www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১১ নভেম্বর, ২০২৩: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ৪ দিন ব্যাপি নাট্য শিক্ষা বিষয়ক থিয়েটার পেডাগোজি কর্মশালা আজ শেষ হচ্ছে। আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে এই কর্মশালায় অংশগ্রহনকারীদের নিয়ে প্রযোজনা প্রর্শনীর আয়োজন করা হবে । অংশগ্রহনকারী ৩৬ জন প্রশিক্ষনার্থীদের ৩৫ মিনিটের পূর্ণাঙ্গ নাটকটি মঞ্চস্থ হবে একাডেমিতে, যা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
প্রযোজনার কাহিনী সংক্ষেপ :
এটি একটি যুদ্ধক্ষেত্রের গল্প। কিন্তু এখানে উপস্থাপন করা হবে পৃথিবী জুড়ে ঘটে চলা চলমান ধ্বংসযজ্ঞ, যুদ্ধের নামে নির্বিচারে নিরীহ মানুষ হত্যা, অযাচিতভাবে অন্যের স্বদেশভূমি দখলের পায়তারা ও শক্তিধর রাষ্ট্রের দমনমূলক চোখ রাঙানি। তখন, গোটা পৃথিবীটায় যেন নিরব যুদ্ধের ময়দানে পদাদিক আর স্নায়ুবিক লড়ায়ে সামিল হয়। তাই মাতৃভূমি রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পরে আপামর জন সাধারণ।
এই প্রযোজনার শুরুতে দৃশ্যমান হয় এক যুদ্ধ ময়দান দূরবর্তী ক্যাম্প। যেখানে অবস্থান করছে বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। ক্যাম্প অদূর রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। যে রাস্তা দিয়ে স্বদেশী সেনা গাড়ি বহর যুদ্ধ সরঞ্জাম, গোলা বারুদ, যুদ্ধপীড়িত মানুষের জন্য জীবনদায়ি উপকরণ- খাদ্য,ঔষধ ইত্যাদি পরিবহন করে। তাই এ রাস্তা অক্ষুণ্ণ রাখা সকলের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। শত্রুপক্ষের মুহুর্মুহু গোলা বর্ষণে রাস্তাটা বারবার যান চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। তথাপি, ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবকগণ দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে, বেলচা কোদাল হাতে রাস্তা মেরামত করে চলে।
তারা জানে কেবল এ রাস্তা সচল থাকলেই শত্রু বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব । এ রাস্তা-ই তাদের মুক্তির দোয়ারে পৌঁছে দিবে! যে কোন উপায়ে এ রাস্তা সচল রাখতে হবে! কিন্তু সে কাজ অত সহজ নয়। শত্রুপক্ষের ক্রমাগত গোলার আঘাতে মারা পড়ছে স্বদেশী সেনানীগণ। নষ্ট হয়ে যায় নিজের পোশাক-পরিচ্ছদ। ভঙ্গুর হতে থাকে মনোবল, স্মৃতি কাতরতা ঘিরে ধরে— মনে পড়ে স্বজন-পরিজনের প্রিয়মুখ, নিজেরদের মধ্যে ক্ষণেক্ষণে দানা বাঁধে নানা অসন্তোষ ও মনস্তাত্ত্বিক বিভাজন। তারা আবার এক হয়। ভুলে যায় না তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। ক্ষেপণাস্ত্রকে তুচ্ছ করে নতুম উদ্যোমে, স্বদেশ মুক্তির স্বপ্নে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভাঙা রাস্তা নির্মাণে।
অবশেষে, মাটি ও মাতৃভূমির লড়ায়ে লড়াকু এই মাতৃভূমির সেবকগণ শত্রুর বোমার আঘাতে নিহত হয়। মারা যান, শহীদ হয় প্রত্যেকে। শুধুমাত্র একজন ছাড়া মেলে সকলের ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত লাশ। মনে গেথে রয় এই কিংবদন্তিদের তাগ্যের ‘কীর্তি জয়গাঁথা’ ও স্বাধীনতার চিরন্তন বার্তা।
সমসাময়িক বিষয়ের উপর এই প্রযোজনা বিশেষ একটি বার্তা বহন করে যা শান্তিকামি মানুষের জন্য একান্ত কাম্য।










