Tag: দাফন

  • জানাজা শেষে দেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউরের দাফন সম্পন্ন

    জানাজা শেষে দেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউরের দাফন সম্পন্ন

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৬ জুলাই, ২০২৪: দেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান গতাকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দাবা খেলতে খেলতেই মৃত্যু বরণ করেন । আজ শনিবার (৬ জুলাই) সকাল সোয়া এগারোটার দিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে নিয়ে আসা হয় তার মরদেহ।সেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানুষরা।

    ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন জানাজায়। মাত্র ৫০ বছর বয়সে অকালপ্রয়াত এই দাবাড়ুর কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), দাবা ফেডারেশন, তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন।

    আনুষ্ঠানিকতা শেষে জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে। বাবার কবরের পাশেই হয়েছে তার দাফন।

    জানাজায় এসে দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম বলেন, “অনেকেই টুর্নামেন্টের পুরস্কার ও নানা সুযোগ-সুবিধা কম হলে খেলতে চাইতেন না। জিয়া কখনোই এ রকম ছিলেন না। সব টুর্নামেন্টেই তিনি অংশগ্রহণ করতেন। যেন অন্যরা তার মাধ্যমে শিখতে পারে।”

    জিয়ার স্মৃতি ধরে রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক, “জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনেই আলাদা একটি ফ্লোর পাওয়ার কথা ছিল আমাদের । সেখানে গ্র্যান্ডমাস্টার কর্নারের পরিকল্পনা ছিল। সেটা যত দিন না হয় আমরা বর্তমান দাবা ফেডারেশন ক্রীড়াকক্ষকেই জিয়ার নামকরণে করার উদ্যোগ নেব।”

    বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বলেন, “জিয়া শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব দাবা অঙ্গনে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন আর্থিক ব্যাপারে তার পরিবারের পাশে থাকবে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও জিয়ার পরিবারের জন্য আর্থিক-অনার্থিক যেকোনো প্রয়োজনে এগিয়ে আসবো।”

    দাবা ফেডারেশনের অন্যতম সহ-সভাপতি তরফদার রুহুল আমিন বলেন, “গতকাল মাননীয় মন্ত্রী (নাজমুল হাসান পাপন) এবং আজ আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের আরেকজন অভিভাবক শাহেদ ভাই (বিওএ মহাসচিব) তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একটি বড় আর্থিক অঙ্ক স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) করে পরিবারের একটি সাপোর্ট প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দাবা ফেডারেশন ও আমরা ব্যক্তিগতভাবে নেব।”

    গতকাল শুক্রবার (৫ জুলাই) গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীবের বিপক্ষে জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতার ১২তম রাউন্ডে ম্যাচ ছিল গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের। নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় খেলা। তবে খেলার প্রায় ৩ ঘণ্টা পার হওয়ার পর হুট করেই অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জিয়া। এরপর দ্রুতই শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকরাও দ্রুতই চিকিৎসা শুরু করেন। তবে অনেকক্ষণ ধরেই তার কোনো পালসই খুঁজে পান না তারা। কিছুক্ষণ বাদে এই গ্র্যান্ডমাস্টারকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন জিয়া।

    জিয়ার ম্যাচের সময় তার স্ত্রী লাবণ্যও ফেডারেশনে ছিলেন। তার ছেলে তাহসিন তাজওয়ারও এবার জাতীয় দাবা খেলছেন। হুট করে এই দাবাড়ুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের দাবা অঙ্গনে।

    পারিবারিকভাবে জিয়া দাবাড়ু। তার বাবা পয়গাম উদ্দিন আহমেদও ছিলেন একজন দাবাড়ু। তার পথ ধরেই স্কুল জীবন থেকে দাবার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন জিয়া। তার ছেলে তাহসিন তাজওয়ারও পেশাগতভাবে দাবাড়ু।

    ১৯৮৮ থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন দশকে ১৪ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে রেকর্ড গড়েন জিয়া। ছাড়িয়ে যান সবাইকে। এ ছাড়া ঘরোয়া অসংখ্য টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জিয়ার ছিল দৃপ্ত পদচারণ। ১৯৮৮ সালে বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে প্রথম অংশগ্রহণ। এরপর আর থেমে থাকেননি। প্রায় সব অলিম্পিয়াডেই তিনি ছিলেন বাংলাদেশ দলের সদস্য। ১৯৯৩ সালে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে রানারআপ হন। ১৯৯৯ সালে ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়নশিপেও হন দ্বিতীয়।

