পরিবেশবান্ধব অফিস স্মার্ট অফিস

পরিবেশবান্ধব অফিস স্মার্ট অফিস

আজকাল চারদিকে প্রচুর ধুলো-ধোঁয়া-দূষণ, সাথে আছে গ্লোবাল ওয়র্মিংয়ের গরম মেজাজ। তার মাঝে সবুজ বাঁচানোর উদ্যোগটা বজায় রাখা খুবই জরুরি। অফিসগুলো যেন প্রানহীন শুধু আসবাবপত্র আর ইলেকট্রনিক্স জিনিসে ঠাসা। এর মাঝে যেন শ্বাস নেয়াটাও কৃত্রিম মনে হয়। কিন্তু আপনার থেকেই শুরু হতে পারে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন। আর সেই উদ্যোগটা যদি নিজের অফিস ডেস্ক থেকেই শুরু করা হয়, তাহলে খুবই ভাল। আপনি যদি ডেস্কে কাজ করেন তাহলে আশপাশের জায়গাটা গড়ে তুলতে পারেন ইকো ফ্রেন্ডলি জ়োন হিসেবে। খুব বেশি পরিশ্রম করার প্রয়োজন নেই। ছোটখাটো কয়েকটা পরিবর্তনই আপনার চারপাশের আবহে নিয়ে আসতে পারে সবুজের ছোঁয়া।

পরিবেশবান্ধব অফিস স্মার্ট অফিস

  • কাগজের ব্যবহার যতটা পারেন, কম করুন। এখনও সব অফিসে পুরোপুরি ডিজিটাল ফরম্যাটে গড়ে তোলা সম্ভব হয়ে উঠেনি। সেজন্য, অপ্রয়োজনে প্রিন্ট আউট নেবেন না। কাজ ফুরোলে সেই প্রিন্টেড কাগজগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেবেন না। প্রিন্ট আউটের উলটোদিকের অংশটা নোট লেখার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে কিছুটা কাগজ সাশ্রয় হবে। আবার কাগজের ব্যবহার কমানোর জন্য নোট, মিটিং শিডিউল বা প্রজেক্টের পয়েন্ট মোবাইলেও সেভ করে রাখতে পারেন।
  • ওয়ানটাইম পেপার বা প্লাস্টিক কাপের বদলে কফি মগে চা খান। অফিসের টি মেকিং মেশিনে সাধারণত পেপার কাপই দেওয়া হয়। কিন্তু আপনি চাইলে বাড়ি থেকে কফি মগ এনে রাখতেই পারেন অফিসে। একই মগ অনেকদিন ব্যবহার করা যাবে।
  • নিজের ডেস্ক যথাসম্ভব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। খুব ভাল হয়, যদি ডেস্কে ছোট একটা গাছ রাখতে পারেন। সবুজের ছোঁয়ায় আপনি উৎফুল্ল হয়ে প্রতিদিনের কাজ করতে পারবেন। গাছ রাখলে যত্ন করতে ভুলবেন না। অফিসে কাজের ফাঁকে পাঁচ মিনিট তো গাছের যত্নে দেওয়া যেতেই পারে। অন্য কলিগকে উপহার দেওয়ার জন্যও গাছ ভাল অপশন। তারাও উৎসাহ পাবেন ইকো ফ্রেন্ডলি পরিবেশ তৈরিতে। এতে অফিসে কৃত্রিমতা কিছুটা হলেও দূর হবে।
  • এমনিতে কর্পোরেট অফিস বা হাসপাতালগুলোতে বেশিরভাগ সময়েই কৃত্রিম আলোর নীচে কাজ করতে হয়। কিন্তু ন্যাচরাল লাইট অফিসের ভিতরে পৌঁছানো প্রয়োজন। যদি অফিসে সেন্ট্রালাইজড এ.সি না থাকে, তাহলে মাঝেমধ্যে সূর্যের আলো পৌঁছনোর জন্য জানলা খুলে দিন। অফিসে সঠিক ভেন্টিলেশন থাকাও জরুরি।

পরিবেশবান্ধব অফিস স্মার্ট অফিস

  • ওয়াশরুমে কাজ হয়ে গেলে অযথা জলের অপচয় করবেন না। খেয়াল রাখুন সবকয়টি কল যেন বন্ধ থাকে। গোটা বিশ্বেই পানির সংকট। পানি সাশ্রয় করা জরুরি।
  • যদি বেশ কিছুক্ষণের জন্য নিজের ডেস্ক ছেড়ে ওঠেন, তাহলে মনিটর অফ করে রাখুন। স্ক্রিন সেভার লাগাবেন না। এতে বিদ্যুতের অপচয় অনেকটাইবন্ধ করা যাবে।
  • অফিস কর্ণারগুলো ডেকোরেট করতে পারেন বিভিন্ন ইনডোর প্লান্ট দিয়ে। এতে গ্রীন কর্নারের পাশাপাশি অফিসের ভেতরের বাতাসকেও শুদ্ধ করা যাবে। ইনডোর প্লান্টের মধ্যে রাখতে পারেন- লাকি ব্যাম্বু, পিস লিলি, জেড প্লান্ট, জিজিপ্লান্ট, মানিপ্লান্ট, স্ন্যাক প্লান্ট ইত্যাদি।
  • স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমেও গ্রীন অফিস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। যেমন সেন্সর বিশিষ্ট লাইট, এনার্জি সেভিংস এসি, এনার্জি সেভিংস রেফ্রিজারেটর , টিভি, ওভেন ইত্যাদি।

তথ্যসূত্রঃ ডব্লিউবিউড

পূর্ববর্তী হলিউডের ক্রিস বার্নেসের অ্যাকশন দেখা যাবে বলিউডের ‘টাইগার ৩’ ছবিতে 
পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী