শেষ হলো শিল্পকলার ১০ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব

শেষ হলো শিল্পকলার ১০ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব

হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ভাওয়াইয়া গানের অনুষ্ঠান ‘মাটি সুর’ এর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১০ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব। বাংলাদেশের সাংস্কৃতির ধারাকে বিকশিত রাখতে শিল্পকলা একাডেমি ‘১লা জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত’ ১০ দিনব্যপী   আয়োজন করে ‘সাংস্কৃতিক উৎসব২০২৩’ ।

গতকাল রবিবার বিকেল সংগীত আবৃত্তি ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মাটি সুর’ অনুষ্ঠানের শেষ দিনের পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবীণ শিল্পীরা।

এর আগে ১লা জুন প্রথম দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় পঞ্চকবির গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। বাংলা সাহিত্যে পঞ্চকবি হলেন পাঁচজন কবি যাঁরা কবিতা লেখার পাশাপাশি একইসাথে গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন ও অতুলপ্রসাদ সেন।

শেষ হলো শিল্পকলার ১০ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব

২য় দিন পরিবেশিত হয় দেশের গানের অনুষ্ঠান; প্রিয় দেশমাতৃকা।

৩য় দিনের পরিবেশনায় ছিলো বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বাউল শিল্পীদের নিয়ে পরিশেনা বাউল গানের অনুষ্ঠান; অচিনপাখি।

৪র্থ দিন পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান নিয়ে অনুষ্ঠান; সিনেমার গান।

৫ম দিন, প্রবীণ ও গুণী শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় ‘ধ্রুবতার ‘ এতে অংশ নেন বুলবুল মহলানবীশ, আকরামুল ইসলাম, সাইদুর রহমান বয়াতি, তিমির নন্দী, ফাতেমা তুজ জোহরা এবং জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের মতো গুণী শিল্পীরা।

৬ষ্ঠ দিন পরিবেশিত হয় পালাগানের অনুষ্ঠান: ‘লোকগাঁথা’

গ্রাম বাংলার বহুল জনপ্রিয় লোক ঐতিহ্য পালাগানে অংশ নেন লতিফ সরকার ও রুমা সরকার, ১ম পর্বের আয়োজনে পালার নাম ছিলো ‘শরীয়ত এবং মারফত’।

দ্বিতীয় পর্ব অংশ নেন মহারাজ আবুল সরকার বনাম আকলিমা বেগম। পালার নাম: ‘নবুয়াত বেলায়েত’

৭ম দিনেও পরিবেশিত হয় পালাগানের অনুষ্ঠান: ‘লোকগাঁথা’

প্রথম পর্বে পালাগান পরিবেশন করেন বাউল মাতা আলেয়া বেগম ও দেলোয়ার হোসেন বয়াতি, পালার নাম: ‘গুরু- শিষ্য’।

দ্বিতীয় পর্বের পরিবেশনায় অংশ নেন শাহ আলম ও মুক্তা সরকার, পালার নাম: ‘নারী -পুরুষ’।

৮ম ও ৯ম দিন পরিবেশনায় ছিলো শিশু-কিশোরদের নিয়ে অনুষ্ঠান: “নতুন যৌবনের দূত”

শেষ হলো শিল্পকলার ১০ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব

এই দিন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী। তিনি বলেন- “শিশুদের মনন বিকাশে গুরুত্ব দিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠতে তাদের সহায়তা করতে হবে। প্রকৃতি থেকে তাদের জ্ঞান আহরণের সুযোগ দিতে হবে। পরীক্ষার ফলাফল মেধা মুল্যায়নের অনুষঙ্গ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের কেবল অনুশাসনের মধ্যে রাখলে চলবে না। তাদের সুস্থ মনোজগতের বিকাশে প্রকৃতির সাথে বেড়ে ওঠার স্বাধীনতা দিতে হবে।

প্রতিশ্রুতিশীল, বরেণ্য ও প্রবীণ শিল্পীদের অংশগ্রহণে ১০ দিন ব্যাপী চলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার ভাবনা ও পরিকল্পনায় ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী এবং অনুষ্ঠান আয়োজনে সমন্বয়ক ছিলেন একাডেমির কর্মকর্তা সাদিয়া বিনতে আফজাল।

পূর্ববর্তী কমনওয়েলথ দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যবসা জোরদার করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর ২০০ বক্তৃতা সম্বলিত ‘ভায়েরা আমার’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী