মোহাম্মদপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদ

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাদি মহম্মদ - বিনোদন - ১৪ মার্চ ২০২৪ (ফাইল ছবি)
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাদি মহম্মদ - বিনোদন - ১৪ মার্চ ২০২৪ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৪ মার্চ, ২০২৪: রাজধানীর মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদ। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বাদ জোহর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তাকে দাফন করা হয়েছে।

প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী সাদী মহম্মদ বুধবার (১৩ মার্চ) রাত আটটার দিকে মারা গেছেন। মোহাম্মদপুরের বাসভবনে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হয়। তার ভাই শিবলী মহম্মদ বলেন, তানপুরা নিয়ে তার বড় ভাই সংগীত চর্চা করেছেন। সন্ধ্যার পর হঠাৎ দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। তখন দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সাদি মহম্মদের ব্যক্তিগত সহকারী জানান, বেগুনি-মুড়ি দিয়ে ইফতার শেষে নিজ রুমে যান তিনি। বেশ কিছুক্ষণ রেয়াজ করেন তানপুরা নিয়ে। যেটা তিনি প্রায় সময় করে থাকেন। এরপর অনেক সময় চুপচাপ থাকেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করলে সাড়া মিলছিল না। তারা গিয়ে দেখেন দরজা বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে সাদিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন তারা।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতলের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগতিক লোহানী বলেছেন, তার গলায় দাগ পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে নিজ কক্ষ থেকে ঝুলন্ত থাকা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে আমরা তাকে মৃত পাই। প্রাথমিক সিদ্ধান্তে আমরা এটাকে আত্মহত্যা হিসেবে মনে করছি।

তার মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাদি মহম্মদের মৃত্যুর পর অনেকে ছুটে আসে মোহাম্মদপুর তার বাসায়।

১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন সাদি মহম্মদ। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে শহীদ পিতার সন্তান। তার বাবার নাম শহীদ সলিমউল্লাহ। মায়ের নাম জেবুন্নেছা সলিমউল্লাহ।

১৯৭৩ সালে মায়ের ইচ্ছায় বুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন সাদি মহম্মদ। তবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মন বসাতে পারেননি এই সংগীতশিল্পী। ১৯৭৫ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালে গানের টানে স্কলারশিপ নিয়ে শান্তিনিকেতনে সংগীত নিয়ে পড়তে চলে যান সাদি মহম্মদ। বিশ্বভারতী থেকে রবীন্দ্রসংগীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। সেই থেকে গানের জগতে পথচলা শুরু সাদি মহম্মদের।

রবীন্দ্রসংগীতে সাদি মহম্মদের মূল পরিচিতি গড়ে উঠলেও আধুনিক গানেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অসংখ্য রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে তার কণ্ঠে। সঙ্গে আধুনিক গানও। এ ছাড়াও তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন রবিরাগের পরিচালক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

২০০৭ সালে ‘আমাকে খুঁজে পাবে ভোরের শিশিরে’ অ্যালবামের মধ্যদিয়ে সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সাদি মহম্মদ। এছাড়া ২০০৯ সালে তার ‘শ্রাবণ আকাশে’ ও ২০১২ সালে তার ‘সার্থক জনম আমার’ অ্যালবাম প্রকাশিত হয়।

১৯৭১ সালে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের সি-১২/১০ বাড়িটি ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা সলিমউল্লাহর বাড়িতে নিয়মিত বৈঠকে আসতেন দলের শীর্ষ নেতারা।

একাত্তরের ২৬ মার্চ অবাঙালি বিহারি ও পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে সলিমউল্লাহর বাড়ি। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাদের পুরো বাড়ি। পাশাপাশি নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সাদি মহম্মদের বাবা সলিমউল্লাহকে। পরবর্তীতে তার বাবার নামেই ঢাকার মোহাম্মদপুরের সলিমউল্লাহ রোডের নামকরণ করা হয়।

২০১২ সালে তাকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে চ্যানেল আই। ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি থেকে পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার।

পূর্ববর্তী বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী
পরবর্তী পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাট সোনালী দিনের হাতছানি দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী