হিন্দি ছবির জগতে সফলতার চার দশক পূর্ণ করলেন অনিল কাপুর

হিন্দি ছবির জগতে সফলতার চার দশক পূর্ণ করলেন অনিল কাপুর

হ্যালো বাংলা ডেস্ক: হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে সফলভাবে চার দশক পার করলেন অনিল কাপুর। বলিউডের মতো ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা ধরে রাখা খুব কঠিন। কিন্তু অনিল তা পেরেছেন। সফলও হয়েছেন। এই ক্ষনটিতে তার ভক্তদের সঙ্গে বিষয়টি এভাবে শেয়ার করে ইনস্টাগ্রামে অনিল লিখেছেন, ‘‘এক জন অভিনেতা হিসেবে দর্শকদের ভালবাসায় ৪০ বছর পূর্ণ করলাম।’’ এরই সঙ্গে অনিলের উপলব্ধি, ‘‘লোকে বলে ভালবেসে কোনও কাজ করলে সময় কী ভাবে কেটে যায় বোঝা যায় না। এই চার দশক চোখের নিমেষে কেটে গেল!’’

অনিল কাপুরের কণ্যা সোনম মাপুরও বর্তমান হিন্দি সিনেমা জগতের একসজ সফল অভিনেত্রী। উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু সুপারহিট ছবি। অনেকের কাছে আলোচিত হয়েছে তার অভিনয় দক্ষতা।

সত্তরের দশকে সুপারহিট ‘শক্তি’ ছাড়াও বেশ কিছু দক্ষিণী ছবিতে ক্যামিয়ো চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন পর্দার ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’। মূলত মিস্টার ইন্ডিয়া ছবির মাধ্যমে ব্যপক পরিচিতি পান অনিক কাপুর।  ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৮৭ সালের ২৫ মে। এর পর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়েও এখনও ছবিটির প্রতি দর্শকদের ভাল লাগা এতটুকু কমেনি। সায়েন্স ফিকশন মূলক কোনও রোমান্টিক কমার্সিয়াল ছবি এত সাফল্য পায়নি। কল্পবিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে একজন সাধারণ মানুষের সুপারহিরো হয়ে ওঠার গল্প এই ছবিটির মাধ্যমেই প্রথম দেখেছিল বলিউড। আর প্রথম দর্শনেই সেই সুপারহিরোর প্রেমে পড়ে যায় সর্ব স্তরের মানুষ। বিশেষ ভাবে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়স্ক এবং বৃদ্ধরা। সেই সময় ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সাড়া জাগানো বলিউড ফিল্ম। অনিল কপূররের বিপরিতে ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শ্রীদেবী। এই ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় মন জয় করে নিয়েছিল দর্শকদের।  ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে কালজয়ী হয়ে যায় ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’।

তবে নায়ক হিসেবে অনিলের প্রথম ছবি ছিল ‘ওহ সাত দিন’। ১৯৮৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি। দাদা বনি কপূর প্রযোজিত এই ছবিতে অনিলের বিপরীতে ছিলেন পদ্মিনী কোলাপুরে।

ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের ও সহঅভিনেতাদের ধন্যবাদের পাশাপাশি নতুন চমকের কথাও ঘোষণা করেছেন অনিল। ‘দ্য নাইট ম্যানেজার’ ওয়েব সিরিজ়ে অনিলের অভিনয় দর্শকদের পছন্দ হয়েছিল। খুব শীঘ্রই সেই সিরিজ় আসছে বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। পাশাপাশি রণবীর কপূর অভিনীত ‘অ্যানিমাল’ ছবিতেও একটি বিশেষ চরিত্রে তাঁকে দর্শক দেখতে পাবেন বলে জানিয়েছেন অনিল। অনিলের এই পোস্টে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বনি কপূর। তাঁর কথায়, ‘‘তুমি আমার ভাইদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। জীবনের প্রতিটা দায়িত্ব তুমি যথার্থ ভাবে পালন করেছ।’’ পাশাপাশি বনি উল্লেখ করেছেন যে প্রতিভা, পরিশ্রম এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠার জন্যই আজকে অনিল এই জায়গায় এসে পৌঁছেছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে চার দশক পূর্ণ করার জন্য হৃতিক রোশন, শিল্পা শেঠি, ফারহা খান-সহ আরও অনেকেই অনিলকে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

