Category: বাংলাদেশ

  • গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

    গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমি সাইক্লোন শেল্টার করেছি, সেখানে মানুষ আশ্রয় পেয়েছে। যারা গৃহহীন, তাদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি। যে কারণে মানুষ অন্তত আশ্রয়ের জায়গা পেয়েছে। পশুপাখি আশ্রয়ের ব্যবস্থা পেয়েছে।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরে সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ মাঠে ত্রাণ বিতরণের পরে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাঁধ দ্রুত মেরামতে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে যে সমস্ত রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে, সেগুলো মেরামত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যে বাঁধগুলো ভেঙে গেছে, সেগুলোও মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে আমরা শুরু করে দিয়েছি। যাতে বর্ষার আগেই আমরা বাঁধগুলো নির্মাণ করে জলোচ্ছ্বাস বা পানির হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে পারি।” ‘

    তিনি বলেন, “আমরা চাই দুর্যোগ থেকে এই এলাকার মানুষ যেন মুক্তি পায়। আমরা জানি, এই এলাকা সবসময়ই দুর্যোগপ্রবণ।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আজ ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র আছে বলেই দুযোগ-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি হয়। দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ করে দিয়ে আপনাদের যোগাযোগের ব্যবস্থা, বিদ্যুতের ব্যবস্থা সব করে দিয়েছি।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি, সেখান থেকে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ আর বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। মায়ের নামে আমরা বৃত্তির টাকা পাঠাই। যারা একেবারে হতদরিদ্র বিনা পয়সায় খাদ্য সাহায্য দিই। এখন দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, যারা কিনতে পারে না তাদের জন্য পারিবারিক কার্ড করে দিয়েছি। অল্প টাকায় চাল, ডাল, তেল কিনে নিতে পারবে সেই ব্যবস্থাটাও আমরা করে দিয়েছি। দেশের মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।পাশাপাশি মানুষের সার্বিক উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”

     

    সরকারপ্রধান বলেন, “আজকে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে এই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো যায়। আগে কিন্তু আসা যেতো না। পাশাপাশি গ্রামে গঞ্জে রাস্তাঘাট করে দিয়েছি। এই দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে অবহেলিত ছিলো। এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের কথাও তুলে ধরেন তিনি।”

    তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে বলেই এই অঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছে। এর আগে অনেকেই ছিলো, কেউ দৃষ্টি দেয়নি। এই অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধে লিপ্ত হয়। আজকে অন্তত এটা বলতে পারি, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে কিন্তু সেটিকে মোকাবিলা করে মানুষের জীবনমান রক্ষা করা সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

    ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে দুর্গত এলাকার উদ্দেশে রওনা হন। দুর্যোগকবলিত মঠবাড়িয়া ও পাথরঘাটা এলাকা পরিদর্শন শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার পর কলাপাড়ার খেপুপাড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন হেলিপ্যাডে নামেন।

    গেল রবিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে তাণ্ডব চালায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল। মধ্যরাতে ঝড়ের সাথে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুরের বেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুধু বরিশাল বিভাগেই মৃত্যু হয় ১৯ জনের।

    ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে যায় গাছপালা, বাড়িঘর, বেড়িবাঁধ। দক্ষিণ অঞ্চলের অনেক মাছের ঘেরও তলিয়ে যায়।

    রাতভর তাণ্ডবের পর ঘূর্ণিঝড় রিমাল সোমবার সকালের পর আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঝড়িয়ে দুর্বল হতে থাকে।

  • বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

    বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক, বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনে বলেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বিশ্বশান্তি জীবনের মূলনীতি। নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত ও স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষ, যেকোনো স্থানেই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে আমি রয়েছি। আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক, তাকে সুসংহত করা হোক। শান্তির জন্য ব্যাকুলতা ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের অপরিহার্য অংশ। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর এইসব চিন্তাধারা এবং শান্তির জন্য তার আহ্বান পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যায়ন হয়।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০মে) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: এ চ্যম্পিয়ন অব ওয়ার্ল্ড পিস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, “১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই ভাষণজুড়ে তিনি বিশ্বশান্তির পক্ষে কথা বলেছেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, আমি জানি, শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সকল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উপযোগী একটি বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য বাঙালি জাতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমাদের এই অঙ্গীকারের সাথে শহীদদের বিদেহী আত্মাও মিলিত হবে।”

    তিনি বলেন, “বিশ্ব শান্তি পরিষদের দেওয়া ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক ছিল জাতির পিতার বিশ্বমানবতার প্রতি কর্ম, ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতি। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর মৌলিক দর্শন ও অবদানের মূল্যায়ন ছিল এই পদক।”

    মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সাল থেকে প্রতি দুবছর পরপর সম্মানজনক বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। সেই সঙ্গে একটি নীতিমালাও করা হবে। এই নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশ ও বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত বা বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে কয়েকটি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পুরস্কার দেওয়া যাবে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা, যুদ্ধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ও অবদান রাখা, দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা, টেকসই সামাজিক পরিবেশগত অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন- এইসব ক্ষেত্রগুলো পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।”

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিআইআইএসএসের চেয়ারম্যান এএফএম গাওসুল আজম সরকার। এসময় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফিটনেসবিহীন গাড়ির রং-চং করা সমাধান নয়: সেতুমন্ত্রী

    ফিটনেসবিহীন গাড়ির রং-চং করা সমাধান নয়: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: ফিটনেসবিহীন গাড়ির রং-চং করা সমাধান নয়, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “প্রথম প্রয়োজন ফিটনেস, লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িতে রং দিয়ে কী হবে! আমি চাই ফিটনেস, জীর্ণ-শীর্ণ গাড়িগুলোর দিকে তাকানো যায় না।”

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাজধানীর বিআরটিএ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    তরঙ্গ প্লাসসহ কয়েকটি বাসের নাম উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ এত এগিয়ে গেল আর বাসমালিকদের দৃষ্টিভঙ্গি এত নিচে নেমে গেল? বারবার ভিজিট করেছি, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই।”

    বিষয়টি সমাধানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী ও বিআরটিসি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারকে সিটি করপোরেশন, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, “ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া যেন কেউ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে তৎপর থাকতে হবে। এছাড়া, ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য পদক্ষেপ নিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।”

    তিনি বলেন, “ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোর বাইরে যেন কোনও বাস দাঁড়িয়ে না থাকতে পারে, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনও বাস যেন অতিরিক্ত ভাড়া না আদায় করে, সেই বিষয়ে সবাইকে তৎপর থাকতে হবে।”

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “কুমিল্লা থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে যায়, কিন্তু ফ্লাইওভারে এক ঘণ্ট-দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকা থাকতে হয়। এটা কেন হচ্ছে… সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেন।‌ হেলমেট ছাড়া সিএনজি স্টেশনে যেন কেউ তেল দিতে না পারে, আমি মন্ত্রীর লোক, এমপির লোক… এসব বলে যেন কেউ ছাড় না পায়।”

    জানা গেছে, প্রধান সড়কের পাশে যেন কোরবানির পশুর হাট না বসতে পারে, সভায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, বিআরটিএ, পুলিশ কমিশনার, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সওজ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    তাছাড়া, দেশের সব বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং সড়কপথে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, পকেটমার, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    লক্কড়-ঝক্কড়, ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল-যাত্রী পরিবহন না করা, নসিমন, করিমন, ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল বন্ধ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    ঈদের দিনসহ এর আগের তিন দিন ও পরের তিন দিন মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি ছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনকে এর আওতামুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    গাজীপুর ও চালনা থেকে গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য বিআরটিসির গাড়ি দেওয়ার নির্দেশনাও দেন মন্ত্রী।

    পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহর কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ওনার (এনায়েত) গাড়ি ঠিক আছে, ওই গাড়িগুলোর ফিটনেস থাকে। কিন্তু অন্যদের থাকে না।”

    বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটি, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সব জেলার সংশ্লিষ্টরা সভায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

  • কোরবানির পরদিন সূর্যোদয়ের আগে পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    কোরবানির পরদিন সূর্যোদয়ের আগে পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: কোরবানির পরদিন সূর্যোদয়ের আগে পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে, বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আসন্ন কোরবানির ঈদে পশু কোরবানির পরদিন সূর্যোদয়ের আগে পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। সম্ভব হলে বর্জ্য রাতের মধ্যে শেষ করতে হবে। ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে কোরবানি শুরু হবে। এরপরদিন অর্থ্যাৎ তাদের আগে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হলেও এবার নির্দিষ্ট করে দিয়েছি সূর্যোদয়ের আগে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। এরপরে যেন কোথাও কোনো রকমের বর্জ্য না দেখি। এরপর যদি কোনো বর্জ্য থেকেও যায় সেটা পরিবেশ দূষণ করবে না। আমি মনে করি দুই সিটি করপোরেশন সফলতার পরিচয় দেবে। এরপরেও যদি কোনো কোরবানি করে থাকে সেটাও অপসারণ করতে হবে। কেননা ঈদের পর কয়েক দিন পশু কোরবানি হয়ে থাকে। সেজন্য পররের কয়েকদিন একটু বেশি নজর দিতে হবে।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, নিদিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির বাস্তবায়ন করা ও কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি কথা বলেন। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জায়েদা খাতুনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্তমর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “সূর্যোদয়ের পরে কোথাও যেন বর্জ্য পরিলক্ষিত না হয়। ঢাকা শহরে ২৫ লাখ পশু কোরবানি হবে। এত বড় একটা কর্মযজ্ঞে কোথাও যদি একটু সময় ক্ষেপণ হয় সেটা মেনে নেওয়া যায়। এর বেশি হলে সহ্য করা যায় না। ঈদের কয়েকদিন আন্তরিকতার সঙ্গে যারা কাজ করে তাদের এ একটু আধটু ত্রুটি মেনে নেওয়া যায়৷ অতীতেও প্রতিকূলতা ছিল তারমধ্যেই কাজ করেছেন। সারা পৃথিবীতেই এটা হয়ে থাকে।

    এবছরও কি দুই সিটি কর্পোরেশন পশু কোরবানির জন্য নিদিষ্ট স্থান নির্বাচন করে দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “অতীতে তারা সামাজিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে করেছে। বিশেষ করে কোভিডের সময়ে করা হয়ছিল। এবার কিছু কিছু এলাকায় সামাজিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি করবে। একই সঙ্গে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করবে সেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলরা সমাজের লোকজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সেই ব্যবস্থা করবে।”

    তিনি বলেন, “জাল টাকা শনাক্তকরণে যে মেশিন সেটা মোবাইল মেশিন। ফলে সব জায়গায় এ মেশিন থাকবে।”

    ঈদের আগে অতীতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে, না হলে কেন হলো না সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,  “এ পর্যন্ত যতগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে আমাদের দুই সিটি করপোরেশন সফলতার সঙ্গে করেছে। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের কথা বলেছি সেটা পূর্বের বছরগুলোতে করে দেখিয়েছে। এখানে ব্যর্থতার কোনো নজির আমাদের কাছে নেই। সাংবাদিকরাও এমন কোনো খবর প্রচার করেনি যে যেখানে সেখানে বর্জ্য পড়ে আছে। সিটি করপোরেশন সেখানে দায়িত্ব পালন করছে না।”

    সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “আজকে সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আমরা সর্বসম্মতিক্রমে নিয়েছি। কোরবানিকৃত পশুর রক্ত/ বর্জ্য দ্বারা যাতে ঢাকা শহরসহ সারাদেশে পরিবেশ দূষিত/নোংরা না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সূর্যোদয়ের আগে কোরবানির সব প্রকার বর্জ্য অপসারণ এবং কোরবানির স্থান পরিষ্কার করতে হবে। এক্ষেত্রে কোরবানিদাতারা যাতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কোরবানির স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেন, সেজন্য উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে “

    এছাড়া গাবতলী ব্রিজের ওপরে চামড়ার বাজার স্থাপন করা যাবে না এবং ময়লার গাড়ি নির্বিঘ্নে আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে যাতায়াতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    কোরবানির পশুরহাট ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাজুল ইসলাম বলেন, “সড়ক ও মহাসড়কের পাশে কোরবানির পশুর হাট ইজারা প্রদান না করা। সড়ক/ মহাসড়কের ওপর বা রাস্তার পাশে যেখানে স্বাভাবিক যান চলাচল বিঘ্নিত না হতে পারে সেখানে কোনোক্রমেই পশুরহাট বসানো যাবে না। এ নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

    কোরবানির পশুর হাটে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। কোরবানির পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করতে হবে। রাস্তাঘাট বা পশুরহাটে যাতে কোনো রকম চাঁদাবাজি বা অবৈধ আর্থিক লেনদেন না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ/প্রচারণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

    এছাড়া বিভিন্ন পশুর হাটে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের সহায়তায় এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস মেশিন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এর মাধ্যমে ক্যাশলেস বা নগদ টাকাবিহীন লেনদেনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন হাটবাজার ও কোরবানির পশু পরিবহনকালে অজ্ঞান/মলম পার্টি যেন অপরাধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ তদারকি বাড়াতে হবে।

    নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ/উৎসাহিত করতে হবে। পশু জবাইয়ের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্থান নির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে। বর্ষাকাল বিবেচনায় সামিয়ানা/ত্রিপল টানানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পশু জবাইয়ের স্থান, ইমাম ও কসাইয়ের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং কসাইদের বিশেষ করে মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

     

    ওয়েবসাইট/ ডিজিটাল ডিসপ্লে/ মাইক/লিফলেট/ব্যানার/কেবল অপারেটর এ ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। যুব সংগঠন ও সমবায় সংগঠনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মোটাতাজাকরণকৃত ও রোগমুক্ত গরু সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও প্রতিটি হাটে একটি বুথ স্থাপন করতে হবে।

    রেল ও সড়ক কর্তৃপক্ষের অব্যবহৃত স্থান, কলোনি, রাজউকসহ বান্যান্য প্রতিষ্ঠানের জায়গা অস্থায়ীভাবে পশু কোরবানির স্থান হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকাভিত্তিক পশুর হাট ও পশু কোরবানির নির্দিষ্ট স্থানের তালিকা জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে ব্যাপকভাবে প্রচার করবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় কেবল টিভি অপারেটরদের সহায়তা গ্রহণ করা যেতে পারে। কোরবানির পর পশুর চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে লবণ ব্যবহারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, “এসব সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসকরা পৌর মেয়র, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদের ইমামরা নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি এবং কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করবেন। কোরবানির সঙ্গে সঙ্গে যেন পশুর চামড়ায় লবণ দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।”

    সভায় মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২৫ লাখ পশু কোরবানি হবে। সারা দেশের চার ভাগের এক ভাগ পশু ঢাকায় কোরবানি হয়। এজন্য যা যা দরকার সব কিছু আমরা নিয়ে নিয়েছি। ৪৮০টি যানবাহন ব্যবহৃত হবে। জাপান থেকে ড্রাম লোডার আনা হচ্ছে। ১০ হাজার জনবলকে কাজে লাগানো হবে। ১০ লাখ ৪০ হাজার পলিব্যাগ নগরবাসীকে বিতরণ করা হবে। এই ব্যাগ ৩৫ কেজি পর্যন্ত লোড নিতে পারবে। প্রত্যেক বাড়িতে দুটি করে পলিব্যাগ বিতরণ করা হবে।”

    তিনি বলেন, “আমরা সবাই ঈদের দিন মাঠে থাকি। উত্তর সিটির প্রত্যেকটি হাটে ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রথমবারের মতো এবার হাসিলের টাকাও অনলাইনে দিতে পারবে। ১৬১০৬ হটলাইন নম্বর খোলা থাকবে। আমিন বাজার ব্রিজের ওপরে কোনোভাবেই যেন চামড়ার হাট বসতে না পারে।”

