Category: রাজনীতি

  • বিএনপি জোটের আকার এমিবার মতো ছোট-বড় হয় : তথ্যমন্ত্রী

    বিএনপি জোটের আকার এমিবার মতো ছোট-বড় হয় : তথ্যমন্ত্রী

    ‘বিএনপি জোটের আকার এমিবার মতো ছোট-বড় হয় বলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব’ বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদসহ কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    বিএনপি জোটের সবাইকে নিয়ে ঘোষণাপত্র দেওয়ার চেষ্টা কেন সফল নয়, এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমিবার আকার যেমন মাঝে মধ্যে বড় হয় আবার ছোট হয়, বিএনপির জোটও হচ্ছে সে রকম। এমিবা যেমন নিজে ভাগ করে দু’টা হয়, আবার চারটা হয়, বিএনপির জোটও ঠিক সে রকম। দেখা গেলো, ২২ দলীয় জোট ছিলো, হলো ১২ দলীয় জোট আবার ক’দিন পরে শুনি তারা ৫৪ দলীয় জোট। এ জন্য তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে ডান-বাম, অতিডান-অতিবাম সবাই আছে। সবাইকে একত্রিত করে ঘোষণাপত্র দেওয়া তো কঠিন কাজ। বিএনপির মধ্যে আবার কয়েকটি ভাগ, চেয়ারপারসনের ধারা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের ধারা, মির্জা ফখরুল সাহেবের ধারা, সংস্কারপন্থীদের ধারা -সব ধারাকে এক করা সেটিও কঠিন কাজ।’

    এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই আইন দেশের সব মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে। আর আমাদের এ আইন আমেরিকার আইনের চেয়ে অনেক সহজ। আমেরিকায় ডিজিটাল অপরাধের জন্য ২০১৫ সালের আইনটি ২০২২ সালে সংশোধন করা হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে ২০ বছরের কারাদন্ড। আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এতো কারাদন্ড নাই। আমেরিকার আইনে ডিজিটাল অপরাধের প্রেক্ষিতে যদি কারো মৃত্যু হয় সেক্ষেত্রে শাস্তি হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড।’

    ইউরোপীয় ইউনিয়নও ২০২২ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তার নতুন আইন করেছে এবং প্রায় সব দেশেই এই আইন আছে উল্লেখ করে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, কন্টিনেন্টাল ইউরোপের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও আমাদের চেয়ে কঠিন। সুতরাং এই আইন বাতিল করার প্রশ্নই আসে না। তবে এতে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সাংবাদিকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে অবশ্যই নজর দেওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে আরো কি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটি আইন মন্ত্রণালয় দেখছে, আমরা তাদের সাথে কাজ করছি।’

    এর আগে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের লেখনীর ফলেই রাষ্ট্র এবং সমাজের পক্ষে অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হয়। অপরাধীরা অনেককেই হুমকি দেয়, এটি সমীচীন হয়। সাংবাদিকরা সাহস নিয়ে কাজ করলে আমি মনে করি সমাজ উপকৃত হবে, রাষ্ট্র উপকৃত হবে।’

    তবে সবসময় খেয়াল রাখাতে হবে, রিপোর্টিং করতে গিয়ে যেন কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেখা যায়, অনেক সময় রিপোর্ট হয়, আসলে লোকটা সেই ক্ষেত্রে অপরাধী নয়। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ক্রাইম রিপোর্টারদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে।’

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং আপনারা যাতে কোনোভাবে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন সেটি অবশ্যই এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমি খেয়াল রাখি এবং সাধ্যমত সহায়তা দিতে চেষ্টা করি।’

    ক্র্যাব সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সভায় তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন। কার্যনির্বাহী পরিষদের অপর নেতৃবৃন্দের মধ্যে সহসভাপতি মিজানুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক রুদ্র মিজান, অর্থ সম্পাদক মো: এমদাদুল হক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক বকুল আহমেদ, দফতর সম্পাদক কামাল হোসেন তালুকদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এস এম ফয়েজ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো: আবু জাফর, প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক ইসমাঈল হুসাইন ইমু, কল্যাণ সম্পাদক ওয়াসিম সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো: তানভীর হাসান, কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন, জসীম উদ্দীন ও এনামুল কবীর রূপম সভায় অংশ নেন।

  • বিএনপি দলটাই জনগণের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

    বিএনপি দলটাই জনগণের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের নিজেদের ওপরই আস্থা নেই। ক্রমাগতভাবে নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলে এক সময় বিএনপি দলটাই জনগণের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে।’

    তিনি বলেন, ‘আস্থা নেই বলেই বিএনপি জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে, সেটা তারা জানে। যার কারণে বিএনপিকে নির্বাচনভীতি পেয়ে বসেছে। সেজন্য ছাপানো ব্যালটেও ‘না’ এবং ইভিএমেও ‘না’ বলছেন তারা। ক্রমাগতভাবে নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলে এক সময় পুরো বিএনপি দলটাই জনগণের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে।’

    বুধবার বিকালে চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের নগরীর এমএম আলী রোডের ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু ষড়যন্ত্রের পথেই হাঁটছে, আর পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে।  দেশ-বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে।  আর বিদেশিদের হাতে পায়ে ধরে দেশে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যায় কিনা সেই চেষ্টায় তারা সর্বদা লিপ্ত আছে। তবে এগুলো করে কোনো লাভ হবে না।’

    এর আগে তথ্যমন্ত্রী ইউনিভার্সিটির বিশেষ সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলসের চেয়ারম্যান প্রফেসর এন্ড্রে সেনকেন কে সম্মানসুচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

    বিএনপি এতদিন ইভিএমে ভোটে যাবে না বলার পর নির্বাচন কমিশন এখন প্রিন্ট ব্যালটে ভোট গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন, সেটাতেও তাদের আগ্রহ নেই বলেছেন মির্জা ফখরুল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি শুধু ষড়যন্ত্রের পথেই হাঁটছে, আর পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। দেশ-বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর বিদেশিদের হাতে পায়ে ধরে দেশে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যায় কিনা সেই চেষ্টায় তারা সর্বদা লিপ্ত আছে। তবে এগুলো করে কোনো লাভ হবে না।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা যদি একটু খতিয়ে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন, বিএনপি ২০০৮ সালের নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে অংশগ্রহণ করে মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল। ২০১৪ সালে নির্বাচন থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ডান-বাম, অতিডান-অতিবাম এবং তালেবানসহ সবাইকে নিয়ে ঐক্য করেছিল। ঐক্য করে তারা আসন পেয়েছিল মাত্র ছয়টি। পরে মহিলা আসনসহ হলো মোট সাতটি। সেজন্য তারা জানে এই নির্বাচনেও তাদের কোনো সম্ভাবনা নাই। সেজন্যই নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর বিএনপি ও তাদের মিত্রদের কোনো আস্থা নাই।

  • আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে : জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে তথ্যমন্ত্রী

    আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে : জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘ আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের দারিদ্র্য হার মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বেশি থেকে এখন ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বে আমরা ৩৫তম জিডিপির দেশ আর পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি বা পিপিপিতে আমাদের অর্থনীতি হচ্ছে ৩১তম। এখন জিডিপির আকারে মালয়েশিয়ার চেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ আমরা এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের দেশ ২৭তম অর্থনীতির দেশ হবে।’

    ৩ এপ্রিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) জহির রায়হান কালার ল্যাব মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তৃতায় মন্ত্রী দেশের অগ্রযাত্রা বর্ণনায় এ কথা বলেন। এর আগে বিএফডিসি চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে তথ্যমন্ত্রী দিবসটির সূচনা করেন তিনি। এর পরপরই চলচ্চিত্র অঙ্গণের শিল্পী-কুশলীদের সাথে মন্ত্রী র‌্যালিতে অংশ নেন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। চলচ্চিত্র তারকা রোজিনা, অঞ্জনা, পরিচালক কাজী হায়াৎ, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, শিল্পী-কলাকুশলী ও কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে যোগ দেন।

    চলচ্চিত্রের কথা উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দিন দিন আমরা উন্নতি লাভ করছি। বস্তুগত বা অবকাঠামোগত উন্নতির পাশাপাশি মানুষের আত্মিক উন্নতিও প্রয়োজন আর আত্মিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে চলচ্চিত্র। এমন সব সিনেমা বানানো হোক তা যেন মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখতে পারে এবং তা বিনোদনের পাশাপাশি দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখে, মানুষের তৃতীয় নয়ন খুলে দিতে পারে। তাহলে সেই সব সিনেমা বিনোদনের পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে, রাষ্ট্রকে জাগ্রত করতে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

    দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৫৭ সালের এই দিনে তৎকালীন তরুণ নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদে চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল উত্থাপন করেছিলেন। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, সংস্কৃতির সমস্ত শাখার সন্নিবেশে যা সৃষ্টি হয়, সেটি হলো চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রে গান থাকে, নৃত্য থাকে, চলচ্চিত্র সমস্ত শাখার সন্নিবেশ ঘটায়। জাতির পিতা এ সকল কিছু তখনই অনুধাবন করেছিলেন বলেই বিলটি উত্থাপন করেছিলেন।’

    বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এ জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সিনেমা হল নির্মাণ এবং পুরনো হল সংস্কারের জন্য সহজ শর্তে ১ হাজার কোটি টাকার এক বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই দরখাস্ত করেছেন। ইতিমধ্যেই অনেকে সিনেপ্লেক্স চালু করেছে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলও চালু হয়েছে। দু’বছর করোনা মহামারির বেড়াজালে আবদ্ধ না থাকলে আরো সিনেমা হল চালু হতো।

    হাছান মাহমুদ জানান, ‘চলচ্চিত্রে অনুদানের পরিমাণ ও সংখ্যা দুইই বেড়েছে। এফডিসিতে নতুন দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ চলছে, সেখানে চারটি শুটিং স্পট থাকবে এবং একজন নির্মাতা সেখান থেকে একটা সিনেমা বানিয়ে মুক্তি দিতে পারবে। এছাড়াও চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নেওয়ায় ১শ’ একর জায়গায় চলচ্চিত্র নির্মাণের সকল সুবিধা সৃজন করা হচ্ছে।

    এ সময় নির্বাচন কমিশন থেকে সদ্য পাওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবাদিকরা মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান বলেন, ‘আমরা দেশকে ডিজিটাল করতে পেরেছি। বহু নাগরিক সেবা ও সুবিধা এখন ডিজিটাল। তবে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। কী পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের আছে। আমি এই মাত্র আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম তারা ঘোষণা করেছে যে, ৩০০ আসনেই প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। এ নিয়ে আমাদের দল দলীয়ভাবে আলাপ আলোচনা করে জানাবে। তবে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং স্বাধীনভাবেই যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

    মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ইভিএম কেনা আর মেরামতের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে যে বাজেট চাওয়া হয়েছে সেটি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। আজকের পরিস্থিতিতে এই এক বিলিয়ন ডলার খরচ করার যৌক্তিকতা আছে কি না সে নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছে।’

    বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, পরিচালক মতিন রহমান এবং প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।

  • জয় বাংলা স্লোাগান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: কৃষিমন্ত্রী

    জয় বাংলা স্লোাগান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন,’জয় বাংলা স্লোাগান হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহিঃপ্রকাশ ও বাঙালি জাতির সাহস-সক্ষমতার প্রতীক। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতান্ত্রিক চেতনা ও সম্পদের সুষম বণ্টনের চেতনার বহিঃপ্রকাশ হলো জয় বাংলা স্লোগান। এই স্লোগান বিএনপি দেবে না।’

    আজ রবিবার সকালে জেলার মধুপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এবি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ‘জয় বাংলা’ উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনে লড়াইয়ের জন্য বাংলাদেশের মানুষের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান মুখেও আনে না।’

    আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত দেশের স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করতে নানান ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এই দেশটাকে স্বাধীন করেছি।’

