হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশ দলে ছিলেননা নিয়মিত টেস্ট দলের অধিনায়ক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তাই অধিনায়কের দায়িত্ব পড়ে সহ অধিনায়ক লিটন দাসের উপর। আর সেই লিটনের নেতৃত্বে এসেছে আফগানিন্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৫৪৬ রানের রেকর্ড গড়া জয়।
মিরপুর টেস্টে শুরু থেকে শেষ অবধি এই ম্যাচে ছিল বাংলাদেশের একচেটিয়া দাপট। প্রথম ইনিংসের শেষদিকে দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘন্টায় ২০ রানে পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অবশ্য সেদিন দুই দলের মোট ১৬ উইকেট পড়েছিলো । দিনটিতে ছিলো বোলারদের দাপ। তাই সেই ব্যথা ভুলে গিয়ে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের একচেটিয়া দাপটে বাংলাদেশ চতুর্থ দিন প্রথম সেশনেই গুটিয়ে দিলো আফগানিস্তানকে।
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে আফগানিস্তানকে ৫৪৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৩৮২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ, আফগানিস্তান অলআউট হয় ১৪৬ রানে। পরে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪২৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। ৬৬২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১৫ রানের বেশি করতে পারেনি আফগানরা।
বাংলাদেশের এই জয়টি রেকর্ড গড়ার। ১৯২৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৭৫ রানে জেতে ইংল্যান্ড। ছয় বছর পর ইংল্যান্ডকে ৫৬২ রানে হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর রানের ব্যবধানে তৃতীয় সর্বোচ্চ বড় জয় এটি। বাংলাদেশেরও রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয়।
দুই উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান নিয়ে দিন শুরু করে আফগানিস্তান। বিশাল রান তাড়া করতে নামা দলটির হার ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। বাংলাদেশের বোলাররা কাজটুকু কত দ্রুত করতে পারেন অপেক্ষা ছিল সেটি দেখার।
চতুর্থ দিনে এসে প্রথম উইকেট এনে দেন এবাদত হোসেন। এই পেসারের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান নাসির জামিল। এর আগে ২২ বল খেলে ৬ রান করেন তিনি।
এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন বাহির শাহ। আফগানিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলা এই ব্যাটার একাদশে ছিলেন না। কিন্তু অধিনায়ক হাশমাতুল্লাহ শাহিদী আগের দিন তাসকিনের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। তার কনকাশন বদলি হিসেবে নামেন তিনি।
বাহিরের প্রথম টেস্ট ইনিংস অবশ্য স্মরণীয় হয়নি। শরিফুল ইসলামের বলে এক চারে ১৩ বলে ৭ রান করা এই ব্যাটারের দারুণ ক্যাচ নেন স্লিপে দাঁড়ানো তাইজুল ইসলাম। আফগানদের ইনিংস ধরে ছিলেন রহমত শাহ। তাকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। অফ স্টাম্পের বাইরের বল তার ব্যাট ছুঁয়ে লিটনের গ্লাভসে যায়। এর আগে ৭৩ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।
আফগানিস্তানের করিম জানাত ১৮ বলে ১৮ রান করে তাসকিনের বলে হয়ে যান বোল্ড। এর মাধ্যমে আফগানিস্তান দলের দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে ১১৫ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৮২
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ১৪৬
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৪২৫/৪ ইনিংস ঘোষণা
আফগানিস্তান ২য় ইনিংস: ১১৫ (আগের দিন ৪৫/২) (রহমত ৩০, শাহিদি ১৩ আহত অবসর, জামাল ৬, জাজাই ৬, বাহির ৭, জানাত ১৮, হামজা ৫, আহমাদজাই ১, মাসুদ ৪*, জাহির ৪ আহত আউট; শরিফুল ১০-১-২৮-৩, তাসকিন ৯-২-৩৭-৪, তাইজুল ৫-১-১৯-০, মিরাজ ২-০-৫-০, ইবাদত ৭-২-২২-১)
ফল: বাংলাদেশ ৫৪৬ রানে জয়ী
দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।