    উত্তর সিটি মেয়র আরও বলেন, “কোরবানি প্রথম দুদিনের মধ্যে করার অনুরোধ করছি। কারণ, ঈদের মধ্যে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর অধিক চাপ থাকে। তারা দুইদিন নিরলসভাবে কাজ করে। তাদের কথা চিন্তা করে আমি এই অনুরোধ জানিয়েছি। যাতে তারাও একটু রিল্যাক্স পায়, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। এইজন্য আমি ঈদের তৃতীয় দিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে আনন্দ আয়োজন করছি।”

  • তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে

    তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইস) বিদায়ী সচিব জাহাংগীর আলম। তিনি বলেন, “তবে ভোট পড়ার এ হার আরও বাড়তে পারে। কারণ এখনো ৮৭ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিদায়ী সচিব ও নবাগত সচিব শফিউল আজিমের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

    গতকাল (বুধবার) ভোট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, এ যাবৎ উপস্থিতির যে তথ্য পেয়েছি, সেটি আমাদের পর্যালোচনায় ৩৫ শতাংশের কম-বেশি হতে পারে। বেশিও হতে পারে। নিশ্চিত করে বলত হয়তো আরও ২৫ ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিদায়ী সচিব জাহাংগীর আলম বলেন, “আপনারা আমার কাছে তথ্য চাইতেন। অনেক সময় তথ্য থাকতো না। আপনারা আমাকে খোঁচা দিতেন। আমি হয়তো আপনাদের সঙ্গে এমন আচরণ করছি, যা শোভন নয়। তবে, আমাদের স্বচ্ছতার কোনও ঘাটতি ছিল না। আমার আচরণে আপনাদের সহসা কষ্ট দিতে চাইনি। তবুও বিদায় বেলায় আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”

    গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেয়েছেন জানিয়ে ইসির বিদায়ী সচিব বলেন, “আপনারাই আমাদের জনগণের কাছে চিনিয়েছেন।”

    গত ২১ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জাহাংগীর আলমকে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব পদে বদলির আদেশ হয়। পটুয়াখালীর সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জাহাংগীর বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ত্রয়োদশ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসাবে ১৯৯৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগেই যুগ্ম সচিব এবং অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালনের পর ২০২২ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন এবং ইসিতে দায়িত্বে আসেন। তার মেয়াদের মধ্যেই এই বছরের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বর্জনের মধ্যে এই নির্বাচন করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জও ছিল ইসির সামনে।

    নতুন সচিব শফিউল আজিম বলেন, “আমরা তো রাজনীতির ভেতরেই বসবাস করি। গণতন্ত্র, সরকার, রাজনৈতিক দল ও জনগণ সবকিছু মিলিয়েই গণতন্ত্র। কাউকে আইনের বাইরে গিয়ে সেবা দেওয়া যাবে না। আপনাদের যেটি প্রাপ্য সেটি শতভাগ দেওয়া সম্ভব।”

    ২১ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিউল আজিমকে পদোন্নতি দিয়ে ইসি সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। শফিউল আজিমের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি হন। ১৯৯৫ সালে তিনি ১৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রশাসনের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে শফিউল আজিমকেই প্রথম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে পদায়ন করা হলো। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইন ও বিধি অনুবিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন শফিউল আজিম। সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ছিলেন তিনি।

    এবার তৃতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা:

    গতকাল দেশের বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন যারা। তাদের নাম এখানে দেওয়া হলো।

    মুন্সীগঞ্জ :

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন কোলাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য এম মাহবুব উল্লাহ্ কিসমত। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন মৃধা।

    বগুড়া :

    বগুড়া  উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত  হয়েছে বগুড়া সদরে শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, শাজাহানপুর উপজেলায় সোহারাব হোসেন ছান্নু ও  শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে  মোস্তা  উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

    নাটোর :

    নাটোরের বড়াইগ্রাম এবং গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ আরিফ হোসেন স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারী ফলাফল বুধবার রাতে প্রকাশ করা হয়।

    বড়াইগ্রাম উপজেলায় মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন আনারস প্রতীকে ৪০ হাজার ২৪৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

    গুরুদাসপুর উপজেলায় আহম্মদ আলী আনারস প্রতীকে ২০ হাজার ৩৫৯ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

    দিনাজপুর :

    সদরে ইমদাদ সরকার, চিরিরবন্দরে সুনীল কুমার ও খানসামায়-সহিদুজ্জান শাহ  উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

    রাঙ্গামাটি :

    তৃতীয় ধাপে রাঙ্গামাটির ২টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারি ভাবে লংগদু উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক  বাবুল দাশ বাবু।

    নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী অমর জীবন চাকমা বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

  • আমরা চাই জনবান্ধব আইন: পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী

    আমরা চাই জনবান্ধব আইন: পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৯ মে, ২০২৪: আমরা চাই জনবান্ধব আইন, বলে জানিয়েছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা চাই জনবান্ধব আইনের মাধ্যমে মানুষের আইনি সেবা পাওয়া সহজ হোক।”

    আজ বুধবার (২৯ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে ‘বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন, ২০০৪ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।

    যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন (এমএলএএ), মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ম্যাব), দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন-বাংলাদেশ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

    পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, “কোনো আইন স্মার্টলি করলে সমাধান পেতে মাত্র তিন মাস সময় লাগে। আলোচনা পর্যালোচনা করে একটা সারসংক্ষেপ তুলে ধরলে বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন সংশোধন নিয়ে কাজ করা সহজ হবে।”

    সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশের ৩২৯ টি পৌরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি লোক বসবাস করেন। পৌর মেয়র, কাউন্সিলর ও পৌর কর্মকর্তারা নাগরিক সেবার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিনিয়ত ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু পৌর বোর্ডের আর্থিক এখতিয়ার খুবই সীমাবদ্ধ থাকায় পৌরসভাগুলোর আইনের আওতায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

    আলোচকেরা বলেন, আনুষ্ঠানিক আদালতে সালিশ/ আপোষ যোগ্য মামলা নিষ্পত্তির জন্য কমপক্ষে দুই বছরের অধিক সময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার এই ধরনের ছোটখাটো বিরোধ বা মামলা থেকেই জন্ম নেয় বড় বিরোধ। ফলে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি প্রতিপক্ষকে হয়রানির জন্য একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগও রয়েছে। এভাবে আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বাড়ছে।

    দেশের পৌর এলাকায় বিরোধ মীমাংসা-সংশ্লিষ্ট ২০০৪ সালের আইনটি সংস্কার করে তাতে বিচারিক ক্ষমতার আর্থিক এখতিয়ার ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র ও মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল খালিদ হোসেন ইয়াদ, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন-বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও পঞ্চগড় পৌরসভা মেয়র জাকিয়া খাতুন।

  • তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় সুশৃঙ্খলভাবে ভোট হয়েছে: সিইসি

    তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় সুশৃঙ্খলভাবে ভোট হয়েছে: সিইসি

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৯ মে, ২০২৪: তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় সুশৃঙ্খলভাবে ভোট হয়েছে, বলে জানিয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।তিনি বলেন, “৮৭ উপজেলায় ভোট হয়েছে। ইভিএমে ১৬ উপজেলায় ভোট হয়েছে। নিরপেক্ষ অবাধ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভালো ভূমিকা পালন করেছেন। ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন।”

    আজ বুধবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সকাল ৮টা থেকে ৮৭টি উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল ৪টায়।

    সিইসি বলেন, “তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে কমবেশি ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, এটা ৩৫ শতাংশের কমও হতে পারে, বেশিও হতে পারে। নিশ্চিত ফিগার পেতে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা সময় লাগবে।

    তিনি আরও বলেন, “সীমিত পরিসরে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে তারা ভোট কারচুপির চেষ্টা করছিলেন। সর্বোপরি ভালো ভোট হয়েছে।”

