www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৪ জুন, ২০২৪: এবার প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে উগান্ডা। সেই বিচারে অনেক অভিজ্ঞ দল আফগানিস্তান। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানের কাছে ১২৫ রানে হেরেছে নবাগত উগান্ডা।তবে উগান্ডার বিশ্বকাপে খেলতে আসার ইতিহাস অনেক সংগ্রাম ও সাধানার। কেননা এই দেশটিতে নেই ক্রিকেট মাঠ এমন কি সরঞ্জাম।পাশের দেশ কেনিয়া থেকে তারা ক্রিকেট সরঞ্জাম কেনে। উগান্ডার ক্রিকেটের ইতিহাস কিন্তু একেবারে সাম্প্রতিক নয়, ১৯৭৫ সালে পূর্ব আফ্রিকা নামে ক্রিকেট খেলেছে উগান্ডা, কেনিয়া, তানজানিয়া ও জাম্বিয়া। এরপরে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি খেলেছে পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকা নামে।
আজকের খেলায় গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান করেছিলো আফগানিস্তান। জবাব দিতে নেমে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে উগান্ডা।
শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট হয়েছে আফ্রিকান দেশটি। ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। পেসার ফজলহক ফারুকি ৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে একাই নিলেন ৫ উইকেট।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোরে ৪র্থ স্থানে রয়েছে উগান্ডা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৩৯ রনের রেকর্ড রয়েছে নেদারল্যান্ডসের। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার কাছে এত কম রানে অলআউট হয়েছিলো তারা। ৪৪ রানেও একবার অলআউট হয়েছিলো ডাচরা। ৫৫ রানে অলআউট হয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের ১২৫ রানের এই জয় রান বিচারে চতুর্থ সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ ১৭২ রানে জিতেছিলো শ্রীলঙ্কা, কেনিয়ার বিপক্ষে ২০০৭ সালে। ১৩০ রানের দুটি জয় আছে, একটি দক্ষিণ আফ্রিকার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৯ সালে, অন্যটি আফগানিস্তানের স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২১ সালে।
দুই আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং ইবরাহিম জাদরানের ১৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি রান বিচারে চতুর্থ সর্বোচ্চ।
আফগানদের করা ১৮৩ রান পাড়ি দিতে গিয়ে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে উগান্ডা। দু’জন মাত্র ব্যাটার রিয়াজাত আলি শাহ এবং রবিনসন ওবুইয়া দুই অংকের ঘর স্পর্শ করেন। সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন রবিনসন ওবুইয়া। ১১ রান করেন রিয়াজাত আলি। শুন্য রানে আউট হলেন চারজন।
ফজলহক ফারুকি ছাড়া ২টি করে উইকেট নেন নাভিন উল হক এবং রশিদ খান। ১টি উইকেট নেন মুজিব-উর রহমান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং ইবরাহিম জাদরানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৮৩ রান সংগ্রহ করে আফগানরা। দুই ওপেনার ১৫৪ রানের জুটি গড়ে তুলেছিলেন।
তবে দুই ওপেনার যেভাবে ব্যাট করেছেন এবং রান তুলেছেন, আফগানিস্তান ইনিংসের শেষটা সেভাবে হলো না। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর শেষ ৬টি ওভারে কোনো রানই উঠলো না। বরং, ৫টি উইকেট হারিয়েছে রশিদ খানের দল।
১৫৪ রানের জুটি গড়ার পর ১৪.৩ ওভারে বিচ্ছিন্ন হন গুরবাজ এবং ইবরাহিম জাদরান। ৪৬ বল খেলে ৭০ রান করে আউট হন ইবরাহিম জাদরান। ৯টি বাউন্ডারির সঙ্গে ১টি ছক্কার মার মারেন তিনি। ২ রান বিরতি দিয়ে ফিরে যান রহমানুল্লাহ গুরবাজও। ৪৫ বলে তিনি খেলেন ৭৬ রনের ইনিংস। ৪টি করে বাউন্ডারি এবং ছক্কার মার মারেন তিনি।
এরপর নজিবুল্লাহ জাদরান ২ রানে, গুলবাদিন নাইব ৪ রানে, আজমত উল্লাহ ওমরজাই ৫ রানে আউট হন। মোহাম্মদ নবি ১৪ রানে এবং রশিদ খান ২ রানে অপরাজিত থাকেন।
উগান্ডার বোলারদের মধ্যে কসমাস কিউয়াতা এবং ব্রায়ান মাসাবা নেন ২টি করে উইকেট। ১ উইকেট নেন আলফেস রমজানি।
শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে দিক্ষিণ আফ্রিকা
গতকাল রাতের খেলায় টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেয় শ্রীলঙ্কা। আগ্রাসী ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েও মাত্র ৭৮ রানের লক্ষ্য পাড়ি দিতে ১৬.২ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ২২ বল হাতে রেখে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তারা।
পেসার আনরিখ নরকিয়ার ৪ ওভারে কেবল ৭ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে হন ম্যাচসেরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৪ ওভারের স্পেলে এর চেয়ে কম রান খরচ করেননি কোনো বোলার।
আজকের খেলা:
আজ রাতে অনু্ষ্ঠিত হবে আরও দুটি খেলা। বর্বাডাজে রাত ৮-৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের খেলা। রাত ৯-৩০ মিনিটে ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে নেদারল্যান্ডস ও নেপালের খেলা।










