Category: লিড নিউজ

  • ইউরোপা লিগে ৬১ বছর পর শিরোপা জিতল আতালান্তা

    ইউরোপা লিগে ৬১ বছর পর শিরোপা জিতল আতালান্তা

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২৩ মে, ২০২৪: যে দলটি হারতেই ভুলে গিয়েছিল, সেই দলটিই কিনা ইউরোপা লিগের ফাইনালে এসে হজম করে বসলো তিন গোল! ডাবলিনের আভিভা স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে অ্যাডেমোলা লুকম্যানের দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকেই ধরাশায়ী হয়েছে লেভারকুসেন। এই নাইজেরিয়ানের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে তাদের ৩-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ছয় দশকের শিরোপা খরা কাটিয়ে ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আতালান্তা।দারুণ এক পথচলায় বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি লেভারকুজেন জয় করে বুন্ডেসলিগাও। স্বপ্নের এই পথচলা ইউরোপা লিগে এসে থামল তাদের।

    বিবর্ণ এই দলের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে যায় আতালান্তা। এই ধাক্কা সামলাতে পারেনি আর লেভারকুজেন। বিরতির পর আরও এক গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন অ্যাডেমোলা লুকম্যান। দলকে জেতান প্রথমবারের মতো ইউরোপা লিগের শিরোপা।

    গতকাল রাতে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ডাবলিনের আভিভা স্টেডিয়ামে ৩-০ গোলে জিতে দীর্ঘ ছয় দশকের শিরোপা খরা কাটিয়েছে আতালান্তা। অপরদিকে এই হারে থামল লেভারকুজেনের অপরাজিত ৫১ ম্যাচের যাত্রা।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ চালাতে থাকে আতালান্তা। যার সুফলও পায় তারা। দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় দলটি। জাপাকস্তার পাস ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি পালাসিওস। ফিরতি শটে জাল খুঁজে নেন লুকম্যান। ২৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। বক্সের বাইরে একজনকে কাটিয়ে বুলেট গতির শটে লক্ষ্যভেদ করেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।

    একের পর এক আক্রমণে জার্মান ক্লাবটির ম্যাচে ফেরার পথ বন্ধ করে দেন। এরপর ম্যাচের ৭৫ মিনিটে আরেকটি দারুণ গোলে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লুকম্যান। তাতেই লেখা হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। অপরাজিত মৌসুম শেষ করার বিরলতম রেকর্ডের খুব কাছ থেকেই ফিরতে হয়েছে লেভারকুসেনকে। বিপরীতে ৬১ বছর পর কোনো শিরোপা নিয়ে উল্লাস করে আতালান্তা।

  • বিশেষ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আম ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারে

    বিশেষ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আম ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারে

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৩ মে, ২০২৪: আমের মৌসুম শুরু না হলেও আর বাজারে ইতোমধ্যে গাছপাকা রসালো আম ওঠা শুরু হয়েছে। আম সবার প্রিয় একটি ফল। তবে আম যে শুধুমাত্র তার স্বাদের জন্য অনন্য, তা নয়। এই ফলটি বিশেষ পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।

    তবে আমে প্রাকৃতিকভাবেই চিনির পরিমাণ বেশি। তাই এটি খেলে মানুষের শরীরের স্যুগারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ কারণে অনেকে বলে থাকেন, ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়া উচিৎ না। কিন্তু আম কি আসলেই ডায়াবেটিসের মাত্রা বৃদ্ধির কারণ? এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে যে ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ না।

    আমের পুষ্টিগুণ:

    পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এ, বিটা ক্যারটিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি থাকে। তাই, কাঁচা আমের তুলনায় আঁশযুক্ত পাকা আম শরীরের জন্য বেশি ভালো। পাকা আমে পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় উপাদান পেকটিন থাকে, যা পাকস্থলিতে থাকা খাদ্যকে ভালোভাবে পরিপাক হতে সাহায্য করে।

    এছাড়া, আমের বিশেষ কিছু এনজাইম খাদ্য উপাদানের প্রোটিনকে ভালোভাবে ভেঙে ফেলতে কাজ করে। যা সামগ্রিকভাবে পরিপাক ক্রিয়ায় অবদান রাখে। আমে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও অন্যান্য ২৫ ধরনের ক্যারোটেনয়েডস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে, আমে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও চোখের চারপাশের শুষ্কভাবও দূর করে।

    আমে প্রচুর বিচাক্যরটিন থাকায় এবং ভিটামিন এ , ই থাকায় আমাদের স্কিন খুব ভালো রাখে এবং এটি খেলে চোখের দৃষ্টি শক্তিও ভালো থাকে।

    শুধু তাই নয় ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে আম।

    কৃষি তথ্য সার্ভিসের বর্ণনা অনুযায়ী, পাকা আমে যেহেতু কাঁচা আমের তুলনায় শর্করার পরিমাণ বেশি, তাই কাঁচা আম দেহের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। লিভারের সমস্যায় কাঁচা আম উপকারী। এটি বাইল এসিড নিঃসরণ বাড়ায়। অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে। দেহে নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।

    সবমিলিয়ে, আমে থাকা নানা ধরনের পুষ্টি উপাদানের জন্য এটি উপরে উল্লিখিত বিষয়ের বাইরেও খসখসে চামড়া, চুলপড়া, হজমের সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। একাধারে অতুলনীয় স্বাদ ও একাধিক পুষ্টিগুণের কারণেই একে ফলের রাজা বলা হয়।

     

    একজন মানুষের দৈনিক কতটুকু আম খাওয়া উচিৎ। এটা নির্ভর করে একজন মানুষের শারীরিক পরিস্থিতি কেমন, তার উপর। এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ অনায়াসেই দৈনিক দু’টো আম খেতে পারেন। ফজলি আমে ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ অনেক।

    তবে যারা কিডনি বা ডায়াবেটিসের রোগী, আম খাওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

    কিডনি রোগীদের ডাক্তার ও পুষ্টিবদের সাথে পরামর্শ করে আম খাওয়া উচিৎ। কারণ আমে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া, যুক্তরাজ্যে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এর প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯ থেকে ৬৪ বছরের পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন। যেহেতু এক কাপ আমে প্রায় ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, সেহেতু অন্য কোনও জটিলতা না থাকলে একজন সুস্থ মানুষ ওই পরিমাণ আম খেতেই পারেন।

    পুষ্টিবিদরা আরও জানিয়েছে, প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ৭৯ থেকে ৮২ গ্রাম ক্যালরি পাওয়া যায়। এছাড়া, একটি আমের ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ পানি থাকে। তবে মজার বিষয় হলো, আমে কোনও ‘কোলেস্টেরল’ থাকে না। এমনকি এতে ক্ষতিকর লবণও নেই। তারপরও অনেকেই মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে আম খেতে চান না।

    ডায়াবেটিস রোগী কতটুকু আম খেতে পারবেন?

    অনেকেই বলে থাকেন, ডায়াবেটিস রোগীরা আম খেতে পারবেন না। যদিও এ বিষয়ে গবেষণার ফলাফল এবং চিকিৎসকদের বক্তব্য ভিন্ন কথা বলছে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত ‘ম্যাংগো অ্যান্ড ডায়াবেটিস’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে যে ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ না। তবে তাদেরকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আম খেতে হবে।

    এই গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি সতর্কতার সাথে আম খাওয়া হয়, তাহলে ডায়াবেটিসের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে না। তবে একসাথে অনেকখানি না খেয়ে অল্প আম খাওয়া উচিৎ। যেমন, একজন ডায়াবেটিক রোগী দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম আম খেতে পারেন। অথবা, দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তিনি ৫০ গ্রাম করে তিনবারও আম খেতে পারেন।

    কিন্তু সাধারণত আম খেলে মানুষ একটি বা কয়েক টুকরা আম খায়। তবে যখন আম দিয়ে শরবত বানানো হয়, তখন সেখানে একাধিক আম ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই না, সঙ্গে কিছুটা চিনিও দেওয়া হয়। তখন তাতে চিনির মাত্র দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাই, আমের শরবত খাওয়ার চেয়ে অল্প পরিমাণ আম খাওয়া ঢের ভালো।

    সুতরাং, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে কোনোপ্রকার সমস্যা ছাড়াই ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণ আম খেতে পারবেন।

    বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে বিভিন্ন জাতের আম বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে। এখন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার পাশাপাশি রংপুর ও দিনাজপুরেও আম ভালো উৎপন্ন হয়। এখন দেশের প্রতিটি অঞ্চলে হাইব্রিট আম চাষ হচ্ছে। তবে এবার আবহাওয়ার কারণে দেশে আমের উৎপাদন কম। আবার বিশ্বের পাঁচটি দেশ বাংলাদেশের আম নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে এবার আমের ঘাতটি দেখা দিতে পারে।এ কারণে দামও বাড়তে পারে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • মন্দঋণের কারণে পুরো অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে: সিপিডি

    মন্দঋণের কারণে পুরো অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে: সিপিডি

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৩ মে, ২০২৪: মন্দঋণের কারণে পুরো অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে, বলে জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।তিনি বলেন, “সুশাসনের অভাব, জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি ও স্বচ্ছতা না থাকার কারণে মন্দঋণ বেড়েছে। আর মন্দঋণ পুরো অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে।”

    আজ বৃস্পতিবাবার (২৩ মে) রাজধানীর হোটেল লেকসোরে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য সামনে কী আছে’শীর্ষক সেমিনারে মূল্য প্রবন্ধে এ সব তথ্য তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এই তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

    ফাহমিদা খাতুন বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। এই অর্থনীতির আকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ ও সাধারণ মানুষদের লেনদেনের জন্য আর্থিক খাতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক চড়াই-উতড়াইয়ের পরও ব্যাংকিং খাতের প্রসার ঘটেছে। আমরা শুধু ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা করি, নন-ব্যাংকিং খাতেরও সমস্যা কম নয়। ব্যাংকিং খাতের স্বাস্থ্যের অন্যতম মূল নিয়ামক হচ্ছে খেলাপি ঋণ। সেটার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে। এ খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অনেকখানি ক্ষরণ ঘটেছে। সেই ক্ষরণের কারণে ব্যাংকিং খাত এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ব্যাংকিং পারফর্মেন্স বিষয়টি বিদেশিরা পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তারা সময় সময় এ বিষয়ে র‍্যাটিং করে থাকে। সর্বশেষ বি-১ র‍্যাটিং এর থেকে বিদেশিরা তাদের আউটলুক র‍্যাটিং আরও কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাংক বাই ব্যাংক হিসাব করে দেখা গেছে ২০১২ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ৪২ হাজার ৭১৫ থেকে বেড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা হয়েছে। এর বাইরে অনেক ধরনের দুর্বল বিষয় রয়েছে।

    ২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া প্রতিবেদন অনুসারে, পুনঃ তফসিল ঋণসহ খারাপ ঋণ যদি যোগ করা হয় তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। যা বড় অংক। এছাড়াও খারাপ ঋণ রয়েছে। বর্তমানে অর্থ ঋণ আদালতে ৭২ হাজার ৫৪৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ যোগ করলে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকেও বাড়ছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের যে আইনি কাঠামো দরকার, সেটা বাংলাদেশে নেই। ঋণ খেলাপের মামলাগুলো সহজে নিষ্পত্তি রয়েছে। যথেষ্ট বিচারক নেই সেখানে।

    প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ব্যাংকগুলোর সমস্ত তথ্য জনসন্মুখে প্রকাশ পাচ্ছে না। যারা প্রকাশ করে না, তারা লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না। যতটুকু প্রকাশিত হয়, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। আর একটি বিষয় হচ্ছে তথ্যের দরজা ক্রমান্বয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া। আমরা তথ্যের জন্য মিডিয়ার ওপরে নির্ভর করতাম, সেটাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তথ্যের অভাবের কারণে ভুল নীতি গৃহীত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।”

     

    তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতের এই অবস্থা থেকে যদি টেনে তুলতে হয়ে, তাহলে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিগত দিনে আমরা দেখেছি লাভের ব্যক্তিকরণ এবং ক্ষতির রাস্ট্রীয়করণ করা।”

    সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক ইসতিয়াক আহমেদ।

  • ইউসেফ এর মাধ্যমে বঞ্চিত শিশুরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে: স্পিকার

    ইউসেফ এর মাধ্যমে বঞ্চিত শিশুরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে: স্পিকার

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: ইউসেফে এর মাধ্যমে বঞ্চিত শিশুরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে, বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, “দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেফ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অস্বচ্ছল পরিবারের সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা আজ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন-এটাই ইউসেফের সফলতা।”

    আজ রাজধানীর শাহবাগস্থ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব কনভেনশন হলে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেফ) এর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্পিকার বলেন, “দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেফ) বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কারিগরি শিক্ষা ও শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউসেফ নামক কর্মজীবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।

    ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের উন্নয়ন, সুরক্ষা ও বিকাশের পাশাপাশি মানব সম্পদ উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। যুব সমাজকে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে হবে।”

    তিনি বলেন, “উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তরুণ প্রজন্ম নিজেদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।”

    এসময় স্পিকার ইউসেফ এর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সম্প্রসারণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং ইউসেফের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    ইউসেফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নির্বাহী পরিচালক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মূখ্যসচিব ড. মো. আব্দুল করিম। ইউসেফ বোর্ড অফ গভর্নরস এর সাবেক চেয়ারম্যান পারভীন মাহমুদ, ইউসেফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য জেবা রশীদ চৌধুরী, এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকলস এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি বক্তব্য রাখেন।

  • জেনারেল জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করেছিলেন: পাট মন্ত্রী

    জেনারেল জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করেছিলেন: পাট মন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – রাজনীতি – ২২ মে, ২০২৪: জেনারেল জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করেছিলেন, বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, “১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে জেনারেল জিয়া বিরাজনীতিকরণের ধারার সূচনা করেছিলেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করেছিলেন। সেই দিনে আর ফিরে যেতে দেয়া যাবে না।”

    আজ বুধবার (২২ মে) দিনাজপুর সার্কিট হাউজে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া জাকা, সাবেক সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাবুজ্জামান মিতা। বৈঠকে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বলেন, “জিয়াউর রহমানের এই দলের জন্মই হয়েছিলো আমাদের স্বাধীনতাকে হত্যা করার জন্য। সেজন্যই তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী ও যুদ্ধাপরাধী  গোলাম আযম, নিজামীদের আশ্রয়  দিয়েছিলেন। পচাত্তর পরবর্তী সময়ে খুনি ডালিম রশিদদের পুরস্কৃত করেছিলেন।”

    তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ দলটিকে নিশ্চিহ্ন করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে। কিন্তু আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর আমরা একটি প্রত্যয় দেখতে পেলাম। আমরা তাঁর পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমারা ঘুরে দাড়ালাম।

    মন্ত্রী বলেন, “এদেশে সরকারে থাকবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, বিরোধী দলেও থাকবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরাই দেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে। পাট উৎপাদন ও পাটের বস্তাসহ অন্যান্য পাটপণ্য ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।”

    তিনি বলেন, “এখানে একটি টেক্সটাইল মিলের ৩৬.৭৪ একর জমি পড়ে আছে।  এটাকে ফেলে রাখা হবে না। এটা নিয়ে  শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”

  • বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই: ডরিন

    বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই: ডরিন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই, বলে জানিয়েছেন কলকাতায় নিহত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারে মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তিনি বলেন, “আমার বাবাকে হত্যার বিচার চাই। আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে, এটি আমি দেখতে চাই। কাউকে সন্দেহ করছি না। আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের আমি দেখতে চাই।”

    আজ বুধবার (২২ মে) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমনটি জানান।

    ডরিন বলেন, “বাবাকে হত্যা করা হয়েছে শুনেই আমি ডিবিপ্রধানের কাছে এসেছি। তারা এরইমধ্যে তিনজনকে ধরেছেন। আমি মামলা করব। ডিএমপি কমিশনার, ডিবিপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সবাই আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। ডিবি আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমার একটিই অনুরোধ, আপনারা আমার বাবার হত্যার সুষ্ঠু বিচার করুন। এক সময় আমার বাবা ১৪ বছর মিথ্যা মামলায় পালিয়ে থেকেছেন। তখন আমি অনেক ছোট, তখনো আমি আমার বাবাকে কাছে পাইনি। এখন আবার আমার বাবাকে হারিয়ে ফেললাম। আপনারা কেউ আমার বড় ভাই, কেউ বাবার মতো। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। আমি স্বচক্ষে দেখতে চাই, কারা আমাকে এতিম করল, কেন করল।”

    বাবার সঙ্গে আপনার বা পরিবারের সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, জানতে চাইলে ডরিন বলেন, “আমার সঙ্গে বাবার সর্বশেষ ভিডিওকলে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আম্মু আমি ইন্ডিয়ায় যাচ্ছি। দু-একদিনের মধ্যে চলে আসব। তোমাকে দাঁতের ডাক্তার দেখানোর কথা। আমি ফিরে এসে তোমাকে দাঁতের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব, তুমি যেও না। ডাক্তার কল করলে বলবে, বাবা ইন্ডিয়াতে গেছে, ফিরে আসলে যাব। তুমি থাকো, আমি আসছি।’ তারপর আর বাবার সঙ্গে কথা হয়নি।

    কাউকে সন্দেহ করছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আগে দেখতে চাই কারা এ কাজ করেছে। তারপর আমি আমার সন্দেহের কথা বলব।”

  • আজ এফডিসিতে নিপুণ কাণ্ডে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠনের বৈঠক

    আজ এফডিসিতে নিপুণ কাণ্ডে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠনের বৈঠক

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২২ মে, ২০২৪: গত ২০ মে (সোমবার) হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সম্পাদক পদে মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। শুধু তাই নয় হাইকোর্ট একই সঙ্গে সমিতির নির্বাচনে অনিয়মের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন। এর আগে গত বুধবার (১৫ মে) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদি নির্বাচন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন পরাজিত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নাসরিন আক্তার নিপুণ। রিটে মিশা-ডিপজলের নেতৃত্বাধীন কমিটির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

    এই প্রেক্ষিতে আজ  উত্তাল এফডিসি। নিপুণের কাণ্ডে বৈঠকের ডাক দিয়েছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠন।

    আজ বুধবার (২২ মে) বিকেলে এফডিসিতে ১৮ সংগঠনের সঙ্গে শিল্পী সমিতির গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা গেছে।

    এই বৈঠকে স্টার সিনেপ্লেক্সের অনিয়মসহ নিপুণের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত আসবে বলে শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, এদিন নিপুণকে বয়কটের সিদ্ধান্ত আসবে!

    মিটিং শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে থেকেই এফডিসিতে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। চলছে নিপুণের বিপক্ষে মিছিল ও বিক্ষোভ। সাধারণ শিল্পীরা স্লোগান দিচ্ছেন এফডিসি চত্বরে। বিক্ষোভে ব্যানার হাতে শিল্পীরা নিপুণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

    গত ১৯ এপ্রিল অনেকটা আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এবার সভাপতি পদে মিশা সওদাগর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মনোয়ার হোসেন ডিপজল নির্বাচিত হয়েছেন। সবার আগে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পরাজিত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিপুণ আক্তারই ফুলের শুভেচ্ছা জানান।

    কিন্তু এর কয়েক দিন পর উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেন নিপুণ। তার দাবি, শিল্পী সমিতির নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। নতুন কমিটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন এই অভিনেত্রী।

    দেখার বিষয় আজ এফডিসিতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮ টি সংগঠন কি নিন্ধান্ত নেয়। তবে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে: আইজিপি

    দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে: আইজিপি

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে, বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদে নির্ভীকচিত্তে নিজ নিজ ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন। সকল ধর্মের মানুষের মেলবন্ধনে আমাদের দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে।”

    আজ বুধবার (২২ মে) সকালে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

    আজিপি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। আমরা আজ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের সাথে উৎসবের আনন্দে মিলিত হতে এখানে এসেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে বর্তমানে যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করছেন।”

    আইজিপি বলেন, “ভারতে নিখোঁজ সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালি আমাদেরকে নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।”

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোঃ আতিকুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) ড.খঃ মুহিদ উদ্দিন, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি প্রকৌশলী দিব্যেন্দু বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মমিত্র মহাথের প্রমুখ।

  • এমপি আনোয়ারুলের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

    এমপি আনোয়ারুলের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল আজিম আনারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ।

    আজ বুধবার (২২ মে) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    উল্লেখ্য, বুধবার সকালে কলকাতার অভিজাত এলাকা নিউটাউনের সঞ্জিভা গার্ডেন্স থেকে আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধার করে কলকাতা পুলিশ।

    এর আগে গত ১১ মে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার চিকিৎসার জন্য ভারতে যান।   সেখানে কলকাতার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান নেন। ১৩ মে স্থানীয় সময় (কলকাতা) বেলা পৌনে ২টার দিকে ডাক্তার দেখানোর জন্য গোপাল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে বের হন আনোয়ারুল আজিম। সন্ধ্যায় ফিরবেন জানালেও এরপর আর ফেরেননি।

  • কলকাতায় এমপি আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধার

    কলকাতায় এমপি আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধার

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ মে) কলকাতার নিউটাউন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    গত ১২ মে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এমপি আনার। নদীয়া সীমান্ত অতিক্রম করার পর সন্ধ্যায় কলকাতার অদূরে ব্যারাকপুর কমিশনারেট এলাকার বরাহনগর থানার ১৭/৩ মন্ডলপাড়া লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছান। পরদিন দুপুর ১টা ৪০ নাগাদ ওই বাড়ি থেকে কিছুটা হেঁটে বিধানপার্ক কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে গিয়ে একটি গাড়িতে উঠেন। ওই সময় তিনি হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন।

    চিকিৎসকের কাছে গিয়ে আর ফেরেননি জানিয়ে ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন গোপাল বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

    গোপাল বিশ্বাস জিডিতে উল্লেখ করেন, ‘আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে তার ২৫ বছর ধরে পারিবারিক সম্পর্ক। ১২ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনোয়ারুল আজিম কলকাতার মণ্ডলপাড়া লেনে তার (গোপাল বিশ্বাস) বাড়িতে আসেন। তিনি কলকাতায় আসেন চিকিৎসা করাতে। পরদিন (১৩ মে) স্থানীয় সময় (কলকাতা) বেলা পৌনে ২টার দিকে ডাক্তার দেখানোর জন্য গোপাল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে বের হন আনোয়ারুল আজিম। যাওয়ার সময় তিনি (আনোয়ারুল) বলে যান, দুপুরে খাবেন না। সন্ধ্যায় ফিরে আসবেন। পরে তিনি কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে এসে নিজেই গাড়ি ডেকে চলে যান। ’

    জিডির তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজিম সন্ধ্যায় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ফেরেননি।

    এমপি আনোয়ারুল আজিমের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে পরে মেসেজ আসে। তাতে লেখা ছিল, ‘আমি বিশেষ কাজে দিল্লিতে চলে যাচ্ছি। ফোন করবো, তোমাদের ফোন করার দরকার নেই’।

    এরপর ১৫ মে বেলা ১১টা ২১ মিনিটে ফের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসে, ‘আমি দিল্লিতে পৌঁছেছি। আমার সাথে ভিআইপিরা আছেন। ফোন করার দরকার নেই’।

    এই একই মেসেজ নিজের বাড়িতে এবং নিজের পিএকে ফরওয়ার্ড করা হয় এমপির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে।

    থানার ওই ডায়েরিতে গোপাল আরও জানান, গত ১৬ মে সকালে এমপির পিএ ফোনকল করলেও তা রিসিভ করেননি তিনি। পরে কলব্যাকও করেননি। এরপর ১৭ মে এমপির মেয়ে তাকে ফোন করে বলেন, ‘আমার বাবার সাথে কোনোভাবে যোগাযোগ করতে পারছি না’। এরপরই আমি ওনার যাবতীয় পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং সবাই তারপর থেকে ওনাকে ফোনকল করেও সাড়া পাচ্ছেন না। সে কারণেই আমি বরানগর থানায় মিসিং ডায়েরি করছি।’

    তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান এমপি আনোয়ারুল আজিমের ব্যক্তিগত সহকারি (পিএস) আব্দুর রউফ।

     

    এমপি আনোয়ারুল আজিম কে হত্যা প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন:

    কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া একজন ক্যাবচালক জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশের বাংলাদেশের ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।কলকাতা বিধান নগর পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মানব শ্রিংলা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “ ক্যাব চালক স্বীকারোক্তি দিয়েছে ১৩ই মে যে ব্যক্তিকে সে গাড়িতে তুলেছিল তাকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করে লাশ ছড়িয়ে দিয়েছে”।

    তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা, অথবা মরদেহ পাওয়া গেছে কিনা, সেই বিষয়ে কলকাতার পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

    পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে ফ্ল্যাটে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সেটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। সেখানে কাউকে এখনও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে তিনজনকে ঢুকতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। এদের মধ্যে একজন মহিলা। তবে ওই তিন জনকে সেখান থেকে বের হতে আর দেখা যায় নি।

    কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জিবা টাউনের একটি ফ্ল্যাট ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কলকাতা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

    মি. আজিমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন সকালে কলকাতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বলে নিশ্চিত করেছে কলকাতায় বাংলাদেশের হাইকমিশন।

    এর আগে ২০শে মে মি. আজিমের খোঁজ করতে গিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করেছিল।

    তারা জানতে পেরেছে কলকাতায় বন্ধুর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার মোবাইলের লোকেশন একবার পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার নিউমার্কেট এলাকায়। এরপর ১৭ই মে তার ফোন কিছুক্ষণের জন্য সচল ছিল বিহারের কোনও জায়গায়।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস কর্তৃপক্ষ, এমনটাই জানিয়েছিলেন উপ-দূতাবাসের এক কর্মকর্তা, যিনি তার নাম প্রকাশ করতে চাননি।

    কলকাতার উত্তর শহরতলি বরাহনগর এলাকার সিঁথিতে যে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন মি. আজিম, সেই গোপাল বিশ্বাস বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে, ১৩ই মে তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যে ভাড়া করা গাড়িতে উঠেছিলেন মি. আজিম, সেটির চালকের সন্ধান পেয়েছে বলেই স্থানীয় পুলিশের তরফে তাকে জানানো হয়েছে।

    “পুলিশের কাছে আমি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলাম। তারা ওই গাড়িটিকে খুঁজে বার করেছে আর চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই চালক নাকি পুলিশকে জানিয়েছেন যে সংসদ সদস্যের সঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এদের দুজনকে তিনি কলকাতা সংলগ্ন নিউ টাউন এলাকায় ছেড়ে দেন ১৩ই মে,” জানাচ্ছিলেন মি. বিশ্বাস।

    এর বাইরে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ সংসদ সদস্যের ব্যাপারে আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ২০শে মে উপ-দূতাবাসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস সচিব রঞ্জন সেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সংসদ সদস্যের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের শনিবার জানানো হয়। তারপরই আমরা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা খোঁজখবর করছেন এমনটাই আমাদের জানানো হয়েছে।”

    আবার শেষবার যেহেতু নিখোঁজ সংসদ সদস্যকে কলকাতায় দেখা গিয়েছিল, তাই কলকাতা পুলিশের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ রাখছিল বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস।

    কলকাতার সিঁথি অঞ্চলের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাস এর আগে বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে তার পারিবারিক সম্পর্ক।

    মি. বিশ্বাস বলছিলেন, “এবারে তিনি এসে আমাকে বলেছিলেন যে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাবেন। কোন ডাক্তার ভালো হবে, সেটাও জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমার জানাশোনা কোনও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ নেই, তাই আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছিলাম সল্ট লেকের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারেন”।

    “আমরা একসঙ্গে সকালের জলখাবার খেয়েছিলাম। তারপরে এটাও তাকে বলেছিলাম যে আমার গাড়ি সেদিন নেই, উনি যেন গাড়ির বন্দোবস্ত করে নেন। এরপরে আমি বাড়ির একতলায় অফিসে চলে আসি।”

    “এরপর আমি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। দুপুরে বেরনোর সময়ে আমাকে বলে যান যে তিনি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরবেন। তার খোঁজ না পাওয়ার পরে আমি যখন সিসিটিভি ফুটেজ দেখি, তখন জানতে পারি যে উনি আমার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন দুপুর একটা ৪১ মিনিটে,” বলছিলেন গোপাল বিশ্বাস।

    বরাহনগর থানায় যে নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন গোপাল বিশ্বাস সেখানে তিনি লিখেছেন, তার বাড়ির অদূরে বিধান পার্ক এলাকা থেকে ভাড়ার গাড়িটিতে ওঠেন আনোয়ারুল আজিম। তাকে গাড়িতে উঠতে দেখেছেন, এমন একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথাও পুলিশকে জানিয়েছেন মি. বিশ্বাস।

    সন্ধ্যায় বন্ধুর বাড়িতে ফিরে আসার কথা থাকলেও সেখানে ফেরেননি মি. আজিম।

    হোয়াটস্অ্যাপে ১৩ই মে তিনি মেসেজ পাঠান যে “বিশেষ কাজে দিল্লি চলে যাচ্ছি এবং পৌঁছে ফোন করবো, তোমাদের ফোন করার দরকার নেই।”

