www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১২ আগস্ট, ২০২৪: সাত দিনের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে অভিযান, বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “আমি অফার করছি আজ থেকে সাত দিনের মধ্যে, আগামী সোমবারের মধ্যে অস্ত্রগুলো ফেরত আসতে হবে। ফেরত না এলে অস্ত্র অভিযানে যদি আমরা কারও কাছে অস্ত্র পাই, তার বিরুদ্ধে দুটি চার্জ লাগবে (মামলা হবে)। যদি নিজেরা জমা দিতে না পারেন তাহলে কারো মাধ্যমে দেন। যেটাই হোক এই অস্ত্রগুলো আমাদের দরকার। ”
আজ সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে রাজধানীর সেনানিবাস সিএমএইচে (CMH) আহত আনসার সদস্যদের পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “একটি হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র মামলা অপরটি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র কাছে থাকায় মামলা হবে। নিষিদ্ধ অস্ত্র সাধারণ জনগণের কাছে কীভাবে গেল আনসার সদস্যদের ওপর যারা হামলা করেছে তাদের ছবি ও ভিডিও থেকে দেখলাম, সিভিল ড্রেসে বেশিরভাগই হচ্ছে যুবক। এই জনগণ কারা আমরা অবশ্যই খুঁজে বার করার চেষ্টা করবো। ”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মানুষকে সময় দেন হয়তো ভুলে যাবে। এত তাড়াতাড়ি ভোলে না, কারণ যাকে ধরছিলেন নেতা সেই নেতারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যাকে ধরা হচ্ছে, সেই নেতাকেও বাঁচাতে পারছি না। অনেক নেতাকে অনেকে বাঁচিয়েছে। আমরা জানি কে কোথায় আছেন। সুতরাং এই আওয়ামী লীগ অনেক বড় পার্টি। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। একসময় এ দেশে আমাদের মতো বাঙালিদের ভরসার জায়গা ছিল আওয়ামী লীগ। ১৯৫২ ভাষার আন্দোলন, ৬৯ গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা এসব ব্যক্তিগত কোনো কারণে নষ্ট করবেন না। জাতীয় সম্পদ, এটাকে নষ্ট করবেন না। আপনারা আসেন যারা রেগুলার রাজনীতি করতে চান, আসেন। কিন্তু মারামারি করে কোনো লাভ নেই। ”
আর কোনো লোকের মৃত্যু চাই না উল্লেখ করে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “৪০০ থেকে ৫০০ হয়তো তার চেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছে। উভয় পক্ষের আর পুলিশের কি অবস্থা হয়েছে, দেখা যাচ্ছে। আনসারেরও অবস্থা খারাপ হয়েছে। আমরা যদি উসকানি দিতাম তাহলে আপনারা (আ.লীগ) টিকতে পারতেন না, আর্মির ফায়ারে। আমরা বলেছি, ডোন্ট ওপেন ফায়ার। কারণ কাকে মারবেন আপনি? এই পুলিশকে দিয়ে তো আপনি মেরেছেন আপনার সন্তানকে।”
তিনি অনুরোধ করে বলেন, “এসব করবেন না, ব্যক্তিগত স্বার্থের প্ররোচনায় জড়াবেন না। ব্যক্তিস্বার্থে এই দলকে নষ্ট করবেন না। এটা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, নষ্ট করার কোনো অধিকার আপনাদের নাই। এটা বাংলাদেশের সম্পত্তি। আর কেউ যদি মনে করেন যে, কাউন্টার রেভ্যুলেশন করে আসবেন, তাহলে হাজার হাজার লোকের রক্ত ঝরাতে হবে। যদি সেই দায়িত্ব নিতে চান, তাহলে নেন। আমার কিছু করণীয় নাই।”
তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই ইয়াং জেনারেশন, এরাই করেছে, কোনো রাজনৈতিক দল করে নাই। তারা তাদের জীবন দিয়েছে। বুকফুলিয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের গুলি খাওয়ার জন্য। দে অল স্মাইলিং৷ এই ইয়াং জেনারেশন যতোদিন আছে, মুখে যতোদিন হাসি আছে, এরা তদ্দিন দৌড়াবে না। আমরা হয়তো দৌড় দেবো। এরা দৌড়াবে না। আমি জানি রাজনৈতিক দলগুলো আমাকে পছন্দ করেন না। তবে সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে বলবো, দয়া করে দেশটাকে স্বাধীন রাখেন।”
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশের লোগো-ড্রেস চেঞ্জ হবে। এটা পুলিশ নিজেরাই বলেছে, এটা কলঙ্কিত করেছে। সবাই যে খারাপ তা তো না। সবাই দানব হয়েছিল, তাতো বলা যায় না। এই পোশাক পরে একদিনও বের হতে চান না। পরে আইজিসহ বললাম, এরা চাইলেও করা যায় না সময় লাগবে। পুলিশের মধ্যে একটা উপলব্ধি হয়েছে তারা তো এখন দেখছে, হোয়াট দে হ্যাভ ডান! ডে হ্যাভ নট ডান। তাদের দিয়ে করানো হয়েছে। কি করানো হয়েছে। দয়া করে দেশটাকে ভাগ করবেন না, নষ্ট করবেন না। অনেক কষ্ট করে স্বাধীনতা হয়েছে। স্বাধীনতা ধরে রাখা খুবই কঠিন। আমি নাম বলতে চাই না, আশেপাশে দেখেন কি অবস্থা।”
পুলিশ সদস্যদের ১১ দফা দাবির মধ্যে ছিল সিনিয়র দোষীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সেটা আমরা দেখবো অবশ্যই দেখবো তবে পরে। একজন বললেই কি আমরা তাকে জাপটে ধরবো? তদন্ত লাগবে।
তাদের অবস্থান আপনাদের জানা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বের হবে সময় হলে অবশ্যই বের হবে।”










