থাইল্যান্ডে রবিবার (১৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ফলাফল প্রত্যাশিত হবে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ পর্ব। প্রাথমিক জরিপ বলছে, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা আছেন শক্ত অবস্থানে।
নির্বাচনে এবার অংশগ্রহণ করেছে প্রায় ৭০টি দল। তাদের মধ্যে এগিয়ে আছে ফেউ থাই দল; যার নেতৃত্বে আছেন ৩৬ বছরের পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। নিজের ভোট দেওয়ার পর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করে পেতংতার্ন বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়’।
অন্যদিকে আবারও ক্ষমতায় আসার জোর চেষ্টায় আছেন সেনা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচাও। ৬৯ বছরের এই সাবেক সেনাপ্রধান ২০১৪ সালে দেশটিতে সর্বশেষ অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন। সে সময় থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রার কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে বিবিসি জানায়, এবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০ সদস্যকে নির্বাচিত করতে ভোট দিচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি নিবন্ধিত ভোটার। এ ছাড়া প্রায় ২০ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন।
সেনা সমর্থিত সরকারকে রুখতে অবশ্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্যান্য দল। ওচা’র ইউনাইটেড থাই নেশনের চেয়ে এগিয়ে আছে ফেউ থাই ও মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি। মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৪২ বছরের সাবেক প্রযুক্তি নির্বাহী পিটা লিমজারোনরাত।
৬২ বছরের ভোটার ওনেসুয়াত চক্রবুন্ধু বলেন, ‘নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছি। কেননা আমি চাই, কোনও যুদ্ধ ছাড়াই দেশ সামনে এগিয়ে যাক।’
জরিপে ফেউ থাই দল এগিয়ে থাকলেও আদতে ক্ষমতায় আসতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান দেশটির নাগরিকরা। ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানের পর সংবিধানের পরিবর্তনের কারনে তৈরি হয়েছে এমন শঙ্কা।
নতুন নিয়ম অনুসারে কারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে সিনেট সদস্যদের ভোটে সরকার গঠন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, সিনেটের প্রায় সব সদস্যই সেনা সমর্থিত দল থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাই স্বভাবতই তাদের ভোট যাবে প্রায়ুথ চান ওচার পক্ষে।
সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি










