Category: বাংলাদেশ

  • তদন্তাধীন মামলায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া বন্ধ চেয়ে আইনি নোটিশ

    তদন্তাধীন মামলায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া বন্ধ চেয়ে আইনি নোটিশ

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৯ মে, ২০২৪: আনার হত্যাকাণ্ডসহ সব তদন্তনাধীন মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের আগে গণমাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন না করা সংক্রান্ত হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সরকারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    আজ বুধবার (২৯ মে) জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের কমিশনার বরাবর এ নোটিশ পাঠান আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

    নোটিশে বলা হয়েছে, ঝিনাইদাহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়ে নিখোঁজ হন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যে ঘটনা ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত। তার মরদেহ ‘সম্পূর্ণ’ উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ার বিষয়টি জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ইলেকট্রনিক, প্রেস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রিয়েল টাইম আপডেট’ প্রচার করা হচ্ছে।

    এই বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করছে। সময়ে সময়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনার হালনাগাদ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করছে। সাংবাদিকরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নানান ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করছেন। এমন প্রেক্ষিত বিবেচনায় গণমাধ্যমের সামনে কর্তৃপক্ষ উত্তর দিচ্ছেন। ছোটো-খাটো অনেক বিষয় উঠে আসছে। লাইভ সম্প্রচার হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম পছন্দ অনুযায়ী হেডলাইন করছে। ফ্রিল্যান্সাররা খণ্ডাংশ উল্লেখ করে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচার করছেন। এ বিষয়ে হরেক-রকম বিভ্রান্তিও তৈরি হচ্ছে।

    অতীতেও তদন্তনাধীন চাঞ্চল্যকর ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। তন্মধ্যে বুয়েটছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ড, ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ড, ফেনীর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকরাম হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য।

    এই সংক্রান্তে আমাদের হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বনাম রাষ্ট্র (৩৯ বিএলডি ৪৭০) মামলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

    ওই রায়ের বলা হয়, ‘এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা খুবই সংগত হবে যে, ইদানীং প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় যে, বিভিন্ন আলোচিত অপরাধের তদন্ত চলাকালীন সময়ে পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পূর্বেই বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা অনেকসময় মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অমর্যাদাকর এবং অনুমোদনযোগ্য এবং বিভিন্ন মামলার তদন্ত  সম্পর্কে অতি উৎসাহ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে ব্রিফিং করা হয়ে থাকে। আমাদের সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতে একজন অভিযুক্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত না হচ্ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না যে, তিনি প্রকৃত অপরাধী বা তার দ্বারাই অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে। গণমাধ্যমের সামনে গ্রেপ্তার কোনো ব্যক্তিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা সংগত নয় যে, তার মর্যাদা ও সম্মানহানি হয় এবং তদন্ত চলাকালে অর্থাৎ পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের পূর্বে গণমাধ্যমে গ্রেপ্তার কোনো ব্যক্তি বা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে এমন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন সমীচীন নয়, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বিতর্ক বা প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে। ’

    রায়ে আরও বলা হয়, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থাপনের পূর্বেই গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন এবং কোনো মামলার তদন্ত চলাকালীন সময়ে তদন্ত বিষয়ে কতটুকু তথ্য গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা সমীচীন হবে সে সর্ম্পকে একটি নীতিমালা অতি দ্রুততার সঙ্গে প্রণয়ন করা বাঞ্ছনীয়। এই নীতিমালা প্রণয়ন ও যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ/সুরক্ষা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মহাপরিদর্শক, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া গেল। ’

    সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের ঘোষিত রায় সবার জন্য বাধ্যকর। ফলশ্রুতিতে হাইকোর্ট বিভাগের উল্লেখিত রায় সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য অবশ্য পালনীয়।

    এমন পরিস্থিতিতে আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডসহ সব তদন্তনাধীন মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট  সবাইকে অনুরোধ করা হয়।  অন্যথায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ আইনি প্রতিকার চাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • দুর্নীতির ব্যাপারে সরকার প্রধান আপসহীন: সেতুমন্ত্রী

    দুর্নীতির ব্যাপারে সরকার প্রধান আপসহীন: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৮ মে, ২০২৪: দুর্নীতির ব্যাপারে সরকার প্রধান আপসহীন, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিন বলেন, “আজিজ, বেনজীর ইস্যুতে সরকার বিব্রত নয়। কারণ, সরকারের বিচার করার সৎ সাহস আছে। সরকার তাদের অপরাধ অস্বীকার করে পার পেয়ে যাবার সুযোগ দেয়নি। দুর্নীতির ব্যাপারে সরকার প্রধান আপসহীন।”

    আজ মঙ্গলবার (মে ২৮) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “তদন্ত হচ্ছে মানে মামলা হলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কোনো অপরাধী শাস্তি ছাড়া পার পাবে না শেখ হাসিনার আমলে। সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ যদি অপরাধী হন, তার বিরুদ্ধেও তদন্ত করতে পারবে দুদক। অপরাধী হলে অপরাধের জন্য শাস্তি পেতেই হবে। তিনি যেই হোন।”

    ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে একজন সৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে তার জনপ্রিয়তার মূলে তার সততা ও পরিশ্রম। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সব সময় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।”

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “ফখরুল এবং বিএনপি নেতারা এখন কথায় কথায় সাবেক আইজিপির দুর্নীতির কথা বলেন। তাদের আমলে সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা তার বিচার কি করেছে তারা? রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার প্রাণনাশের সঙ্গে জড়িত, এর বিচার কি বিএনপি করেছে? এসপি কোহিনুর, যার হাতে কত রাজনৈতিক কর্মী নির্যাতিত হয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা নারী পর্যন্ত রাজপথে মিছিল করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার নির্যাতন, দুর্নীতির কথা ঢাকা শহরের মানুষের মুখে মুখে। তার বিচার কি হয়েছে? তাদের আমলে যেসব নেতাকর্মী দুর্নীতি করেছে, হাওয়া ভবনের দুর্নীতি—এসবের বিচার কি তারা করেছে?”

    ওবায়দুল কাদের বলেন, “চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনকে গুম করে খুন করেছে বিএনপি। এর বিচার কে করেছে? সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ব্যাপারে দুদক তদন্ত করে বের করছে। দুদক স্বাধীন। এই স্বাধীনতা শেখ হাসিনা দুদককে দিয়েছেন। দুদক সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে এখনো তদন্ত হচ্ছে এবং আরও তদন্ত হবে।”

    সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই এদেশে ’৭৫ পরবর্তীকালে একমাত্র ক্ষমতাসীন রাজনীতিক, যিনি অপরাধীকে নিজের দলের লোক হলেও ক্ষমা করেন না। এর প্রমাণ তিনি রেখেছেন। বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগের কর্মীদের কি ছাড় দেওয়া হয়েছে? বিশ্বজিতের কথা সবার জানা আছে।”

    উপকূলীয় এলাকায় বাঁধভাঙা এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জলোচ্ছ্বাসের মুখে সব জায়গায় বাঁধ টিকে থাকবে সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ইচ্ছা হলেই কি এটি রোখা যায়? এর বড় কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড় এবং ঝড়ের গতির মাত্রাও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরশু (আগামী বৃহস্পতিবার) ঘূর্ণিঝড়কবলিত পটুয়াখালী পরিদর্শনে যাবেন। সময় পেলে খুলনায়ও যেতে পারেন।”

    এসময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, উপ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম ও উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • খালে গৃহস্থালির বর্জ্য ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে: মেয়র আতিক

    খালে গৃহস্থালির বর্জ্য ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে: মেয়র আতিক

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৮ মে, ২০২৪: খালে গৃহস্থালির বর্জ্য ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা দেখছি অনেকে অসচেতনভাবে গৃহস্থালির বর্জ্য খাল, ডোবা, নালা, ড্রেনে ফেলে দেয়। সারফেস ড্রেনে ও খালে এমন কোনো ময়লা নেই পাওয়া যায় না। পরিত্যক্ত লেপ, তোশক, সোফা, লাগেজ, খাট, ক্যাবল, টায়ার, কমোড, ফুলের টব, রিকশার অংশবিশেষ, টেবিল, চেয়ার, বেসিন, ব্যাগ, প্লাস্টিকের বিভিন্ন পাত্রসহ নানা পরিত্যক্ত পণ্য; এগুলোর কারণেই মূলত পানি প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। খালের পাড়ে ক্যামেরা বসানো হবে। কেউ ময়লা ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে টেকসই নগরায়ন শীর্ষক অষ্টম নগর সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ ও ২০টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কনসোর্টিয়াম আরবান আইএনজিও ফোরাম যৌথভাবে এই সংলাপ আয়োজন করেছে।

    মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে পদার্পণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। উন্নত বাংলাদেশে জনগণের জন্য সব পর্যায়ে স্মার্ট সেবা নিশ্চিত হবে। স্মার্ট নগর গড়তে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।”

    ডিএনসিসি মেয়র বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও আধুনিক নগর গড়তে ডিএনসিসি অনলাইন ভিত্তিক স্মার্ট সেবা বাড়াতে কাজ করছে। বর্তমান প্রজন্ম সেকেলে পদ্ধতিতে চলতে চায় না। তারা চায় অনলাইনভিত্তিক স্মার্ট সেবা। ডিএনসিসিতে ইতিমধ্যে অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স গ্রহণ এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে। ঘরে বসেই নগরবাসী এসব সেবা পাচ্ছে। সবার ঢাকা অ্যাপ চালু করেছি। যেকেউ ডাউনলোড করে শহরের যেকোনো সমস্যা ছবি তুলে শেয়ার করে দেন, দ্রুতই সমাধান করা হবে।”

