জমে উঠেছে চারুশিল্পী ও উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত বাজার

জমে উঠেছে সম্মিলিত বাজার - বিনোদন - ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)
জমে উঠেছে সম্মিলিত বাজার - বিনোদন - ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: কালের বিবর্তনে আধুনিকতাকে ধারণ করে গ্রামীন ঐতিহ্যের শিল্পবোধ হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রমীণ মেলার খাবার নাড়ু-মিঠাই এখন হারিয়ে গেছে । শহরের আধুনিক ধারার মেলাতে সেই খাবারের পরিবর্তে এখন জনপ্রিয় হয়েছে চটপটি আর ফুচকা। বায়োস্কোপ হারিয়ে গিয়ে ঢাকার ১লা বৈশাখের মেলায় এসেছে মুখোশ। এভাবে যে সব পণ্য হারিয়ে যাচ্ছে এবং এই সব পণ্যের শিল্পীদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে শিল্পকলা আয়োজন করেছে চারুশিল্পী ও উদ্যোক্তা মেলা।

টেপা পুতুল ও টেরাকোটা শিল্পী শ্রী সুবোধ কুমার পাল এসেছেন রাজশাহীর উলাপুর থেকে। বংশ পরম্পরায় তারা মৃৎশিল্প নিয়ে কাজ করেন। এটি শুধু পেশা নয়, তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যও। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আর্ট মার্কেটে অংশ নিয়েছেন তিনি। তার মতো চারুশিল্পের সাথে সমপৃক্ত বিভিন্ন ধারার শিল্পকর্ম ও হাতে তৈরী ঐতিহ্যবাহী শিল্প পন্য নিয়ে আর্ট মার্কেটে বসেছেন প্রায় ১০০ শিল্পী। রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় শিল্প মাধ্যম বায়োস্কোপও। সুরে সুরে লোকজ এই মাধ্যমের সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন বায়োস্কোপ শিল্পী জলিল মন্ডল। একইভাবে ইউনেস্কো স্বীকৃত রিক্সা পেইন্টিং থেকে শুরু করে জামদানী, পাহাড়ি বুনন, গহনা, ভাস্কর্য তৈরীর হাতে খড়ি, উদ্যোক্তাসহ নানা শিল্পপণ্যের পসরা নিয়ে বসেছে শিল্পীরা। শিল্পপন্য শুধু প্রদর্শন কিংবা কেনা-বেচা নয়, পেশাভিত্তিক শিল্প চর্চায় অনুপ্রেরণা দিতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের লোকসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এ আয়োজন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ভিন্নধর্মী এ আর্ট মার্কেট চলছে একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। চলমান এ আর্ট মার্কেট চলবে ৩রা মার্চ পর্যন্ত, বাকি আর মাত্র ৩ দিন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে শুরু হয়েছে সমসাময়িক নান্দনিক সৃজনকৃত শিল্পকর্ম নিয়ে ভিন্ন ধর্মী আয়োজন শিল্প বাজার বা আর্ট মার্কেট। শিল্পকর্ম/শিল্পপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হয় “শিল্প বাজার- ২০২৪”।

মুলত সমকালীন শিল্পচর্চার প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করে নান্দনিক জীবনের জন্য শিল্পের প্রসার, পেশাভিত্তিক শিল্পচর্চায় ’শিল্প বাজার’, নিজ নিজ শিল্পকর্ম বা শিল্পপণ্য তৈরিতে শিল্পীকে আরো বেশী উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে এই আয়োজন। এছাড়াও শিল্পী ও শিল্পমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্তদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবিকা নির্বাহের পন্থা হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।

শিল্প বাজারের এই আয়োজনকে আরো বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দেশের অন্যতম শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ, শিল্পী ও উদ্যোক্তাগণদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। “শিল্প বাজার- ২০২৪” এ মূলত শিল্পী, শিল্প- উদ্যোক্তাদের তৈরি করা শিল্পকর্ম/ শিল্পপণ্য দেশের জনগণের কাছে পৌছে দেওয়ার একটি ক্ষেত্র তৈরি করবে যা শিল্পসম্মত ক্রেতা ও শিল্প সংগ্রাহক হতে উদ্বুদ্ধ করবে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে চারুশিল্পের সমকালীন ধারা, শিল্পকর্ম, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, উদ্যোক্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল মাধ্যমের তৈরী সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের লক্ষ্যে অনন্য সম্ভার ‘শিল্পবাজার ২০২৪’। প্রতিদিন রাত ৮.৩০টায় অনুষ্ঠিত হয় শিল্পবাজার ব্যান্ড সংগীত।

পূর্ববর্তী বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলির মধ্যে বাংলার অবস্থান সপ্তম
পরবর্তী রমজানে আল আকসায় নামাজ পড়ার অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান