Author: Hello Bangla News

  • ইথিওপিয়ায় দুর্ভিক্ষে ৮৬০ জনের মৃত্যু

    ইথিওপিয়ায় দুর্ভিক্ষে ৮৬০ জনের মৃত্যু

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৬ জানুয়ারি, ২০২৪: কয়েক বছর ধরে নানা সংকটে আছে ইথিওপিয়া। তবে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে সেখানে চলছে খাদ্য সমস্যা। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটির তাইগ্রে অঞ্চলে এসব মানুষ অনাহারে মারা গেছেন।

    গতকাল শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা আনাদোলো নিউজকে এ তথ্য জানান তাইগ্রে কমিউনিকেশন ব্যুরোর প্রধান রিদাই হালেফোম। তিনি জানিয়েছেন, বাস্তবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ অনাহারে প্রাণ হারানো অনেকের নাম লিপিবদ্ধ করাও হয়নি।

    তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন, সেখানকার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে এবং ‘আধুনিক তাইগ্রের ইতিহাসে অঞ্চলটি সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে পারে।’

    এই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা না করায় অঞ্চলটিতে এখনো মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছেন।

    তাইগ্রের আঞ্চলিক প্রশাসনের অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট গেটাচু রেদা ডিসেম্বরের শেষ দিকে জানান, সেখানকার পরিস্থিতি বিপর্যয়কর। তাইগ্রেতে ১৯৮৪ সালের দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি হয়েছে। যে দুর্ভিক্ষে ইথিওপিয়ায় লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

    তাইগ্রে অঞ্চলে ভয়াবহ যুদ্ধ এবং খরার কারণে এখন এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অঞ্চলটির ৯১ শতাংশ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

    গেটাচু রেদা জানিয়েছেন, ইথিওপিয়ার সরকারের সঙ্গে তাইগ্রের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ২০২২ সালের শান্তি চুক্তির পর সাধারণ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েন।

    অবস্থা প্রকট আকার ধারণ করায় গত বছরের ডিসেম্বরে তাইগ্রে অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে অন্তবর্তীকালীন আঞ্চলিক সরকার।

  • জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ জানুয়ারি, ২০২৪: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি দেশের সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও সেন্টারগেুলো থেকে একযোগে প্রচারিত হয়। জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এখানে তুলে ধরা হলো।

    প্রিয় দেশবাসী,

    আসসালামু আলাইকুম।

    আপনাদের সবাইকে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

    ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলভোটে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ’৭৫-পরবর্তী সময়ে চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে বর্তমান মেয়াদ শেষ করতে যাচ্ছে। আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২-লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সশ্রদ্ধ সালাম জানাচ্ছি।

    আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই—মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও ১০ বছরের শেখ রাসেল; কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিল এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এএসআই সিদ্দিকুর রহমানসহ সেই রাতের সব শহিদকে।

    এই উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

    স্মরণ করছি, ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ নেতাকর্মীকে। স্মরণ করছি, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে।

     

    বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমা হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, আমি তাদের স্মরণ করছি। আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

     

    প্রিয় দেশবাসী,

    পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পোড়ামাটি নীতির ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো ও অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে জাতির পিতা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। মাত্র ৩ বছর ৭ মাস ৩ দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকার পরিচালনা করে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৯১ মার্কিন ডলার। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছরে তা বাড়িয়ে ২৭৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত বাংলাদেশের অবৈধ সরকারগুলো দীর্ঘ ১৬ বছরে মাথাপিছু আয় মাত্র ৫ ডলার বাড়ায়। জাতির পিতার আমলে প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ অতিক্রম করে। কিন্তু ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর থেমে যায় বাংলাদেশের সকল উন্নয়ন অগ্রগতি।

    জাতির পিতাকে হত্যার সময় আমি এবং আমার ছোটবোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলাম। সে কারণে আমরা প্রাণে বেঁচে যাই। দীর্ঘ ৬ বছর আমরা রিফিউজি হিসেবে প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হই। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে অবৈধ নির্বাচন করার ব্যবস্থা করে। সে নির্বাচনে ভোট গণনায় ১০০ শতাংশের বেশি ভোট দেখানো হয়। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে একদিকে ছিল সেনাপ্রধান, অপরদিকে রাষ্ট্রপতি।