    মেয়র আতিক বলেন, “একসময় সেবা পেতে অনেক সময় ও ভোগান্তি ছিল। আমরা সেবাগুলো সহজীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছি। ডিএনসিসি হটলাইন চালু করেছি। ১৬১০৬ হটলাইন নম্বরে চব্বিশ ঘণ্টা যেকোনো অভিযোগ জানাতে পারছেন নগরবাসী। গতকাল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমা ও গাছ উপড়ে পড়ার তথ্য জানিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে কুইক রেসপন্স টিম পৌঁছে ব্যবস্থা নিয়েছে। একদিনে ২৪ ঘণ্টায় ডিএনসিসির হটলাইনে ২৮১ নাগরিক ফোন করেছেন। তাদের সেবা দেওয়া হয়েছে।”

    আতিকুল ইসলাম বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অন স্ট্রিট স্মার্ট পার্কিং চালু করেছি। গুলশানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরীক্ষামূলক চালু করেছি। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেটির বাস্তবায়নও শুরু করেছি।”

    আধুনিক নগর গড়ায় জনগণকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে উল্লেখ করে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, “একসময় ৫৪টি খাল ছিল ঢাকায়। সময়ের ব্যবধানে খালগুলো দখল হয়ে গেছে। সিটি কর্পোরেশন খালগুলো বুঝে পাওয়ার পর উদ্ধার করে খালের উন্নয়ন করছি। কিছুদিন আগে মোহাম্মদপুরে লাউতলা খালে অবৈধ ১০ তলা ভবন ভেঙে দিয়েছি। ভবন সরিয়ে নিতে ১৫ দিন সময় দেওয়ার পরেও সরিয়ে না নেওয়ায় আমরা নিলামে মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। দখলদারদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

    ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে ডিএনসিসি এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, “২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এমন ভারী বৃষ্টিতেও ডিএনসিসি এলাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলো থেকে শতভাগ পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। সারারাত ডিএনসিসির ১০টি কুইক রেসপন্স টিম এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করে ডিএনসিসি এলাকার সব প্রধান সড়কগুলো থেকে পানি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পরই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সকলের ছুটি বাতিল করেছি। নগর ভবনের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। আমি নিজে মনিটরিং সেন্টার পরিদর্শন করেছি। সার্বক্ষণিক হটলাইন নম্বর চালু রাখাসহ কুইক রেসপন্স টিম ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করেছে৷ সবাই এখনো কাজ করছে এবং আবারও বৃষ্টি হলে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।”

    সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

  • রাজধানীর বহুতল ভবনে ৪২.৩৩ % এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে : কীটতত্ত্ববিদ

    রাজধানীর বহুতল ভবনে ৪২.৩৩ % এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে : কীটতত্ত্ববিদ

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৮ মে, ২০২৪: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার কীটতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৩৩ শতাংশ এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) বেলা ১১টায় রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভবনে মৌসুম পূর্ববর্তী এডিস সার্ভের ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠান থেকে এ কথা জানানো হয়।

    অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়, প্রতিবছর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়-মৌসুম পূর্ব, মৌসুম, মৌসুম পরবর্তী তিনটি জরিপ কাজ পরিচালনা করে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত (১০দিন) ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার ঘনত্ব ও প্রজনন স্থান নিরীক্ষার জন্য মৌসুম পূর্ব জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার অভিজ্ঞ কীটতত্ত্ববিদরা ২১টি দলের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় উক্ত জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতি ওয়ার্ড ৮টি ব্লকে ভাগ করে দুটি টিম ৪টি ব্লকে ১৫টি করে প্রতি ওয়ার্ডে ৩০টি বাড়িতে জরিপ পরিচালনা করেন। ১০ দিনে ৯৯টি ওয়ার্ডে সর্বমোট তিন হাজার ১৫২টি বাড়িতে সার্ভে করা হয়।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ঝুঁকিতে থাকা ওয়ার্ডগুলো হলো– ১২, ১৩, ২০, ৩৬, ৩১, ৩২, ১৭, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো– ৪, ১৩, ৫২, ৫৪, ১৬, ৩, ৫, ১৫, ১৭, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড।

    জরিপ করা বাড়িগুলোর মধ্যে ৪৬৩ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বহুতল ভবন ৪২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়ি ২১ দশমিক ৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবন ২১ দশমিক ৬ শতাংশ, সেমিপাকা বাড়ি ১২ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও খালি জায়গা ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

    উত্তর সিটিতে মশার ঘনত্ব পরিমাপক সূচক ব্রুটো ইনডেক্স (BI) ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং হাউস ইনডেক্স (HI) ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। দক্ষিণ সিটিতে মশার ঘনত্ব পরিমাপক সূচক ব্রুটো ইনডেক্স (BI) ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং হাউস ইনডেক্স (HI) ১৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

    বেশ কয়েক বছর ধরে দুই সিটি করপোরেশন থেকে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার নির্মূলে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এডিস মশা যেহেতু পরিস্কার পানিতে বংশ বিস্তার করে তাই বহুতল ভবনের মানুষদের বিভিন্ন ভাবে সচেতন করার পরেও খুব একটা ভালো ফল পাওয়া যায়নি তা কীটতত্ত্ববিদের জরিপে তা উঠে এসেছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা এখনও তেমন ভাবে সচেতন নয়। বিষয়টি উদ্বেগের।

  • সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৭টি: জনপ্রশাসন মন্ত্রী

    সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৭টি: জনপ্রশাসন মন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৮ মে, ২০২৪: সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৭টি, বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, “সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত পদ ১৯ লাখ ১৫১টি। এর মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৭টি।”

    আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলেন, “যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করেই পদোন্নতি ও পদায়ন করা হয়। আমাদের এখানে একটা শৃঙ্খলা চলে এসেছে।”

    তিনি বলেন, “যখন আমরা পদোন্নতি দিই একটা প্রশ্ন আসে পদের চেয়ে পদোন্নতির সংখ্যা বেশি। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন আমাদের অনেক কিছু খেয়াল করতে হয়। আমাদের খেয়াল রাখতে হয় বেশ কিছু কর্মকর্তা বিদেশে অধ্যয়নরত থাকেন। সরকারের বিভিন্ন স্কলারশিপ রয়েছে সেই স্কলারশিপের অধীনে। বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরতদের বিষয় তো রয়েছেই। তারপর একটি বিষয় রয়েছে কিছু সংখ্যক মানুষ থাকেন, যারা অসুস্থ থাকেন। সেটি বাদেই আমাদের কিন্তু হিসাব করতে হয়।”

    মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা বিভিন্ন পদে যখন পদোন্নতি দিচ্ছি তখন যে পদ আছে সেই পদের চেয়ে বেশি দিতে হয় যৌক্তিক কারণে। কিছুদিনের মধ্যেই বা ছয় মাসের মধ্যেই বেশ কিছু কর্মকর্তা পিআরএলে চলে যাচ্ছেন। তারপর বেশকিছু আমাদের রিজার্ভে রাখতে হয়। কারণ হচ্ছে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে যায়, এই জায়গাটি পূরণ করা।”

    জনপ্রশাসন মন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “বিগত ১০ বছরে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ৩৫১ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসে। এর মধ্যে গুরুদণ্ড পেয়েছেন ৪১ জন, লঘুদণ্ড পেয়েছেন ১৪০ জন। সবমিলিয়ে শাস্তি পেয়েছেন ১৮১ জন। আর ১৭০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে “

    সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ’র সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসআরএফ’র সহ সভাপতি এম এ জলিল মুন্না (মুন্না রায়হান), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহদী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক শফিউল্লাহ সুমন, দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন (রাকিব), প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক ফারুক আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য আসাদ আল মাহমুদ, ওবায়দুল্লাহ বাদল, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহসীনুল করিম লেবু, আয়নাল হোসেন প্রমুখ।

  • ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ২ জুন থেকে

    ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ২ জুন থেকে

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৮ মে, ২০২৪: আগামী ১৭ জুনকে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ধরে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বরাবরের মতো এবারও ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থায় ৫ দিনের ট্রেনের টিকিট বিক্রি করবে রেলওয়ে। ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের এই ট্রেন যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ২ জুন থেকে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবারও শতভাগ আসন অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেল ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন রেলমন্ত্রী মো.জিল্লুল হাকিম।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী উপসচিব মো. তৌফিক ইমাম (সচিবের একান্ত সচিব), বাংলাদেশ রেলওয়ের বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মো. আরিফুজ্জামান, (রোলিং স্টক) পার্থ সরকার, (অপারেশন) এ এম সালাহ উদ্দীন প্রমুখ।

    মন্ত্রী বলেন, “গতবারের ঈদযাত্রা সবার সহযোগিতায় ভালোভাবে সম্পন্ন করেছিলাম। এবারও স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কয়েক দফা মিটিং করেছি। ঈদযাত্রা শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদের সবার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

    জিল্লুল হাকিম বলেন, “টিকিট কালোবাজারি আমরা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি। একেবারে যে গেছে সেটি বলবো না। এখনও কিছু আছে। আমরা চেষ্টা করছি। স্পেশালসহ ৩৬৬টি ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ১২ জুনের অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে ২ জুন, ১৩ জুনের টিকিট পাওয়া যাবে ৩ জুন, ১৪ জুনের টিকিট ৪ জুন, ১৫ জুনের টিকিট ৫ জুন এবং ১৬ জুনের টিকিট পাওয়া যাবে ৬ জুন।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, “এবার ঢাকা থেকে বহির্গামী ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা হবে ৩৩ হাজার ৫০০টি। যা শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হবে। ২ জুন থেকে যাত্রা শুরুর ১০ দিন আগের আন্তঃনগর ট্রেনের আসন অগ্রিম হিসেবে বিক্রি করা হবে। পশ্চিমাঞ্চলে চলাচল করার সব আন্তঃনগর ট্রেনের সকাল ৮টায় এবং পূর্বাঞ্চলে চলাচল করা সব ট্রেনের আসন ২টায় বিক্রি করা হবে।”

    ঈদে স্পেশাল ট্রেন ২০টি:

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার ২০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

