www.HelloBangla.News – প্রযুক্তি – ২ ডিসেম্বর, ২০২৩: রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আজ সকালে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই ভূমিকম্প প্রায় ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস জানায় রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৬। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি ঘটে। তবে এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পর অনেকেই ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। স্বজনদের খবর নিতে থাকে থাকেন কেউ কেউ। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান এর উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএস বলছে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৫ রিখটার স্কেল। আর এর উৎপত্তিস্থল রামগঞ্জের ৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব-উত্তরে। আর এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসও নিশ্চিত করেছে লক্ষীপুরেই রামগঞ্জ থেকেই এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে সকালের এই ভূমিকম্প নিয়ে দেখা যায় নানা প্রতিক্রিয়া। সময়ের হিসাবে পূর্বে এর চেয়ে বেশি স্থায়িত্বের ভূমিকম্প অভিজ্ঞতা আছে কিনা মনে পড়ছে না।। বেশ কিছু সময় ধরে ঝাঁকুনি অনুভবের কথা বলছেন অনেকেই।
তবে যারা রাস্তায় বা সমতলে ছিলেন তাদের অনেকেই ভূমিকম্পের অনুভূতি টের পান নি।
রাজাধানী ঢাকার কাছে যেসব ভূমিকম্প:
ভূতত্ববিদদরা বলছেন বাংলাদেশের সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কয়েকটি প্লেট থাকার কারণে এসব এলাকা ভূমিকম্পের বড় ধরণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঢাকায় গত কয়েক বছরের মধ্যে যেসব ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশের উৎপত্তিস্থলই ছিল বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে সিলেট বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে। অনেকগুলো ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভারতের মিজোরাম বা ত্রিপুরা রাজ্যে।
তবে ঢাকার আশেপাশে উৎপত্তিস্থল রয়েছে, এমন ভূমিকম্পও মাঝেমধ্যেই হতে দেখা গেছে।
ভূতত্ববিদ হুমায়ুন আখতারও বলেন, “২০০৮ থেকে ২০১২-১৩ পর্যন্ত ঢাকার কাছাকাছি নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা অঞ্চলে গ্রীষ্মের সময় অনেকগুলো ছোট ছোট ভূমিকম্প হতে দেখেছি আমরা।”
ভূমিকম্প শনাক্তকারী সংস্থা আর্থকোয়েকট্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালের ১৮ই মার্চ এই অবস্থানেই – দোহার থেকে ১৪.২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে – ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছিল।
ঢাকার কাছে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলেও গত বিশ বছরের মধ্যে একাধিক ছোট ছোট ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে।
তিন বছর আগে, ২০২০ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের ১২ কিলোমিটার পূর্বে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
এছাড়া ২০০৮ এ টাঙ্গাইলের কাছে নাগরপুরে এবং ২০১৯ সালে মির্জাপুরে চার মাত্রার নিচে ভূমিকম্প হয়েছে বলে বলছে আর্থকোয়েকট্র্যাক।
পাশাপাশি গত ১৫ বছরে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে অন্তত চারবার ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি।
আর ঢাকার কাছে ফরিদপুরেও গত ১৫ বছরের মধ্যে দুইবার চার মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে বলে নথিবদ্ধ করেছে সংস্থাটি।
তবে গত ১৫-২০ বছরের মধ্যে ঢাকার কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে নথিবদ্ধ করা হচ্ছে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে নারায়ণগঞ্জে ৫.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্পকে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ ১৮২২ এবং ১৯১৮ সালে মধুপুর ফল্টে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৮৮৫ সালে ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জে ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, বাংলাদেশে রিখটার স্কেল ৬.৯ মাত্রায় ভূমিকম্প হলে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে সেই সঙ্গে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যু বরণ করবে। বহুতল ভবন নির্মাণ করার আগে আমাদের যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
সাধারণত ২.৫ বা তার কম কম্পন অনুভূত হয় না, তবে যন্ত্রে ধরা পড়ে। পাঁচ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় এতে সামান্য ক্ষতি হতে পারে। ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প বেশ শক্তিশালী বলে ধরা হয় এবং এতে মারাত্মক ধরণের ক্ষতি সাধিত হয়। যেমনটি তুরস্কে এবার হয়েছে।
৮ মাত্রার বেশি কোন ভূমিকম্প যে কোনো কিছুর ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে এবং এর কেন্দ্রে থাকা কমিউনিটিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে পারে।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডারেখে জীবনকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করতে হবে:
ভূমিকম্পের সময় যা জানতে ও মানতে হবে-
- কম্পন না থামা পর্যন্ত খাট, ডাইনিং টেবিল, ও রুমের কোণে আশ্রয় নিতে হবে
- চুলা, বিদ্যুৎ চালিত কিছু জ্বালানো থাকলে বন্ধ করতে হবে
- জানালার পাশে দাঁড়ানো একদমই যাবে না
- উঁচু ভবনে থাকলে লিফট ব্যবহার করা যাবে না
- আর আপনি যদি যানবাহনে চলাচল করেন, এমন অবস্থায় ভূমিকম্প শুরু হয়, তখন আপনাকে রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে অবস্থান করতে হবে
- ভূমিকম্পের সময় টর্চলাইট হাতে রাখা প্রয়োজন
- ভূমিকম্পের সময় ভাঙা দেয়ালে আপনি যদি চাপা পড়েন তাহলে, কোনো রকম নড়াচড়া করবেন না এবং শ্বাসনালিতে যাতে ধুলাবালি ঢুকতে না পারে সেজন্য যথা সম্ভব নাক-মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে উদ্ধার কর্মীদের খবর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
- বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড মানা
- অবকাঠামোগুলোতে রেইনফোর্সড কংক্রিট ব্যবহার
- গ্যাস ও বৈদ্যুতিক লাইন নিরাপদ ভাবে তৈরি করতে হবে
- জলাশয় ভরাট করেই বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না
- প্রতিটি তলা একই রকম রাখতে হবে
- বাড়ি নির্মাণের সময় M.S. রড এবং R.C.C কলাম ব্যবহার করতে হবে
রাজধানী ঢাকায় বিল্ডিং কোট মেনে বাড়ি নির্মান করলে ভূমিকম্পের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি বাংলা ও অন্যান্য মাধ্যম।