    তৎকালীন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান আমাদের দেশে আসতে বাধা দেয়। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জনগণের সমর্থন নিয়ে আমি দেশে ফিরে আসি। অবৈধভাবে ক্ষমতাসীন সরকার, জাতির পিতার হত্যাকারী ও ষড়যন্ত্রকারী এবং যুদ্ধাপরাধীদের সকল রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করেই আমি দেশে ফিরে আসি। শুরু করি জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এজন্য বারবার আমার উপর আঘাত এসেছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, বারবার গ্রেপ্তার হয়েছি। আমাকে অন্তত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমি দমে যাইনি। অবশেষে মানুষের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হই।

    দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। অবসান হয় হত্যা, ক্যু ও সামরিক শাসনের। ’৭৫-পরবর্তী অবৈধ সরকারগুলোর জনবিচ্ছিন্নতা, লুটপাট ও দর্শনবিহীন রাষ্ট্র পরিচালনা বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিতি পেয়েছিল বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং ভিক্ষুক-দরিদ্র-হাড্ডিসার মানুষের দেশ হিসেবে। তখন দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ।

     

    ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা দারিদ্র্য বিমোচনে বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমরা পার্বত্য শান্তি চুক্তি করে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করি। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জন্য বিভিন্ন ভাতা চালু, তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি যেমন: আশ্রয়ণ প্রকল্প, ঘরে ফেরা, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মত কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

    কৃষক ও কৃষি-বান্ধব নীতি গ্রহণের ফলে দেশ দ্রুত খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন খাতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ-মেয়াদী নীতিমালা গ্রহণ করি; যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে।

     

    প্রিয় দেশবাসী,

    ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন থেকে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই—এই ৫ বছর পূর্ণ করে ২৬ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

    দেশ যখন আর্থিক স্থবিরতা কাটিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মহাসড়কে অভিযাত্রা শুরু করে, ঠিক তখনই ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত আবার ক্ষমতায় আসে। রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ায় শুরু হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন। ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। শুধু রাজনৈতিক কারণে বহু চলমান উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত করে দেওয়া হয়। ‘হাওয়া ভবন’ খুলে অবাধে চলতে থাকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও দুঃশাসন।

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতাকর্মীকে হত্যা এবং ৫০০ এর বেশি মানুষকে আহত করে। জেলায় জেলায় বোমা হামলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি, সেশন জট, ছাত্রছাত্রীদের অনিশ্চিত জীবন ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়কার সাধারণ চালচিত্র। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, অস্ত্র চোরাকারবারি, মানি লন্ডারিং, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, হাওয়া ভবনের দ্বৈত শাসনে জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল।

    মেয়াদ শেষে ২০০৬ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচন দেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিতে থাকে। নির্বাচনে কারচুপির উদ্দেশ্যে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটারসমেত ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠন করে। তাদের এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশকে অন্ধকারের পথে ধাবিত করে। যার ফলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়। সামরিক বাহিনী অন্তরালে থেকে ক্ষমতা দখল করে। ইয়াজুদ্দীন, ফখরুদ্দীন, মইনুদ্দীনের এই সরকার জনগণের অধিকার হরণ করে তাদের উপর স্টিমরোলার চালানো শুরু করে। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয়। আমাকে এবং আমার দলের বহু নেতাকর্মীসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের বন্দি করা হয়। ভিন্ন দল গঠন করার চেষ্টা করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়।

     

    কিন্তু তাদের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সচেতন দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ায়। জনগণের আন্দোলনের মুখে তারা ৯ম সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। তবে নির্বাচন সংস্কারের যে দাবি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট উপস্থাপন করেছিল সেগুলি থেকে তারা কিছু বিষয় কার্যকর করে, যেমন: ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার লিস্ট বাতিল এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার।

    ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৩টি আসনে বিজয়ী হয়। আর বিএনপি এককভাবে মাত্র ৩০টি আসনে জয়ী হয়। বাকি আসনগুলি উভয় জোটের শরিকেরা পায়।

     

    প্রিয় দেশবাসী,

    ১৫ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। মানুষ আজ স্বপ্ন দেখে উন্নত জীবনের। স্বপ্ন দেখে সুন্দরভাবে বাঁচার।

    ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ বছরে বাংলাদেশের অর্থ-সামাজিক অবস্থা কেমন ছিল; আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কতটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে আমি সেই চিত্রটাই তুলে ধরছি—

    প্রবৃদ্ধি ৭.২৫ শতাংশ, মাথাপিছু আয় ৫ গুণ বৃদ্ধি। বাজেটের আকার ১২ গুণ বৃদ্ধি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ১৩ গুণ বৃদ্ধি। জিডিপির আকার ১২ গুণ বৃদ্ধি। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩৬ গুণ বৃদ্ধি। রপ্তানি আয় ৫ গুণ বৃদ্ধি। বার্ষিক রেমিটেন্স ৬ গুণ বৃদ্ধি। বৈদেশিক বিনিয়োগ এফডিআই ৫ গুণ বৃদ্ধি। একজন কৃষি-শ্রমিকের ক্রয় ক্ষমতা ৩ গুণ বৃদ্ধি। শ্রমিকদের মজুরি ৯ গুণ বৃদ্ধি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ গুণ বৃদ্ধি। রপ্তানি আয় ৫ গুণ বৃদ্ধি।