    এবার চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে দুই জোড়া, ঢাকা- দেওয়ানগঞ্জ রুটে দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল এক জোড়া, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে ময়মনসিংহ ঈদ স্পেশাল এক জোড়া, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল এক জোড়া, ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল দুই জোড়া, জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল এক জোড়া ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    এছাড়া পার্বতীপুর-দিনাজপুর রুটে এবং ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর রুটে গোর-এ- শহীদ ঈদ স্পেশাল ট্রেন দুই জোড়া চলবে। চাঁদপুর, দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো ১২ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ও ঈদের পরদিন থেকে ৭ দিন চলাচল করবে।

    শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ও গোর-এ-শহীদ ঈদ স্পেশাল শুধু ঈদের দিন চলাচল করবে। পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল ১৩ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত তিনদিন এবং ঈদের পরে ২১ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তিনদিন চলাচল করবে।

    এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলে কোরবানির পশু পরিবহনের লক্ষ্যে ১২ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এক জোড়া ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে।

    পূর্বাঞ্চলে কোরবানির পশু পরিবহনের লক্ষ্যে ১২ জুন ক্যাটল স্পেশাল এক জোড়া এবং ১৩ জুন একটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে।

  • ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ১০ জেলায় ২১ জনের মৃত্যু

    ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ১০ জেলায় ২১ জনের মৃত্যু

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৮ মে, ২০২৪: উপকূলে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সেখানে বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। বহু জায়গায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। ঝড়ে ভেঙে পড়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি, দেয়াল ও গাছপালা। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) সকাল পর্যন্ত রাজধানীসহ ১০ জেলায় অন্তত ২১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রিমালের তাণ্ডবে ঢাকায় ৪, ভোলায় ৩, বরিশালে ৩, পটুয়াখালীতে ৩, চট্টগ্রামে ২, খুলনা, সাতক্ষীরা,  লালমনিরহাট, বরগুনা, কুষ্টিয়া ও কুমিল্লায় একজন করে মোট ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    ঢাকা:

    ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশের অন্যান্য জেলার মতো রাজধানী ঢাকাতেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই বৃষ্টির মধ্যেই টিনের বেড়া, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে স্পর্শ, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- মরিয়ম বেগম (৪৫), লিজা আক্তার (১৫), মো. রাকিব (২৫) ও আলামিন (২২)। সোমবার (২৭ মে) রাতে রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও, উত্তর বাড্ডায় ও যাত্রাবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের আলাদা চারটি ঘটনায় তারা প্রাণ হারান।

    বরিশাল :

    বরিশালে রেমালের তাণ্ডবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নগরের রুপাতলী এলাকায় সোমবার ভোর ৪টার দিকে একটি ভবনের ছাদের ওপরের নির্মাণাধীন দেয়াল ধসে পাশের খাবারের হোটেলের ওপর পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- লোকমান হোটেলের মালিক লোকমান হোসেন ও কর্মী মোকসেদুর রহমান। এ ঘটনায় শাকিব নামে এক হোটেলকর্মী আহত হয়েছেন। তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    তাছাড়া বাকেরগঞ্জ উপজেলার চর দাড়িয়ালের বাসিন্দা জালাল সিকদার (৫৫) গাছের ডাল পড়ে মারা গেছেন।

    ভোলা:

    ভোলার তিন উপজেলায় শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লালমোহন উপজেলার পশ্চিম উমেদপুরে ঘর চাপা পড়ে আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মনেজা খাতুন (৫৫), দৌলতখান পৌরসভার মনির হোসেনের চার বছরের মেয়ে মাইশা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাজড়া ইউনিয়নে গাছের ডাল পড়ে জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০) মারা গেছেন।

    লালমনিরহাট:

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ঝড়ে গাছচাপায় রেজিয়া বেগম (৭২) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ মে) রাতে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের মহিষতুলি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের তাহের উদ্দিন মুন্সির স্ত্রী।

    সাতক্ষীরা:

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে শওকাত মোড়ল (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত শওকাত মোড়ল গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের মৃত নরিম মোড়লের ছেলে।

    পটুয়াখালী:

    ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পটুয়াখালীতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ মে) দুপুরের পর কলাপাড়ায় ফুফু ও বোনকে নিরাপদ স্থানে আনতে যাওয়ার পথে জোয়ারের পানিতে ডুবে মো. শরীফ (২৭) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত শরীফ অনন্তপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে।

    এছাড়া দুমকি উপজেলায় ঝড়ো হাওয়ায় গাছচাপায় জয়নাল হাওলাদার নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার পাঙ্গা‌শিয়া ইউ‌নিয়নের ৯নং ওয়ার্ড নলদোয়া‌নি স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা।

    বাউফলে ঝোড়ো হাওয়ায় একটি পরিত্যক্ত টিনশেড দোতালা ঘরের নিচে চাপা পড়ে আব্দুল করিম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    কুমিল্লা:

    কুমিল্লা নগরীতে নির্মাণাধীন একটি ভবনের দেওয়াল ধসে সাইফুল ইসলাম সাগর (১২) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর শাকতলা এলাকায় নূর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। মৃত স্কুলছাত্র সাইফুল ইসলাম সাগর ওই প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে শাকতলা এলাকার অলী আহমেদের ছেলে।