    তিনি আরো বলেন,’বিগত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে’ জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দেশ থেকে মঙ্গাকে দূর করেছে। মানুষ এখন পেট ভরে ভাত খেতে পায়। একই সঙ্গে, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ফলমূলসহ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের মাথাপিছু প্রাপ্যতা ও গ্রহণের হার অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে এবারের স্বাধীনতা দিবসে মাছ, মাংস আর চালের স্বাধীনতা নিয়ে অপপ্রচারমূলক সংবাদ প্রচার করে স্বাধীনতার চেতনায় ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতাবিরোধী চেতনাকে উসকে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল সংবাদ পরিবেশন ও মিথ্যাচার করে দেশে অরাজকতা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে।’

    কৃষিঋণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষিখাতে মাত্র চার শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো নানান কঠিন শর্ত দিয়ে রেখেছে। অনেক সময়ই এসব শর্ত কৃষকেরা বিশেষ করে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকেরা পূরণ করতে পারে না। এতে  অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেজন্য, প্রকৃত কৃষককে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে।’

    কৃষিঋণের যথাযথ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে কৃষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘ঋণ নিয়ে কৃষিকাজে উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগাতে হবে।’

    এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজালের সভাপতিত্বে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশীদ হীরা, পৌরমেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর ফারুক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম তপন প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সূত্র : বাসস।

  • মানুষ প্রতিবাদ করছে কিন্তু সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ক্ষমা চায়নি, অপপ্রচার চালাচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

    মানুষ প্রতিবাদ করছে কিন্তু সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ক্ষমা চায়নি, অপপ্রচার চালাচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আজকে সমগ্র দেশের মানুষ প্রথম আলো’র ঘটনার ব্যাপারে মুখ খুলেছে, প্রতিবাদ করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ক্ষমা চায়নি। বরং এটার বিরুদ্ধে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

    ‘এই অপপ্রচারও একটি অপরাধ’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ে দেশে প্রতিদিন পত্রিকা, টিভি, অনলাইনে রিপোর্ট হয়েছে এবং হচ্ছে। মামলা তো দূরে থাক, কাউকে এ নিয়ে প্রশ্নও করা হয়নি। তাই শামসুজ্জামানকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে লেখার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এটিও একটি অপরাধ। এটার জন্য আবার কেউ মামলা করে কি না সেটিও দেখার বিষয়।’

    রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের (বিএসপি) নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, সারাদেশে এ নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। ফেডারেল ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিক, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরাম, সংবাদপত্র পরিষদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাসহ অনেকেই বিবৃতি দিয়েছে।

    অভিযুক্ত শামসুজ্জামানকে ভোররাতে গ্রেপ্তার নিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাত ৪ টায় অনেক সংসদ সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়। দেশে কয়েক দফা মন্ত্রী ছিলেন এবং বড় রাজনীতিবিদ তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা সবাই জেলে গেছি বেশির ভাগকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কই তখন তো কোনো প্রশ্ন আসেনি।’

    সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘সুতরাং রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, এমপি যারা ছিলেন তাদেরসহ সবাইকে রাতে গ্রেপ্তার করা যাবে কিন্তু একজন সাংবাদিক যদি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে কটাক্ষ করে, একজন শিশুকে এক্সপ্লয়েট করে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব খাটো করে, তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না এমন আইন তো নাই। মামলা দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখানে দেখতে হবে, তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়েছে কি না। নির্যাতনের কোনো অভিযোগ তো আসে নাই।’

    হাছান বলেন, ‘আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সবসময় চেষ্টা করি এবং যখনই কোনো সাংবাদিক হয়রানির স্বীকার হয় তখন সবার আগে হস্তক্ষেপ করি। আমাদের মনে রাখতে হবে, সবার ওপরে আমরা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে স্থান দেই এবং সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যেন এমন কোনো কাজ না করি যাতে করে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থী, দেশবিরোধী কোনো কিছু হয়।’

    বিএসপি সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ‘প্রথম আলো বিভিন্ন সময় নেগেটিভ সংবাদগুলো সবচেয়ে আগে প্রকাশ করে। আমার বক্তব্য হলো, প্রকাশ করতে পারেন কিন্তু এর একটা যৌক্তিকতা থাকতে হবে। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা সংবাদপত্রের নীতিমালা নয়। নিশ্চয়ই আমরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চাই, অধিকার চাই। কিন্তু এর একটা সীমা আছে। সাংবাদিকতায় এই জিনিসটা বারবার ভেবে দেখা প্রয়োজন রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা বিগত দিনে অনেক দেখেছি রানা প্লাজা ধসে পড়ার দিনেও তারা প্রোগ্রাম করেছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে। অথচ সে দিন এতোগুলো মানুষ মারা গেছে, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাব ফেলেছে। রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলেও তারা একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে গিয়ে সেখানে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এগুলো দুর্ভাগ্যজনক।’

    বিএসপি’র সাধারণ সম্পাদক এম জি কিবরিয়া চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতাকে যারা মানে না, তারা দেশকেও মানে না। কেউ বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করবেন আর দেশকে মানবেন না, এটা হয় না।’

    সাড়ে তিনশ’র বেশি পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদকদের এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ মনে করে, সাংবাদিকতা নীতিমালা মেনেই সংবাদপত্র প্রকাশ করতে হবে, ছাপাতে হবে। যারা এ ধরণের লেখনী লিখছেন, এটা অনভিপ্রেত, অযাচিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

    এ সময় দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে সারাবিশ্বে প্রশংসা হচ্ছে উল্লেখ করে হাছান বলেন, ‘মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলিয়া ভালস বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন। আজকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সেটি ছাপা হয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ‘রমজানেও বিএনপি মানুষকে নিস্তার দিচ্ছে না’

    বিএনপির চলমান কর্মসূচি প্রশ্নে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা কখনো শুনি নাই, দেখিও নাই যে পবিত্র রমজানের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে রাস্তায় বেরিকেড তৈরি করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ করে।’

    ‘রমজানেও বিএনপি মানুষকে নিস্তার দিচ্ছে না এবং বিএনপির কর্মসূচি নি:সন্দেহে রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করছে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা ইসলামের কথা বলে অথচ রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করে তারা কর্মসূচি পালন করছে, যেটি অনভিপ্রেত, দুঃখজনক এবং তাদের সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলো তাদের অপরাজনীতির বহি:প্রকাশ। তাদের ২০১৩-১৪-১৫ সালে পেট্রোলবোমা তান্ডব দমনকারী আওয়ামী লীগ জানে কখন কর‍তে হয়।

    “তথ্যমন্ত্রীর হাতে প্রণব মুখার্জির জীবনীগ্রন্থ’

    সভা শেষে প্রেসক্লাব অভ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট গৌতম লাহিড়ীর পাঠানো তার সদ্যপ্রকাশিত ‘প্রণব মূখার্জি : রাজনীতির ভেতর ও বাহির’ গ্রন্থটি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন তরুণ সাংবাদিক জাকওয়ান হুসাইন।

    বিএসপি সদস্য রফিক উল্লাহ সিকদার, কামরুজ্জামান জিয়া, শেখ মঞ্জুর বারী মঞ্জু, ফরিদ আহম্মদ বাঙ্গালী, অশোক ধর, মো: জাহিদুর রহমান, টিএম শওকত আলী, মোর্শেদ মজুমদার, মো: আনোয়ার হোসেন আকাশ, নূরুন নাহার, মো: মফিজুর রহমান খান বাবু, মোহাম্মদ আরফিন, সোহানা তাহমিনা, কাজী আনোয়ার কামাল, মো: জসিম উদ্দিন প্রমুখ সভায় যোগ দেন।

  • দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা আরেকটি পঁচাত্তর সৃষ্টি করতে চায় : কাদের

    দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা আরেকটি পঁচাত্তর সৃষ্টি করতে চায় : কাদের

    আরেকটি পঁচাত্তর সৃষ্টি করতে চায় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা, বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    শনিবার (১ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দলটির সভাপতি-সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন নিয়ে তামাশা করা ফৌজদারি অপরাধ।

    তিনি বলেন, প্রথম আলো আর বিএনপি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, টার্গেট হলো সরকার।

  • দেশের গণমাধ্যম স্বাধীন আছে কিন্তু অপসাংবাদিকতা কেউ সমর্থন করে না: তথ্যমন্ত্রী

    দেশের গণমাধ্যম স্বাধীন আছে কিন্তু অপসাংবাদিকতা কেউ সমর্থন করে না: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশের গণমাধ্যম স্বাধীন আছে কিন্তু অপসাংবাদিকতা কেউ সমর্থন করে না।

    সাংবাদিকদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করবে না বলার পর কিছু বড় পত্রিকায় ব্যানার হেডিং দিয়েছিল ‘পদ্মা সেতু আর হচ্ছে না’। কিন্তু বাংলাদেশে পদ্মা সেতু হয়েছে নিজেদের টাকায়। সে জন্য দেশের এ সব বিষয়ে সাংবাদিক বন্ধুদের সতর্ক থাকতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, মানুষকে সঠিক তথ্য পেতে এবং সঠিক চিন্তা করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে এবং একইসাথে মানুষকে বিশ্বপরিস্থিতিও জানাতে সহায়তা করে।’

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে এবং তা অব্যাহত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। স্বাধীনতার নামে যদি আমরা কেউ অপসাংবাদিকতা করি তাহলে দেশের আপামর জনগণ এবং সাংবাদিক সমাজ নিশ্চয় সেটিকে সমর্থন করে না। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে, সাংবাদিকতার নামে রাজনীতি করা- সেটি যে সমীচীন নয় সে বিষয়েও নিশ্চয়ই আপনারা আমার সাথে একমত হবেন।’

    এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সফর আলী উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

     

  • বাসন্তীর জালের মতো শিশুর নামে অসত্য লিখে স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করা কি অপরাধ নয় : তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

    বাসন্তীর জালের মতো শিশুর নামে অসত্য লিখে স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করা কি অপরাধ নয় : তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

    ‘বাসন্তীকে জাল পরিয়ে বানোয়াট সংবাদ পরিবেশনের মতো একটি শিশুকে ১০ টাকা দিয়ে তার নাম ব্যবহার করে অসত্য লিখে স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করা কি অপরাধ নয়’ প্রশ্ন রেখেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের

    বহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) প্রকাশিত ‘সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনে বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। স্বাধীনতা দিবসে দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন ও ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্ট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ প্রশ্ন রাখেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক আহমেদ, পিআইবি’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, গ্রন্থকার ও গবেষক পপি দেবী থাপা প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    সাংবাদিকরা এ সময় ‘২০১৩ সালে রানা প্নাজা ধসে হাজার হাজার মানুষ যে দিন নিহত হয়, সে দিন সন্ধ্যায় প্রথম আলো-মেরিল পুরস্কারে নাচ-গান করা, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে প্রথম আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ছাত্রকে নিকটবর্তী উন্নত হাসপাতালে ভর্তি না করে দূরের এক হাসপাতালে ভর্তি করা ও তার মৃত্যু ঘটা এবং এখন স্বাধীনতা দিবসে শিশুর নাম দিয়ে মিথ্যা লিখে স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করা -এ সবের কি বিচার’ এ প্রশ্ন করে। জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন- স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতাকে এভাবে কটাক্ষ করে যে সংবাদ প্রচার করা এবং একটা শিশুকে ১০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে যেটি বলানোর চেষ্টা করা সে না বললেও সেটিকে ছাপানো -এটি কি সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থি নয়? সে জন্যই এটার প্রচন্ড সমালোচনা হয়েছে, এটি ঠিক নয় বিধায় আপলোড হওয়ার পরে সেটি তারা সরিয়েও ফেলেছিলো। কিন্তু সেটির ‘স্ক্রিনশট’ তো বিভিন্ন জায়গায় ছিলো, অনেকে শেয়ার করেছে, সেগুলো রয়েও গেছে। সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়িয়েছে, ঘুরছে। এতদপ্রেক্ষিতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা মামলা করেছে, মামলার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে এবং আইনের গতিতে আইন চলবে।’

    সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার আগে বাসন্তীর গায়ে জাল পরিয়ে ছবি তুলে সেটি প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন জালের দাম কিন্তু কাপড়ের দামের চেয়ে বেশি ছিলো, এখনো জালের অনেক দাম। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে বাসন্তীর গায়ে জাল পরিয়ে ছবি তুলে প্রকাশ করা হয়েছিল। অনেকে বলছে, ২৬ মার্চে প্রথম আলোর এ ঘটনাটি বাসন্তীকে জাল পরানোর মতোই। রাষ্ট্র, সমাজ, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এ ধরণের অসত্য  পরিবেশন সর্বমহলের মতে একটি অপরাধ, ডিজিটাল অপরাধ।’

