Category: লাইফস্টাইল

  • হতাশা মোকাবেলায় এই ৫টি নিয়ম মানুন

    হতাশা মোকাবেলায় এই ৫টি নিয়ম মানুন

    সারাদিন কাজের চাপ, কখনো পারিবারিক সমস্যা, কখনোবা ব্যক্তিগত সমস্যা। নানা জটিলতায় জীবন হাঁপিয়ে ওঠে। এবং মানসিক অবসাদে পরিণত হতে হয়।

    সুস্থ জীবন পেতে, সুস্থ থাকতে শরীরের পাশাপাশি মনের সুস্থতাতেও মনোযোগ দিতে হবে। নয়তো দীর্ঘদিন ডিপ্রেশনে ভুগে মারাত্মক অসুস্থতার সম্মুখীন হতে পারে যে কেউ। কিছু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে অবসাদ কাটিয়ে তোলা যায়। এমন কিছু ঘরোয়া উপায় চলুন জেনে নিই-

    ঘুমের নির্দিষ্ট সময় বাছাই করুন

    প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠুন। আবার নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমালে এবং ঘুম থেকে উঠলে শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক সঠিকভাবে চলে। এটি ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। অবসাদ কমাতেও উপকারি ভূমিকা রাখে।

    সূর্যের আলোয় মন ভরান

    আমাদের শরীরে সুখী হরমোনের (happy hormones) উৎপাদন বাড়ায় সূর্যের আলো। ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। মানসিক অবসাদে ভুগলে সূর্যের আলোতে দাঁড়ান। শরীরের জন্য এটি বেশ ভালো কাজ করবে। সূর্যাস্তের পরে অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোন ক্ষরণ বাড়তে থাকে। আবার, দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় মেলাটোনিন ক্ষরণ কমে যায়। ফলে ঘুমের ঘোর কাটে। তাই, মেলাটোনিনের মাত্রা কমাতে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের আলোয় দাঁড়ান। এতে মেজাজ ঠান্ডা হবে।

    শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম

    প্রতিদিন সকালে কিছুক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। এটি উদ্বেগ ও স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। বড় করে শ্বাস নিয়ে কিছু সময় দম বন্ধ করে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।

    দৈনন্দিন প্রার্থণা ও ব্যায়াম করুন

    দৈনন্দিন প্রার্থণায় মানুষের মনে ইতিবাচকতা তৈরি হয়। পাশাপাশি ভালো কাজের আসক্তি তৈরি হয়। মন হয় শান্ত ও প্রফুল্ল। পাশাপাশি, শরীরচর্চা বা ব্যায়াম বিষণ্ণতার চিকিৎসায় খুবই কার্যকর। কারণ শরীরচর্চা করলে এন্ডোরফিন হরমোন ক্ষরণ হয়, যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। তাই রোজ অন্তত কিছুটা সময় ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।

    স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতা

    শরীরে প্রয়োজনীয় এনার্জি পেতে সকালের নাশতা অবশ্যই স্বাস্থ্যকর হতে হবে। নয়তো শরীর ও মন উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে। সকালে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। প্রতিদিন সকালে সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    ডিপ্রেশন বা অবসাদ কমাতে কোনো নেশায় আসক্ত এবং ওষুধ না খেয়ে, ঘরোয়া এই উপায়গুলো কাজে লাগান। ভালো থাকবেন আপনি।

    তথ্যসূত্রঃ ভেরিওয়েলমাইন্ড

  • ৬ টি আশ্চর্যজনক উপকার পেতে প্রতিদিন হাঁটুন

    ৬ টি আশ্চর্যজনক উপকার পেতে প্রতিদিন হাঁটুন

    প্রতিদিন হাঁটা আপনার স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য অনেক উপকারী হতে পারে। হাঁটা হল একটি সহজ ব্যায়ামের অনুশীলন যা বেশিরভাগ লোকেরা করতে পারে। এবং এটি আপনার দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করা চমৎকার ব্যাপার। প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাসে আপনি শারীরিক ও মানসিক বেশ কিছু সুবিধা লাভ করতে পারেন। প্রতিদিন হাঁটা ৬টি সুবিধা হলোঃ

    উন্নত কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য: হাঁটা আপনার হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করে আপনার হার্টের সুস্থতা উন্নতি করতে সাহায্য করতে পারে।

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো: হাঁটা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সর্দি, ফ্লু এবং অন্যান্য অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

    প্রফুল্লতা তৈরি: হাঁটা মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা হ্রাস করে আপনার প্রফুল্ল মেজাজ উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

    দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি হ্রাস: নিয়মিত হাঁটা আপনার দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

    হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি: হাঁটা একটি ওজন বহনকারী কার্যকলাপ, যার মানে এটি আপনার হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে এবং অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    বর্ধিত শক্তি এবং সহনশীলতা: নিয়মিত হাঁটা আপনার শক্তি এবং সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এটি আপনার দৈনন্দিন কাজগুলিকে সহজ করে তোলে।

    প্রতিদিনের হাঁটার অভ্যাসকে আপনার রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করে, আপনি এই সুবিধাগুলি কাটাতে পারেন এবং আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যর কল্যাণ লাভ করতে পারেন। সর্বাধিক সুবিধার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার লক্ষ্য রাখুন।