    খুলনা:

    খুলনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে তীব্র বাতাস ও বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়ে লালচাঁদ মোড়ল (৩৬) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবর রাতে উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গাওঘরা গরিয়ারডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লালচাঁদ মোড়ল গরিয়ারডাঙ্গা গ্রামের গহর মোড়লের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন।

    চট্টগ্রাম :

    চট্টগ্রাম নগরীতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নগরীর বায়েজিদ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে সাইফুল ইসলাম হৃদয় (২৬) নামের এক যুবক মারা গেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বায়েজিদের চন্দ্রনগর কলাবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি নির্মাণাধীন ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ধসে পড়া দেয়ালে চাপা পড়েন।

    এ ছাড়া নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকায় খালে তলিয়ে অজ্ঞাতনামা এক যুবক মারা গেছেন।

    কুষ্টিয়া :

    ঘূর্ণিঝড় রিমালে কুষ্টিয়ার মিরপুরে টিনের চালার নিচে পড়ে বাদশা মল্লিক (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাদশা মল্লিক চিথলিয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়া এলাকায় মৃত খবির মল্লিকের ছেলে।

    বরগুনা :

    বরগুনা জেলার সদর উপজেলায় ঘরের উপর পড়া গাছ সরাতে গিয়ে আব্দুর রহমান বয়াতি (৫৬) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের লেমুয়া গ্রামের মৃত খুতি বয়াতির ছেলে।

    প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। গত রোববার বিকেল নাগাদ ঝড়টির প্রভাব শুরু হয়, আর রাতে ঝড়টির কেন্দ্র উপকূলে আঘাত করা শুরু করে। এরপর গতিপথে রিমাল ঘরবাড়ি-গাছপালা উপড়ে ফেলে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উঁচু জলোচ্ছ্বাস ভাসিয়ে দিয়েছে জনপদ। অনেক এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩ কোটি মানুষ। ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে কয়েক লাখ মানুষ। মোট ১৯টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সংখ্যা ১০৭ এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংখ্যা ৯১৪টি।

  • ডিএমপি ও জাইকা ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে কাজ করবে

    ডিএমপি ও জাইকা ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে কাজ করবে

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৮ মে, ২০২৪: রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাফিক সমস্যায় জর্জরিত। তাই রাজধানীর ট্রাফিক সমস্যা দূর করতে একসঙ্গে কাজ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। যানজট সমস্যা দূর করতে ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছে এই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান।

    ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, “ডিএমপি কমিশনারের নেতৃত্বে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েছি। যাতে করে ঢাকাবাসীর ট্রাফিক সমস্যা কিছুটা হলেও দূর করতে পারি। সেটির অংশ হিসেবে উন্নয়ন সহযোগী জাইকা ডিএমপির সঙ্গে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে জনসচেতনতা তৈরি, ট্রাফিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ। গত দুই বছর ধরে এই কাজ চলমান। এখন যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেটি হলো, ঢাকাবাসীর মধ্যে সামগ্রিকভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে‌ সচেতনতা সৃষ্টি করা “

    মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি জাপান সরকার ১৯৬০ এর দশক থেকে এ কাজগুলো করে আসছে। আমাদের ট্রাফিকের যেসব কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাদের মতামতের ভিত্তিতে জানা গেছে জনসচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে আমরা শিশু বয়সে আছি।”

    ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, “বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে শিশুদের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গত ১-২ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। শিশুরা যেন ছোটবেলা থেকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং এ বিষয়ে তাদের সচেতনতা থাকে সেই লক্ষ্যে আমরা অদূর ভবিষ্যতে শিশু ট্রাফিক পার্ক করতে যাচ্ছি। এ পার্ক ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “জাইকার সহযোগিতায় আমরা ডেটা এনালাইসিস করে কোন জায়গায় যানজট বেশি হচ্ছে এবং কোন জায়গায় দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে, এসব বিষয়ে বিশ্লেষণ করে সেখানে গুরুত্বারোপ করছি।”

    ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, “রোড সেফটি ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য জাইকা মডেল হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।”

  • গাজায় গণহত্যা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরির মাধ্যমে ডয়েচে ভেলের মানবাধিকারের অঙ্গীকার প্রমাণের আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর

    গাজায় গণহত্যা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরির মাধ্যমে ডয়েচে ভেলের মানবাধিকারের অঙ্গীকার প্রমাণের আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৮ মে, ২০২৪: গাজায় গণহত্যা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে ডয়েচে ভেলে (DW) (জার্মানির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থা)-কে মানবাধিকারের প্রতি তার অঙ্গীকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রমাণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

    মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশন বাংলাদেশ-এর সম্মেলন কক্ষে ‘অনগ্রসর, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকের তথ্য অধিকার’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

