www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: অনেক সংগ্রামের পর নিজেকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। যশ-খ্যাতি এবং অঢেল অর্থের মালিক তিনি। বয়স ৫৮ হলেও তার কোনো ছাপ নেই কর্মে। এখনো ছুটে চলছেন জোর গতিতে। জীবনে সিনেমা করেই আয় করেছেন প্রচুর অর্থ। এখনও তিনি চুটিয়ে অভিনয় করেন।
২০১৫ সাল থেকে শাহরুখ খান চলচ্চিত্র প্রযোজনা কোম্পানি রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ও এর সহযোগী সংগঠনের সহ-চেয়ারম্যান এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগের দল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের সহ-কর্ণধার। তাকে প্রায়ই টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও স্টেজ শোতে পরিবেশনা করতে দেখা যায়। পণ্যের শুভেচ্ছাদূত ও শিল্পোদ্যোগের জন্য গণমাধ্যম তাকে প্রায়ই “ব্র্যান্ড এসআরকে” বলে উল্লেখ করে থাকে। শিশুদের শিক্ষায় সহায়তার জন্য ইউনেস্কো তাকে পিরামিড কন মার্নি পুরস্কার প্রদান করে এবং ভারতে নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষার্থে তার নেতৃস্থানীয় ভূমিকার জন্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তাকে ২০১৮ সালে ক্রিস্টাল পুরস্কার প্রদান করে। তাকে প্রায়ই ভারতের সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান পেতে দেখা যায়। ২০০৮ সালে নিউজউইক তাকে বিশ্বের ৫০ ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেয়। শাহরুখের বাড়িকে বিলাসবহুল বাড়ি না বলে একে বলা যেতে পারে প্রাসাদ। তাছাড়াও রয়েছে দামি দামি গাড়ি। তার বিরাট কর্মযজ্ঞ সামলাতে গিয়ে ২০টি দামি মুঠোফোন ব্যবহার করেন শাহরুখ।
শাহরুখ খান ১৯৮০-র দশকের শেষের দিকে বেশ কিছু টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দিওয়ানা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। তিনি কর্মজীবনের শুরুর দিকে খল চরিত্রে ডর (১৯৯৩), বাজিগর (১৯৯৩), ও আঞ্জাম চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর তিনি অসংখ্য বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং খ্যাতি অর্জন করেন। তন্মধ্যে রয়েছে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে (১৯৯৫), দিল তো পাগল হ্যায় (১৯৯৭), কুছ কুছ হোতা হ্যায় (১৯৯৮), মোহাব্বতে (২০০০), ও কভি খুশি কভি গম… (২০০১)। তিনি দেবদাস (২০০২)-এ মদ্যপ জমিদার পুত্র দেবদাস মুখার্জি, স্বদেশ (২০০৪)-এ নাসার বিজ্ঞানী, চাক দে! ইন্ডিয়া (২০০৭)-এ হকি কোচ ও মাই নেম ইজ খান (২০১০)-এ অ্যাসপারগারের লক্ষণে আক্রান্ত ব্যক্তি চরিত্রে অভিনয় করে সমাদৃত হন। তার সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রসমূহ হল প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক ছবি চেন্নাই এক্সপ্রেস (২০১৩), উত্তেজনাপূর্ণ হাস্যরসাত্মক ছবি হ্যাপি নিউ ইয়ার (২০১৪), মারপিটধর্মী ছবি দিলওয়ালে (২০১৫) এবং অপরাধমূলক ছবি রইস (২০১৭)। স্বল্প বিরতির পর শাহরুখ মারপিটধর্মী চলচ্চিত্র পাঠান (২০২৩) দিয়ে ফিরে আসেন, যেটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী হিন্দি চলচ্চিত্র।
তবে ১৯৯২ সালে কাজ শরু করলেও ১৯৯৫ সালে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’র মতো হিট ছবি দিয়ে বক্স অফিস কাঁপাচ্ছেন বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খান। একই বছরে তার কেরিয়ারের ঝুলিতে এমন একটি ছবি যোগ হয় যা এখনও পর্যন্ত শাহরুখের অভিনয় জীবনের ‘সবচেয়ে ব্যর্থ’ ছবি বলা হয়।