    তথ্যসূত্রঃ রিয়েলসিম্পল

  • ফোকাস এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ৫টি ব্রেন ফুড

    ফোকাস এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ৫টি ব্রেন ফুড

    শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ মস্তিষ্ক৷ মাথাই মানুষের ভাবনাচিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ বোধবুদ্ধি তৈরি করে মস্তিষ্কই৷ ধারালো মস্তিষ্ক হলে সব সময় পরিস্থিতি থাকে নিয়ন্ত্রণে। জীবনে তুঙ্গ সাফল্য পাওয়া যায়। প্রখর স্মৃতিশক্তি মানুষকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। মস্তিষ্ক সুস্থ থাকলেই স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকে৷ বুদ্ধি শান দিতে দরকার ডায়েট। যা কম বয়স থেকেই শুরু করতে হবে। বড় বয়সেও খাওয়া যেতে পারে।

    বর্তমান জীবনযাত্রায় প্রতিদিনই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। স্কুল-কলেজ হোক বা অফিস-আদালত-যা সামলানোর জন্য দরকার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক৷ ডায়েটে এমন জিনিস রাখুন যা মানসিক চাপ কমায় এবং বুদ্ধি শাণিত করতে পারে৷ মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ করতে এমন কিছু বিশেষ খাবার আছে যেগুলি খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কী কী খাবেন-

    কুমড়োর বীজ- কুমড়ার বীজ ফেলে দেবেন না কারণ এগুলি সুপারফুড হিসেবে কাজ করে। কুমড়োর বীজ মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ করতে খুবই সহায়ক৷ কুমড়োর বীজে নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যা মস্তিষ্কের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল দূর করে। ফ্রি র‍্যাডিক্যালের কারণে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

    হলুদ- হলুদে কারকিউমিন যৌগ পাওয়া যায় যার মধ্যে প্রদাহরোধী গুণ থাকে৷ হলুদের নানা ঔষধি গুণ রয়েছে। কারকিউমিন রক্ত এবং মস্তিষ্কের মধ্যে বাধা কমায়৷ ফলে বুদ্ধি ক্ষুরধার হয়।

    বাদাম- বাদাম সম্পর্কে সকলেই জানেন। বাদাম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়৷ বাদাম হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত বাদাম খেলে প্রাপ্তবয়স্কদের স্মৃতিহ্রাসের ঝুঁকি হ্রাস করে। বাদামে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ই-এর মতো পুষ্টিগুণ মস্তিষ্কে বার্ধক্যের প্রভাব কমায়।

    ব্লুবেরি- এটি ঔষধি ফল। নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা প্রদাহ কমায়। মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে এই ফল খুবই কার্যকরী। ব্লুবেরিতে অ্যান্থোসায়ানিন যৌগ পাওয়া যায় যা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মস্তিষ্কে তৈরি হয় না৷ প্রদাহ কমায়। সেই সঙ্গে কমে মস্তিষ্কে বার্ধক্যের প্রভাব

    ডার্ক চকোলেট- ডার্ক চকোলেটে ক্যাফেইন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সক্রিয় করে। তবে দুধ দিয়ে তৈরি চকোলেটে এই সুবিধা নেই। চকোলেটের ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের সেই অংশগুলিকে সক্রিয় করে যা শেখার এবং স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তথ্যসূত্রঃ হেলথ.হার্ভার্ড.এডু অ্যান্ড হেলথলাইন

  • যে ১০ টি কারনে প্রতিদিন বই পড়া উচিত

    যে ১০ টি কারনে প্রতিদিন বই পড়া উচিত

    যদি আপনি প্রতিদিন বই না পড়ে থাকেন তাহলে এই লেখাটি পড়ার পর থেকে আজই বই পড়া শুরু করে দিন। কারন, বই কেন পড়া উচিত সে বিষয়ে এখানে দশটি পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই চলুন দেরী না করে বই পড়ার উপকারিতা গুলো জেনে নেওয়া যাক-

    ১. স্মার্ট হতে বই পড়ুন

    প্রতিটি মানুষ অন্যের থেকে স্মার্ট এবং আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্বের হতে চায়। আপনি আসলে দেখতে কেমন তাতেই স্মার্টনেস প্রকাশ পায় না, আপনার বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্বের উপর স্মার্টনেসর প্রকাশ পায়। বই পড়ার অভ্যাস আপনাকে সবসময় সমৃদ্ধ করছে বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান দ্বারা। তাতে করে আপনি স্মার্ট হচ্ছেন এবং এগিয়ে যাচ্ছেন অনেকের থেকে। আমরা সবাই জানি, জ্ঞানই একমাত্র সফলতার চাবিকাঠি। কারন জ্ঞান সফলতার পথকে প্রশস্ত করে। সুতরাং, বইপড়ার মাধ্যমে আপনি সবদিক থেকে স্মার্ট হতে পারবেন এবং আপনার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন।

    ২. জ্ঞানকে সমৃদ্ধিশালী করে

    বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বই যখন আপনি পড়তে থাকবেন তখন আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হবে। এবং এই সমস্ত জ্ঞান আপনার জীবনে সর্বদা কাজে লাগবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক ভাবে চলার জন্য বই পড়ে জ্ঞান বৃদ্ধি করা একান্ত জরুরী। এই সকল জ্ঞান আপনার ক্যারিয়ারেও ভালো প্রভাব ফেলবে।

    ৩. একাগ্রতা বৃদ্ধি করে

    বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সবাই এখন ব্যস্ত হাতের মোবাইল নিয়ে। প্রতি ৫ মিনিট অন্তর দেখা যায় আপনি বিভিন্ন অ্যাপ এর নোটিফিকেশন চেক করায় ব্যস্থ হয়ে পড়ছেন। এমন কি কাজ করার সময়ও হয়তো আপনি ম্যাসেজের রিপ্লাই দিচ্ছেন। এতে করে আপনার কাজের প্রোডাক্টিভিটি কমে যাচ্ছে। অথচ আপনার যদি নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে আপনার নির্দিষ্ট কাজের একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে। এবং আপনি যেকোনো কাজে মনোযোগী এবং প্রোডাক্টিভ হতে পারবেন।