    তথ্য কমিশন বাংলাদেশ, ইউএস এইড, দি কার্টার সেন্টার যৌথভাবে এ কর্মশালা আয়োজন করে।

    এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নিকট অতীতে ডয়েচে ভেলে মানবাধিকার নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছে, যেখানে শ্রীলংকা, যে দেশ কিছু দিন আগেও গৃহযুদ্ধ মোকাবিলা করেছে তার সাথে বাংলাদেশকে তুলনা করা হয়েছে। আমি এটির সমালোচনা করবো না। মানবাধিকার নিয়ে যে কোনো সংস্থার অঙ্গীকারের আমি প্রশংসা করি। শুধু আমি আহ্বান জানাবো ডয়েচে ভেলের যদি মানবাধিকারের প্রতি এত অঙ্গীকার থাকে সেটার প্রমাণ তারা দিক। গাজাতে মানবাধিকারের যে লঙ্ঘন হচ্ছে, গণহত্যা হচ্ছে সেটার ওপর আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র তারা বানিয়ে দিক। তার মাধ্যমে মানবাধিকারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার প্রমাণ করুক এবং একইসাথে তাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটুকু আছে সেটাও তারা প্রমাণ করুক। আর যদি সেটা তারা করতে না পারে তাহলে আমরা ধরে নেবো ডয়েচে ভেলের প্রামাণ্যচিত্র একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রামাণ্যচিত্র হয়েছে। একটা বিশেষ মহল বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটি করেছে। যারা প্রকৃত অর্থে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের সমস্যা এবং তাদের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলে না। বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে খাটো করে দেখানোর যে অপচেষ্টা করে, তার অংশ হিসেবে এই প্রামাণ্যচিত্র হয়েছে।”

    মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, “এ দেশের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার অবিশ্বাস্য। বঙ্গবন্ধু কন্যার শক্ত নেতৃত্বে আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছি, আমরা যখন বিশ্বমঞ্চে আমাদের অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করছি, তখন এক ধরণের আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্র আমরা লক্ষ্য করি।”

    প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের হতদরিদ্র মানুষদের জন্য, বিশেষ করে ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প করে তাদের আশ্রয়ণের ব্যবস্থা করেছেন। তাদের মানবাধিকারের ব্যবস্থা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের যে বাংলাদেশ, সেখানে ধর্ম, বর্ণ এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার থাকবে। সেটি সংবিধানে নিশ্চিত করা আছে, আইনগতভাবে করা আছে, এখন রাজনৈতিকভাবেও সেটি নিশ্চিত করা আছে। সামাজিকভাবেও তার বাস্তবায়ন আমরা সব জায়গায় দেখতে চাই। এজন্যই তথ্য অধিকার আইন করা হয়েছে।”

    প্রতিমন্ত্রী আরাফাত বলেন, “বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদেরও প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাদের ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করেছেন ।”

    তিনি আরো বলেন, “সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর, ভূমিহীনদের মানবাধিকার সংরক্ষণ, তাদের ভোটাধিকার সংরক্ষণ এবং ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষণ করায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার কাজ করছে। তবে এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক ফোরামে উঠে আসে না। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানবাধিকারের সুরক্ষা এক সময় অবহেলিত  হয়েছিল, সব সময় তাদের বঞ্চনা ছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা সেগুলোর সমাধান করেছেন।”

    তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, “২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তথ্য অধিকার আইন পাশ হয়। এ আইন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার প্রমাণ করে। এ আইনের দুইটি পক্ষ আছে। একটি পক্ষ হচ্ছে যারা তথ্য দেবেন, আরেকটি পক্ষ হচ্ছে যারা তথ্য নেবেন। তথ্য কমিশন দুপক্ষকেই তথ্য অধিকার আইনের বিষয়টি বোঝানোর জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। যারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছেন তাদের একটা জিনিস বুঝতে হবে যে তথ্যের মালিক জনগণ। জনগণের তথ্য চাওয়ার অধিকার এ আইন নিশ্চিত করেছে। জনগণের পক্ষ থেকে যদি গণমাধ্যম তথ্য চায়, সেই তথ্য দিতে হবে। যারা তথ্য দেবেন তাদের এ বোধের জায়গাটা তৈরি হওয়া দরকার। একইসাথে যারা তথ্য নেবেন তারা অনেক সময় এ তথ্যের যথাযথ ব্যবহার করে না। তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে অধিকার চর্চা করতে গিয়ে অনেক সময় অনধিকার চর্চা হয়ে যায়।”

    প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, “তথ্যের দুটি দিক আছে। তথ্য যদি সঠিক হয় তাহলে সেটি শক্তিশালী। এটি যদি সঠিক না হয়, তাহলে ধ্বংসাত্মক হতে পারে। সামাজিকভাবে যে অপতথ্যগুলো আমাদের দেশের সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, সেগুলো নিয়ে আমরা অনেকে চিন্তা করি না, কথা বলি না। শুধু রাজনৈতিক অপতথ্য না, সামগ্রিকভাবেই অপতথ্য ধ্বংস ডেকে আনে।‌ আর সঠিক তথ্য মানুষকে ক্ষমতায়িত করে। এ কারণে সঠিক তথ্য পাওয়া নিশ্চিত করার সাথে সাথে অপতথ্য রোধে আমাদের কাজ করা দরকার।”