    কলকাতার গোপাল বিশ্বাসের গহনা রফতানির ব্যবসা আছে। তিনি জানাচ্ছিলেন, দুই আড়াই দশকের বন্ধুত্ব সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে।

    “বাংলাদেশে বিএনপির জমানায় ও ভারতে থাকত। আমাদের বাড়ি মাঝদিয়ায়। সেখানে সুভাষ আগরওয়ালের বাড়িতে থাকত আনার। আমার সঙ্গে সেখানেই পরিচয়, তারপরে বন্ধুত্ব। সম্পর্কটা এখন পারিবারিক স্তরে চলে গেছে,” জানালেন গোপাল বিশ্বাস।

    সে কারণেই চিকিৎসা করাতে এসে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন আনোয়ারুল আজিম।

    সেদিন দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরে মি. আজিম যে ভাড়াচালিত গাড়িতে উঠেছিলেন সেটির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এরপর গোপাল বিশ্বাসকে পুলিশ জানিয়েছে, মি.আজিমের সাথে আরেকজন বাংলাদেশি নাগরিককে নিউ টাউন অঞ্চলে ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন ওই চালক। এরপর ১৫ই মে সকালে গোপাল বিশ্বাস মি. আজিমের কাছ থেকে আবারও একটি হোয়াটস্অ্যাপ মেসেজ পান যে তিনি দিল্লি পৌঁছেছেন এবং তার সঙ্গে ‘ভিআইপিরা’ আছেন, তাই তাকে যেন ফোন না করা হয়।

    এর দু’দিন পরে, ১৭ই মে গোপাল বিশ্বাসকে মি. আজিমের মেয়ে ফোন করে জানান যে তার বাবার সঙ্গে কিছুতেই তারা যোগাযোগ করতে পারছেন না।

    “সে খবর জানতে পেরে কলকাতায় ওর যত ঘনিষ্ঠ মানুষ আছেন বলে আমি জানি, সবাইকে বিষয়টা জানাই। তারাও খোঁজ খবর করতে শুরু করেন। কিন্তু কোনোভাবেই আজিমকে ফোনে পাওয়া যায়নি,” বলছিলেন মি. বিশ্বাস।

    পরের দিন, ১৮ই মে বরাহনগর থানায় যান তিনি।

    মি. বিশ্বাস বলছিলেন, “সেখানে আমাকে সারাদিন বসিয়ে রাখা হয়। পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। সেসব খতিয়ে দেখে আমার নিখোঁজ ডায়েরি নেওয়া হয়। তারা ওই ভাড়ার গাড়িটির নম্বরও পেয়ে যায়। চালকের সঙ্গে কথা বলেছে। নিশ্চয়ই পুলিশ খোঁজখবর করছে, আমাকে তো আর সব তথ্য জানাচ্ছে না।”

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস যে তথ্য পেয়েছিল, সে অনুযায়ী ১৭ই মে মি. আজিমের মোবাইল নম্বরটি কিছুক্ষণের জন্য বিহারে অবস্থান করছিল। আবার এটাও জানতে পেরেছে তারা যে মোবাইল সেট থেকে সিম কার্ডটি আলাদা করে রাখার কারণে সঠিক অবস্থান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    এর আগে, ঢাকায় ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, “ তার দুটি বাংলাদেশি নম্বর আছে আর একটি ভারতের নম্বর। আমরা ভারতীয় পুলিশের সহযোগিতায় তার ভারতীয় নম্বরটি দেখলাম মুজাফফরাবাদ অর্থাৎ বিহারের দিকে।“

    ঘটনাচক্রে বিহারে মুজাফফরাবাদ নামের জায়গা নেই। পাকিস্তান শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানীর নাম মুজাফফরাবাদ, আর প্রায় কাছাকাছি যে নামের জায়গা বিহারে আছে, সেই জায়গার নাম মুজফ্ফরপুর। ডিবির প্রধান সেদিন জানিয়েছেন, “আমরা বিষয়টার খোঁজখবর রাখছি। ভারতের যারা বাংলাদেশে আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলছি, আবার ভারতীয় পুলিশের সঙ্গেও কথা বলছি। উনার পরিবারও যোগাযোগ রাখছে আমাদের সঙ্গে। তার মেয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন।”

    ডিবি কার্যালয়ে বাবার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন সংসদ সদস্যের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।