    ৪. শব্দ ভান্ডার বাড়ায়

    বই পড়ার কারণে আমাদের মধ্যে নতুন নতুন শব্দ ভান্ডার এর সৃষ্টি হয়। কোন নির্দিষ্ট জায়গায় কথা বলার সময় এই সমস্ত শব্দ ভান্ডার গুলি আমাদের চরিত্রের বিকাশ ঘটায়। এই কারণেই বই পড়লে আমাদের একটি সুন্দর চরিত্রের সৃষ্টি হয়।

    ৫. স্মৃতিশক্তি উন্নত করে

    বই পড়ার কারণে আপনার মনে নতুন নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়। যেটি আপনার মস্তিষ্কের শক্তিকে উন্নত করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।

    ৬. মানসিক চাপ কমায়

    আপনার জীবনে যেকোনো সমস্যা থাকতে পারে যা মানসিক চাপের কারন। হতে পারে- কর্মস্থলে, ব্যক্তিগত জীবনে অথবা সম্পর্কের মাঝে। তবে যাই থাকুক না কেন, সবকিছুই হালকা হয়ে যাবে যদি আপনি চমৎকার কোনো বই পড়া শুরু করেন। কারন, গল্পের বিভিন্ন প্লট আপনাকে চিন্তার ভিন্ন জগতে নিয়ে যাবে। আপনিও হয়ে পড়বেন দুশ্চিন্তা মুক্ত।

    ৭. কল্পনা শক্তি বাড়ায়

    বই পড়ার সময় প্রত্যেকটি মানুষের কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি পায়। যেটি মানুষের মনে নতুন নতুন ধারণা সৃষ্টি করে। যখন আপনি কোন গল্প বা উপন্যাস পড়েন তখন আপনি দেখবেন আপনার মনে নির্দিষ্ট গল্পটি সম্পর্কে একটি ছবি আঁকা হয়ে যায়। এবং আপনার কল্পনাশক্তি বলতে থাকে গল্পটা ঠিক কেমন ভাবে শেষ হবে। এবং যখন শেষ হয় তখন এটি পুরো অন্যভাবে শেষ হয়। যার কারণে আপনার মনে কৌতুহল বাড়ে। এই জন্য নিজের কল্পনা শক্তি ও কৌতূহল বৃদ্ধি করার জন্য বই পড়া উচিত

    ৮. একাকিত্বের সঙ্গী হয়

    একাকীত্ব দূর করার জন্য বই সব থেকে ভালো উপায়। আজকালকার দিনে মোবাইল ফোনকে সবাই সঙ্গী করে নেয়। কিন্তু যদি আপনি মোবাইলের মধ্যে বই পড়া শুরু করেন, তাহলে আপনার জীবনের একঘেয়েমি চলে যাবে এবং আপনি একজন ভালো বন্ধু খুঁজে পাবেন। নিজের মনকে শান্ত করতে এবং মনের মধ্যে নতুন শক্তি যোগাতে আপনিও বই পড়া শুরু করুন।

    ৯. অনুপ্রেরণা দেয়

    আপনার জীবনে সবথেকে বেশি অনুপ্রেরণা যদি কেউ দিয়ে থাকে তা হলো বই। যদি আপনি আপনার জীবনে ভিন্ন কিছু বা বড় কিছু করতে চান, তাহলে সেই অনুপ্রেরণা আপনি বই থেকে নিতে পারেন। যেকোনো কিছু ইতিবাচক চিন্তা করা এবং নতুন কিছু চেষ্টা করার জন্য বই অত্যন্ত উপকারী। আপনি বই থেকে অনুপ্রেরণা করতে সফল ব্যক্তিদের জীবনী এবং তাদের ব্যর্থতার স্টোরি পড়তে পারেন।

    ১০. লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি করে

    আপনি যখন বিভিন্ন লেখকের বিভিন্ন বিষয়ের উপর বই পড়েন, তখন আপনার ভেতরে ভাষাতত্ত্বের বিকাশ হয়। সেকারনে উন্নত শব্দ এবং সুন্দর করে ভাষা প্রয়োগের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায়। যা বাস্তব জীবনে শিক্ষাক্ষেত্রে, কর্মস্থলে বা কোথাও বক্তৃতা দেয়ার ক্ষেত্রে নিজের উপস্থাপনকে অনেক স্মার্ট করে তুলবে। যার কারনে অন্যের নিকট আপনার ভাষার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে, নেটওয়ার্কিংয়ে কাজে লাগবে এবং আপনি হয়ে উঠবেন জনপ্রিয়।

    আপনি যদি নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন তবে আপনি নিজেকে উন্নত করার সিড়িতে পা রাখলেন। আপনি শুরু না করা পর্যন্ত এটি বিরক্তিকর বলে মনে হতে পারে, কিন্তু একবার অভ্যাসটি নিশ্চিত করে ফেললে- নিজেকেই এই অভ্যাসের জন্য ধন্যবাদ জানাবেন।

    তথ্যসূত্রঃ লাইফহ্যাক, ইঞ্চস্মার্টার

  • তীব্র গরমেও ত্বকে হিমেল পরশ

    তীব্র গরমেও ত্বকে হিমেল পরশ

    যত দিন যাচ্ছে গরম ততোই বাড়ছে। বাড়ির বাইরে বের হলেই মাস্কে ঢেকে রাখতে হচ্ছে নাকমুখ। ফলে গরমে ঘাম জমে বিশ্রী অবস্থা হচ্ছে মুখচোখের। স্বাভাবিকভাবেই এই অবস্থা চলতে থাকলে ব্রণ, ফুসকুড়ি, র‍্যাশের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে, আর সেজন্যই ত্বকের শীতলতা বজায় রাখা খুবই দরকার। এই সময় পর্যাপ্ত পানি, ফলের রস খাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি দরকার ত্বককে বাইরে থেকে ঠান্ডা রাখা। জেনে নিন কীভাবে কী করলে প্রবল গরমেও আপনার ত্বক থাকবে ঠান্ডা।

    মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন
    বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে হাত পা ধুবেন এবং মুখেও বারবার ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিবেন। সঙ্গে ব্যবহার করুন শসা বা মিন্টের নির্যাস যুক্ত ফেসওয়াশ। ঘরে থাকার সময়ও নির্দিষ্ট সময় অন্তর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। তবে ফেসওয়াশ ব্যবহার করার দরকার নেই।

    হাতের কাছে রাখুন ফেসিয়াল মিস্ট
    বারবার মুখে পানি দিতে ইচ্ছে না করলে ব্যবহার করতে পারেন ফেস মিস্ট। বারদুয়েক স্প্রে করে নিন মুখে, ত্বক থাকবে তরতাজা, সুগন্ধি।

    ক্রিম, ময়শ্চারাইজার ফ্রিজে রাখুন
    ময়শ্চারাইজার, ক্রিম, বডি লোশনের মতো ত্বক পরিচর্যার সামগ্রী ফ্রিজে রাখার দুটো উপকারিতা আছে। এক, ফ্রিজে রাখলে এ সব জিনিসের কার্যকারিতা অনেক বেড়ে যায়, চট করে নষ্ট হয় না, আর দুই, ত্বক ঠান্ডা থাকে।

    চাই ত্বক শীতল রাখার মাস্ক
    ত্বক ঠান্ডা রাখতে চাইলে আস্থা রাখুন শসায়। গরমে ত্বক চিড়বিড় করলে, জ্বালা করলে শসার মাস্ক নিমেষে স্নিগ্ধতা জোগাবে। শসা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন। তারপর থেঁতো করে রস বের করুন। তুলোয় করে এই রস নিয়ে মুখে মাখুন। পুরো শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলবেন। এতে ত্বক শীতল তো থাকবেই, ত্বকের আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।

    আইস আইস বেবি
    ত্বক দ্রুত ঠান্ডা করতে হলে বরফের চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে! পরিষ্কার রুমালে বরফ মুড়ে মুখে আলতো করে বুলিয়ে নিন। মুখের প্রদাহ কমবে, রক্ত সংবহন বেড়ে মুখের উজ্জ্বলও দেখাবে।

    তথ্যসূত্রঃ ফেমিনা

  • ছাদ বাগান ও নগর সবুজায়ন

    ছাদ বাগান ও নগর সবুজায়ন

    নগর সবুজায়ন সাধারণত নগর স্থাপনায় গাছপালা, ফল এবং শাকসব্জির বাগানের ক্রমবর্ধমান অনুশীলনকে বোঝায়। সাধারণত ছোট জায়গা যেমন বারান্দা, ছাদ বা একটু প্রশস্ত জায়গায় বাগান বা কৃষি করার মাধ্যমে নগরকে সবুজায়ন করার বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ লোকেরা তাদের নিজস্ব তাজা শাক-সবজী ও ফলমূল উত্পাদন বৃদ্ধি করতে, স্থায়ীকরণ ও প্রচারের মাধ্যমে শহুরে পরিবেশের সাথে প্রকৃতির পুণঃমিলনীর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

    নগর সবুজায়ন আমাদের নাগরিক জীবনে বেশকিছু সুবিধা দিতে পারে-

    তাজা ফসল উৎপাদন: ছাদ বাগানের মাধ্যমে লোকেরা তাদের নিজ বাগানের ফল, শাকসবজি এবং ভেষজ উদ্ভিদ উৎপাদন করছে। এসব বাজারের কেনা সবজী বা ফলমূলের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ কারন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়না। তাছাড়াও এসব ফল বা সবজী হয় সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর।

    যান্ত্রিক জীবনে নির্মল প্রকৃতি: ছাদ বাগান বা নগর সবুজায়ন প্রকল্পগুলো তাজা খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি,  কার্বন ডাই অক্সাইড হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে। শহুরে পরিবেশে মাটির স্বাস্থ্য এবং জীববৈচিত্র্যকে উন্নত করতে পারে নগর জীবনকে কিছুটা নির্মলতা ফিরিয়ে আনে।

    শহরে ছাদ বাগান: বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ইনফরমেশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাদ রয়েছে। যার আয়তন ৪,৫০০ হেক্টরের বেশি। বেশির ভাগ ছাদ খালি ছিল, কিন্তু আজকাল বাড়ির মালিকরা তাদের অবসর সময় কাটাতে এবং তাদের ছাদ সবুজ করার জন্য ছাদ বাগান তৈরি করছেন। বর্তমানে,রাজধানীতে প্রায় ৩০,০০০ ছাদ বাগান রয়েছে – যা মোট ছাদের ৭% জুড়ে।

    শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ছাদ বাগানের মালিকদের প্রায় ৪১% তরুণ, ৩০% মধ্যবয়সী এবং ২৯% বয়স্ক।

    মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতা: বাগান করা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে, মানসিক চাপ হ্রাস এবং শিথিলকরণ করে।

    প্রকৃতির সাথে একাত্মতা: ছাদ বাগান করার মাধ্যমে উদ্ভিদবিজ্ঞান, বাস্তুশাস্ত্র এবং টেকসই প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি ও রক্ষা সম্পর্কে শেখার সুযোগগুলি ঘটে থাকে।