    ২০০১ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত রোডস আন্তর্জাতিক ওপেনে রানারআপ হয়ে গ্র্যান্ডমাস্টারের তৃতীয় ও চূড়ান্ত নর্ম অর্জন করেন জিয়া। এশিয়ান ব্যক্তিগত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের আট আসরে খেলেছেন তিনি। পাঁচটি ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এশিয়ান জোনাল দাবায় চারবার চ্যাম্পিয়ন হন। এশিয়ান দলগত দাবায় খেলেছেন তিনবার। গেল দেড় দশকে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন জিয়া।

    দেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেক গুণিজন।

  • স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

    স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১০ মে, ২০২৪: মানিকগঞ্জে স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বাদ জুমা সদর কবরস্থানে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

    এর আগে, আজ শুক্রবার (১০ মে) ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার প্যারেড গ্রাউন্ডে আসিম জাওয়াদের ফিউনারেল প্যারেড এবং দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

    আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও বিমান বাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং নৌবাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে ঢাকা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মাসুদ ইকবাল মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদের পরিবারের সদস্য, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদবীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকের প্যারেড গ্রা মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    ফিউনারেল প্যারেড শেষে স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদের মরদেহ নেওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বিমানবাহিনীর একটি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ নেওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এসময় দুই পাইলট প্যারাসুট নিয়ে বিমান থেকে লাফ দেন। স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিএনএস পতেঙ্গাতে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর ১ মাস ২০ দিন। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা, এক পুত্র, বাবা-মা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ ১৯৯২ সালের ২০ মার্চ মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়ার গোপালপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ডা. মো. আমান উল্লাহ এবং মাতার নাম নীলুফা আক্তার খানম। আসিম জাওয়াদ ২০০৭ সালে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৯ সালে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১২ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস থেকে বিএসসি (এ্যারো) পাশ করেন।

     

    ২০১০ সালে বিমান বাহিনীতে যোগ দেন আসিম:

    স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন এবং ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর ক্যাডেটদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান সোর্ড অব অনার প্রাপ্তিসহ জিডি (পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন।

     

    ১২ বছর বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন আসিম:

    কমিশন প্রাপ্তির পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার চাকরিকাল ১২ বছর ৫ মাস ৯ দিন। চাকরিকালীন তিনি বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে তিনি এ্যাডজুটেন্ট ১৫ স্কোয়াড্রন বি বা, এ্যাডজুটেন্ট ৩৫ স্কোয়াড্রন বি বা, ইন্সট্রাকটর পাইলট ১১ স্কোয়াড্রন বি বা, স্টাফ ইন্সট্রাকটর-ফ্লাইং ইন্সট্রাকটরস স্কুল বি বা, ইন্সট্রাকটর পাইলট ১০৫ এজেটিইউ বি বা, কোয়ালিফাইড উইপন ইন্সট্রাকটর ২১ স্কোয়াড্রন বি বা এবং ফ্লাইট কমান্ডার (অপস্) অ্যান্ড ইন্সট্রাকটর ২১ স্কোয়াড্রন বি বা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    দেশে-বিদেশে পেশাদারী স্বীকৃতি লাভ করেন আসিম জাওয়াদ:

    স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ পেশাদারী দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মফিজ ট্রফি’, ‘বিমান বাহিনী প্রধান ট্রফি’ ও বিমান বাহিনী প্রধানের প্রশংসাপত্র লাভ করেন। এছাড়াও ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কোর্সে অংশগ্রহণ করে সাফল্যের স্বীকৃতি অর্জন করেন।চাকরিকালীন দেশে-বিদেশে পেশাগত বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করে সফলতার সঙ্গে তা সম্পন্ন করেন।তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে ওয়াটারম্যানশীপ কোর্স, বেসিক লোকাল এডমিন কোর্স, ফিজিক্যাল ফিটনেস কোর্স, জেনারেল সারভাইভাল কোর্স, অপস্ ইন্টেলিজেন্স কোর্স, ফরওয়ার্ড এয়ার কন্ট্রোলার কোর্স, এলিমেন্টারি সেফটি কোর্স, বেসিক জেট অ্যান্ড ফাইটার কনভার্সন কোর্স, অপস্ কনভার্সন কোর্স, এলিমেন্টারি লিডারশীপ কোর্স, ফ্লাইং ইনসট্রাকটরস কোর্স, ফ্লাইং সুপারভিশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোর্স, ফিজিক্যাল ইনডকট্রিনেশন কোর্স, জুনিয়র কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স, অপস্ কনভার্সন কোর্স অ্যান্ড রেয়ার ককপিট ক্লিয়ারেন্স কোর্স ও ফ্লাইট লিডারশীপ কোর্স সম্পন্ন করেন। স্কোয়াড্রন লিডার আসিম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস থেকে এভিয়েশন ইনসট্রাকটরস পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।

     

    চীন ও ভারত থেকে ফাইটার কোর্স করেন স্কোয়াড্রন লিডার আসিম:

    এছাড়া, তিনি চীন থেকে ফাইটার পাইলটস ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্স, ভারত থেকে অপারেশনাল ট্রেনিং ইন এভিয়েশন মেডিসিন ফর ফাইটার পাইলটস কোর্স, বেসিক এয়ার স্টাফ কোর্স ও কোয়ালিফাইড ফ্লাইং ইন্সট্রাকটরস কোর্স সম্পন্ন করেন।

  • গোপালঞ্জে গায়ক খালিদের দাফন সম্পন্ন

    গোপালঞ্জে গায়ক খালিদের দাফন সম্পন্ন

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৯ মার্চ, ২০২৪: জনপ্রিয় গানের শিল্পী খালিদকে আজ বিকেলে গোপালগঞ্জ শহরের নয়া গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে ।

    সোমাবার রাতেই তার নিজ বাড়ি গোপালগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই গায়ককে। রাত সাড়ে ৩টায় গোপালগঞ্জ শহরের বাসায় পৌঁছায় খালিদের নিথর দেহ।

    এর আগে সোমবার রাত ১১টায় রাজধানীর গ্রিন রোড জামে মসজিদে খালিদের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় শিল্প, সংস্কৃতিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

    আহ মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) যোহর নামাজের পর গোপালগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে খালিদের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শহরের গেটপাড়ার গোরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

    জানা গেছে, খালিদের স্ত্রী এবং ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে। দাফনের আগে তারা দেশে আসতে পারেনি। তবে গোপালগঞ্জে খালিদের বড় ভাই আছেন, তিনিই সব প্রস্তুত করছেন।

    প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যার পর গ্রিন রোডের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন খালিদ। এরপর দ্রুত গ্রিন রোডের কমফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর সাড়ে ৭টায় খালিদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। জানানো হয়, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা গেছেন তিনি।

    মৃত্যুকালে ‘চাইম’ ব্যান্ডের এই ভোকালের বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পায় সরলতার প্রতিমা, কোনো কারণেই ফেরানো গেল না তাকে, হয়নি যাবারও বেলা, যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে।

  • মোহাম্মদপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদ

    মোহাম্মদপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদ

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৪ মার্চ, ২০২৪: রাজধানীর মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদ। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বাদ জোহর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তাকে দাফন করা হয়েছে।

    প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী সাদী মহম্মদ বুধবার (১৩ মার্চ) রাত আটটার দিকে মারা গেছেন। মোহাম্মদপুরের বাসভবনে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হয়। তার ভাই শিবলী মহম্মদ বলেন, তানপুরা নিয়ে তার বড় ভাই সংগীত চর্চা করেছেন। সন্ধ্যার পর হঠাৎ দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। তখন দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    সাদি মহম্মদের ব্যক্তিগত সহকারী জানান, বেগুনি-মুড়ি দিয়ে ইফতার শেষে নিজ রুমে যান তিনি। বেশ কিছুক্ষণ রেয়াজ করেন তানপুরা নিয়ে। যেটা তিনি প্রায় সময় করে থাকেন। এরপর অনেক সময় চুপচাপ থাকেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করলে সাড়া মিলছিল না। তারা গিয়ে দেখেন দরজা বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে সাদিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন তারা।

    সোহরাওয়ার্দী হাসপাতলের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগতিক লোহানী বলেছেন, তার গলায় দাগ পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে নিজ কক্ষ থেকে ঝুলন্ত থাকা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে আমরা তাকে মৃত পাই। প্রাথমিক সিদ্ধান্তে আমরা এটাকে আত্মহত্যা হিসেবে মনে করছি।

    তার মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাদি মহম্মদের মৃত্যুর পর অনেকে ছুটে আসে মোহাম্মদপুর তার বাসায়।

    ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন সাদি মহম্মদ। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে শহীদ পিতার সন্তান। তার বাবার নাম শহীদ সলিমউল্লাহ। মায়ের নাম জেবুন্নেছা সলিমউল্লাহ।

    ১৯৭৩ সালে মায়ের ইচ্ছায় বুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন সাদি মহম্মদ। তবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মন বসাতে পারেননি এই সংগীতশিল্পী। ১৯৭৫ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালে গানের টানে স্কলারশিপ নিয়ে শান্তিনিকেতনে সংগীত নিয়ে পড়তে চলে যান সাদি মহম্মদ। বিশ্বভারতী থেকে রবীন্দ্রসংগীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। সেই থেকে গানের জগতে পথচলা শুরু সাদি মহম্মদের।

