০০০ কোটি টাকা থেকে ৭৬১,৭৮৫ কোটি টাকা, জিডিপির আকার মাত্র ৪.১৫ লাখ কোটি টাকা থেকে এখন ৫০.৩১ লাখ কোটি টাকা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ২০০৬ সালের ৫.৪০ শতাংশ থেকে ৭.২৫ শতাংশে (গড় ৬%) এডিপির আকার ২১,৫০০ কোটি টাকা থেকে ২৭৪,৬৭৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, মাথাপিছু আয় ২০০৬ সালে ছিল মাত্র ৫৪৩ মার্কিন ডলার তা থেকে ২,৮২৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। যদিও এখন তা ২,৭৬৫ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাড়িয়েছিল যা বিএনপি শাসনামলে ছিল মাত্র ০.৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখনও ৩০.৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ২০০৬ সালের ১০.০৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫২.৯৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বার্ষিক রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৪.০৩ বিলিয়ন ডলার যা বিএনপির আমলে ছিল ৪.৮ বিলিয়ন ডলার। রাজস্ব সংগ্রহ ৩৭,৮৭০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০০,০০০ কোটি টাকার উপরে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যের হার বিএনপি শাসনামলে ছিল ৪১.৫১ শতাংশ থেকে থেকে কমে এখন ১৮.৭ শতাংশে, চরম দারিদ্র্যের হার ২৫.১ শতাংশ থেকে ৫.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ৪৯ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ০.২৩ শতাংশ থেকে ৭৩.৫ শতাংশ, মোবাইল সিম সাবস্ক্রিপশনের সংখ্যা ১৯ মিলিয়ন থেকে ১৮৩ মিলিয়নে, ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ২০০ থেকে ৬৭০,০০০ জন, ডিজিটাল পরিষেবার সংখ্যা মুষ্টিমেয় কয়েকজন থেকে ২,১৮০ জনে উন্নীত হয়েছে। সরকারি ওয়েবসাইটের সংখ্যা মাত্র ৯৮টি থেকে ৫১,৬৭৮টি হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি আমলে গ্রামীণ সড়ক ৩ হাজার ১৩৩ কিলোমিটার থেকে ৮৯ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর মানে আমরা বাংলাদেশে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন ও শফিউল আলম নাদেল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় সদস্য বেগম আখতার জাহান, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি ও ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি বজলুর রহমান।
সঞ্চালনা করেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল আওয়াল শামীম।
সঞ্চালনা করেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল আওয়াল শামীম।