    নগরে উষ্ণতা কমাতেঃ  দিন্ দিন বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। ঢাকার নগর জীবনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে ছাদ বাগান। নগরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে অনেক দেশেই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, গ্যারেজ, ফুটপাত, পার্ক, সরকারি খাস ভূমি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে উদ্যান ফসল ও বাহারি ফুলের গাছের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে সবুজ নগরায়ন। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নয় বরং একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এদেশে ছাদ বাগানের সূচনা ঘটেছে এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    ছাদ কৃষি ও নগর সবুজায়নে সাথে আপনাকে সূর্যের আলো এবং উপযুক্ত স্থান, মাটির গুণমান এবং গাছের জন্য পানির ব্যবস্থাপনার মতো কারণগুলি বিবেচনা করতে হবে। বাগান ক্লাস, ওয়ার্কশপ এবং এলাকায় সবুজায়নের প্রোগ্রামগুলো বাস্তবিক প্রক্রিয়ায় করা যেতে পারে। এমনকি, অনলাইনে বিভিন্ন গাছপ্রেমী গ্রুপগুলোর সাথে এলাকাভিত্তিক গাছ লাগানোর প্রকল্প নিয়ে কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে।

  • ধনীরা কখনোই দিনে ৮ ঘন্টা ঘুমান না

    ধনীরা কখনোই দিনে ৮ ঘন্টা ঘুমান না

    জনপ্রিয় মার্কিন টিভি উপস্থাপক স্টিভ হার্ভি বলছেন, ‘ধনী লোকেরা কখনোই দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমান না। সারা দিনের সময় ২৪ ঘণ্টা। তার মধ্যে ৮ ঘণ্টাই তুমি ঘুমাতে পারো না। তার মানে তুমি জীবনের এক–তৃতীয়াংশ ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছ। না হয় তার কথা মেনে নিলেন যে ধনী লোকেরা ৮ ঘণ্টা ঘুমান না। তাহলে কয় ঘণ্টা ঘুমান? হার্ভি নিজে কয় ঘণ্টা ঘুমান?

    বিল গেটস

    সিয়াটল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে কথা বলেছিলেন বিল গেটস। তিনি কেবল বড়লোকই নন, পরিচিত দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও। তবে ঘুমের দিক দিয়ে তিনি ইলন মাস্কের চেয়ে পিছিয়ে। গড়ে প্রতি রাতে ঘুমান ৭ ঘণ্টা করে। পাশাপাশি দিনের নানা সময়ে নেন ছোট ছোট ঘুম। যাকে বলে ‘ন্যাপ’ নেয়া। এগুলো তাকে সাহায্য করে নিজেকে চাঙা রাখতে। যাতে ধরে রাখতে পারেন মনোযোগ। বিভিন্ন কাজে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে থাকতে পারেন সতর্ক।

    ইলন মাস্ক

    মাস্ক নতুন নতুন পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য বেশ পরিচিত। এমনকি মাঝেমধ্যে কাজের চাপে রাতে কারখানাতে থেকে যান বলেও শোনা যায়। সেখানেই নাকি ঘুমিয়ে নেন। ঘুমাতে যান রাত ৩টার দিকে। তবে ওঠেন সকাল ৯টা–সাড়ে ৯টার মধ্যে। মানে ঘুমান গড়ে ৬ ঘণ্টার মতো। সাধারণ মানুষের গড় ঘুমের তুলনায় বেশ কম।

    স্টিভ হার্ভি

    স্টিভ হার্ভি গড়ে প্রতি রাতে ঘুমান ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। মনে হতে পারে, এত কম ঘুমালে নিশ্চয়ই কাজের সময় তাকে ভুগতে হয়। ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়ান। সেটা একদমই নয়। এইটুকু ঘুমেই তিনি দিব্যি সারা দিন কাজ করে যান। ওঠেন খুব সকালে। আগে অবশ্য তা পারতেন না। সে অভ্যাস করার জন্যই নাকি ‘দ্য স্টিভ হার্ভি মর্নিং শো’ করা। মানে সকালের শো বেছে নেয়া।

    জেফ বেজোস

    জেফ বেজোস সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তার ঘুমের অভ্যাসের কথা। তিনি নিজেকে সুস্থ রাখতে এবং কাজে পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন পর্যাপ্ত ঘুমকে। সে জন্য তার চেষ্টা থাকে প্রতি রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর। দিনের কাজের পরিকল্পনাও করেন সেভাবেই। ঘুমের সময়কে ঠিক রেখে।

  • তীব্র গরমে বিশেষজ্ঞদের ৫ টি পরামর্শ মেনে চলুন

    তীব্র গরমে বিশেষজ্ঞদের ৫ টি পরামর্শ মেনে চলুন

    ২০২১ সালে যৌথভাবে একটি গবেষণা পরিচালনা করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, জার্মান রেডক্রস এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    ঢাকায় হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। আর হিটওয়েভের কারণে বাড়ছে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়াসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বয়স্ক মানুষ, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা, খেলোয়াড় এবং যারা বাইরে কায়িক পরিশ্রমের পেশার সঙ্গে জড়িত, তারা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন তাপপ্রবাহের সময়। সরাসরি সূর্যের নিচে যাদের কাজ করতে হয়, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।

    তীব্র তাপদাহের সময়ে সুস্থ থাকতে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

    ১. ত্বকের যত্নঃ প্রবল রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত রোদে বের হলে ত্বক লাল হয়ে যায়। সঙ্গে ত্বকে ফুসকুড়িও দেখা যেতে পারে। ত্বক পুড়ে গেলে আক্রান্ত জায়গাটিতে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কিছু না লাগানোই ভালো। এ সময়ে ত্বক বাঁচাতে চড়া রোদে না থাকা, ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় ত্বকের ওপর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গরমে ত্বকের অনেকটা অংশ জুড়ে র‌্যাশ বেরোতে পারে। একে ‘হিট র‌্যাশ’ বলা হয়। এ ধরনের র‍্যাশ এড়াতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