    দারিদ্র্য হার ৪১.৫১ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে হ্রাস। অতি দারিদ্র্য হার ৫ গুণ কমেছে। সুপেয় পানি ৫৫ শতাংশ থেকে ৯৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। স্যানিটারি ল্যাট্রিন ৪৩.২৮ শতাংশ থেকে ৯৭.৩২ শতাংশ বৃদ্ধি। শিশু মৃত্যুহার হাজারে ৮৪ থেকে কমে ২১ জন। মাতৃ মৃত্যুহার প্রতি লাখে ৩৬০ জন থেকে কমে ১৫৬ জন। মানুষের গড় আয়ু হয়েছে ৭২.৮ বছর। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৮ গুণ বৃদ্ধি। বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগের হার ২৮ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি। সাক্ষরতার হার ৭৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। কারিগরি শিক্ষা ২২ গুণ বৃদ্ধি। দানাদার শস্য উৎপাদন ৪ গুণ বৃদ্ধি।

    আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। ঢাকায় মেট্রোরেল চালু করেছি, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, পাতাল রেলের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছি। রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছি। উদ্বোধন করা হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। চট্টগ্রামে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পাতাল সড়কপথ—‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ নির্মাণ করেছি। কক্সবাজারে দৃষ্টিনন্দন রেলস্টেশন স্থাপন করে ঢাকা-কক্সবাজার রেল রুট চালু করেছি। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

     

    অর্থনীতির যে কোনো সূচকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০০৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে উৎকর্ষতা সাধন হয়েছে। ২০০৯ সালে জিডিপির পরিমাণ ছিল মাত্র ১০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩ সালে জিডিপির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৭ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত ২২ হাজার কোটি টাকার মন্দ ঋণ ছিল; যা মোট ঋণের ১০.৫ শতাংশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস শেষে ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকার মন্দ ঋণ; যা মোট প্রদত্ত ঋণের ৯.৯ শতাংশ।

    যারা সমালোচনা করেন—দুঃখের বিষয় যে, তারা সঠিক তথ্যটা জাতির সামনে তুলে ধরেন না। দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা তাদের চরিত্র। মনে হয়, বাংলাদেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নতি দেখলে তারা বিমর্ষ হয়ে পড়ে।

     

    প্রিয় দেশবাসী,

    গত ২৭ ডিসেম্বর আপনাদের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছি। বিশদভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছি কি অবস্থায় দেশকে পেয়েছিলাম, আর আপনাদের জীবনমান উন্নয়নে কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। দেশের যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে, তা টেকসই করে আরও উন্নত জীবন যাতে আপনারা পান—আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে আগামী ৫ বছরে আমরা কি কি কাজ করব সেই ব্যাখ্যা তুলে ধরেছি।

    আজকে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে হাজির হয়েছি। এই উন্নয়নকে টেকসই করা, আপনাদের জীবনমান উন্নত করা, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ চাই।

    উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য হ্রাস, ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারগুলির ঘরবাড়ি ও জীবন-জীবিকার স্থায়ী ব্যবস্থা করা, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের আজকের শিশু এবং তরুণদের সুশিক্ষিত করা, স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করা, ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, প্রতি উপজেলায় কারিগরি ও কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছি তা সম্পন্ন করা, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন কর্মক্ষেত্র খুঁজে বের করা, গ্রামের মানুষের জন্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট উন্নত করা, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের যে ব্যবস্থা নিয়েছি—তা টেকসই করে সব মানুষের জীবনমান উন্নত করাই আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য। আপনাদের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত হয়ে আরেকটিবার সরকার গঠন করতে পারলে আমাদের গৃহীত কর্মসূচিগুলি বাস্তবায়ন করে আপনাদের জীবনমান আরও উন্নত করার সুযোগ পাবো।

     

    নদী, খাল, পুকুর, জলাধার খনন, ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ, বনায়ন সৃষ্টি, উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদী ভাঙনের হাত থেকে দেশের জনগণকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করবো।

    সড়ক, রেল, নৌ, বিমান পথ ও সেবা উন্নত করে যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, অধিক ফসল উৎপাদন, খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করা, দেশের চাহিদা পূরণ করা ও বিদেশে রপ্তানির উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে।

    রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে নতুন বাজার খুঁজে বের করা, উপযুক্ত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। সে ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিভাইস, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, ঔষধ, কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ রিসাইক্লিনং শিল্প ও কারখানা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে। ব্যাপক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

    এই লক্ষ্যে কৃষিপণ্য, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, প্রযুক্তি বিজ্ঞান, পরমাণু গবেষণা, এ্যায়ারোস্পেস ও এভিয়েশন গবেষণা, সমুদ্র গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার জন্য ইন্সটিটিউশন ও গবেষণাগার তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

     

    প্রিয় দেশবাসী,

    ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে দেশ পরিচালনায় যে সাফল্য আমরা করতে পেরেছি, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা ২০২৪ সাল থেকে স্মার্ট সোনার বাংলা গড়ে তোলার ইশতেহার ঘোষণা দিয়েছি। এবারের ইশতেহারে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যে বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্য থেকে যে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছি আমি তা আপনাদের সামনে উল্লেখ করছি—

    ১. সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষা ও চর্চার প্রসার করা।

    ২. দ্রব্যমূল্য সকলের ক্রয় ক্ষমতার আওতার মধ্যে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

    ৩. কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুব সমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

    ৪. আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

    ৫. উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা যান্ত্রিকীকরণ ও উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া।

    ৬. কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা।

    ৭. গ্রাম পর্যায়ে পর্যন্ত অবকাঠামো এবং শিল্প কলকারখানা গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

    ৮. ব্যাংক বীমা ও আর্থিক খাতের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

    ৯. নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা সুলভ করা।

    ১০. সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সকলকে যুক্ত করে ব্যক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    ১১. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলা ও তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

    ১২. সাম্প্রদায়িকতা ও সকল ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল করা।

     

    ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ৩ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গণতান্ত্রিক ধারা ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে জনকল্যাণমুখী ও সুসমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি সমতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক দেশ বিনির্মাণের পথে জাতিকে অগ্রসরমান রেখেছে। ইতোমধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি টেকসই ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। ২০২৬ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা শুরু হবে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার যে সুযোগ পাওয়া যাবে তা কার্যকর করা এবং যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে; তা একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই মোকাবিলা করতে পারবে। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। সম্ভাবনাময় বিশাল তরুণ সমাজ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল কারিগর। তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের অগ্রগতি।

     

    প্রিয় দেশবাসী,

    আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলসমূহ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এমন কোন উদ্ভট ধারণাকে প্রশ্রয় দেবেন না এবং ইন্ধন যোগাবেন না।

    আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি। এই প্রথম বাংলাদেশে আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে আর্থিকভাবে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করছে। আমাদের সরকার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, দেশের মানুষের অর্থ-সামাজিক উন্নতি নিশ্চিত করে। জনগণের খাদ্য, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ব্যাপকহারে অবকাঠামো উন্নয়ন হয়।

     

    আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, সংঘাতে নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়—এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি। এই নীতি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করে উন্নত করেছি।

    আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। প্যালেস্টাইন ও ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধ হোক—আমরা সেটাই চাই। প্যালেস্টাইনে যে গণহত্যা চলছে, আমরা তার অবসান চাই। বাংলাদেশ সব সময় প্যালেস্টাইনের জনগণের পক্ষে আছে।

     

    প্রিয় দেশবাসী,

    আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এই দীর্ঘ চলার পথে যতটুকু অর্জন, তার সবটুকুই আপনাদের অবদান। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন করা সম্ভব হতো না। চলার পথে যদি কোন ভুল-ভ্রান্তি করে থাকি, তাহলে আপনারা ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখবেন—এটাই আমার আবেদন। আবার সরকার গঠন করতে পারলে, ভুলগুলি শোধরাবার সুযোগ পাব। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ‘নৌকা’ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন সংগ্রাম করেছেন এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য। আমি বাবা, মা, ভাই সব হারিয়ে দুঃখ-বেদনাকে সম্বল করে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আপনাদের মাঝে খুঁজে পেয়েছি আমার বাবার স্নেহ, মায়ের মমতা এবং ভাইয়ের মায়া। আপনারাই আমার পরিবার, আমার উপর ভরসা রাখুন। আসুন, সকলে মিলে এই বাংলাদেশকে স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন পূরণ করি।

     

    কবি সুকান্তের ভাষায় বলতে চাই—

    আমাদের ডাক এসেছে

    এবার পথে চলতে হবে।

    ডাক এসেছে চলতে হবে আজ সকালে

    বিশ্বপথে সবার সাথে সমান তালে।

    পিছন পানে তাকাস নি আজ, চল সম্মুখে

    জয়ের বাণী নূতন প্রাতে বল ও মুখে।

     