নব্বইয়ের দশকে বলিউডের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেতাদের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেন শাহরুখ। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’র পর একই বছর মুক্তি পায় ‘কর্ণ অর্জুন’। পর পর শাহরুখের দু’টি ছবিই বক্স অফিসে দুর্দান্ত ব্যবসা করে।
১৯৯৫ সালে শাহরুখের মোট সাতটি ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ এবং ‘কর্ণ অর্জুন’ হিট হলেও ওই বছরে মুক্তি পাওয়া ‘জমানা দিওয়ানা’ এবং ‘গুড্ডু’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।
১৯৯৫ সালের শেষের দিকে মুক্তি পায় ‘ত্রিমূর্তি’। এই ছবির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মুকুল এস আনন্দ। ওই বছর শাহরুখ অভিনীত শেষ ছবি ছিল সেটি।, এখনও পর্যন্ত শাহরুখ যতগুলি ছবিতে অভিনয় করেছেন সেগুলির মধ্যে ‘ত্রিমূর্তি’ সবচেয়ে ব্যর্থ ছবি। সুভাষ ঘাই প্রযোজিত ‘ত্রিমূর্তি’ ছবিতে শাহরুখের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন অনিল কাপূর, জ্যাকি শ্রফ, প্রিয়া তেন্ডুলকর, গৌতমী তাদিমালিয়া, অঞ্জলি জঠর, তিন্নু আনন্দ, সইদ জাফ্রের মতো একাধিক তারকা।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, ১১ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছিল ‘ত্রিমূর্তি’ ছবিটি। সেই সময় যে ছবিগুলি মুক্তি পেত সেগুলির সঙ্গে তুলনা করলে বাজেটের দিক থেকে অনেক এগিয়ে ছিল ‘ত্রিমূর্তি’। তবে বক্স অফিসে ভাল ব্যবসা করতে পারেনি ‘ত্রিমূর্তি’। সারা ভারত জুড়ে মাত্র আট কোটি টাকার ব্যবসা করে শাহরুখের এই ছবিটি। জানা গেছে, মুক্তির দিন বিপুল ব্যবসা করেছিল ‘ত্রিমূর্তি’। প্রথম কোনও ভারতীয় ছবি যা মুক্তির প্রথম দিনেই এক কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলে।
তবে ‘ত্রিমূর্তি’ ছবিটি মুক্তির পর লোকমুখে নিন্দা ছ়ড়াতে থাকায় ধীরে ধীরে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় কমে যেতে থাকে। কানাঘুষো শোনা যায়, ‘ত্রিমূর্তি’ ছবিতে শাহরুখের সহ-অভিনেতা হওয়ার কথা ছিল বলি অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের। এমনকি ছবির জন্য বেশ কয়েকটি দৃশ্য শুট করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু তার পর জেলবন্দি হয়ে পড়েন তিনি।
সঞ্জয়ের অনুপস্থিতিতে ‘ত্রিমূর্তি’ ছবির কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তার পর অনিল কপূরকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন ছবিনির্মাতারা। অনিল সে প্রস্তাবে রাজি হলে আবার নতুন করে শুরু হয় ছবির শুটিং। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘ত্রিমূর্তি’র। কিন্তু আবার নতুন করে শুটিং শুরু হওয়ায় মুক্তির দিন পিছিয়ে যায়। নির্ধারিত তারিখের এক বছর পর ১৯৯৫ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ত্রিমূর্তি’। এর ফলে বাজেটও বেড়ে যায়। মুকুলের কেরিয়ারের শেষ পরিচালিত ছবি ‘ত্রিমূর্তি’। এই ছবির পর সলমন খান এবং সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে ‘দস’ ছবির পরিচালনা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেননি তিনি।
১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মারা যান মুকুল। ৪৫ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর কেরিয়ারের শেষ পরিচালিত ছবি হিসাবে থেকে যায় ‘ত্রিমূর্তি’।
একদিকে সঞ্জয়ের জেলে যাওয়া এবং পরিচালকের মৃত্যু ছবিটিকে শাহরুখের জবিনের সবচেয়ে ব্যর্থ ছবি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
