www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৯ নভেম্বর, ২০২৩: বলিউডের হিন্দি ছবি ‘পিপ্পা’ সিনেমায় বিকৃত ভাবে কবি নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি উপস্থাপনের পর থেকে দুই বাংলায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।ভারতের বিখ্যাত সুরাকার এ আর রহমান গানটি রিমেক করেছেন।শুধু সুর বিকৃত করা হয়নি যে দৃশ্যায়নে গানটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও ঠিক নয়। কেননা বুকে আগুন জ্বালানো গান গোল হয়ে নাচা হয়েছে যা গানটির কথার সঙ্গে বেমানান। তাই বলিউডের ‘পিপ্পা’ সিনেমায় এ আর রহমানের রিমেক করা কবি নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গান সামাজিকমাধ্যম থেকে অপসারণ বা ব্লক করতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আজ রবিবার (১৯ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী ও ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির ডাক ও ই-মেইলে এ নোটিশ পাঠান।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
অবিলম্বে বাংলাদেশে ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানের এ আর রহমান ভার্সন ফেসবুক, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, ওটিটি প্ল্যার্টফর্ম, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম থেকে অপসারণ বা ব্লক না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে বলিউড সিনেমা ‘পিপ্পা’। এতে কবি নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানের রিমেক ব্যবহার হয়েছে।
রিমেকটি তৈরি করেছেন উপমহাদেশের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। এতে প্রশংসার বদলে বাংলা ভাষাভাষীদের সমালোচনার ঝড়ে পড়েছেন এ অস্কারজয়ী কম্পোজার। পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশের নজরুল অনুরাগীরা নতুন সুরের গানটিকে মেনে নিতে পারছেন না।
গানটি নিয়ে মুখ খোলেন বিদ্রোহী কবির নাতি অনির্বাণ কাজী। এক রকম চটে গিয়ে তিনি বলেন, গানের ক্রেডিট থেকে তার পরিবারের নাম মুছে ফেলা হোক।
কলকাতার গণমাধ্যম অন্য সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনির্বাণ বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারিনি যে রহমানের মতো একজন শিল্পী এতটা অসংবেদনশীল হতে পারেন এবং এভাবে গানটিকে হত্যা করতে পারেন। প্রতিবাদ হিসেবে, আমি চলচ্চিত্রের ক্রেডিট লাইনে বিশেষ ধন্যবাদে আমাদের পরিবারের নাম চাই না। ’
কাজী নজরুল ইসলামের পরিবার থেকে অনুমতি নিয়েই গানটি রিমেক করা হয়েছিল বলে তথ্য দেন অনির্বাণ।
তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে মা অনুমতি দিয়েছিলেন। সুর ও কথা না বদলে গানটা রিমেক করতে অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাদের (নির্মাতা) পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, গানটা তারা নিজেদের মতো করে ব্যবহার করতে চায়। তখন মা তাদের বলেছিলেন, গানটা তৈরি হয়ে গেলে একবার শোনাতে। কিন্তু ওরা কিছুই শোনায়নি। এরপর মা-ও মারা যান। ’
গানটিকে বিকৃত করা হয়েছে অভিযোগ এনে অনির্বাণ বলেন, ‘রহমানকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েই জানতে চাই, তাকে কে অধিকার দিল গানটি বিকৃত করার? স্বত্ব দেওয়ার সময় তো সুর বদলের কথা বলা হয়নি। কী রকম একটা করে দিয়েছে গানটাকে! একটা গ্রামীণ সংগীতের মতো, ভাটিয়ালির মতো করে দিয়েছে। অনেক সস্তা করে দিয়েছে। ’
ভারতের আনন্দবাজার বলছে, দুই দেশের অধিকাংশেরই দাবি, রহমান গুণী হলেও নজরুলের গান নিয়ে সঠিক বিচার করেননি তিনি। গানের সুর বিকৃতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে এক যোগে প্রতিবাদও শুরু হয়েছে। উদারবাদীদের কেউ কেউ সেই সুর ‘হজম’ করে নিলেও বাংলার শিল্পী মহলের অধিকাংশই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। বিস্তর লেখালেখি শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যম থেকে সংবাদমাধ্যমে। কেন সেই সুর বিকৃতি হল, কী ভাবে হল তা নিয়ে তর্ক চলছে। হয়তো আরও কিছু দিন চলবে। আরও পরে সেই বিতর্কে প্রলেপও পড়বে। তবে ছবিতে গানটির প্রয়োগ নিয়ে সে ভাবে কাউকে কথা বলতে দেখা গেল না। কোন দৃশ্যে সেই গান ব্যবহার হয়েছে, কতটা ব্যবহার হয়েছে, তার হিসাব মিলাতে পারছেননা অনেকে। ছবির যে দৃশ্যে ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানটি ব্যবহার হয়েছে, তাতে গানটির ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। গুরুত্বও হারিয়েছে।
পিপ্পা ছবির গল্পে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করতে বাংলাদেশে যান এক ভারতীয় সেনা। এক দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, সেই ভারতীয় সেনাকে নিয়ে আনন্দে মেতেছেন জনা কয়েক মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে ‘সর্ষে ইলিশ’ রেঁধে খাওয়ানোর কথা ভাবছেন। একই সঙ্গে চলছে আমোদপ্রমোদ। গলা ছে়ড়ে ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গান গাইছেন (অন্য সুরে) মুক্তিযোদ্ধারা। গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বনফায়ার ঘিরে নেচেও চলেছেন। সুর নিয়ে বিতর্ক তো হয়েছে, ব্যবহার নিয়েও কম বিতর্ক হওয়ার কথা নয়।
১৯২২ সালের ২০ জুন ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি লিখেছিলেন কবি কাজী নজরুল। মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দাস কারারুদ্ধ হলে তার স্ত্রী বাসন্তী দেবী নজরুলকে বলেছিলেন, বাংলার মানুষকে নিয়ে কিছু লিখতে। সেই অনুরোধের প্রতি সম্মান রেখেই নজরুল রচনা করেছিলেন ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ কালজয়ী গান। ১৯৪৯ সালের জুন মাসে যা রেকর্ড করা হয়। গিরিন চক্রবর্তীর গলায় প্রথম ভেসে ওঠে দ্রোহের এই গান।
তাই সকলের দাবি গানটি দ্রুত পিপ্পা ছবি থেকে অপসারণ করা হোক।