    ২. পানিশূন্যতা দূরীকরণঃ মাত্রাতিরিক্ত গরমে শরীরে পানির ঘাটতি হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত পানি ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি হলে পেশিতে টান পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সমস্যাকে ‘হিট ক্র্যাম্পস’ বলা হয়। এ সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রয়োজনে স্যালাইন খেতে হবে।

    ৩. হিটস্ট্রোকে সতর্কতাঃ প্রচণ্ড গরমে ‘হিট স্ট্রোক’ হতে পারে।  এ সময়ে ‘হিট স্ট্রোক’- এ আক্রান্ত হলে শরীরে তাপমাত্রার ভারসাম্য থাকে না। তাই ঘাম হয় না। কিন্তু হিট স্ট্রোক হলে তা থেকে মস্তিষ্ক, কিডনি, হৃৎপিণ্ডে প্রভাব পড়তে পারে। অনেকে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। ঘাম না হওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। মাথাব্যথা, মাথা ঘোরার মতো উপসর্গও দেখা যেতে পারে। এমন সমস্যা হলে দ্রুত রোগীকে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তার আগে রোগীকে বারবার ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছিয়ে দেওয়া ভালো।

    ৪. খাদ্যতালিকায় সচেতনতাঃ এ গরমে সুস্থ থাকতে তেল-মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত আমিষ খাবার কম খাওয়াই ভালো। বরং তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় এমন খাবার খান। একেবারে অনেকটা খাবার না খেয়ে অল্প মাত্রায় বার বার খাওয়ার অভ্যাস করুন।

    ৫. ফ্যাশনের স্বস্তিতেঃ গরমের সময় হালকা সুতির পোশাক পরুন, যাতে ঘাম হলে তাড়াতা়ড়ি শুকিয়ে যায়। পা ঢাকা জুতার বদলে খোলা স্যান্ডেল ব্যবহার পরুন। ব্যাগে সানগ্লাস, স্কার্ফ, পানির বোতল, ছাতা রাখতে ভুলবেন না।

  • রমজানে এলার্জি রোগীর ভালো থাকার উপায়

    রমজানে এলার্জি রোগীর ভালো থাকার উপায়

    এলার্জি রোগীদের জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। সাথে মেনে চলতে হয় নানারকম স্বাস্থ্যবিধি। রমজান মাসে তারা কীভাবে নিজেদের ভালো রাখতে পারবে সেক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মোঃ ফখরুল আবেদীন জনি, এমবিবিএস, পিজিটি (স্কিন এন্ড ভিডি, ডিএসএমও)। তাহলে আসুন জেনে নেই কিভাবে এলার্জি রোগীরা ভালো থাকবে রমজান মাসে।

    রমজানে এলার্জি রোগীদের একটু বাড়তি যত্ন নিতে হবে। যত্নটা হবে আত্মসচেতন এবং ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।

    রমজানে সেহরি এবং ইফতারে এলার্জি জনিত খাবার পরিহার এবং যেসব কারণে এলার্জি হতে পারে সেসব বিষয় অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

    • গরমে সোলার আর্টিকেরিয়া থেকে বাঁচতে এলার্জি আক্রান্ত রোগীদের ধূলাবালি এড়িয়ে চলতে হবে।
    • ছাতা ব্যবহার করতে হবে।
    • এলার্জির রোগীদের বাইরের খাবার গ্রহন করা যাবে না।
    • ইফতারের সময় পরিমান মত পানি পান করতে হবে।
    • সেহরিতে এন্টি হিস্টামিন ঔষধ খেয়ে নিতে হবে।
    • সানস্কিন ক্রীম ৫০+ ব্যবহার করতে হবে। ওয়াটার প্রুফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উত্তম। এতে শরীর ঘামে সান স্কিন থাকবে, যা সাধারণ সান স্কিনে নেই।
    • রমজানে এলার্জি রোগীরা যাতে বেশি না ঘামে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
    • ডাস্ট এলার্জি পরিহারে সবসময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
    • কারো যদি কোন কসমেটিক ব্যবহারে এলার্জি থাকে তাহলে অবশ্যই তা পরিহার করতে হবে এবং প্রয়োজনে নিকটস্থ স্কিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
    • এলার্জি আক্রান্ত বাচ্চাদের রোজা না রাখাই উত্তম।
    • বয়স্কদের মতো বাচ্চাদেরও গরম বা ঘাম হয় এমন জায়গা পরিহার করতে হবে।
    • নতুন জামা থেকে যাতে এলার্জি না হতে পারে সে জন্য তা যথাযথ পরিস্কার করে তারপর পরিধান করতে হবে।
    • এলার্জি রোগীদের জন্য পাতলা সুতি কাপড় বেশি আরামদায়ক।
    • বেশি চুলকানি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ গ্রহন করতে হবে।
    • এলার্জি রোগীদের সারা বছর হাঁচি, কাশি লেগে থাকে। তাই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তার খাবার সম্পর্কে জানতে হবে। নিজে ও পরিবারের সদস্যদের সচেতনতার মাধ্যমে রোজার পাশাপাশি সারাবছর এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
  • মনের যত্ন প্রতিদিন

    মনের যত্ন প্রতিদিন

    মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ আমাদের সার্বিক সুস্থতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শারীরিক সুস্থতার জন্যে আমরা অনেক কিছু করি– জিম যাই, হাঁটতে বেরোই, সাঁতার কাটি বা অন্যান্য খেলাধুলা করি। ঠিক একই রকম ভাবে, আমরা সুস্থ ভাবাবেগ ও মানসিকতার অধিকারী হবারও চেষ্টা করতে পারি।

    একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হল, মানসিক রোগ নেই মানেই সেই ব্যক্তি মানসিক ভাবে সুস্থ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই ধারনাটির সাথে একমত নন।

    মানসিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা ও তার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ কাজ না। কারণ এইটা রপ্ত করতে না পারলে জীবনে বিভিন্ন দুঃখ-কষ্ট, ব্যক্তিগত সম্পর্কে সমস্যা, ও অন্যান্য মানসিক ব্যধির উদয় হতে পারে। সুস্থ ভাবাবেগ ও মনের অধিকারী হলে আমরা নিশ্চিন্তে যে কোনও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে পারি। তাছাড়া এর ফলে আমরা দৈননিন জীবনে আরও কর্মঠ হয়ে উঠতে পারি। একজন মানসিক সুস্থ ব্যক্তি নিজের সাথে ও অন্যের সাথে আরও ভাল সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন, আর যে কোনও বাঁধা কাটিয়ে জীবনে এগিয়ে চলতে পারেন।

    ব্যাঙ্গালোর শহরের একজন কাউন্সেলর মৌল্লিকা শর্মার মতে, “আমাদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অপছন্দের পরিস্থিতি ও লোকেদের মাঝে বাস করতে হয়। আমরা সেই সমস্ত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। অথচ তার বদলে আমাদের চারিপাশের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে ফেলা কিন্তু অনেক বেশি সহজ। এই পরিস্থিতিগুলো অনুযায়ী যত নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারব, ততই মানসিক সুস্থতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাব।”

    মনের যত্ন নিন

    কথাটা কি খুব খাপছাড়া ও কঠিন লাগল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দৈনন্দিন জীবনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই কিন্তু এই কাজটা খুব সহজ হয়ে উঠবে। আপনি সেই জন্যে নিচে লেখা পরামর্শগুলি মেনে দেখতে পারেন:

    ১. শরীরের যত্ন নিন

    শারীরিক সুস্থতার সাথে মানসিক সুস্থতার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এর জন্যে আপনি পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, এবং শরীরের যত্ন নিন। এর ফলে আপনার শরীর রোজকার ধকলের সাথে যুঝে উঠতে পারবে। ভিটামিন বি-১২ ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আপনার মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলিকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত বিশ্রামও খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ ঘুমের সময় আমাদের শরীর সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সারিয়ে তোলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আপনি ক্লান্ত ও খিটখিটে হয়ে পড়বেন। নিয়মিত ব্যায়াম আপনার খিদে বাড়াতে সাহায্য করবে; ফলে আপনার ভাল ঘুম হবে, এবং সব মিলিয়ে আপনি মানসিক ভাবে সুস্থ থাকবেন।

    ২. ব্যায়াম করুন, ফুসফুসে টাটকা বাতাস ভরুন

    সূর্যের আলো আমাদের শরীরে সেরটিনিন নামে একটি রাসায়নিকের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এই সেরিটিনিন আমাদের মস্তিষ্ককে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে সূর্যের আলোয় আমাদের মন ভাল হয়ে যায়। কায়িক পরিশ্রমও সুস্থ মনের জন্যে জরুরি। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়। মনকে চাঙ্গা রাখতে নিজের পছন্দের কোনও কাজ করুন।

    ৩. নিজের যত্ন নিন

    মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ পেতে নিজের যত্ন নেওয়া দরকার। মনের মধ্যে আবেগ চেপে রাখবেন না। অবদমিত আবেগ প্রকাশের ফলে মানসিক চাপ ও জটিলতা কমে যায়। নিজের জন্যে কিছুটা সময় আলাদা রাখুন; নিজের মনের কথা শুনুন, বই পড়ুন, ব্যক্তিগত শখ-আহ্লাদ মেটান, বা এমনি হাত-পা ছড়িয়ে সব কাজ ভুলে একটু আরাম করুন।

    মনোযোগ বাড়াতে সব যন্ত্রপাতি দূরে সরিয়ে নিজের আশেপাশের দুনিয়াটাকে উপলব্ধি করুন। নিমহ্যান্সের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক ডাঃ এম মঞ্জুলার কথা অনুযায়ী, “ভূত ও ভবিষ্যৎ ভুলে বর্তমানে থাকার নামই মনোযোগ। খামখেয়ালের স্রোতে না ভেসে গিয়ে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চিন্তায় সাড়া দেওয়া; একবারে একটি কাজেই মন দেওয়া, পরের ছিদ্রান্বেষণ না করে যে কোনও পরিস্থিতিতে স্থির ও অবিচল থাকার নামই মনোযোগ। এর ফলে আপনি চারপাশে থেকে আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন যা আপনাকে যে কোনও অবস্থায় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে।”

    ৪. পছন্দের লোকজনের সাথে সময় কাটান

    পছন্দের লোকের সাথে সময় কাটালে নিজের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জন্মায়। বন্ধুবান্ধব, পরিবার, সহকর্মী এবং প্রতিবেশীদের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখুন। এর ফলে আপনি সবার সাথে নিজেকে যুক্ত অনুভব করবেন। সহকর্মীদের সাথে একদিন খেতে যান, বা অনেকদিন বাদে কোনও পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা করুন। একটি মিষ্টি হাসি ও স্নেহের আলিঙ্গনের বিকল্প কোনও প্রযুক্তি হতে পারে না।

    ৫. কোনও শখ গড়ে তুলুন বা নতুন কিছু করুন

    পছন্দ অনুযায়ী কাজ করলে পরে মনও ভাল থাকে। এর ফলে মাথায় দুশ্চিন্তা আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। তাছাড়া শখের কাজকর্ম করলে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি হয়, ফলে বাইরের জগতে আপনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে মেলে ধরতে শেখেন। নতুন জিনিস শিখলে মনের একঘেয়ে চিন্তা কেটে যায়, মনঃসংযোগ বাড়ে, এবং নতুন কিছু শেখার আনন্দে মন ভাল থাকে।