    রবীন্দ্রসংগীতে সাদি মহম্মদের মূল পরিচিতি গড়ে উঠলেও আধুনিক গানেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অসংখ্য রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে তার কণ্ঠে। সঙ্গে আধুনিক গানও। এ ছাড়াও তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন রবিরাগের পরিচালক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

    ২০০৭ সালে ‘আমাকে খুঁজে পাবে ভোরের শিশিরে’ অ্যালবামের মধ্যদিয়ে সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সাদি মহম্মদ। এছাড়া ২০০৯ সালে তার ‘শ্রাবণ আকাশে’ ও ২০১২ সালে তার ‘সার্থক জনম আমার’ অ্যালবাম প্রকাশিত হয়।

    ১৯৭১ সালে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের সি-১২/১০ বাড়িটি ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা সলিমউল্লাহর বাড়িতে নিয়মিত বৈঠকে আসতেন দলের শীর্ষ নেতারা।

    একাত্তরের ২৬ মার্চ অবাঙালি বিহারি ও পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে সলিমউল্লাহর বাড়ি। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাদের পুরো বাড়ি। পাশাপাশি নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সাদি মহম্মদের বাবা সলিমউল্লাহকে। পরবর্তীতে তার বাবার নামেই ঢাকার মোহাম্মদপুরের সলিমউল্লাহ রোডের নামকরণ করা হয়।

    ২০১২ সালে তাকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে চ্যানেল আই। ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি থেকে পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার।

  • অভিনেতা আহমেদ রুবেলের দাফন হয়েছে গাজীপুরে

    অভিনেতা আহমেদ রুবেলের দাফন হয়েছে গাজীপুরে

    www.HelloBangla.News – বিনোদন  – ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: আহমেদ রুবেল মঞ্চ দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করলেও টেলিভিশনে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সেই সুবাদে অভিনয় করেছেন বেশ কিছু চলচ্চিতেও। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

    জাান গেছে, পরিচালক নুরুল আলম আতিকের নির্মিত নতুন সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’র–বিশেষ প্রদর্শনী ছিল। এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন। সন্ধ্যায় বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিতে আহমেদ রুবেল নিজেই গাড়ি চালিয়ে বসুন্ধরা সিটিতে আসেন। পার্কিং থেকে হলে ঢোকার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

    মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের গুণী এই অভিনেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণে রাখা হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে তার মরদেহ ঘিরে ধরেন সবাই। এরপর একে একে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করেন। ঢাকা থিয়েটার ছাড়াও আহমেদ রুবেলকে শ্রদ্ধা জানাতে আসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটি, গ্রাম বাংলা থিয়েটার, অভিনয় শিল্পী সংঘ, সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

    এরপর বাদ আছর নিজ শহর গাজীপুরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    একুশে টেলিভিশনের আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘প্রেত’-এ অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পান আহমেদ রুবেল। আহীর আলম পরিচালিত প্রেত নাটকের গল্প লিখেছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তারপর থেকে নাটকে ও সিনেমায় ব্যস্ততা বেড়েই চলে তার।

    একটা সময় নন্দিত লেখক, নাট্যকার ও পরিচালক হুমায়ুন আহমেদের পরিচালনায় অভিনয় শুরু করেন। তার পরিচালিত শ্যামল ছায়া সিনেমায় অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল। এছাড়া অনেকগুলো ধারাবাহিক নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। সালাউদ্দিন লাভলুর সাড়া জাগানো নাটক ‘রঙের মানুষ’ ও মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর জনপ্রিয় নাটক ‘৬৯’- এ সাবলীল অভিনয় করে দর্শকনন্দিত হন।

    তার অভিনীত ‘গেরিলা’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘আলফা’, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’-সহ আরও বেশ কয়েকটি সিনেমা প্রশংসিত হয়েছে। নাসিরউদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত ‘আলফা’ সিনেমাটি অস্কারে গিয়েছিল।

    গেরিলা সিনেমায় তিনি শহীদ আলতাফ মাহমুদের চরিত্রে অভিনয় করেন ।

    ১৯৬৮ সালের ৩ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রাজারামপুর গ্রামে জন্ম হয়েছিল আহমেদ রুবেলের। তার বাবার নাম আয়েশ উদ্দিন। বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। মৃত্যুর আগে গাজীপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন তিনি।