হামাসের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক সমুদ্রের পানিতে প্লাবিত করবে ইসরায়েল

হামাসের সুড়ঙ্গ পানিতে ধ্বংস করবে ইসরায়েল - আন্তর্জাতিক - ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
হামাসের সুড়ঙ্গ পানিতে ধ্বংস করবে ইসরায়েল - আন্তর্জাতিক - ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের নিচে থাকা হামাসের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক সমুদ্রের পানিতে প্লাবিত করার কথা বিবেচনা করছে ইসরায়েল। মূলত সুড়ঙ্গে অবস্থান করা হামাস যোদ্ধাদের বের করে দিতে টানেলগুলোকে প্লাবিত করার কথা ভাবছে তারা। এ লক্ষ্যে বড় সিস্টেমের পাম্পও একত্রিত করেছে দেশটি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

গাজার সর্বত্র অভিযান শুরুর পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্থানীয় বাসিন্দাদের দক্ষিণ দিক থেকে সরে যেতে বলছে। প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছাড়লেও রক্ষা পাচ্ছেন না অসহায় মানুষেরা। কারণ, গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র আকাশ থেকে বোমা ফেলছে ইসরায়েল।

সোমবার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর রেডিওতে দেশটির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম ঘোষণা দেন, ‘উত্তর গাজায় আমাদের লক্ষ্য প্রায় পূরণ হয়েছে। আমরা এখন উপত্যকাটির অন্যান্য এলাকায় স্থল অভিযান শুরু করেছি। লক্ষ্য একটাই হামাসকে নির্মূল করা।’

দক্ষিণ গাজায় অভিযান শুরু হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েল সেনাবাহিনীর প্রধান হেরজল হালেভি। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ইসরায়েলি সেনা ও ট্যাংকগুলোকে গাজার শহরাঞ্চল ছাড়াও অন্যান্য এলাকায় টহল দিচ্ছে। ট্যাংক ও বিভিন্ন সমরাস্ত্র থেকে গোলাবারুদ ছুড়তেও দেখা গেছে।

খান ইউনিস এলাকার তিন ভাগের এক ভাগ হলুদ রঙে চিহ্নিত করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে নিরাপত্তার খাতিরে সেখান থেকে বাসিন্দাদের ভূমধ্যসাগরের উপকূল ও মিসর সীমান্তবর্তী রাফাহ এলাকায় অবস্থান নিতে হবে।

বোমার আঘাতে নিজের বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর সেখানকার বাসিন্দা সালাহ আল আরজা বলেন, ‘তারা (ইসরায়েল) বলেছিল, এ জায়গা নিরাপদ। তবে পুরো গাজার কোথাও নিরাপত্তা নেই। তারা যা বলেছে, সব মিথ্যা।’

গাজায় নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৯৯। জাতিসংঘ বলছে, ইসরায়েলের বোমা থেকে বাঁচতে গাজার ২৩ লাখ জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকে ইতিমধ্যে ভিটেমাটি ছাড়তে হয়েছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজায় তারা প্রায় ১০ হাজার বোমা ফেলেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপদেষ্টা মার্ক রেজেভ দাবি করেন, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষায় ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালাচ্ছেন তারা।

গাজায় চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজারের বেশি।

এছাড়া ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সুড়ঙ্গগুলো সাগরের পানি ভরে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল। সুড়ঙ্গ ধ্বংসে সীমান্তে বেশ বড় আকারের পাম্প জড়ো করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

হামাস বলছে, দক্ষিণের শহর খান ইউনুস থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে মুখোমুখি যুদ্ধ করছে হামাসের যোদ্ধারা।

ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র ইলন লেভি বলেছেন, সপ্তাহান্তে কমপক্ষে ৪০০ টার্গেটে হামলা করেছে তারা। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের কাছে এখনও আছে ১৩৬ জন ইসরায়েলি জিম্মি। হামাসকে চিরতরে দুনিয়া থেকে মুছে দেয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে ইসরাইল। অন্যদিকে ইসরাইলের ধ্বংসের জন্য শপথবদ্ধ হামাস।

এদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। হামলায় অনেকে আহত হয়েছে।

পূর্ববর্তী রান্না – বক ফুলের পাকোড়া
পরবর্তী হিন্দি সিরিয়াল ‘সিআইডি’র ফ্রেডির মৃত্যু