    খোদা হাফেজ।

    জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

    বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

  • আওয়ামী লীগের সঙ্গে কমনওয়েলথের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক

    আওয়ামী লীগের সঙ্গে কমনওয়েলথের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ জানুয়ারি, ২০২৪: আর মাত্র দুই দিন। আগামী ৭ জানুয়ারি (রবিবার) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। এই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কমনওয়েলথের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ।

    আজ শুক্রবার (জানুয়ারি ০৫) সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে নির্বাচনে কমনওয়েলথের পর্যবেক্ষক দলকে স্বাগত জানিয়ে সাতই জানুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করা নিয়ে আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন দলের নেতারা।

    বৈঠকে ১৫ সদস্যের কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেন টিম লিডার জ্যামাইকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অরিটি ব্রুস গোল্ডিং।

    আর ১০ সদস্যের আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    বৈঠকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক অ্যাম্বাসেডর জমির উদ্দিন, দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, অর্থবিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান ও দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত উপস্থিত রয়েছেন।

  • দেশের মানুষের কাছে নির্বাচন হলো উৎসব: সেতুমন্ত্রী

    দেশের মানুষের কাছে নির্বাচন হলো উৎসব: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ জানুয়ারি, ২০২৪: দেশের মানুষের কাছে নির্বাচন হলো উৎসব, বলে জানিয়েছেন জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের কাছে নির্বাচন হলো উৎসব, গণতন্ত্রের উৎসব। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং তীব্র শীত উপেক্ষা করে জনগণ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছে।”

    শুক্রবার তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ফ্ল্যাগ ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন শেখ হাসিনা।”

    তিনি বলেন, “গত ২০ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা সিলেটে হযরত শাহজালাল (রা.) ও হযরত শাহ পরান (রা.)-এর মাজার জিয়ারতের পর আওয়ামী লীগের প্রথম বিভাগীয় জনসভায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি রংপুর, বরিশাল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ঢাকা, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি ২৩ জেলায় ভার্চুয়াল নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন।”

    ওবায়দুল কাদের বলেন, “নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ২৮টি রাজনৈতিক দল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ১ হাজার ৯৭০ জন। যার মধ্যে ৪৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সুতরাং নির্বাচনটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলার। শেখ হাসিনার ওয়াদা অনুযায়ী আজ দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। পাশাপাশি, দারিদ্যের হার কমে হয়েছে মাত্র ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, অতি দারিদ্র কমে হয়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছর ৮ মাস হয়েছে।”

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোট ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায়। আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করে। ১৬ জন সাংবাদিককে হত্যা করে।”

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশন গঠনে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যার অধীনে সাংবিধানিক পদের অধিকারীদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইলেকশন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই কমিশন সর্বোচ্চ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।”

    সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, “ইতোমধ্যেই বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক এসেছেন। তা দেখে আমরা উৎসাহিত বোধ করছি। তারা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করবেন। আমরা আশা করবো— অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তার সঠিক চিত্র তারা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, অর্থবিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ।

  • নির্বাচনে সারা দেশে পাঁচ লাখ আনসার মোতায়েন

    নির্বাচনে সারা দেশে পাঁচ লাখ আনসার মোতায়েন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ জানুয়ারি, ২০২৪: জআগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোট কেন্দ্র ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটদানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সারা দেশে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ১৪৩ জন সদস্য মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

    আজ শুক্রবার (০৫ জানুয়ারি) রাজধানীর খিলগাঁও‌য়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দফতরে আ‌য়ো‌জিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক।

    সংবাদ সম্মেলনে আনসার-ভিডিপির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম উদ্দিন, উপ-মহাপরিচালক (প্রশাসন) কর্নেল মো. তসলিম এহসান, উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. ফখরুল আলম, উপ-মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. জিয়াউল হাসান ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক ব‌লেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সারা দেশে ৪২ হাজার ১৪৯টি ভোট কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা রক্ষায় পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৭৮৮ জন সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে ২৫০ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা এক হাজারটি সেকশনে ভাগ হয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর থে‌কে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন রয়েছে। উপকূলের ১৩টি উপজেলা বাদে সব উপজেলায় আনসার ব্যাটালিয়নের একটি করে স্ট্রাইকিং টিম নির্বাচনী পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই হাজার ৮৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন।”

    মহাপরিচালক বলেন, “নির্বাচনী কেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রতিটি কেন্দ্রে মোট ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে একজন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) ও একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডারের (এপিসি) নেতৃত্বে ছয়জন পুরুষ ও চারজন মহিলা ভিডিপি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পিসি ও এপিসিরা অস্ত্রসহ এবং ভিডিপি সদস্যরা লাঠি হাতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনোরূপ অবনতি ঘটলে তা দ্রুত সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

    তিনি বলেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে আগ্রহভরে অত্যন্ত উৎফুল্লভাবে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে সেই জন্য আনসার ভিডিপির সদস্যরা নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছে। নির্বাচন বিরোধী যারা আছে তারা চায় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। বিভিন্ন কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করবে। আমরা সচেতন আছি। নাশকতা নির্মূল করতে আমরা সক্ষম।”

    মহাপরিচালক বলেন, “নাশকতা রোধে অভিযান ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। কেপিআই স্থাপনায় আমাদের যে নিরাপত্তা ছিল সেটি মোতায়েন থাকবে। রেলের নিরাপত্তায় ১৫ হাজার ৭০০ সদস্য কাজ করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে যারা যে দায়িত্ব পালন করেছে তারা নির্বাচনী দায়িত্বের বাহিরে।”

    নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে কি না জানতে চাইলে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক বলেন, “নির্বাচনে শুধু আনসার না। পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌ বাহিনী কাজ করছে। সবার সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সমন্বয় সভা করেছেন। নিরাপত্তা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই। সরকার ও নির্বাচন কমিশন সব সরঞ্জাম দিতে সহযোগিতা করেছে।”

  • সারাদেশে বিজিবি ৪৮৭টি বেজ ক্যাম্প থেকে দায়িত্ব পালন করছেন

    সারাদেশে বিজিবি ৪৮৭টি বেজ ক্যাম্প থেকে দায়িত্ব পালন করছেন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ জানুয়ারি, ২০২৪: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীসহ সারা দেশে এক হাজার ১৫৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমাদের জনবল সারাদেশে ৪৮৭টি বেজ ক্যাম্প থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ৭০০ পেট্রোল দিন-রাত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত।

    শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীতে স্থাপিত বিভিন্ন নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে মিরপুর সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

    বিজিবির ডিজি বলেন, “বিজিবির র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম ও ডগ স্কোয়াড কাজ করছে। এছাড়া, আমাদের কুইক রেসপন্স প্রস্তুত আছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ টিমের সদস্যদেরকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

    তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র পরিবর্তন হতে পারে। সে অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যরা সাদা পোশাকে তথ্য সংগ্রহ করছেন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।”

    একইসঙ্গে অনলাইনে গুজব ঠেকাতেও বিজিবি অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

    বিজিবির ডিজি আরও বরেন, “নির্বাচন ঘিরে সন্দীপে প্রথমবারের মতো বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্বরত প্রতিটি সদস্য সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রত্যাশা করেন।”

  • নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৪ জানুয়ারি, ২০২৪: দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জ শহরে এলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়রি) বিকেল সোয়া ৩টায় শহরের ইসদাইর এলাকায় একেএম শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে পৌঁছান তিনি। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা।

    জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছেন। এই নৌকা আজকে উন্নয়ন দিয়েছে। এই নৌকা-ই আগামী দিনে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তাই এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করবেন।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “১৫ বছর আমরা সরকারে আছি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করেছিলাম। সেবার বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় ঐক্যজোট আর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আমাদের মহাজোট ছিল। সেই নির্বাচনে শুধুমাত্র নৌকা মার্কায় আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ২৩৩টি সিট। আর বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০ সিট। বাকিগুলো আমাদের যারা জোটে ছিল তারা পেয়েছিল। তারপর থেকে বিএনপি আর নির্বাচনে আসতে চায় না, ভয় পায়। যার জন্য তারা সন্ত্রাস করে।”

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “জ্বালাও-পোড়াও-মানুষ খুন এই তিনটি হলো বিএনপির গুণ। বিএনপি নির্বাচনে আসতে ভয় পায়। এ কারণে নির্বাচন বন্ধের জন্য তারা সন্ত্রাস করে।”

    তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশকে এগিয়ে নিয়েছে, আর বিএনপি পিছিয়েছে। বিএনপির দুঃশাসনে সবাই ভীত। বোমা হামলা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ—এসবই বিএনপির কাজ।”

    জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাতের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে বক্তব্য দেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, “দীর্ঘদিন পর নেত্রী নারায়ণগঞ্জ শহরে এসেছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। নেত্রীর আগমনে নেতাকর্মীরা অনেক বেশি আনন্দিত, অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত।”

    শামীম ওসমান বলেন, “বঙ্গবন্ধু চলে না গেলে আমাদের রাজনীতি করার কথা ছিল না। আমরা জাপানের মতো উন্নত দেশ থাকতাম। আমাদের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন শেখ হাসিনা।”

    তিনি আরও বলেন, “নেত্রীর কাছে চাওয়ার কিছু নেই। আপনি সব দিয়েছেন। আমার নারায়ণগঞ্জের মানুষ মেট্রোরেলে উঠতে চায়। সন্তান কখনও মায়ের কাছে চায় না। মা সন্তানের আবদার এমনিতেই পূরণ করে দেয়।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে স্লোগানে স্লোগানে বরণ করে নেন। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে জনসভাস্থলে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। দুপুর থেকেই জনসভাস্থলে কাণায় কাণায় পূর্ণ হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষের ঢল নামে। সমাবেশস্থলের আশপাশের এলাকাতেও হাজারো নেতাকর্মীর সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। নানান রঙের ব্যানার ও ফেস্টুনসহ রঙিন পোশাক পরে সভাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা

    সমাবেশ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।”

  • শেখ হাসিনা নিষেধাজ্ঞার কোন পরোয়া করে না: সেতুমন্ত্রী

    শেখ হাসিনা নিষেধাজ্ঞার কোন পরোয়া করে না: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৪ জানুয়ারি, ২০২৪: শেখ হাসিনা নিষেধাজ্ঞার কোন পরোয়া করে না, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ছাত্রলীগের ৭৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি এখন অপেক্ষায় আছে, আটলান্টিকের ওপাড় থেকে স্যাংশন আসবে, নিষেধাজ্ঞা আসবে। শেখ হাসিনা ভিসানীতি তোয়াক্কা করেন না। শেখ হাসিনা আটলান্টিকের ওপাড়ের স্যাংশনকে ভয় পান না। তিনি ভয় পান একমাত্র সৃষ্টিকর্তাকে। তিনি ভালোবাসেন বাংলাদেশের জনগণকে। বাংলাদেশের মাটি, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের শক্তির উৎস। আমরা কোনো বিদেশি শক্তির হুমকি-ধমকি পরোয়া করি না। এটি শেখ হাসিনার কথা।”

    ওবায়দুল কাদের বলেন, “ভালো লোকেরা নির্বাচিত হলে দেশ ভালো চলবে, নয়তো দুঃশাসন অনিবার্য।”

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি কোথায়? ফাউল করে লাল কার্ড খেয়েছে। তারেক রহমানের নির্দেশে এখন তারা বোমা মারবে। বিএনপি ভুয়া। তাদের এক দফা আন্দোলন ভুয়া। ৩২ দল ভুয়া। অবরোধ ভুয়া। খেলা হবে। লুটপাটের বিরুদ্ধে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে, অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে খেলা হবে। দুর্নীতিবাজরা সাবধান, লুটেরারা সাবধান। ৭ তারিখ সারা দিন খেলা হবে। সুনামগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, তেঁতুলিয়া, সারা বাংলায় খেলা হবে।”

    ওবায়দুল কাদের বলেন, “ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের স্মার্ট হতে হবে। ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে গতানুগতিক কথা বলে দেওয়া স্মার্টনেস নয়। সেই কথা বলতে হবে, যে কথায় নেতৃত্ব দেবে। গতানুগতিক ভাষণ নয়, কথা বলতে হবে চোখের ভাষায়, মনের ভাষায়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রুটিন মেনে জীবন যাপন করতে হবে। গৎবাঁধা মুখস্ত বক্তৃতা করে নেতা হওয়া যাবে না। নেতা হতে হলে নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। রাত ৮-৯টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অফিসে ছাত্রলীগের আড্ডা দেওয়ার দরকার নেই। পড়াশোনা করো। যতই পড়বে ততই শিখবে। নেতৃত্বের কোয়ালিটি অর্জন করতে হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “এ দেশ ভালো লোকদের হাতে থাকলে ভালো হবে। খারাপ লোকদের হাতে থাকলে, ভালো লোকেরা না থাকলে রাজনীতি মূল্যহীন হয়ে পড়বে। রাজনীতিতে মেধাবী ও চরিত্রবানদের আসতে হবে। ভালো লোক দেশের এমপি-মন্ত্রী হলে দেশ ভালো চলবে। খারাপ লোকের হাতে গেলে দেশের ধ্বংস অনিবার্য।”

     

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সায়েম খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান শেখর, লেখক ভট্টাচার্য, গোলাম রাব্বানিসহ বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা।

    ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। পরে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

  • দুঃখজনক হলেও সত্য বাম ভাইদের কোনো ভোট নেই: তথ্যমন্ত্রী

    দুঃখজনক হলেও সত্য বাম ভাইদের কোনো ভোট নেই: তথ্যমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৪ জানুয়ারি, ২০২৪: দুঃখজনক হলেও সত্য বাম ভাইদের কোনো ভোট নেই, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনে বলেন, “বমপস্থিদের অনেক বিষয় আমি সমর্থন করি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বাম ভাইদের কোনো ভোট নেই, তারা ভোটে মানুষের সমর্থন পায় না। ঢাকা শহরে তো কেউ কেউ মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ৩৭ লাখ ভোটের এই ঢাকা শহরে তাদের ভোটের সংখ্যা হাজারের অংশ পার হয়নি। তাদের ভোট নেই, তারা ভোট বর্জন করুক কিংবা না করুক; তার কোনো প্রভাব নেই।”

    তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বাম ভাইদের আমি খুব সম্মান করি। কারণ তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ও প্রগতিশীল শক্তি। আমার মধ্যেও কিছু বাম চিন্তা আছে। আমাদের দলেরও মূল স্তম্ভ সোশ্যালিজম। যে কারণে বামদের সম্মান করি।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

    ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার এবারও একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিপক্ষ ছাড়া নির্বাচন করতে যাচ্ছে, যা সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এ পর্যন্ত কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম।”

    তিনি আরও বলেন, “ভারতে স্থানীয় সরকার যে অন্যান্য যে নির্বাচনে যে মাত্রায় সহিংসতা হয়, সেগুলোর চেয়ে আমাদের দেশে এ পর্যন্ত যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা অনেক কম। নির্বাচনে কোন দল অংশগ্রহণ করবে, জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছে কি না; সেটা মুখ্য বিষয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও অনেক নামকরা দল অংশগ্রহণ করেনি, অনেক বিখ্যাত নেতা অংশ নেননি। সেই নির্বাচনে জনগণ ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছিল। সেই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। কাজেই ব্রাসেলসে বসে রিপোর্ট লেখা অনেক সহজ। কিন্তু দেশে একটু এসে দেখে যেতো, গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে যেতো, তাহলে দেখতে পেতেন, কী পরিমাণ উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।”

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আশা করি, রিপোর্টটি তারা পরে সংশোধন করবেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশে একটি ব্যাপক নির্বাচনী উৎসব তৈরি হয়েছে। সবাই আজ এই উৎসবে শামিল হয়েছেন। একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সার্কভুক্ত দেশগুলো, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছে। তারা এরই মধ্যে পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে”

    হাছান মাহমুদ বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচনে যেভাবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এসেছিল, ঠিক একইভাবে এবার বিদেশ থেকে পর্যবেক্ষকরা এসেছেন। নির্বাচন নিয়ে এই ব্যাপক-উৎসাহ উদ্দীপনা বলে দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক মহলও এটিকে গ্রহণ করেছে।”

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন প্রতিহত করতে বিএনপির ঘোষণা কার্যত জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। যে কারণে তারা এখন প্রতিহত করা থেকে সরে এসে নির্বাচন বর্জনের ডাক দিচ্ছে। অর্থাৎ বিএনপি পিছু হটেছে।”

  • শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা থাকবে

    শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা থাকবে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ৪ জানুয়ারি, ২০২৪: ৭ জানুয়ারি (রবিবার) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন । এই উপলক্ষে নির্বাচনের আগের দুদিন, অর্থাৎ আগামী ৫ জানুয়ারি শুক্রবার ও ৬ জানুয়ারি শনিবার সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংক খোলা থাকছে।

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গতকাল বুধবার (৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপসচিব আতিয়ার রহমানের সই করা চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে এ বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দশনায় বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের সুবিধার্থে দুদিন ব্যাংক খোলা থাকবে।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ব্যাংক খোলা রাখার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতপূর্বক সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য মহানগরীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তফসিলি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা আগামী শুক্র (৫ জানুয়ারি) ও শনি (৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটির দিন খোলা থাকবে।

    তবে যেসব কর্মকর্তা/কর্মচারীকে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা বা নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের উল্লিখিত ব্যাংকিং কাজে নিয়োজিত না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় নির্দেশনায়। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বুধবার ইসি উপসচিব আতিয়ার রহমানের সই করা চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বলা হয়, ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের আগের দুদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির উল্লিখিত দিনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা/কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভোটকেন্দ্র ও ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা তথা নির্বাচন-সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন ও আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন হবে।