    ৬. দুশ্চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন

    আমাদের সবারই বিভিন্ন লোকজন বা পরিস্থিতির কারণে দুশ্চিন্তা হয়। এই কারণগুলিকে প্রথমে চিহ্নিত করুন, তারপর সেগুলির উপর পুনরায় বিচার করুন। আপনি সেগুলি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে পারেন, যদি তা সম্ভব হয়। অনেক সময় সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আপনি সেই ব্যক্তিদের বা পরিস্থিগুলিকে সামলাতে পারেন না। এই জন্যেই স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট শেখা জরুরি।

    মৌল্লিকা শর্মা বলেন, “আপনি যদি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তবে পরীক্ষার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। পরীক্ষা আপনার জীবনের মাপকাঠি না, সেটা সাময়িক এবং আবশ্যিক। কিছু ক্ষেত্রে আপনি দুশ্চিন্তার উৎসগুলিকে এড়িয়ে চলতে পারেন, কিন্তু আপনাকে এটাও বুঝতে হবে যে সবসময়ে তা সম্ভব না। কাজেই আপনাকে নিজেই দুশ্চিন্তাকে সামাল দেওয়ার কোনও পন্থা খুঁজে বের করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ আপনি কোনও বন্ধুর সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন, ধৈর্য ধরে নিজের উপরে বিশ্বাস রাখতে পারেন, পরিস্থিতিকে পুনরায় ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করতে পারেন, প্রাণায়াম করতে পারেন, একটু হাঁটতে যেতে পারেন, গান শুনতে পারেন, ব্যায়াম করতে পারেন, ইত্যাদি।”

    ৭. নিজের উপরে ভরসা হারাবেন না

    আমরা সকলেই আলাদা, এবং আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই নিজস্ব ক্ষমতা এবং দুর্বলতা ররেছে। নিজের দুর্বলতাকে মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার উপরে ভরসা রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়। সবারই কোনও না কোনও দুর্বলতা থাকে, আপনারও আছে; কেউই নিখুঁত নয়। আপনি নিজের দুর্বলতাকে দূর করার প্রয়াস করতে পারেন, অথবা সেগুলোকে নীরবে মেনে নিতে পারেন। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত আপনিও নিখুঁত নন, এটা মেনে নেওয়াটাই কিন্তু সুস্থ মানসিকতার পরিচয়। নিজের ক্ষমতা বুঝে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তৈরি করুন। সর্বপরি না বলতে শিখুন। এটা কোনও অন্যায় নয়।

    ৮. আশির্বাদ কুড়োন

    একঘেয়ে শোনালেও এটা সত্যি যে, যা পেয়েছেন তা নিয়ে কৃতজ্ঞ হলে, যা পাননি তাই নিয়ে কষ্ট কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে এর ফলে মনের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা জন্ম নেয়। একটি কৃতজ্ঞতা খাতা বানান। প্রত্যেকদিন রাত্রে শোবার আগে লিখে ফেলুন যে, আপনি আজ কেন ও কিসের জন্য কৃতজ্ঞ। নিজের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ জাগিয়ে তুললে, সবার আশীর্বাদ মনে রাখলে,দেখবেন প্রত্যেকদিনই আপনার কৃতজ্ঞতার কারণের অভাব হচ্ছে না।

    ৯. নিজেকে মেলে ধরুন

    অনেক সময়ই আমরা নিজের আবেগ মেলে ধরতে লজ্জা পাই। নিজের মনোভাব মেলে ধরতে পারা, মনকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই নিজের ইচ্ছা বা ভাবনা চেপে রাখেন, যা খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে সেই মানসিকতা আরও বেড়ে যায়। ফলে দুশ্চিন্তাও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ফলে অন্য কোনও দিকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    আবেগ চেপে রাখার ফলে গুরুতর রকম ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার দেখা দিতে পারে। সামান্য রাগ বা দুঃখও চেপে রাখা উচিত নয়। শুধু জানতে হবে যে সবদিক বজায় রেখে আবেগের বহিঃপ্রকাশের উপায় কী। ডাঃ মঞ্জুলা বলেন, “কোন আবেগই, মূলত, ভাল বা খারাপ নয়। সমস্ত আবেগই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। সেই আবেগের মাত্রা ও বহিঃপ্রকাশের ধরণের উপর নির্ভর করে এই ভাল বা খারাপ হওয়া নির্ভর করে।”

    ১০.সাহায্য চান

    এই পৃথিবীতে আক্ষরিক অর্থে সুখী ও নিশ্চিন্ত জীবন কেউ কাটান না। কাজেই মন খারাপ হলে, বিপদে পড়লে, হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়লে, বিচলিত হলে, রেগে গেলে, অথবা পরিস্থিতির সাথে খাপ না খাওয়াতে পারলে, বিশ্বাসযোগ্য কোনও ব্যক্তি যেমন – আপনার জীবনসঙ্গী, বন্ধু, অভিভাবক, ভাই-বোন বা আত্মীয়ের সাথে কথা বলুন। তাতেও না হলে একজন কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন। দেরি করবেন না। এতে লজ্জার কিছুই নেই; বরং একে আশার আলো হিসেবে দেখুন। জীবনের বাঁধা বিপত্তিতে একলা চলতে হবে না। প্রাণোচ্ছল জীবনের এটাই একমাত্র রাস্তা।

    রাজিয়া সুলতানা রীমা (সাইকোলজিস্ট)