    অপরাধ আর সাংবাদিকতা এক জিনিস নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘কোনো সাংবাদিক যদি অপরাধ করে তার কি শাস্তি হবে না? কেউ যদি অপসাংবাদিকতা করে, স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করে এবং একটি ছেলের হাতে ১০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে তার নামে অসত্য লেখে, চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন করে, সেটার কি বিচার হবে না? আমরা কি কেউ বিচারের উর্ধ্বে, আইনের উর্ধ্বে? তা তো নয়।’

    এ বিষয় বিএনপি’র বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো কিছু পেলেই বিএনপি’র বিবৃতি দেওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া সেটি অন্য কিছু নয়। বাংলাদেশে মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা সেটি অনেক উন্নয়নশীল দেশে নাই। আপনারা যদি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কথা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে সমগ্র দেশের সব মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য, সাংবাদিকদেরও ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে অনেক সাংবাদিকও মামলা করেছে। ক’দিন আগে একজন নারী সাংবাদিক বিদেশ থেকে চরিত্র হননের দায়ে আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।’

    বিশ্বের দেশে দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের উদাহরণ দিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘এ ধরনের আইন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়েছে। যুক্তরাজ্যে সাইবার সিকিউরিটি ল’জ এন্ড রেগুলেশন ২০২২, যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার ল’ এন্ড পানিশমেন্ট এবং এ ধরণের আইন বিশ্বের বহু দেশে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরণের অপরাধের শাস্তি হচ্ছে ২০ বছর কারাদন্ড। এবং ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর কারণে যদি কারো মৃত্যু হয় তবে সেই ডিজিটাল অপরাধের শাস্তি হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আমাদের দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য অনেক দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনেক বেশি কঠিন।’

    সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনায় অবশ্যই মিথ্যা বলে রাষ্ট্রের ভিত্তিমূলে আঘাত হানা হয়েছে, স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধ যেটি আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক, সেখানে একটা ছেলেকে ১০ টাকা দিয়ে ফুসলিয়ে তাকে দিয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং সে যেটি বলেনি সেটা প্রচার করা হয়েছে। এটি ঠিক হয়নি বলেই তারা সরিয়েছে। সুতরাং অবশ্যই এখানে রাষ্ট্রের ওপর আঘাত হানা হয়েছে।’

    এর আগে ‘সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনে বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনকালে বঙ্গবন্ধুর কর্ম, বঙ্গবন্ধুর আন্দোলনকে সমর্থন করে ১৯৭১ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের সংকলন প্রকাশ করার জন্য পিআইবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, আশা করি এই সংকলনের মাধ্যমে সবাই বঙ্গবন্ধুর অজানা আরো অনেক তথ্য জানতে পারবে। এই সংকলন প্রকাশিত না হলে এই কথাগুলো হারিয়ে যেতো। স্বাধীনতার পূর্বেও বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা, স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনকে সমর্থন করে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ বিজ্ঞাপনের সংকলন একটি অসাধারণ প্রকাশনা।’

  • বাংলাদেশ – ভারতের বন্ধুত্বের সম্পর্ক  দীর্ঘদিনের: আমির হোসেন আমু

    বাংলাদেশ – ভারতের বন্ধুত্বের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের: আমির হোসেন আমু

    বুধবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় যাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে  স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বাংলাদেশ – ভারতের বন্ধুত্বের সম্পর্ক  দীর্ঘদিনের। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার, তাদের জনগন ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা কোনদিন ভোলার নয়। এই সম্পর্ক চিরকাল অটুট থাকবে।

    এই কুচক্রি মহলের ষড়যন্ত্র রুখতে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু।

    আমির হোসেন আমু বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার জন্য আজ স্বাধীনতার ঘোষকের তালিকায় অনেকের নাম বলা হয়। শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয় স্বাধীনতা বিরোধীদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে বিতর্কিত করে স্বাধীন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়া।

    দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন  আমির হোসেন আমু।

    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, দুই দেশের বন্ধন বহুকালের। ১৯৭১ সালে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরো দৃঢ়তা ও অটুট হয়েছে। বাংলাদেশের পাশে সবসময় থাকবে ভারত।

    বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি, সাবেক সচিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু,ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বেনজির আহমেদ, বাসন্তী চাকমা এমপি, বিএফউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও বাংলাদেশ – ভারত মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি।

  • এক-এগারোর কুশীলবরা ও বিএনপি একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র করছে : তথ্যমন্ত্রী

    এক-এগারোর কুশীলবরা ও বিএনপি একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র করছে : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘এক-এগারোর কুশীলবরা এবং বিএনপি একজোট হয়ে ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না, বারবার একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি হয় না। বাংলাদেশে সেটি কখনো হবে না।’

    বুধবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জিল্লুর রহমান পরিষদ আয়োজিত এই সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং প্রয়াত জিল্লুর রহমান তনয়া তানিয়া রহমান বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

    সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তার বক্তৃতায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এক-এগারোর পর দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে প্রয়াত জিল্লুর রহমান অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছিলেন বলেই অনেক চাপ, রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্ত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সর্বোপরি দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। সংকটকালে ধৈর্য্যশীল ও অবিচল থেকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার শিক্ষা জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে আমরা পেয়েছি। দেশের ইতিহাসে, দেশের রাজনীতির ইতিহাসে একজন ভালো মানুষ এবং অজাতশত্রু রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন।’

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এক-এগারোর কুশীলবরা আবার দেশে-বিদেশে সক্রিয় হয়েছে। তারা আবার বিশেষ ধরণের সরকারের স্বপ্ন দেখছে। বিএনপিও তাদের সাথে যোগ দিয়েছে। কারণ বিএনপি বুঝতে পেরেছে, নির্বাচনে তাদের কোনো আশা নাই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে তারা সিট পেয়েছিল ২৯টা। ২০১৪ সালে নির্বাচন থেকে পালিয়ে গিয়েছিল, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ডান-বাম, অতিডান-অতিবাম-তালেবান সবাইকে নিয়ে, ড. কামাল হোসেনের মতো মানুষকে হায়ার করেও মহিলা আসনসহ সিট পেয়েছিল মাত্র ৭টি। আর গত ১৪ বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়ন অগ্রগতি হয়েছে এতে জনগণ তাকে যে আবার নির্বাচিত করবে এবং বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ পোড়ানোর অপরাজনীতির কারণে মানুষ যে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সেটিও তারা অনুধাবন করতে পেরেছে।’

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ সব কারণে এক-এগারোর কুশীলবরা, বিএনপি আর বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিসহ সবাই এক জোট হয়ে দেশে একটি গন্ডগোল লাগানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় হয়েছে, কিন্তু সেটি বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো হতে দেবে না। আগামী নির্বাচন যথাসময়ে এবং সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধিনে অনুষ্ঠিত হবে। সমস্ত সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশের মতো আমাদের দেশেও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন, তার সরকার নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে।’

    সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ তার বক্তৃতায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্মৃতিচারণ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। তানিয়া রহমান তার প্রয়াত পিতার আত্মার শান্তির জন্য সকলকে প্রার্থনার আবেদন জানান। জিল্লুর রহমান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান খোকার সভাপতিত্বে এবং রোকন উদ্দীন পাঠানের সঞ্চালনায় আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম, এডভোকেট এ বি এম বায়েজিদ, মুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ বীরপ্রতীক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মানিক লাল ঘোষ সভায় বক্তব্য দেন।

    নূরে আলম সিদ্দিকীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

    মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, স্বাধীনবাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক এবং ঢাকসু’র সাবেক ভিপি কিংবদন্তি ছাত্রনেতা নূরে আলম সিদ্দিকীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নূরে আলম সিদ্দিকীর ইন্তেকালের সংবাদে শোকাহত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। ড. হাছান তার শোকবার্তায় বলেন, ‘দেশ ও মানুষের প্রতি নূরে আলম সিদ্দিকীর ছিলো গভীর অনুরাগ। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার বীরোচিত অবদান স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।’