থাইল্যান্ডে রবিবারের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে সেনা সমর্থিত দলগুলোকে পেছনে ফেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিরোধীদল প্রগ্রেসিভ মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি (এমএফপি) এবং ফেউ থাই পার্টি। থাইল্যান্ডের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সয়লাব হয়ে গেছে মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির সমর্থকদের বিজয়বার্তায়। তারা দলের বিজয়কে ‘পরিবর্তনের বাতাস’ ও ‘নতুন যুগের ঊষালগ্ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, সামরিক সমর্থিত দলগুলোর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে তারা। এমন ফলাফলকে বড় জয় বলে বর্ণনা করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
বিবিসির সোমবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে সব পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০ আসনের মধ্যে ১৫১টিতে জিতেছে সংস্কারপন্থি মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি।
এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে দেশটির সেনা সমর্থিত সরকারের অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রগ্রেসিভ মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি পেয়েছে ১৫১টি আসন। অন্যদিকে ১৪১ আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ফেউ থাই। এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ৫০০ আসনের মধ্যে ২৮৬টিতেই জয় পেতে পারে এই দুই দল।
ফেউ থাইয়ের নেতা পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা মুভ ফরোয়ার্ডকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমরা মুভ ফরোয়ার্ডের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা বিশ্বাস করি থাইল্যান্ডে ভালো কিছু সম্ভব। আজ থেকেই পরিবর্তন হতে পারে, যদি আমরা শুরু করি। যদি আপনাদের দ্বিমত না থাকে।
মুভ ফরোয়ার্ড ও ফেউ থাই জোট গঠনের জন্য শিগগিরই আলোচনা শুরু করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এবারে থাইল্যান্ডের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবারও ক্ষমতায় আসার জোর চেষ্টায় আছেন সেনা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচাও। ৬৯ বছরের এই সাবেক সেনাপ্রধান ২০১৪ সালে দেশটিতে সর্বশেষ অভ্যুত্থান ঘটান। সে সময় থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রার কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তবে এবার সুবিধাজনক অবস্থানে নেই তার দল।
সূত্র: সিএনএন