    তিনি বলেন, “তথ্য অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে এ সমাজে এটি আমরা নিশ্চিত করতে চাই। কারণ এই সমাজ যত জবাবদিহিমূলক হবে, স্বচ্ছ হবে, আমরা তত এগিয়ে যাবো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া স্মার্ট সমাজ অসম্ভব, টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। পরিবেশ-প্রতিবেশ মাথায় রেখে সকল মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃত অর্থে টেকসই উন্নয়ন ও স্মার্ট সমাজ তৈরি হবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন, এটি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। দেশের সকল মানুষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মধ্যে এনে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। না হলে আমাদের উন্নয়ন টেকসই হবে না।”

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত পনেরো বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের সকলকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রমাণ করেছেন। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি বলেই টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে আমরা এগোতে পারছি।”

    প্রধান তথ্য কমিশনার ডক্টর আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, ইউএস এইড এর অফিস পরিচালক অ্যালেনা তানসে, তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম ঝিনুক এবং তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টি। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনের সচিব জুবাইদা নাসরীন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন দি কার্টার সেন্টারের চিফ অব পার্টি সুমনা সুলতানা মাহমুদা। কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন।

    পরে প্রতিমন্ত্রী তথ্য কমিশনের তথ্য অধিকার নিউজ লেটার-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

  • বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৭ মে, ২০২৪: বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “এখন বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ‘আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃত। এটি সম্ভব হয়েছে সুশাসন, আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতার কারণে; গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ; নারীর ক্ষমতায়ন; এবং আইসিটির কারণে, যা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর রূপান্তর ঘটিয়েছে।”

    আজ সোমবার (২৭ মে) সকালে গণভবনে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের এক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় অংশীদার হিসেবে থাকুন।”

    তিনি বলেন, “আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘স্মার্ট নেশন’ হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি। এখানে, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং আমাদের রপ্তানি ভিত্তি সম্প্রসারণে আপনাদের সমর্থন প্রয়োজন।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ ২০২৬ সালে ‘স্বল্পোন্নত’ থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে পরিণত হবে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তার সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের জন্য প্রধান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী। উভয় দেশের অনেক ক্ষেত্রেই নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে।”

    তিনি বলেন, “আমাদের যৌথ লক্ষ্য হলো আমাদের জনগণের জন্য পারস্পরিক সুবিধা ও সমৃদ্ধি অর্জন করা। এটি আমাদের ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আমাদের রপ্তানির বৃহত্তম একক-দেশীয় গন্তব্য, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের বৃহত্তম উৎস এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।”

    আগামী দিনে এ অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে এবং পারস্পরিক সুবিধার জন্য একটি মসৃণ ও অনুমানযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির মাধ্যমে আমাদের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হয়ে উঠবে।”

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইলস, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা ও ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী।

    শেখ হাসিনা বলেন, “ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

    মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ অন্বেষণ এবং বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) এবং ২৮টি হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা করছে। এর মধ্যে কয়েকটি চালু রয়েছে।”

    সম্ভাবনাময় আইটি সেক্টরের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আইটি সেক্টরে এক মিলিয়নেরও বেশি ফ্রিল্যান্সিং আইটি পেশাদার রয়েছেন। বাংলাদেশ আইটি খাতে বিনিয়োগের জন্য সঠিক গন্তব্য।”

    শ্রমিকের সহজলভ্যতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “এখানে প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে তরুণ, দক্ষ ও প্রাণবন্ত কর্মশক্তি পাওয়ার একটি বিশাল সুবিধা রয়েছে।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এ অঞ্চলের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতির মর্যাদা রয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিত থাকুন, আমরা বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ১৭০ মিলিয়ন মানুষের বাজার এবং অবস্থান (ভৌগোলিক) দেশটিকে তিন বিলিয়ন মানুষের বাজারের কেন্দ্রস্থলে রেখেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এর ক্রমবর্ধমান কানেকটিভিটি বাংলাদেশকে এ অঞ্চল এবং এর বাইরে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের জন্য একটি আদর্শ জায়গা করে তুলেছে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করাও আমাদের লক্ষ্য।”

    গত ১৫ বছরে বেশ কয়েকটি মেগা-অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা নদীর ওপর সেতু, ঢাকায় মেট্রোরেল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকায় একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ইত্যাদি।”

    আইনি ও আর্থিক অবকাঠামোও উন্নত করা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “এগুলো আমাদের অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির একটি।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ এখন ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫তম হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধি একটি প্রাণবন্ত বেসরকারি খাতের কারণে, যেখানে মার্কিন ব্যবসাগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।”

    সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর তার ব্যক্তিগত উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বহুগুণ বেড়েছে।”

     

    নজরুল ইসলাম বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার বিষয়ে খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে তারা কিছু জটিলতার কথা উল্লেখ করে সেগুলো সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।”

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান স্টিভেন কোবোস, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপ।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন।

    সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।