www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৭ অক্টোবর, ২০২৩: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েল যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিন্ধান্তটি যখন এসেছে তখন যখন ইসরায়েল ও হামসের মধ্যে যুদ্ধ চরম আকার ধারণ করেছে । আগামী কাল বুধবার (১৮ অক্টোবর) তিনি ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।
আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে এ ঘোষণা দেন ব্লিনকেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সঙ্গে সাড়ে ৭ ঘণ্টার বৈঠকের পর এমন ঘোষণা দেন তিনি।
এটি হবে যুদ্ধ চলাকালীন দেশে বাইডেনের দ্বিতীয় সফর। এর আগে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গোপনে ইউক্রেন সফর করেছিলেন।
এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চেয়ে যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল রাশিয়া, তা বাতিল করেছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদ। সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসংঘের নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন গত চারদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। গত ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পরে মধ্যপ্রাচ্যের জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও মিশর সফর করেন তিনি। পরে সোমবার (১৬ অক্টোবর) ইসরায়েলে বৈঠক শেষে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরির জন্য বাইডেনের সফরের বিষয়টি সামনে আসে।
ব্লিনকেন বলেছেন, ইসরায়েলে সংহতি এবং সেখানে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই বাইডেন এই সফর করছেন। এছাড়া ইসরায়েলিদের নিরাপত্তার জন্য কী প্রয়োজন সেটি সরাসরি শোনার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
ইসরায়েল সফর শেষে বাইডেন জর্ডানের আম্মানে যাবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি। সেখানে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ, মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করবেন বাইডেন।
উল্লেখ্য, শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক সাম্প্রতিক সময়ে এই তিন নেতার সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করেছেন। তাদের সবাই গাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিন্দা করে আসছেন।
কিরবি বলেন, সফরে বাইডেন এটা পরিষ্কার করে দেবেন যে আমরা মানবিক সহায়তা দিতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের বের করার জন্য ইসরায়েলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
সংক্ষিপ্ত হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইসরায়েল সফরের সিদ্ধান্ত হালকাভাবে নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি।
এদিকে, ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে গাজায় সোমবার পর্যন্ত দুই হাজার ৮০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৯ জন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেল ২৪ ঘণ্টায় ২৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ নারী ও শিশু। এর মধ্যে ৩৭ চিকিৎসা কর্মী, চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকস রয়েছেন।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। জবাবে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলে এক হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন, আর আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫০০ জন। ‘
ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন এক হাজার দুইশরও বেশি।
ইসরায়েল এখন গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।