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলার মধ্যে ১৬টিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বাকিগুলোতে ব্যালটে ভোট দেন ভোটাররা।

    ইসি জানায়, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে মোট ১১২টি উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে মামলা জটিলতা ও ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ২৫ উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। সে হিসাবে আজ ৮৭ উপজেলায় ভোট হয়েছে।

    ইসির তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপে মোট এক হাজার ১৫২ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৯৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৫৬ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৯৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

  • বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত আজ বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত করছে: প্রধানমন্ত্রী

    বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত আজ বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত করছে: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৯ মে, ২০২৪: বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত আজ বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত করছে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বন্দ্ব সংঘাত যুদ্ধ আজ বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় ইসরাইলের হামলায় হাজার হাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা ইত্যাদি মানবজাতির জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।”

    আজ বুধবার (২৯ মে) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ দিবস-২০২৪’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শান্তিরক্ষা মিশনগুলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও বিপজ্জনক অঞ্চলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে, সেজন্য তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে আমাদের পদক্ষেপ ‘উইমেন স্পিচ অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাজেন্ডা’ তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী দেশ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩ হাজার ৩৮ জন নারী শান্তিরক্ষী অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তি মিশন সম্পন্ন করেছেন। এখন দাবি আসছে, আরও নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণ করার। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল নিজেই আমাকে বলেছেন, আমরা যেন আরও বেশি করে নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণ করি।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছি। যেখান থেকে ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিকের অনুকরণে বর্তমানে সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের রক্ষীদের সহায়তায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট ফস্টিন আর্চেঞ্জ তোয়াদেরার নামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। যার নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু-তোয়াদেরা কমিউনিটি ক্লিনিক। বিদেশের মাটিতে জাতির পিতার নামে এমন সম্মাননা বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের অধ্যায়।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আমি ঠিক জানি না এই সংঘাত বা এই যুদ্ধ মানবজাতির জন্য কি কল্যাণ বয়ে আনছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, মানুষের জীবনও তত বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারী-শিশু, তারা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। যুবকেরা অকাতরে জীবন দিচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব কিছু সমাধান করতে চাই। বিশ্বের এক বিশাল সংখ্যক মানুষ এখনো দারিদ্রসীমার নিচে রয়েছে। কোটি কোটি মানুষ দু’বেলা খাবার পায় না, শিশুরা শিক্ষা পায় না, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। যারা অস্ত্র তৈরি ও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় এত অর্থ ব্যয় করছে, তাদের কাছে আমার আহ্বান, আমরা শান্তির কথা বলি কিন্তু সংঘাতে লিপ্ত হই কেন?”

    সরকার প্রধান বলেন, “এই যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, এই অর্থ যদি ক্ষুধার্ত মানুষের আহারের ব্যবস্থায়, শিক্ষায় ব্যবহার করা হতো, চিকিৎসায় ব্যবহার করা হতো তাহলে মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হতো, মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচতে পারত। কিন্তু এই সংঘাত মানুষকে আরও কষ্টের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “সংঘাত নয়, যদি কোনো সমস্যা থাকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা, সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ। অস্ত্র তৈরি আর প্রতিযোগিতা, এই অর্থটা যেসব দেশ এখনো জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে, সেই জলবায়ু অভিঘাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষার জন্য সেই ফান্ডে দিতে পারে এবং ক্ষুধার্ত ও শিক্ষা বঞ্চিতদের জন্য ব্যবহার করতে পারে।”

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেসব দেশে আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী কাজ করছে, তাদের রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান বা মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা হয়, প্রত্যেকেই আমাদের শান্তিরক্ষীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আর এই প্রশংসা শুনে সত্যিই আমার গর্বে বুক ভরে যায়।”

    তিনি বলেন, “জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে আমরা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি। শান্তিরক্ষা মিশন ছাড়াও আমরা অন্য আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে অবদান রেখে যাচ্ছি।”

    অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন।

  • উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে জবাবদিহিমূলক প্রতিশ্রুতির আওতায় আনতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে জবাবদিহিমূলক প্রতিশ্রুতির আওতায় আনতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৯ মে, ২০২৪: উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে জবাবদিহিমূলক প্রতিশ্রুতির আওতায় আনতে হবে, বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, “পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে জবাবদিহিমূলক প্রতিশ্রুতির আওতায় আনতে হবে।  তাছাড়া জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও ক্ষুদ্র দ্বীপদেশগুলোর উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়াতে হবে।”

    আজ বুধবার (২৯ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে জাতিসংঘ আয়োজিত ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের চতুর্থ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। সেন্ট জনসের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব অ্যান্টিগার প্রধান মিলনায়তনে সিডস প্লেনারিতে এই আয়োজন করা হয়।

    পররাষ্টমন্ত্রী বলেন, “দুই মেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সমুদ্রের লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছে।”

    সেই লক্ষ্যে আজারবাইজানের বাকুতে আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ২৯ এ ২০২৫ সাল পরবর্তী সময়ে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু ঝুঁকির অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে জাতিসংঘ সদস্যদের মনোযোগী হওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) কাছ থেকে পরামর্শমূলক মতামত চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন।

    আফ্রিকার স্বল্পোন্নত এবং ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সিডস দেশগুলোর ক্যাডেটদের জন্য বাংলাদেশ মেরিন অ্যাকাডেমিতে বৃত্তি প্রদানের কথা জানিয়ে সম্মেলনে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সামুদ্রিক খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সম্মেলন শেষে দ্য অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা অ্যাজেন্ডা ফর সিডস (আবাস)-প্রতিরোধে সক্ষম উন্নয়নের লক্ষ্যে নবায়নকৃত ঘোষণাপত্রটি চূড়ান্ত হবে।

    নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অণুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।

    জ্যামাইকা এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: 

    সিডস সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি জ্যামাইকা এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। পারস্পারিক সহযোগিতা, মানুষে মানুষে যোগাযোগ, সংস্কৃতি, শিল্প, শিক্ষা, বাণিজ্য এবং পর্যটনে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।

    এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে কানাডার স্থায়ী প্রতিনিধি বব রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেন হাছান মাহমুদ। বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় বব রে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন নিয়ে কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানান, এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই একমাত্র সমাধান।

  • আইন নিজের গতিতে চলবে: সালমান এফ রহমান

    আইন নিজের গতিতে চলবে: সালমান এফ রহমান

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৯ মে, ২০২৪: আইন নিজের গতিতে চলবে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্পষ্টভাবে বলেছেন, কেউ যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে সরকারের কোনো এমব্যারাসমেন্ট (বিব্রতকর অবস্থা) হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। আইন নিজের গতিতে চলবে। তিনি যা বলেছেন, যতই ইনফ্লুয়েনশিয়াল (প্রভাবশালী) হোক না কেন, সরকার কোনোরকম প্রটেকশন কাউকে দেবে না। আইন নিজের গতিতে চলবে।”

    পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের নানা অনিয়মের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে সরকার বিব্রত কি না- সাংবাদিকেরএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আজ বুধবার (২৯ মে) সচিবালয়ে কল-কারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা জানান। সালমান এফ রহমান এ কমিটির সভাপতি।

    ভারতে বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য খুন হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সবাই কিন্তু এ নিয়ে খুবই শকড। আপনারা জানেন ঘটনাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার মনে হয়, এর ওপর কমেন্ট (মন্তব্য) করা ঠিক হবে না।”

    বাজেটের পরে দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রে নতুন কোনো অস্বস্তি তৈরি হবে কি না- জানতে চাইলে সালমান এফ রহমান বলেন, “এটা তো হাইপোথেটিক্যাল কোশ্চেন। বাজেট কী হবে, বাজেটের পরে কী হবে, আমরা সুস্থ থাকবো নাকি অসুস্থ থাকবো, সেটা তো বাজেট দেখার পর উত্তর দিতে পারবো।”

    সালমান এফ রহমানের সভাপতিত্বে সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।