অনিল কাপুরের জন্ম ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে। তিনি অসংখ্য বলিউড সিনেমায় এবং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সিনেমায় তাকে অভিনয় করতে দেখা যায়। পাশাপাশি তিনি গান্ধী, মাই ফাদার চলচ্চিত্র প্রযোজনার মাধ্যেম তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা শুরু করেন।

অনিল কাপুরের বলিউড চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে উমেশ মেহরার হামারে তুম্‌হারে (১৯৭৯) সিনেমায় একটি ছোট্ট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। তিনি বলিউডে স্বীকৃতি পান যশ চোপরার ড্রামা সিনেমা মশাল (১৯৮৪) এ টাপুরী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে, যার জন্য তিনি সেরা সহ-অভিনেতার বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জয় করেন। তার প্রসংশিত সিনেমা মেরি জাং (১৯৮৫), অনিল কাপুর একটি হাস্যরসাত্মক টাপুরী চরিত্রে অভিনয় করেন কার্মা ছবিতে। এছাড়া ১৯৮৬ সালে, তিনি জাংবাজ, ইনসাফ কি আওয়াজ একই বছর চামেলী কি শাদী সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন।

১৯৮৮ সালে, অনিল কাপুর সর্বপ্রথম ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতা পুরস্কার অর্জন করেন তেজাব সিনেমায় অভিনয়ের জন্যে। তার অসফল সিনেমা রাম-অবতার এ অভনিয় করে প্রমাণ করেন। অসফল সিনেমাতেও দর্শকদের সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। এরপরের বছর, তিনি রাম লক্ষ্মণ সিনেমায় অভিনয় করেন। যা ১৯৮৯ সালের বক্স অফিসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি আবার সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেন ব্যথা (১৯৯২) সিনেমায় অভিনয়ের জন্যে। এছাড়া তিনি সমালোচক প্রসংশিত এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল বহু সিনেমায় অভিনয় করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ ও সাত দিন (১৯৮৩), মেরি জাং (১৯৮৫), জাংবাজ (১৯৮৬), কার্মা (১৯৮৬), ভিরাসাত (১৯৯৭) এই সিনেমার জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন, বিবি নাম্বার ওয়ান (১৯৯৯), তাল (১৯৯৯) এই সিনেমার জন্য তিনি তার দ্বিতীয় ফিল্মফেয়ার সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন, পুকার (২০০০) এই সিনেমার জন্য তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেন, নো এন্ট্রি (২০০৫) এই সিনেমার জন্যেও তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেন, ওয়েলকাম (২০০৭), রেস এবং রেস ২ (২০১৩)।

অনিল কাপুরের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের প্রথম অভিনয় করেন, ড্যানি বয়েলে ২০০৮ একাডেমী পুরস্কার জয়ী সিনেমা স্লামডগ মিলিয়নীরে। এই সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্যে তিনি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং পাফরমেন্স বাই এ কাস্ট ইন এ মোশন পিকচার অর্জন করেন।

একশন টেলিভিশন সিরিজ টুয়েন্টি ফোর এর অষ্টম অধিবেশনে তার কাজ আমেরিকান সংবাদপত্রে প্রশংসা অর্জন করে। সারা বিশ্বব্যপী, অনিল কাপুর সর্বজন স্বীকৃত ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে একজন।

অভিনেতা ৬৪ বছর বয়সেও সফলতার সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছেন। কখন কোন বিরোধ বা সামালোচনার সঙ্গে জাড়াতে দেখা জায়নি। তবে তিনি ফিল্ম জগেতের বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের অনেকেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত। তবে অনিল কাপুরের সফলতার গল্প সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেননা তিনি তার ক্যারিয়ারে কখনো ব্যর্থতার মুখ দেখনি। ইন্ডাস্ট্রির সকলের কাছেই তিনি একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এটাই একজন অভিনেতার জন্য অনেক বড় পাওয়া। অভিনয় থেকে কবে অবসর নিবেন তা তিনি নিজেও বলতে পারছেননা। তবে ভক্তরা যতদিন চাইবে তিনি ততদিন অভিনয় করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

পূর্ববর্তী চিংড়ি বিরিয়ানী
পরবর্তী কালোজিরাঃ প্রাকৃতিক মহৌষধ