শিল্পকলার আয়োজনে আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা

শিল্পকলার আয়োজনে আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা - বিনোদন - ২৬ অক্টোবর ২০২৩
শিল্পকলার আয়োজনে আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা - বিনোদন - ২৬ অক্টোবর ২০২৩

www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৬ অক্টোবর, ২০২৩: আলোকচিত্র হচ্ছে এমন এক মাধ্যম যা বস্তু, দৃশ্য বা ঘটনাকে বাস্তবসন্মতভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ করে দেয়। তাই আলোকচিত্রের ভাষা খুব স্পষ্ট। সেই কারণে আলোকচিত্র হচ্ছে শিল্পকলার একটি বড় শাখা। আলোকচিত্রে আগ্রহীদের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে “জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ২০২৩”।

কোনো মাধ্যমে ধারণ করার মতো ছবি সর্বপ্রথম তৈরি হয় ১৮১৪ সালে। অ্যারিস্টটলের সময়ে (৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) গ্রিসে কোনো ছোট জিনিসকে বড় করে দেখার কাজে ও সূর্যের আলো কোনো বিন্দুতে ফোকাস করে আগুন ধরানোর জন্য লেন্স ব্যবহার হতো। অ্যারিস্টটল নিজেও সূর্যগ্রহণের সময় অর্ধচন্দ্রাকৃতি প্রতিবিম্ব তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন, যা আসলে পিনহোল ক্যামেরার মূলসূত্র। প্রায় একইসময় চীনে মো-তি নামে একজন গবেষক আলোর একই বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করেন।

খ্রিস্টিয় দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শুরুতে ইরাকি গবেষক ইবনে আল-হাইতাম (৯৬৫-১০৩৯ খ্রি.) কায়রোতে গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় কিতাব আল মানাজির নামের ৭ খন্ডের একটি বই লেখেন, যেখানে তিনি আলোর ধর্ম সম্পর্কে ধারণা দেন ও আলোক রশ্মির জ্যামিতিক আচরণ ব্যাখ্যা করেন। তার এই লেখাই অপটিক লেন্স-এর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে। পাশাপাশি তিনি প্রথমবারের মতো ক্যামেরা অবসকিউরা যন্ত্রটি তৈরি করেন, যা পিনহোল ক্যামেরার পূর্বরূপ। ল্যাটিন ভাষায় ক্যামেরা অবসকিউরা শব্দটির অর্থ অন্ধকার প্রকোষ্ঠ। ১৬০৪ সালে জার্মান জ্যোতির্বিদ জোহানেস কেপলার প্রথম এই নামটি ব্যবহার করেন।

ইউরোপে আলোকচিত্র স্ফুরণের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় উপমহাদেশে, তৎকালীন বৃটিশ ইন্ডিয়ায় ফটোগ্রাফির চর্চা শুরু হয়। ১৯ শতকের বিভিন্ন সময়ে তোলা প্রাচীন ছবিগুলোর অধিকাংশই ছিল পারিবারিক পোরট্রেইট, ল্যান্ডস্কেপ, বিভিন্ন সংস্কৃতির রেকর্ড ও স্থাপত্যবিষয়ক। ১৮৬৩ সালে কোলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড’ স্টুডিও। বৃটিশ ভারতের বিভিন্ন শহরে এবং বৃটিশ ভারতের বাইরে লন্ডন ও প্যারিসেও ‘বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড’-এর শাখা ছিল। বৃটিশ ইন্ডিয়ার প্রথমদিকে তোলা প্রামাণ্য আলোকচিত্রগুলোর অন্যতম হল  জন ফ্যালকনারের এ শিফটিং ফোকাস। বৃটিশ লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত এ সংকলনে ১৮৫০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত বৃটিশ ভারতে তোলা অধিকাংশ আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। বলা যায় তখন তখন থেকেই আধুনিক আলোকচিত্র শিল্পের যাত্রা। বর্তমানে আধুনিক ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার পাশাপাশি মোবাইলের মাধ্যমেও ছবি তোলা সম্ভব।

শিল্পকলার এই শাখাটি সর্বজনীন করতে শুরু হতে যাচ্ছে “জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ২০২৩”। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা।  প্রতিযোগিতায় আলোকচিত্র পাঠানোর সময় বাড়ানো হয়েছে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। বিষয়: “উন্নয়নের বাংলাদেশ, নান্দনিক বাংলাদেশ” ক্যামেরা ও মুঠোফোনে তোলা ছবি পাঠাতে পারেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্যাদি ও নিয়মাবলী একাডেমির চারুকলা বিভাগ থেকে এবং (www.shilpakala.gov.bd)থেকে সংগ্রহ করা যাবে। অথবা ফোন নাম্বার- ২২২৩৩৮০৬০২ অবথা মোবাইল-০১৯১৪৮৫৪৮১২ এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।

পূর্ববর্তী বিশ্বকাপে রেকর্ড সৃষ্টি করে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া
পরবর্তী বিএনপি প্রতিরোধের নামে সহিংসতা করতে চায়: সেতুমন্ত্রী